| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জজ সাহেব
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর সর্বশেষ জীবিত খলিফা খেলাফত মজলিসের হাফেজ্জি হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি পুরা সময়টাই ঢাকার লালবাগ মাদ্রসায় ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কওমি মাদ্রাসার কয়েক জন ছাত্র হাফেজ্জি হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে জিজ্ঞাস করেছিল এই যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে এই যুদ্ধটা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ?
তখন হাফেজ্জি হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি উত্তর দিয়েছিলেন- “ এটা হচ্ছে জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধ। পাকিস্তানিরা হচ্ছে জালেম আর আমরা বাঙ্গালীরা হচ্ছি মজলুম।” হাফেজ্জি হুজুরের এই কথা শুনে অনেক আলেম মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু ঐ আলেমরা কিন্তু ওলামা লীগ বা ছাত্রলীগ করতো না। উনারা শুধু দেশ মাতৃকার টানে ও নির্যাতীত নারীদের কে পাকিস্তানী হানদার বাহিনীর লালসার হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু নিজে হাফেজ্জী হুযুরের সাথে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি।
আমীমুল এহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনিও কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন হত্যা ও নারী ধর্ষনের। পরবর্তীতে ইয়াহিয়া সরকার উনাকে জোর করে সৌদিআরব পাঠিয়ে দেয়।
দেশ স্বাধীন হবার পর শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন ও বঙ্গবন্ধু উনাকে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান খতীব হিসাবে নিযুক্ত করেন। উপমহাদেশে শিয়া মতবাদের বিলুপ্তি সাধনে শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি এর অনেক অবদান ছিল। [ তথ্যসূত্রঃ শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি এর জীবন ও কর্ম, ইসলামিক ফাউন্ডেষন বাংলাদেশ]
আমাদের ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরের যে সবচেয়ে বড় ক্বওমী মাদ্রাসা জামিয়া ইউনিসিয়া সেই মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনিও কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন। আমাদের ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় অনেক বড় বড় আলেম উনার ফতোয়া শুনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। অনেক মুক্তিযুদ্ধাকে ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু উনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন। [ তথ্যসুত্রঃ ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি ও উনার সাথীবর্গ, লেখকঃ হাফিয মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ]
ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে একনামে মধ্যপ্রাচ্যের আলেমরা চিনতেন।
১৯৭১ সালে পাবনার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান ছিলেন দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করা মাওলানা কাসিমুদ্দিন যিনি ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে শহীদ হয়েছিলেন।
ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা কেন্দ্রিক যে আলেমদের সংগঠন আছে “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” উনারাও কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে অনেক ফতোয়া দিয়েছিলেন। “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” ১৯৭১ সালে স্পষ্টভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যে নির্মম ভাবে পূর্ব পাকিস্তানি জনগণদেরকে হত্যা করছে এই ব্যাপারে অনেকগুলি বিবৃতি দিয়েছিল। “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” এর এই ফতোয়া গুলি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহির যে জীবনী বের হয়েছে সেই বইটির শেষে পরিশিষ্ট আঁকারে দেয়া হয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক আলেম ডঃ মুশতাক আহমেদ “শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহিঃ জীবন ও কর্ম” শিরোনামে তথ্য ও তত্ত্ববহুল অভিসন্দর্ভ প্রনয়ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগে থেকে এই অভিসন্দর্ভ উপলক্ষ্যে মুশতাক আহমেদ কে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ডঃ মুশতাক আহমেদের এই অভিসন্দর্ভ টিই শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহির জীবনী বই আকারে বের করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে একটা ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে যে ইসলাম নিয়ে যারা রাজনীতি করে ইসলাম নিয়ে যারা লেখালেখি করে তাদের কে রাজাকার হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে এত অত্যাচার করেছে, সুন্দর সুন্দর মেয়েদের কে ধর্ষন করে তাদের স্তন কেটে দিত এটা কথাটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি এই কথাটাও সত্য যে আমাদের ক্বওমী মাদ্রাসার আলেমরা স্পষ্ট ভাবে সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন। উনারা শুধু ফতোয়াই দেননি অনেক কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের কে মুক্তিযুদ্ধেও পাঠিয়ে ছিলেন। