নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুন ভাবে আসলাম...

কবির মিয়া

কবির মিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

২০১৪ সালের বছরটি ছিল আইপিও আর কারসাজির বছর

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৪

বাজার স্থিতিশীলতার স্বপ্ন জাগিয়ে ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু দুর্বল মৌলভিত্তি ও ছোট মূলধনী সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারকে কেন্দ্র করে কারসাজি চক্রের দখলে ছিল উভয় পুঁজিবাজার। এ কারণে বছরটিতে আরো দু’বার ধস হয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী। অলোচিত এ সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ব্যস্ত ছিল গণহারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং রাইট শেয়ার অনুমোদন দিতে। এ সুযোগে বাজার থেকে চলে গেছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ফলে লেনদেন সংকটে বাজারে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিতিশীলতা। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে প্রবাসী ও বিদেশিদের বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বছর শেষে বাজারে যোগ হয়েছে আড়াই লাখ বিনিয়োগকারী।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি নির্বানের পর নতুন সরকার গঠন ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের প্রথম পরিচালনা পরিষদ গঠনে বিনিয়োগকারীদের মধ্য পুঁজিবাজারে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং বিএসইসির বিভিন্ন রকম প্রজ্ঞাপনকে ইস্যু করে ফেসবুকে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে বাজারে গুজব ছড়িয়ে আইটেম ওয়াইজ (কোম্পানিভিত্তিক) কারসাজি চালিয়েছে এই চক্রটি। এর ফলে বছর শেষেও অস্থিতিশীল অবস্থা রিবাজ করেছে দেশের পুঁজিবাজারে।

সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ২০১৪ বছরটি ছিল পুঁজিবাজারে ‘আন্তঃসংগঠনের বছর’। বাজার স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জকে লাভে আনতে পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা হয়েছে। ফলে দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তিনি। বিদায়ী বছরটাকে ‘মিশ্র প্রবণতার বছর’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ। তিনি বলেন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝখানে রেখে বিদাই নিয়েছে বছরটি। ডিমিউচ্যুয়ালাইজড পুঁজিবাজার হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল বাজারে স্থিতিশীল হবে । বছর শেষে তার কোনো আভাসও ছিল না। এ জন্য দায়ী বিএসইসি, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এছাড়াও গণহারে বিএসইসির আইপিও অনুমোদনের ফলে পুঁজিবাজারকে আরো অস্থিতিশীল করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছরে কমিশন অযৌক্তিক প্রিমিয়ামে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ কোম্পানিকে বাজার থেকে অবাধে টাকা তুলে নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। এ কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আইপিও অনুমোদনের বছর: আলোচিত এ বছরে মোট ২১ কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১ হাজার ৩২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা তুলে নেয়ার অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে এএফসি এগ্রো, শাহজীবাজার এবং খুলনা পাওয়ারসহ বেশিরভাগ কোম্পানির আইপিও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অনুমোদন পওয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭টি কোম্পানি উভয় বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। পুঁজিবাজারে ইতিহাসে সবেচেয়ে বেশি সংখ্যায় আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর ১৪ কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

রাইট অনুমোদন: রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পাওয়া নয়টি কোম্পানি হলো- আরমিট সিমেন্ট, জেনারেশন নেক্সট, রূপালি লাইফ, ব্র্যাক ব্যাংক, ডেল্টা স্পিনিং, মাইডাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) আইসিবি ও ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক মোট ২০৫ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকা তুলে নিয়েছে।

প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড: প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই। ২০১৪ সালের ১১ মাসে আগের বছরের চেয়ে লেনদেন ২ হাজার ২৩৮ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ৩০২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬শ’ কোটি ৮৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৬ টাকায়। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৬২ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৪ টাকা। শুধু তাই নয় পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে।

রাজস্ব আদায়: গত ১১ মাসে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউসের শেয়ার বিক্রি বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১২ কোটি ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ১১২ টাকা। আর উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪ কোটি ৪৮ লাখ ২২ হাজার ৮৭২ টাকা। সর্বমোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৬৭ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৯৮৪ টাকা।

