নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোমাদেরই ইতিহাস হয়ে রইব আমি, তোমাদেরই পাশে..

মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারিনি, সবচাইতে বড় যন্ত্রণা.....

কালের সাক্ষী

কালের এক অচেনা স্বাক্ষী আমি পরিচয় আমার, কখনও জানতে চেওনাগো তুমি..

কালের সাক্ষী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মানুষ -- কাজী নজরুল ইসলাম

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৪

গাহি সাম্যের গান--

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ,

নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,

সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।

'পুজারী, দুয়ার খোল,

ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পুজার সময় হলো !'

স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়

দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !

জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ

ডাকিল পান্থ, 'দ্বার খোল বাবা, খাইনা তো সাত দিন !'

সহসা বন্ধ হল মন্দির , ভুখারী ফিরিয়া চলে

তিমির রাত্রি পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !

ভুখারী ফুকারি' কয়,

'ঐ মন্দির পুজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয় !'

মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি

বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি !

এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্

বলে, 'বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন !'

তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা--"ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,

ভুখা আছ মর গে-ভাগাড়ে গিয়ে ! নামাজ পড়িস বেটা ?"

ভুখারী কহিল, 'না বাবা !' মোল্লা হাঁকিল- 'তা হলে শালা

সোজা পথ দেখ !' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা !

ভুখারী ফিরিয়া চলে,

চলিতে চলিতে বলে--

"আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,

আমার ক্ষুধার অন্ন তা'বলে বন্ধ করোনি প্রভু !

তব মজসিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,

মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী !"





কোথা চেঙ্গিস, গজনী-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড় ;

ভেঙ্গে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার !

খোদার ঘরে কে কপাট লাগায় কে দেয় সেখানে তালা ?

সব দ্বার এর খোলা র'বে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা !

হায় রে ভজনালয়

তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয় !

মানুষেরে ঘৃণা করি

ও' কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি

ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে

যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে ।

পুজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল !--মুর্খরা সব শোনো

মানুষ এনেছে গ্রন্থ,--গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো ।

আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মদ

কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের সম্পদ,

আমাদেরি এরা পিতা পিতামহ, এই আমাদের মাঝে

তাঁদেরি রক্ত কম-বেশী করে প্রতি ধমনীতে বাজে !

আমরা তাঁদেরি সন্তান , জ্ঞাতি , তাঁদেরি মতন দেহ

কে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ ।

হেস না বন্ধু ! আমার আমি সে কত অতল অসীম

আমিই কি জানি কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম ।

হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদি ঈসা,

কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা ?

কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, কাহারে মারিছ লাথি ?

হয়তো উহারই বুকে ভগবান জাগিছেন দিবারাতি !

অথবা হয়ত কিছুই নহে সে, মহান উচ্চ নহে,

আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত পড়িয়া দুঃখ - দহে,

তবু জগতের যত পবিত্র গ্রন্থ ভজানালয়

ঐ একখানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র নয় !



হয়ত ইহারি ঔরসে ভাই ইহারই কুটীর -বাসে

জন্মিছে কেহ-জোড়া নাই যার জগতের ইতিহাসে !

যে বাণী আজিও শোনেনি জগৎ, যে মহাশক্তিধরে

আজিও বিশ্ব দেখেনি--হয়ত আসিছে সে এরই ঘরে !





ও কে ? চন্ডাল ? চমকাও কেন ? নহে ও ঘৃণ্য জীব !

ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব ।

আজ চন্ডাল, কাল হতে পারে মহাযোগী-সম্রাট,

তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দী পাঠ ।

রাখাল বলিয়া কারে কর হেলা, ও-হেলা কাহারে বাজে !

হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল এসেছে রাখাল সাজে !

চাষা বলে কর ঘৃণা !

দেখো চাষা রুপে লুকায়ে জনক বলরাম এলো কি না !

যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারও ধরিল হাল

তারাই আনিল অমর বাণী--যা আছে র'বে চিরকাল ।

দ্বারে গালি খেয়ে ফিরে যায় নিতি ভিখারী ও ভিখারিনী,

তারি মাঝে কবে এলো ভোলা -নাথ গিরিজায়া, তা কি চিনি !

তোমার ভোগের হ্রাস হয় পাছে ভিক্ষা-মুষ্টি দিলে

দ্বার দিয়ে তাই মার দিয়ে তুমি দেবতারে খেদাইলৈ ।

সে মোর রহিল জমা -

কে জানে তোমারে লাঞ্ছিতা দেবী করিয়াছে কি না ক্ষমা !

বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ দু'চোখ স্বার্থ ঠুলি,

নতুবা দেখিতে, তোমারে সেবিতে দেবতা হয়েছে কুলী ।

মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা মথিত সুধা

তাই লুটে তুমি খাবে পশু ? তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা ?

তোমার ক্ষুধার আহার তোমার মন্দোদরীই জানে

তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের কোনখানে !

তোমারি কামনা-রাণী

যুগে যুগে পশু ফেলেছে তোমায় মৃত্যু বিবরে টানি ।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫০

পাপতাড়ুয়া বলেছেন: মানুষেরে ঘৃণা করি
ও' কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে ।




মানুষেরে ঘৃণা করি
ও' কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে ।

২| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫২

লালসালু বলেছেন: ক্লাস এইটে এই কবিতাটা আমার স্যার আমাকে দিয়েছিলেন। এখনো কবিতার প্রতিটা লাইন মুখস্থ আছে।

৩| ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩২

ইমরান হক সজীব বলেছেন: ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.