| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
ঠিক ভোরবেলা অ্যালার্মের শব্দে যে স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যায় তা দেখে লাভ কী? অন্ধকার ঘুমের জগত আর অন্ধকার ঘরে ভেসে বেড়ায় লিলুয়া শৈশব। ডানা ছুঁড়ে তড়পাতে তড়পাতে আবারও পথ হারায় লাল ইটের দেয়ালে ফ্লুরোসেন্ট আলোমুখী পথভোলা প্রজাপতিটি। তার সামনে আর শৈশব নেই, কেবল বেঁচে থাকার শ্বাস। এই শহরের রঙচঙে আলোতে মন মজেছিল কোনো একদিন।
এই শহর না কী যাদুর শহর! গেয়েছিল শহুরে এক গায়ক। আসলেই যাদুর, নইলে মানুষ দলে দলে আসে কেন?
'আমি এই শহরে থাকতে আসিনি, কেবল বাঁচতে এসেছিলাম' বলে চিৎকার করেছিল যে মেঘগুলো, তাদের কান্না পৌঁছায়নি সেই লেখকের কথায়, সুরকারের সুরে, কিংবা গায়কের আবেগে। তাই গায়ক যতোবারই চিৎকার করে 'এই শহর যাদুর শহর' ততোবারই মেঘগুলো কান্না হয়ে ঝরে পড়ে, নীল অপরাজিতা আরও নীল হয়ে যায়, রঙবেরঙের পাখিরা খাঁচায় ঢুকে পড়ে মুখস্ত করে 'এই শহর যাদুর শহর'!
ঠিক এরই কোনো এক ফাঁকে সাপ্তাহিক আর কিছু অফিস ছুটি একত্র করে কিছু লিলুয়া রঙিন বাতাস পালিয়ে, উঠে যায় অজানা বাসটিতে। যে বাসটির নিজস্ব গন্তব্য আছে, কিন্তু নেই নিজের গন্তব্য। পকেটে অর্থ থাকলেই গন্তব্য হয় না, গন্তব্য তৈরি করতে গেলে স্বপ্ন দরকার হয়। এই শহর যাদু করে কেড়ে নিয়েছে স্বপ্ন,তাই গন্তব্য নেই আর!
যাদুর শহরই যদি হয়, কেনো সপ্তাহের একটি বিশেষ দিনে জ্যাম পড়ে যায় যাদুর শহরের রাস্তা ঘাটে? কেনো জ্যামে বন্দী মানুষ জানলার বাইরে ধুলো মাখা মানুষ পালাতে চায়? গন্তব্যহীনতার মাঝেই তবু জীবিকার তাগিদে বেঁচে থাকতে চাওয়া নাগরিকেরা বেঁচে আছে।
শুধু নেই হয়তো ভালো থাকতে চাওয়ার মন। কারণ, 'যাদুর শহর' কেড়ে নিয়েছে ভালো থাকার শেষ উপযোগিতাটাও!
ধুলোর নগরীতে আজ আর পরোয়া নেই ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের।
শুধু সপ্তাহের বিশেষ দিনে পালানোর অপেক্ষায়,পিছনে পড়ে থাক 'এই যাদুর শহর...'
©somewhere in net ltd.