নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের পরিচয়ধারী কোনো ব্যক্তি তাঁর শিশুকন্যার জন্যই ভয়ংকর আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে?
শিশুটির সঙ্গে যৌন নির্যাতন, অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন এবং ঘটনা প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি- এগুলো শুধু একটি শিশুর প্রতি অপরাধ নয়; এটি তার শৈশব, নিরাপত্তা, বিশ্বাস ও মানবিক মর্যাদার ওপর নির্মম আঘাত। যে হাতে শিশুর মাথায় স্নেহের পরশ দেওয়ার কথা, সেই হাত যদি নির্যাতনের হাত হয়ে ওঠে- তার চেয়ে ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা আর কী হতে পারে?


কোনো অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক, পদবি কিংবা সামাজিক প্রভাব তাকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না। কেউ আলেম পরিচয় দিলেই আলেমের মর্যাদা অর্জন করেন না। প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞান মানুষকে ন্যায়, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়- শিশুর অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার লাইসেন্স দেয় না।
মনে রাখতে হবে, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের বিচারই হোক মুখ্য। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে দায়ী করা যেমন অন্যায়, তেমনি ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধীকে রক্ষা করাও ক্ষমার অযোগ্য সামাজিক অপরাধ। আমাদের এখনই জেগে উঠতে হবে।

★অভিভাবকদের প্রতিঃ সন্তানকে এমনভাবে সাহস দিন, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, অশালীন আচরণ কিংবা হুমকির কথা সে নির্ভয়ে আপনাকে জানাতে পারে। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, তাকে দোষারোপ করবেন না।

★মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রতিঃ শিশু সুরক্ষার কার্যকর নীতিমালা, নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং কর্মীদের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করুন। অভিযোগ উঠলে প্রভাবশালী কাউকে বাঁচাতে সত্য গোপন করবেন না।

★সমাজের প্রতিঃ অপরাধীর ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় দেখে পক্ষ নেবেন না। শিশুকে অপমান, দোষারোপ কিংবা পরিচয় প্রকাশের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার নির্যাতিত করবেন না। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোচ্চার হোন।

★প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিঃ অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সংবেদনশীল তদন্ত করুন। শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করুন এবং প্রমাণিত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন। হুমকি দেওয়া হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুন।

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে নীরব থাকবে না। যেখানে ধর্মের পবিত্রতা অপরাধীর ঢাল হবে না, আর শিশুর কান্না ক্ষমতাবানদের প্রভাবের কাছে হার মানবে না।
শিশুর নিরাপত্তা কোনো দল, ধর্ম বা মতাদর্শের বিষয় নয়- এটি আমাদের সবার মানবিক ও আইনগত দায়িত্ব।


আসুন, অপরাধীকে সামাজিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করি, শিশুর পাশে দাঁড়াই এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হই। শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স- অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় যা-ই হোক!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.