| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে যাবে ভাবতেও পারেনি সে। অবশ্য বৈশাখের বৃষ্টি আষাঢ়ের মতো ঢাক ঢোল পিটিয়ে আসে না এটা সে জানে। ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। অতীতের পৃষ্ঠা উলটানো পাতাদের ভিড়ে হঠাৎ হঠাৎ কিছু ব্যাপার এলোমেলো বলেই মনে হয়। সামনের যে মেয়েটা রিকশায় জবুথবু হয়ে বসে আছে, তার মনে কি চিন্তা জলের মতো ঘুরছে ভাবার চেষ্টা করলো।
একটা এটিএম বুথের বাইরের অংশে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যবিত্তটি। কোনোভাবে মাথাটা বেঁচে যাচ্ছে। মোবাইল মানিব্যাগ পিছনের পকেটে, কারণ বৃষ্টির ছাঁট সামনে থেকে আসে। আর পিছনের অংশ সহজে ভিজে না। ইন্টারমিডিয়েটের পদার্থবিজ্ঞান বইতে পড়েছিলো। হঠাৎ মনে পড়তেই নিজের মনে হাসতে লাগলো। কয়েকদিন আগে দেওয়া মাস্টার্স পরীক্ষাতে কি প্রশ্ন ছিলো আর কি উত্তর দিয়েছিল তাইই মনে নাই, আর সেখানে তারও পাঁচ ছয় বছর আগে পড়া একটা ছোট ঘটনা মনে আছে। তাহলে কি যা জীবনে বাস্তব কাজে লাগে তাই মনে থাকে? তাইই টিকে থাকে? তাহলে এতোদিন ধরে যা পড়ে পড়ে পাশ করে এসেছে সেগুলোর তেমন কোনও মূল্য নেই? নইলে মনে নাই কেনো?
হাতের মুঠোয় বাদামের ঠোঙাটা ভিজে যাচ্ছে। রাস্তায় গরম গরম ভাজছিলো দেখে কিনেছিলো। কয়েকটা খাওয়ার সৌভাগ্যও হয়েছে। আর এরই মধ্যে বৃষ্টি। এক বন্ধু বলতো, বাদাম হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক খাবারের মধ্যে একটি। নব্বইয়ের দশকে নাকি প্রেম করার চেয়ে বাদাম খাওয়াটাই বেশি রোমান্টিক ছিল। সে সময়ের প্রেমও নাকি ছিল বেশ রোমান্টিক। অনেকটা ‘এক পলকে একটু দেখা আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কি?’ স্কুল কলেজ যাওয়ার সময় আড়চোখে একটু দেখা, সন্ধ্যা হলে বাড়ির আশেপাশে একটু ঘোরাঘুরি; যদি একটু দেখা হয়?
হুমায়ুন আহমেদ তার হিমু সিরিজের একটাতে বাদাম প্রেমিকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এক ভদ্রলোক মানে হিমুর খালু, বেঢপ দেখতে এক নারীর সাথে প্রেম করতেন। তার কারণ একটাই, মহিলাটির বাদাম খাওয়ার স্টাইল খুব সুন্দর। ইঁদুরের মতোন কুটুর কুটুর করে খায়।
কিছু কিছু সময় মনে হয় ইস! যদি কেউ ফোন করতো! একটু কথা বলতে পারতাম। যদিও এই মূহুর্তে ফোন আসাটাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এমনিতেই ফোনটা সমস্যা করছে, পকেটে থাকতে থাকতেই হঠাৎ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পাড়ার গলির মুখের হাতুড়ে মেকানিকটা কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে গম্ভীর মুখে বলেছিল, ‘আইসিটা বদলাইতে হইবো বস। পাঁচশো ট্যাকার নিচে পারুম না।’ বাইরে বৃষ্টির ছাঁট, আর পকেটে মোবাইলের হঠাৎ ভাইব্রেশান, একটা ঠাণ্ডা বাতাস মুখে লেগে ফিরে যাচ্ছে অজানা কোথাও। ব্যস্ত কিংবা অব্যস্ততার এই ফোন কলটির চেয়ে লড়বড়ে মোবাইলের দামটা অনেক বেশিই মধ্যবিত্তটির কাছে।
না, ফোনটা ধরতে পারবে না সে।
-০- 
©somewhere in net ltd.