| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
সকাল বেলার কড়া রোদে বাসের মধ্যে ঘামে ভিজতে ভিজতে পাঁচ টাকার বিনিময়ে করা নীল রঙের ঘুম কিনে রেখেছে। ইদানীং আর ঘুম নিয়ে ঘুম বেশি ভাবতে হয় না। প্রতিদিন একই বাসটির কোথাও না কোথাও বসে যায়, আর হকারটিও খুঁজে বের করে বলে, ‘আজকে লাগবে না স্যার!’
বাসের ড্রাইভার থেকে শুরু করে যারা এই বাসে প্রতিনিয়ত যাওয়া আসা করে তারাও জেনে গেছে তার কথা। তাই কেউ কিছু মনে করা কি না সেটাও চিন্তার মতো ব্যাপার। হালকা বাতাসের সাথে অনেক গুলো চিন্তা শরীর স্পর্শ করে যাচ্ছে। পাশের পান খাওয়া লোকটার কড়া জর্দার গন্ধও আর নাকে লাগছে না কিছুক্ষণের জন্য।
কব্জিতে বাঁধা সস্তার হাতঘড়িটা প্রতিদিন একই রকমভাবে সময়ের কাঁটা বদলে দিয়ে যাচ্ছে, শুধু বদলাচ্ছে না তার চিন্তার বিষয়গুলো। তবে একেকবার একেকরকম সময়ের বিষয় মাথার ভেতর ঘুরে ফিরে একই নিঃসঙ্গ বাতাস জীবনানন্দের কবিতার জলের মতো ঘুরে ফিরে যায়, ‘সে কেনো জলের মতো ঘুরে ঘুরে এতো কথা...’।
গাড়ির জানালা নাগাল পাচ্ছে না তবুও গোড়ালিতে ভর করে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ মলিন ফুল বিক্রি করছে যে পিচ্চি টোকাই মেয়েটা, সে জানে না ভুল রাজত্বে জন্ম হয়েছে তার। আর যাই হোক এই অভাব আর অনটন তার পিছু ছাড়বে না কোনো দিন। সারাজীবন গোড়ালি উঁচু করে দেখতে হবে এসির বাতাস খাওয়া লোকগুলোর সুন্দর সুন্দর মুখ। কালো কাঁচ লাগানো ফুলের মতো মেয়েগুলোর কাছেই ফুল বিক্রি করতে হবে।
আহা! ফুলেদের সাথেই ফুলের দেখা হয় শুধু!
এ সমাজ তাদের গল্পই শুনতে আসে যারা নাকি নিজ নিজ ক্ষেত্রে বেশ প্রতিষ্ঠিত। ক্ষেত্র বিশেষে তাদের কথার দামও অনেক, অনেক টাকায় বিক্রি হয় তাদের কথা শোনার টিকেট। আর তাদের মতো মধ্যবিত্তদের সফলতা কেউ দেখেও দেখতে চায় না, শুনেও শুনতে চায় না।
তাদের আবার সফলতা কি? ছাপোষা মধ্যবিত্তদের জীবনে কি সফলতা বলতে কিছু আছে? না থাকতে আছে?
চলতি বাসটির স্পিডবেকারের একটা বড় ঝাঁকুনি খেয়ে আচমকাই বুক পকেটে হাত দিলো মধ্যবিত্তটি। না, পাঁচ টাকার নীল ঘুমগুলো সযত্নেই আছে।
সপ্তাহটা মোটামুটি ঘুমেই কেটে যাবে। ঘুম থাকলে মধ্যবিত্তদের বাজে চিন্তার সময় কই?
--
তার জানলাটার অল্পদূরেই বেশ অন্ধকার। তারাদের আলোয় বাতাসে হেলতে হেলতে ছোয়াঁছুঁয়ি খেলছে দুটো সবুজ পাতা। নীল রঙের আকাশটা অনেকদিন আয়না দেখেনি, তার ফুসফুসটার ভেতরে এক চিলতে ছিদ্র।
নপুংসক হয়ে জন্ম নেওয়া তিন কোনা ঘুড়িটার খুব ঘুম পায় ইদানীং, ঘুমের ঘোরে পলকে পলকে গোত্তা খায়; আর তার পাশ দিয়ে সপরিবারে উড়ে যায় ঘাড় চাঁছা শকুন। এ পল্লীতে তার বসবাস নিষিদ্ধ করেছে রঙচঙা টিয়েদের দল। আর তা দেখে ঘুড়িটা ভাবে "ইস! এরকম স্বাধীন হয়ে উড়তে পারা কতই মজার! "
কিন্তু নাটাই বাঁধা ঘুড়িটা হয়তো জানে না, ওর এই বন্দীত্বই ওর সমস্ত সুখ।
ভো-কাট্টা ঘুড়ির ঠিকানা কি সে নিজে জানে? উড়তে উড়তে কোথায় গিয়ে পড়বে? কোন বিদেশ-বিভুঁইয়ে?
তার চেয়ে নাটাইটার সাথেই প্রেম জমাক, সুতোর টানে হোক জমাট আলাপন।
ওদিকে অল্প বাতাসে থেমে গেছে পাতাদুটোর ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা। কবে হবে আবার?
কে জানে, কে-ই বা জানে!
এইসব হিজিবিজি চিন্তাগুলো মাথায় নিয়েই আপাতত ব্যাগটা গোছাচ্ছে সে। কি নেবে আর কি নেবে না তা বাছাই করতে করতেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। আগে একটা তালিকা করে রাখলেই ভালো হত মনে হয়!
-০-

©somewhere in net ltd.