| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জঙ্গল হিমু [!]
→ আমি অতি মাত্রায় স্বকিয় । তার মানে এই নয় আমি অপরিবর্তনীয় । আমি সেটাই গ্রহণ করি যেটা ভালো লাগে , যেটা সত্যই ভালো → আবেগ দ্বারা পরিচালিত হই কিন্তু প্রয়োজনে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করি । → আমি আমার ভালবাসা ভাললাগাকে কোন বাহ্যিক আচরণে প্রকাশ করতে পারি না । → মনের কথাগুলো ঠিকভাবে সবাইকে বুঝাতেও পারি না । → দেশটাকে হয়তো কিছুটা ভালবাসি । দেশ নিয়ে বাজে মন্তব্য কোনভাবেই মানতে পারি না
রাত ১২.৪, আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে একটু পর পর বাজের কড়কড়াত্ আওয়াজ । সোহানার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । সে আনমনে বৃষ্টিতে ভিজছে আর ভাবছে ছেলেটা কতটা বখাটে । প্রায় বছর দেড়েক আগে উঠেছিল পাশের বিল্ডিংটায় । ছেলেটার চেহারাও খুব একটা ভালো নয় । উস্কোখুস্কো চুল , সদ্যগজানো দাড়ির জঙ্গল বেটে চেহারার আধ ময়লা কাপড় দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে ছেলেটা আসলেই বখাটে । আর কাজকর্মও বখাটেদের মতই । রাস্তায় ক্রিকেট খেলা , রাস্তা দিয়ে হৈচৈ করা কিংবা চায়ের দোকানে বাজে আড্ডা । সোহানার কাছে সবচেয়ে খারাপ যেটা লেগেছে সেটা হলো সিগ্রেট খাওয়া । ওর বয়ফ্রেন্ড যদিও একটুআধটু সিগ্রেট খায় ,তবুও সাদাফের সাথে এই ছেলের তুলনা চলে না । আর এই ছেলের যন্ত্রণায় সোহানা রাতে ছাদেই উঠতে পারে না । রাত ঠিক ২টা পর্যন্ত এই ছেলে ছাদে থাকে । পড়াশোনা আদৌ করে কিনা কে জানে ? একদিনের ঘটনা তখন সোহানার SSC পরীক্ষা । রাতে পড়াশেষে ঘুমানোর আগে ছাদে উঠে দেখে পাশের ছাদে ছেলেটা । ছেলেটার ভাবভঙ্গিতে মনে হচ্ছে সোহানার ছাদে ওঠাটা তার পছন্দ হয়নি । ঈশ ! যেন প্রিন্স উইলিয়াম , ছেলেটা কি জানে সোহানার পাণি প্রার্থীরা লাইন দিলে বাণিজ্য মেলার লাইনের চেয়ে ছোট হবে না । এমনকি স্কুলে নতুন আসা স্যারেরাও সোহানার উপর ক্রাশ খায় । আর এই ছেলে সোহানার সাথে পার্ট নেয় ?! এসব ভাবতে ভাবতে কখন যেন ছেলেটা নিজেদের ছাদের কোণা থেকে সোহানাকে ডাকতে শুরু করেছে
: এক্সকিউজ মি , ম্যাচ হবে ?
: ম্যাচ ?! কি করবেন ম্যাচ দিয়ে ?
: সিগ্রেট ধরাবো !
সোহানা গজগজ করতে করতে নিচে নেমে আসে । কতবড় সাহস চেনা নেই জানা নাই সরসরি ম্যাচ চায় সিগ্রেট খাওয়ার জন্য ? ইডিয়েট আনশোশ্যাল ইত্যাদি গালি দিতে দিতে ভাবে বাবাকে বলে দেবে । কিন্তু দিবে দিবে করেও বিচার দেয়া হয় না । তবুও এরপর থেকে সোহানা ছেলেটাকে ছাদে দেখলে নিচে নেমে আসে । এভাবেই দিনগুলো চলছিল । এরমাঝে সোহানা এ+ পেয়ে সিটি কলেজ ভর্তি হয় । ফার্মগেট থেকে লেগুনায় সিটি কলেজে যাওয়ার সময় প্রায়ই ছেলেটার সাথে দেখা হত । যেদিনই সোহানা ছেলেটাকে দেখতো ভেবে নিত দিনটা আজ খারাপ যাবে । সেদিনও এমন একটা দিন ছিল । সেদিন কলেজ শেষে সাদাফ এসেছিল দেখা করতে । সোহানা কিছুদিন ধরেই দেখছিল ফেসবুকে অন্য একটা মেয়ের সাথে সাদাফের মাখামাখি । মেয়েটার পরিচয় জানতে চাইতেই সাদাফ তেলেবেগুণে জ্বলে ওঠে , সোহানা তাত্ক্ষণিক ব্রেকাপের সিদ্ধান্ত নেয় । খুব মন খারাপ করে বাসায় ফিরে আসে সোহানা । সেদিন বিকেলে হঠাত্ বৃষ্টি নামে । ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে সোহানা । সোহানা খেয়াল করেনি তখন ঐ ছাদে ছেলেটাও ভিজছিল । হঠাত্ করেই সোহানার চোখ যায় ঐ ছাদে । দেখে ছেলেটা হা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । কৌতুহলী হয়ে ছাদের কোণায় গিয়ে খেয়াল করে দেখে ছেলেটা বৃষ্টির পানি খাচ্ছে । সোহানা বুঝতে পারে ছেলেটা শুধু বখাটেই না , পাগলও । হঠাত্ করেই ছেলেটা সোহানাকে বলে
: মন খারাপ থাকলে হা করে বৃষ্টির পানি খাবেন , দেখবেন মন ভালো হয়ে গেছে
: আমার মন খারাপ আপনাকে কে বলল ?