নতুন বিনিয়োগকারী: পুঁজিবাজারে নতুন করে বিও হিসাব বেড়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯৬টি। সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে বিও হিসাব ছিল ২৮লাখ ৫৬ হাজার ৪৫১টি। আর ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৭টিতে। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগকারী বেড়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯৬জন।

এ ক্যাটাগরিতে বিএসইসি: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ার সনদ ও এ উপলক্ষে সংবর্ধনা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও)। গত ১২ অক্টোবর ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনেরিও শহরে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সনদ দেয়া হয়।

দু’বার ধস: ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিনগুলোতে প্রায় সব শেয়ারের দাম বাড়ে। এ সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৬শ’ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮শ’ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। আর বাজারে মূলধন যোগ হয় ২৬ হাজার ১৯১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এরপর ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী বোর্ড ও বাজেটকে কেন্দ্র করে শুরু হয় দরপতন। যা অব্যাহত ছিল ২৪ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় বাজার থেকে উধাও হয়েছে ১ হাজার ৭৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এরপর পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত টানা দেড় মাস বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে বাজারে নতুন করে মূলধন যোগ হয় ২৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন ও ডিএসইর নতুন লেনদেন পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে আরেক দফা ধস হয়েছে।

লেনদেন বন্ধ: ২৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশের (সিডিবিএল) সফটওয়্যারে দুপুর থেকে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ওই দিন সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লেনদেন নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি। এর আগে ১৩ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেন শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট পর কিছু ব্রোকারেজ হাউসের ট্রেডিং সার্ভার ও ট্রেডার ওয়ার্ক স্টেশন ডিএসইর মূল ট্রেডিং সার্ভার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

খন্দকার আসাদের অবৈধ শেয়ার ব্যবসা: গোপনে শেয়ার ব্যবসা করায় ডিএসইর মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আসাদকে প্রথমে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন গঠন হয়। প্রতিবেদনে শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। আইন ভঙ্গ করে খন্দকার আসাদ উল্লাহ নিজ নামে এবং তার স্ত্রী লাজুল লায়লার নামে তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংকে শেয়ার ব্যবসা করে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

ব্রোকার হাউসে চুরি: ১৯ নভেম্বর মধ্যরাতে মতিঝিলে মধুমিতা ভবনের পাঁচ ব্রোকারেজ হাউস থেকে প্রায় আট লাখ টাকা চুরি হয়। হাউসগুলো হলো খুরশিদ সিকিউরিটিজ লিমিটিড, আল মুনতাহা ট্রেডিং, কাইয়ুম সিকিউরিটিজ, টোটাল কমিউনিকেশন সিকিউরিটিজ ও ওষধি সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

বছরব্যাপী বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসই কার্যক্রম

শরীয়াহ সূচক উদ্বোধন: স্টক এক্সচেঞ্জকে লাভে আনতে নতুন বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ইসলামী শরিয়াহ ব্যবসা পরিচালনাকারী কোম্পানি ও ফান্ডগুলো নিয়ে গঠন করা হয়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএক্স। বিশ্বখ্যাত সূচক প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর (এসএ্যান্ডপি) ডাও জোনস পদ্ধতি অনুসারে রেটি ইনটেলিজেনস পার্টনার এবং ইসলামী শরিয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই শরিয়াহ সূচক চালু করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিতকায় গত অক্টোবরে শরিয়াহ সূচক ও বেঞ্চমার্ক নামে দুটি নতুন ইনডেক্স (সূচক) চালু করেছে সিএসই।

ডিমিউচ্যুয়ালাইজড বোর্ড গঠন: অর্থমন্ত্রীর ভাষায় পুঁজিবাজারে প্রধান ওষুধ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে গত ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সাতজন স্বাধীন পরিচালক, চারজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়ে বোর্ডের প্রথম পরিচালনা পরিষদ গঠন হয়। আগের বছরের ২১ নভেম্বর স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে উভয় বাজার। যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে এক নতুন অধ্যায়।

