নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পোশাক কারখানার মেধা-শ্রমিক । মেহনতী মানুষের জয় হোক । পড়তে ভাল লাগে, মূলত এই জন্যেই ব্লগে আসা-যাওয়া করি ।

কালমানব

বস্ত্র কারখানার পেশাজীবি

কালমানব › বিস্তারিত পোস্টঃ

\'\'ঢাকা-ই-রিকশা’’

৩০ শে নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেক ড্রাইভ রোড, সকাল ৮.৪৫মি.: অনেক গুলো গাড়ীর সাথে ডান দিকে টার্ন নেয়ার সময়ে, হঠাৎ করেই ঝপ করে গাড়ীর বনেটের উপরে চলে এলো বৈদ্যুতিক রিকশা, আমার ড্রাইভার ব্রেকের উপরে প্রায় চড়ে বসে ’জাগায় থামায়’ ফেলেছে । রিকশার চালক এবং যাত্রী ভদ্রমহিলা আমার গাড়ি ও ড্রাইভারের দিকে জ্বলন্ত চোখে ত্রিশ সেকেন্ড অপলক তাকিয়ে থাকলেন । তক্খুনি আমার মনে হল, এই শহরে আমার ড্রাইভারের গাড়ী চালানোর এবং আমার গাড়ীতে চড়ার অধিকার আমরা নাই করে ফেলেছি ।
তারপর আমাদের ডানদিকগামী সমস্ত গাড়ীর সামনে দিয়ে সোজা ক্রস করে যাবার সময় বয়স্ক সাদা লম্বা দাঁড়ি রিকশাচালক যথেষ্ট জোরে একটি ‘চ’ বর্গীয় শোনার অযোগ্য গালি আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন- যেটা আমি এসি চালানো গাড়ীতে বসেও পরিস্কার শুনতে পেলাম । যাত্রী ভদ্রমহিলা অবশ্যই আরো জোরে শুনেছেন, এমন অশ্লীল গালি নারী যাত্রীর সামনে উচ্চারন করা যায় না ।
রিকশা, এককালে ঢাকাই মধ্যবিত্তের প্রিয় বাহন, রোমান্টিক বাহন এবং তাবৎ রিকশাওয়ালা মামার সাথে ঢাকাই লোকের সম্পর্ক অনেকটা আত্মার আত্মীয়ের মতো । সেই প্যাডেল মারা রিকশাওয়ালা ‘মামা’র চরিত্র এবং চিত্র বদলে গেছে, সেটা থেকে এখন এই সর্বব্যাপী, দ্রুতগতির, আগ্রাসী ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা পুরো শহর দখলে নিয়ে নিয়েছে ।
আগের রিকশাওয়ালা "মামা"রা তাদের নিরীহ, সৎ আচরন আর কঠোর পরিশ্রমের কারনে সমাজের সচেতন মানুষের ভালবাসার স্থান দখল করে নিয়েছিল । অপর দিকে, বর্তমান ই-রিকশার রয়েছে দুর্দান্ত গতি, লাগামহীন ভাড়া এবং এর চালকদের বেপরোয়া, রুক্ষ আচরন ।
ফিটনেস লাগে না, ট্যাক্স নাই, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই যেমন খুশী চালাও ভিত্তিতে এরা সারা ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ।
প্রিয় নগর কর্তৃপক্ষ-
এভাবে চলতে দেয়া যায় না, এটার ব্যবস্থা নেয়ার সময় চলে এসেছে ।
ঢাকার মোটরচালিত রিকশা ও এ’বিষয়ে সংকটের বাস্তব সমাধান:
১। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং লাইসেন্সিং: ‘ঢাকা-ই-রিকশা’ নামে এ্যাপ চালু করুন যেখানে সকল ব্যাটারিচালিত রিকশার বাধ্যতামূলক নিবন্ধন কার্যকর করতে হবে। এটি স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার অফিস থেকেও পরিচালনা করা যেতে পারে । নূন্যতম ফি-র বিনিময়ে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের যথাযথ লাইসেন্স নিতে বাধ্য করতে হবে ।
২ । কম্যুনিটি পুলিশের মাধ্যমে: ওয়ার্ড কমিশনারের অফিস থেকে কম্যুনিটি পুলিশ নিয়োগ করে দ্রুতগতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অনিবন্ধিত যানবাহন পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রাফিক লঙ্ঘনের জন্য তাৎক্ষণিক জরিমানা, ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
৩। নির্দিষ্ট লেন এবং এলাকাভিত্তিক বাহন: গতির পার্থক্য এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য, এদের জন্য নির্ধারিত নিম্ন-গতির লেন তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তদুপরি, সামগ্রিক ট্র্যাফিক এবং নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য এই ধরনের যানবাহনের জন্য কিছু প্রাথমিক ট্রাঙ্ক রাস্তাকে "নো-গো" জোন হিসাবে ঘোষনা করা যেতে পারে।
৪ । কমিউনিটি রিপোর্টিং এবং জবাবদিহিতা: রেজিস্ট্রেশন বা আইডি নম্বর ব্যবহার করা হলে বিপজ্জনক ড্রাইভিং-এর নির্দিষ্ট ঘটনা রিপোর্ট করার জন্য নাগরিকদের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য চ্যানেল বা শর্ট কোড অভিযোগ নাম্বার দেয়া হলে এই ড্রাইভার সম্প্রদায়ের মধ্যে জবাবদিহিতা বাড়বে ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.