: বিকেলের বৃষ্টিতে সচারাচর কে ভেজে না তো তাই !
সোহানা কথা না বাড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে । সিড়িতে আসার পর সোহানার খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল ছেলেটার কেন মন খারাপ ! কিন্তু জেদ দিয়ে কৌতুহল চেপে বাসায় এসে পড়ে সোহানা । মাসখানেক পরের কথা , দিনটা সোহানার খুব বাজে যাবে বুঝতে পারছে । সকালে বাসা থেকে নামতেই ছেলেটাকে দেখতে পায় , ছেলেটাও পেছন পেছন আসছে । এসে একই লেগুনায় উঠে বসল । প্রায় মুখোমুখি বসল দুজন । লেগুনা চলতে শুরু করেছে । সোহানার পাশের লোকটা লেগুনার ব্রেক আর ঝাকুনির ছলে সোহানার গায়ে বারবার হাত দিচ্ছে । সোহানা দুইবার লোকটিকে ঠিকভাবে বসতে বললেও লোকটা কথায় কর্ণপাত করল বলে মনে হল না । বরং আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠল । লেগুনার অন্যান্য যাত্রীরা চুপচাপ অন্যদিকে তাকিয়ে আছে । কেউ প্রতিবাদ করছে না , অনেকে আবার হা করে তাকিয়ে দেখে উত্সাহ দিয়ে যাচ্ছে । ছেলেটাও চুপচাপ বসে আছে । সোহানা বারবার অসহায়ের মত এদিক ওদিক তাকাচ্ছে । হঠাত্ ছেলেটা লোকটাকে লেগুনার মধ্যেই চড় মেরে বসে । লোকটা চড় খেয়ে চুপচাপ বসে থাকে । কোনরকম প্রতিবাদী হয় না । এই প্রথম ছেলেটাকে ভাল মনে হয় সোহানার । সোহানা বার বার ছেলেটার দিকে তাকায় । ছেলেটা লেগুনার হাতলে হাতের উপরে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে । এরপর বেশ কিছুদিন রাতে সোহানা ছাদে যেত ছেলেটাকে থ্যাংস জানাতে কিন্তু ছেলেটার দেখা নেই । এরমাঝে সোহানার ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয় । ছেলেটার কথা মন পড়লেও ছাদে যাওয়া হত না । একদিন পরীক্ষা শেষে রাস্তায় বেরিয়ে দেখে মানুষের জটলা । এক রিক্সাওয়ালা একসিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে আছে । সবাই দাড়িয়ে দেখছে কিন্তু কেউ তাকে হাসপাতলে নিয়ে যাচ্ছে না । তখনই আবার ছেলেটির উদয় । তিনবন্ধু এসে একজন রিক্সাটাকে গ্যারেজে ফিরিয়ে দিতে নিয়ে গেল । আর ছেলেটা আর ওর আরেক বন্ধু রিক্সাওয়ালাকে ধরাধরি করে হাসপাতলে নিয়ে গেল ।
সোহানা ছেলেটার মানবিকতা দেখে চমত্কৃত হলো । সেদিনের পর থেকে শুধু ছেলেটার নাম জানার জন্য প্রতিদিন সোহানা ছাদে আসে , সাথে একটা ম্যাচ । যদি ছেলেটা সিগ্রেট খেতে ম্যাচ চায় ! কিন্তু না , ছেলেটা ছাদে আসে না ! বিকালে রাস্তায় ক্রিকেট খেলা ছেলেদের ভীড়ে সেই মুখটাকে আর দেখে না , রাস্তায় কাউকে হৈচৈ করে কথা বলতে শুনলে ছুটে যায় বেলকনিতে । প্রতিদিন কলেজ যাওয়ার সময় ভাবে ছেলেটা যদি দৌড়ে এসে লেগুনাতে ওঠে । কিন্তু সেখানে ছেলেটা থাকে না । সোহানার খুব খারাপ লাগে । আজও ছেলেটার অপেক্ষায় সোহানা বৃষ্টির মাঝে ছাদে দাড়িয়ে আছে আর ভাবছে ছেলেটার কথা । হঠাত্ সোহানা আকাশের দিকে তাকিয়ে হা করে বৃষ্টির পানি পান করার চেষ্টা করে । মন খারাপ থাকলে বৃষ্টির পানি খেলে নাকি দুঃখ কমে- ব্যাপারটা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি....
২|
০৫ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৭
লিঙ্কনহুসাইন বলেছেন: হুম অনেক ভালো লাগলো । কিন্তু বাকি অংশ কই ? +++++ দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
৩|
০৫ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৯
জঙ্গল হিমু [!] বলেছেন: পারছি না আর , ডাক মারতে মারতে ক্লান্ত @ মিসির আলী স্যার
লিঙ্কনভাই এই গল্প এখানেই শেষ । সবার জীবনে কিছু না কিছু অপ্রাপ্তি থাকে । সোহানার জীবনে এটাই হয়ত সেই অপ্রাপ্তি
৪|
০৫ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ২:১৩
নিবিড় এখন বলেছেন: অসাধারন....
৫|
০৫ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৮
জঙ্গল হিমু [!] বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:২০
স্বঘোষিত মিসির আলী বলেছেন: হিমু সাহেব ক্রিকেট চালিয়ে যান ! ওপাশের আলো ফাটল ধরাবে না :-<