| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইউনিভার্সিটি লাইফের প্রথম শব-ই-বরাতেই বাড়ী যেতে পারলাম না। চোখ ফেটে কান্না না এসে কি উপায়? অথচ জীবনে মায়ের হাতের হালুয়া-রুটি-মাংশ ছাড়া কোন শবেবরাত কাটাই নাই।
তখন সবে ইউনিভার্সিটিতে সবে ভর্তি হয়েছি। চোখে পানি আসলে "ও কিছু না, ময়লা" বলে কান্না এড়ানোটা তখনও রপ্ত করা হয়ে ওঠেনি। বাড়ীর জন্য হার্টের টেরাবাইট ভর্তি মায়া আর মায়া। কোনভাবে তিনদিন ছুটি মিলে গেলেই চট করে গ্রামের বাড়ী চলে যাই....
শব-ই-বরাতের রাতটা মফস্বল/গ্রামের প্রতিটি ছেলের জন্য ২৪ ক্যারটের সোনায় মোড়ানো সময়। সেই রাতে নামাজ পড়ার কথা বলে পাঞ্জাবি-টুপি পরে অসাধারণ অসাধারণ সব এ্যাডভেঞ্চার, ডাব, মুরগি চুরি করা কখনো চুরি করতে গিয়ে উসাইন বোল্ট হওয়ার দুর্দান্ত সোনায় মোড়ানো মুহূর্তের বর্ণনা সেটা খোদ রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ূন আহমেদ ও এ্যাডগার এ্যালান পো যৌথভাবে লিখতে বসেও ফুটিয়ে তুলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
ইউনিভার্সিটির প্রথম শব-ই-বরাতে বন্ধু-বান্ধব মোটামুটি কেউ বাড়ী গেল, কেউ গেল আত্মীয় বাড়ী। আমার কোথাও কেউ নেই। ফ্যা ফ্যা করে সারা দুপুর ঘুরলাম। মোবাইলে যতক্ষণ ব্যালেন্স ছিলো ছিলো, ততক্ষণ মাকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করলাম। বিকেলে অপরাজেয় বাংলার উপর বসে শক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি আর ফেউ ফেউ করে কেঁদে উঠেছি। কী ভীষণ একা আর অসহায় লাগছিলো সেদিন!!!
হঠাৎ দেখি আমার ডিপার্টমেন্টের সদ্য বন্ধু শাহীন (মামা শাহীন) একপাশে ব্যাগের ফিতা ঝুলিয়ে আসছে....
দ্রুত কান্না লুকালাম। ফার্স্ট ইয়ারের বিগবয় বলে কথা!!!!
শাহীন মামা এসেই কোন ভনিতা ছাড়াই ঢাকাইয়া টানে বললো, "দোস্ত, আইজক্যা রাতে আমগো বাসায় খাবি? আমার মা তোরে শবে বরাতে বাসায় যাইতে কইছে।"
আমি: "আন্টি কেন আমাকে যেতে বলবে? তিনি আমাকে ক্যামনে চিনেন?"
শাহীন মামা: "দোস্ত, আমি মারে কইছিলাম আমগো ডিপার্টমেন্টে একটা পোলা আছে, বাবা মায়ের একমাত্র পোলা। এইবার শব-ই-বরাতে বাড়ি যাইতে পারে নাই। তখন মা কইলো তোরে নিয়া আইতে... আমরা কইলাম, গরীব, যাবি আমাগো বাড়ী?? আমার মা খুব খুশি হইবো।"
চোখের পানির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেও লাভ হলো না, ঝুপ করে কান্না নামলো। ঐ রাতে লালবাগে শাহীনদের বাসায় খেলাম শব-ই-বরাতের হালুয়া রুটি। আহ! ক্যাম্পাসে জীবনের প্রথম শবেবরাতে পুরোটা রাত খুশীতে ঘুমাতে পারি নাই।
এ বছর ক্যাম্পাসে আমার শেষ শব-ই-বরাত কাটালাম, সেকেন্ড ইয়ার থেকেই প্রতি শব-ই-বরাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে রেগুলার দাওয়াত পাই। শব-ই-বরাতেই পরেরদিন বক্সে করে হালুয়া-রুটি -মাংশও পাই। না পেলেও ক্ষতি নেই, ঢাকার সবচেয়ে ভালো রেস্তোরায় শব-ই-বরাতের মেনু খাওয়ার সামর্থ্যও আমার এখন তৈরি হয়েছে।।।
কিন্তু, প্রতিটি শব-ই-বরাতে আমার শাহীনের কথা মনে পড়ে। শাহীনের আম্মার কথা মনে পড়ে।।। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম শব-ই-বরাতের কথা মনে পড়ে। ধন্যবাদ শাহীন মামা। ধন্যবাদ আন্টি। অফিসিয়ালি তোকে (আন্টির ক্ষেত্রে পড়তে হবে আপনাকে) ধন্যবাদ দেয়া হয়নি।
![]()
কিন্তু HSBC Bank Bangladesh এর কর্মকর্তা শাহীনের কি এসব মনে আছে?
বাই দ্যা ওয়ে শাহীন, বহুতদিন হয়ে গেলো, শব-ই-বরাতে আর কিন্তু দাওয়াত টাওয়াত দিলি না.................................
২৫ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৭
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: সেটাই। স্মৃতিরা পুরাই জীবন্ত।
২|
২৫ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৫
রাজু মাষ্টার বলেছেন: স্মৃতি গুলো রয়ে যাবে জীবন্ত।
২৫ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৮
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: সত্যিই, এখনো মনে হয় সেদিনের কথা।
৩|
২৫ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩৮
ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন:
২৫ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৮
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: এতো আনন্দ কই রাখি??
৪|
২৫ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫১
কালোপরী বলেছেন: ![]()
০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১২
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: ![]()
৫|
২৫ শে জুন, ২০১৩ রাত ৮:১৪
এম এম ইসলাম বলেছেন: ভাই, হল জীবনে শবে বরাতে সকলের অভিজ্ঞতা প্রায় একই ধরনের। এই দেখেন আমার অভিজ্ঞতা।
০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১২
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: হুম তাইতো দেখছি। আহারে কত্ত ইমু আছিলাম!
৬|
২৫ শে জুন, ২০১৩ রাত ১১:৩৩
আরিফ আরাফাত রুশো বলেছেন: এই ছবি কার? আপনার?? আপনি তো ভাল হ্যান্ডসাম আছেন দেখি
০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১৩
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: না এইটা আমার সেই বন্ধুর ছবি।
৭|
২৬ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১১:২০
চারশবিশ বলেছেন: @আরিফ আরাফাত রুশো
লক্ষন ভাল না
০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১৩
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: ![]()
৮|
০৯ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১:০৫
ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেছেন: মফুরা প্রথম প্রথম কত ইমু থাকে, নারে???
০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১৪
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: ইমুই ভালো আপু। সেই দিনগুলা মিস করি খুব।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৪৫
মোমের মানুষ বলেছেন: ভাল লাগল আপনার স্মৃতিচারন শুনে। অতীত কেবলই অতীত। তা আর কখনও ফিরবে না। কিন্তু স্মৃতি গুলো রয়ে যাবে জীবন্ত।