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে দয়া করে হক্কানী আলেমদের কে রাজাকার আল বদর বলে গালি দিবেন না। যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই আসুক দেওবন্দ ভিত্তিক কোন কওমি মাদ্রাসার আলেম কে রাজাকার হিসাবে প্রমান করতে পারবে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের যে সক্রিয় রাজনৈতিক দল গুলি ছিল তা হল আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামি, নেজামে ইসলামী পার্টি, মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী ওলামা পার্টি ছাড়াও দেওবন্দ মাদ্রাসা পন্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এই রাজনৈতিক দলটি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছিল। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু জামায়াতে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম কে নিষিদ্ধ করলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কে নিষিদ্ধ করেননি। দেশ স্বাধীন হবার বঙ্গবন্ধু জামায়াতে ইসলাম ও মুসলিম লীগের অনেক নেতা কর্মীকে রাজাকার আলবদর আল শামসে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কোন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়নি।
আমরা হয়ত অনেকেই জানি না যে ইয়াহইয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো উনারা ২ জনই ছিল কট্টর শিয়া। সুন্নিদের প্রতি শিয়াদের যে একটা জাত ক্রোধ থাকে সেই জাত ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ উনারা করেছিলেন লাখ লাখ নিরীহ বাঙ্গালীদের কে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধ কালীন আলেম সমাজের ভুমিকা জানতে দয়া করে যুগান্তর পত্রিকার সাবেক সাংবাদিক শাকের হোসাইন শিবলীর “ আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোজে ” এই অসাধারন বইটি কিনুন। “ আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোজে ” এই বইটিতে তথ্যপ্রমান দিয়ে অনেক আলেমের ১৯৭১ সালে তাদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বইটি আল-ইসহাক প্রকাশনী, ৩৭, নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। সারাজীবন সংগ্রহে রাখার মত একটি বই। বইটির দাম ৪০০ টাকা। এই বই মেলায় তো আপনারা অনেক বই কিনবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আলেম সমাজের ভুমিকা জানতে দয়া করে করা আপনারা সবাই যুগান্তর পত্রিকার সাবেক সাংবাদিক শাকের হোসাইন শিবলীর “ আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোজে ” এই অসাধারন বইটি কিনুন।
সবাই একটা কথা মনে রাখবেন যে বাংলাদেশে জামায়াত ই ইসলামী এই দলটি ছাড়াও বাংলাদেশে আরো অনেক ইসলামী দল আছে যেমন চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খিলাফত মজলিস, খিলাফত আন্দোলন, হিযবুত তাহরীর। বাংলাদেশে খুব কম লোকই জামায়াত ই ইসলামী করে। জামায়াত ই ইসলামী ছাড়াও চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খিলাফত মজলিস, খিলাফত আন্দোলন, হিযবুত তাহরীর এই দল গুলিতেও অনেক ভাল ভাল ছেলে পুলে আছে। তাই দয়া করে সকল মুসলমান জামায়াত ই ইসলামী করে এই ধারনাটা করবেন না।
এই লেখাটি নেয়া হয়েছে Farabi Shafiur Rahman ভাইয়ের এই Facebook Status থেকে। লেখাটি ভাল লাগলে আপনার Facebook Account এ Share করবেন Please
Farabi Shafiur Rahman ভাইয়ের একটা Facebook ID এর লিংক টা হল এটা https://www.Facebook.com/shafiur2012
২|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪৬
ফারমার বলেছেন: ইসলাম এর মুল হচ্ছে মুসা নবী: বাইবেল ও কোরান লেখা হয়েছে তোরাহ থেকে; মুসা তোরাহ লিখেছিলেন।
আজ ৩০০০ বছরে মানুষ সে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ নীতি শিখেছে, তার কাছে তোরাহ, বাইবেল ও কোরান কেসসা কাহিনী মাত্র
৩|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৫০
নিষ্কর্মা বলেছেন: ইতিহাস লেখা যায় না, ইতিহাস লেখা হয়। ইতিহাস পালটানো যায় না, ইতিহাসই সব পালটে দেয়। কেননা জনগণ ইতিহাস, কেননা জনতাই ৯৯% ।
৪|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২১
জজ সাহেব বলেছেন: সবাই ফারাবী ভাইকে Follow করুন
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪২
ফারমার বলেছেন: ফতোয়ায় প্রস্রাব করি, ওরা বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করেনি; ওদের মুখে লাথি!