আইপিওর আবেদনে নতুন পদ্ধতি: জটিল নিয়ম ও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিওতে আবেদনের পদ্ধতিকে আরো সহজ করে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিওতে আবেদন জমাদান পদ্ধতি শুরু হয় ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে। এর ফলে সময় এবং রিফান্ড জটিলতার পাশাপাশি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ আবেদন পদ্ধতিটি শুরু হয় হামিদ ফেব্রিকসের আবেদনের মাধ্যমে।

নতুন পদ্ধতিতে লেনদেন: ষোলো বছর পর লট শেয়ার প্রথা অর্থাৎ খুচরা বিক্রির সুবিধা রেখে ১১ ডিসেম্বর থেকে ডিএসইতে নতুন সফটওয়্যারে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে লেনদেন ব্যবস্থা অটোমেশন ট্রেডিং সিস্টেম (ফ্লেক্স টিপি) চালু করা হয়েছে। ৩৫ কোটি টাকা খরচে চালু হওয়া সফটওয়্যারের ফলে নতুন বছরের এপ্রিল মাস থেকে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে গোপন পাসওয়ার্ডে বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে স্মার্টফোন, আইপ্যাড এবং অ্যাপস দিয়ে লেনদেন করতে পারবেন।

১৯ কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন: বিদায়ী এ বছরে সর্বমোট ১৯ কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোম্পানি রয়েছে এ ক্যাটাগরিতে। আর ৪টি কোম্পানি রয়েছে বি ক্যাটাগরিতে। গত বছরের ১০ শতাংশের ওপরে লভ্যাংশ দেয়ার ফলে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, বেঙ্গল উইন্ডসর, উসমানিয়া গ্লাস, ইস্টার্ন ক্যাবলস, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, এএফসি অ্যাগ্রো, ফ্যামিলি টেক্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল হাউজিং, স্যালভো কেমিক্যাল, ফার কেমিক্যাল, দেশবন্ধু পলিমার, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং ও মতিন স্পিনিং মিলস। আর গত বছর এ ক্যাটাগরিতে থাকা সিভিও পেট্রোকেমিক্যালসহ চারটি কোম্পানি রয়েছে বি ক্যাটাগরিতে।

বিএসইসির কার্যক্রম: জানুয়ারি মাসে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। হুমায়ুন কবিরকে বিচারপতি হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বছর শেষ হলে কোনো মামলার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এরপর মার্চে ডেরিভিটিভস মার্কেট, ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন ও কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে বিএসইসি। এ মাসেই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাঁচ বছরের (২০১৪-২০১৮) মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ১৪ দফা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে বিএসইসি। এরপর বিএসইসির তদারকিতে মে মাসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় আইসিবি। এর পর বিনিয়োগকারীদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সেবা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির শাস্তি: জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অস্বাভাবিকহারে শেয়ারে দাম বাড়া ও কমার কারণে ওয়াটা কেমিক্যাল, সেপ্টেম্বরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও শাহজিবাজার পাওয়ার, এলআর গ্লোবাল, বাংলাদেশ রেটিং এজেন্সি লিমিটেড ও জেএমআই সিরিঞ্জের বিরুদ্ধে বিএসইসি প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় নভেম্বর মাসে সিলেট মেট্রো সিটি সিকিউরিটিজ হাউসের শামীম আহমেদ ও ফার্স্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসের সাইফুর ইসলামকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বহিষ্কার ও জরিমানা করা হয়। এদিকে এ মাসেই ২০১০ ও ২০১১ সালে শেয়ার কারসাজির অভিযোগে মো. গোলাম মোস্তফাকে ৩ কোটি ও মো. মোসাদ্দেক আলী ফালুকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন চলাকালীন ইনস্ট্যান্টওয়াচ মার্কেট সার্ভিলেন্স সফটওয়্যারের রিয়েল টাইম ডাটা (তথ্য) ফাঁস হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে তথ্য ফাঁস করার দায়ে সার্ভিলেন্স সফটওয়্যারের কনসালটেন্ট সিআইবিএল টেকনোলজি লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার তানভির আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.