| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
দালান ঘরের এক কোনায় চু-উ-ক চু-উ-ক করে ডেকে যাচ্ছে যে পাখিটা; তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে তার মোবাইলের রিংটোনটা কী? আমরা মানুষেরা যেখানে রিংটোন দেই পাখির ডাক, সেখানে ওরা পাখিরা কী দেয়! প্রতিবেশী ঘরটার জানলার ধার ঘেঁষে অনেক খেলনা জড়ো হয়ে আছে। বৃষ্টির ছাঁট আরেকটু বেড়ে গেলেই ভিজতে শুরু করবে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে ওদের ঠান্ডা লাগলে ওরা কী ওষুধ খায়? তেতো নিমপাতার আর তুলসি মধু মিশিয়ে? না এলাট্রল কিনে টপাটপ গিলে খায়? ওরাতো দেখতে আমাদেরই মতো! হাত আছে, পা আছে, নাক আছে, চোখ ঠোঁট মুখ সবই আছে। হয়তো নানান উর্দি পড়া মোটা উলের নিচে একটা অনেক বড় হৃদয়ও আছে!
সময়ের জলটা গড়িয়ে যাচ্ছে দ্রুত, একটা পাত্র পেলে তুলে রাখতাম কিছুটা।
ইদানীং স্বপ্নে ফিতা ক্যাসেট দেখি, টেপ রেকর্ডার দেখি। কড়ে আঙুলের মতন চিকন দুই পেন্সিল ব্যাটারির ওয়াকম্যান দেখি। কালো চিকন তারের হেডফোন দেখি। চোখে পড়ে সেটির কোনও একপাশ ছেঁড়া, তায় লাল স্কচটেপ মোড়ানো আমার কৈশোর। যেন সেখানে চাপ দিলেই গান সুন্দর বেজে ওঠে, নইলে পিনপিন করে।
আর দেখি আমি যেনো বাজারে-বাজারে-দোকানে-দোকানে খুঁজে ফিরছি অ্যালুমিয়ামের মাথায় তিন দাগকাটা হেডফোন! ব্রিকস গেমের টেট্রিসের ইটগুলোকে ঠিক জায়গাতে বসাতে না পারার কষ্ট ঘুম ভাঙিয়ে দেয়!
আমি ধরফর করে উঠে জল খাই ঢকঢক! আর এদিকে ব্যাটারি ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে বিস্বাদ হয়ে যাচ্ছে ওয়াকম্যানের গানের সুর, তাতে প্রতিবাদ করে ডেকে চলেছে দালানের কোনের পাখিটা!
চু-উ-ক চু-উ-ক!
©somewhere in net ltd.