| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
ঘড়িটা বেরসিক ছিলোনা, রাতে এলার্মের সুইচটা অন করে রাখাতেই সকালের আরামের ঘুমটাতে চিৎকার বসালো। অনেকটা রূপকথার গল্পের সেই সৎ মায়ের মতো।
বাথরুমের বালতিতে বেশি পানি ছিলোনা, যতটুকু ছিলো তাতে অন্তত গোসল করার মতো দুঃসাহস হবেনা। কাজের বুয়া জানাল গতকাল বিকালে কর্পোরেশনের লোকেরা আজ দুপুর পর্যন্ত এই এলাকায় পানি থাকবেনা বলে নাকি মাইকিং করেছে। কিন্তু সেই মাইকিং শোনার মতো সময় ব্যাটে বলে লাগেনি, তাই এ দুর্ভোগ। তারা না হয় তাদের দায়িত্ব পালন করেই খালাস, আমাদের দায়িত্ব ছিলো সব বদনা বোতল বাটি ভরে রাখা। হলো আর কই! ভাগ্যিস বৌ বাচ্চা-কাচ্চা নেই, থাকলে আরেক বিপদে পড়তে হতো।
‘তাড়াতাড়ি বাস ছাড় ব্যাটা!’ মধ্যবিত্তের জীবনে এক মন্ত্র যা আউড়ে চলে বড় থেকে বুড়ো সবাই। বাচ্চারা তেমন একটা বলেনা, হয়তো বোঝেনা বলে। বুঝলে ঠিকই শিখে নেবে মধ্যবিত্তের বীজ মন্ত্র।
ভর দুপুরে আস্তে করে মাথার উপর রোদটা চড়া হয়ে ওঠে। তিরিশ টাকার ভর্তা ভাতের দোকানে লাইন বেড়ে যায়। আর সেখানে বঞ্চিতরা দশ কদম এগিয়ে সামনের মোড়ে চলে যায়। বিশ টাকায় কাউয়া বিরিয়ানি স্বাদ বোঝার আগেই পেটে চালান করে দেয়। ছোট গোল গোল প্লেটে চামচ দিয়ে ঠুকে ঠুকে শেষ ভাত কিংবা মাংসের টুকরাটি খাওয়ার পর জিভ চেটে স্বাদ বুঝে,
‘মামা। আরেক প্লেট লও। পেঁয়াজ দিও বেশি’।
যেনো বিক্রেতার লাভের অংশ সস্তার পেঁয়াজ খেয়েই শেষ করে দেবার পরিকল্পনা।
‘নেন মামা’, কাউয়া মামা (যারা এই খাবার বিক্রি করে) ডাকে হাত বাড়িয়ে প্লেটটা নিতেই সস্তার মোবাইলে মায়ের কল।
‘বাজান, কি করস?’
‘আম্মা, দুফরের খাওন খাই, তুমি কি করো?’
‘আমিও খাইলাম বাজান, তোর মাইজ্জা দুলাভাই আইছে। কালকা যাইবোগা। তোর কথা জিগাইছি, বাড়িত আইবে নাকি?’
ঠিক এরই মধ্য কাউয়া মামার তাগাদা ‘মামা, চালু করেন। কাস্টমার খাড়ায়া আছে।’ যেনো আর বেশি দেরি করলে খাবারের দামের সাথে প্লেটের ভাড়াও দেয়া লাগবে।
‘না আম্মা, কয়দিন আগে ঈদ গেলো। ছুটি পামুনা। আইচ্ছা আম্মা, আমি অফিসের বাদে ফুন করি।’
কথা শেষ করে মোবাইল পকেটে রাখতে যাওয়ার সময় একটা রোদের ঝিলিক চোখে লাগে। সেদিকেই তাকাতেই দেখা গেলো বেশ নাদুস নুদুস একটা ফোন হাতে রিক্সায় আরোহী কড়া সুগন্ধী মাখা তরুনীটির চোখ তার প্লেটের দিকে। হয়তো কোনো দামী রেস্তোরাঁতে কারো সাথে দুপুরের খাবার আমন্ত্রণ রাখতে যাওয়া তরুনীটি কাউয়া বিরানির সুগন্ধে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে কিনা বোঝা না গেলেও, হাতে সস্তার খাবার দেখে নাক কুঁচকানোটা ঘর্মাক্ত রিক্সাওয়ালাকে তাগাদা দেওয়া তা বেশ বোঝা গেল।
হাতে প্লেট নিয়ে জিভ চেটে পরিস্কার করে খাওয়া শুরু করে মধ্যবিত্ত।
তরূণীকে দেখে, না স্বাদ বুঝে বিরিয়ানির লোভে ঠোঁট চাটা,
ভরদুপুরের রোদ্দুরে ঠিক বোঝা গেলোনা।
-0-

©somewhere in net ltd.