| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
ল্যাম্পপোস্ট। সাদা আলো। দাঁড়ালো, ছায়াটা যেখানে শেষ। পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়লো। সামনে কাক কালো জল। নানা রঙের আলো, ছিটকে ছিটকে নিজেকে খুঁজছে। যেমন অন্ধকারে কলুষিত প্রেমিক উত্তপ্ত করে চলে প্রেমিকার শরীর। উত্তপ্ত হচ্ছে সে। ভেতরে। ভেতরে। লোভ জাগছে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া দ্রুতগামী লোকটি তখন অন্য কোথাও, অন্য চিন্তার জগতে। লোভী হয়ে উঠছে সে। ক্রমশ। কালো জল ডাকছে। প্রথম নারী হওয়া কিশোরীটির লাল কাপড়ের মতো লাল বাতির ছায়া জ্বেলে খুব কাছ দিয়ে একটা বিমান উড়ে গেলো।
কালো রাতটাকে ঠুকে দিলো টুকটুক শব্দটা। ব্যাগের জিপার খোলার শব্দ। ফুঁক ফুঁক শব্দে বেজে উঠলো একটা বাঁশি। হয়তো সারাদিন স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে থাকা বাধ্য স্ত্রীর মতোন প্রসাধনী মেখে শুয়েছিলো ব্যাগের ভেতর। ঠোঁট লাগতেই সুরে উঠলো।
অদূরে একটা আলো জ্বললো। মোবাইলের আলো। নিভৃতে বসে থাকা একজোড়া শঙ্খচূড়া। বাঁশির সুরে চোখ মেলে দেখলো সাদা শার্ট, সাদা সালোয়ার কামিজের জোড়াটিকে অবেলার শঙ্খচূড়াই মনে হলো তার।
কতোক্ষণ চোখ বন্ধ করেছিলো মনে নেই। আধা ঘণ্টা। এক ঘণ্টা। দেড় ঘণ্টাও হতে পারে।
যতোগুলো মশা তার চেয়ে বেশি মানুষ বাঁশিওয়ালার চারপাশ ঘিরে। একটা বাচ্চা মায়ের ফিক করে হাসিতে থেমে গেলো সুর। কালো হাইহিল, মুখে কালো বাঁশির প্রহরীটি বাঁশিওয়ালার সামনেই দাঁড়িয়ে। চুপচাপ। দূরে গাড়ির হর্ণ, একটা রিকশার বেল। কারো মশা মারার ব্যর্থ চেষ্টা।
অন্ধ বাঁশিওয়ালাটি ব্যাগ বন্ধ করে ফেলছে, আর থাকা ঠিক হবে না তার। লোক আসছে। দাঁড়াচ্ছে। ভিড় বাড়ছে। বাঁশি বাজানোর অধিকার আছে। কারো সময় আটকে নয়। পথ আটকে নয়। কাজ আটকে নয়।
এই লোকগুলোকে ভয় করছে তার।
ভীষণ ভয় করছে মধ্যবিত্তটির। এরা ঈশ্বরের কারখানায় তৈরি হওয়া মানুষ। তাই আরও বেশি ভয় করছে।
টুকে টুকে বাঁশিগুলো গুছিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো বাঁশিবাদক। এমন সময় মুখ থেকে বাঁশিটা বুকে ঝুলিয়ে দিয়ে কালো হাই হিলের প্রহরীটি বললো,
"ভাই কি যাবেন গা! আর একটা কিছু যদি শুনাইতেন! "
হ্যাঁ। এর ভেতরে মানুষ জেগেছে। তবে এটা আবেগের মানুষ। ভেতরের মানুষ। বাঁশিওয়ালাকে অনুরোধ সে করেনি, তার ভেতরের মানুষটা করেছে।
মানুষের কারখানায় তৈরি হওয়া মানুষটা!
দৃষ্টিহীন চোখে সে একটু তাকালো, সে অবাক হলো!
বাচ্চাটার মতো ফিক করে হেসে দিলো অন্ধ ঠোঁট। ভেতরের এই মানুষটাকে অন্ধ চোখগুলো চেনে।
"গান শুনবেন? না বাজনা? "
তার উত্তর শোনার আগেই বাঁশি ঠোঁটে লেগে গেছে আবার। গ্যাস্ট্রিকের ছুরি কাটা ব্যথার মতো একটা চিকন সুর ঢুকে গেলো বুকের ভেতর।
পাশের স্কার্ফ পড়া মহিলাটার ফিসফিস আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেছে। বাচ্চা মেয়েটার হাসিটা বন্ধ হয়ে গেলো।
কেবল বুকের হাহাকারটা তখন গলায় উঠে এসেছে।
"চাতকও প্রায় অহর্নিশি...."
উঠে চলে আসছে মধ্যবিত্ত। আর শুনতে প্রস্তুত নয় সে।
কাউকে অতৃপ্ত রাখাই সবচেয়ে তৃপ্তির কাজ। কারণ ঢেঁকুর উঠে গেলে মানুষ আর পশুতে তফাত থাকে না। কারণ দুইজনেই তখন ক্লান্ত হয়ে যায়।
বাঁশির সুরে মধ্যবিত্ত নিজের ভেতরের মানুষটাকে ঢেঁকুর তুলতে দিতে চায় না। অতৃপ্তির কারণেই না হয় ভেতরেরটা কিছুক্ষণ মানুষ থাকুক!
"আমার মনের মানুষেরও সনে....
-০-
©somewhere in net ltd.