| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...
ইদানীং হঠাৎ হঠাৎ মনের শরীরটা ভাল যায় না, কেঁপে কেঁপে জ্বর আসে। সে নাকি কোনো গন্ধ পায় না, কিছু শুনতে পায় না। নিশ্চিতভাবেই করোনার লক্ষণ! এই পৃথিবীর তাবৎ জায়গায় শরীর পরীক্ষা করে করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষায় ব্যতিব্যস্ত বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞরা, শুধু মনটাই বাদ পড়ে গেলো। মনের কী করোনা হয় না, হতে পারে না? মনের যদি জীবন থাকে, মনের যদি শরীর-অনুভূতি ইত্যাদি থাকে তাহলে সে কী করোনায় আক্রান্ত হতে পারে না?
এরকম না হলে মানুষ কেন বলে "মন মরে গেছে? "
এই মহামারীর বিভীষিকায় শরীরটা না হয় কোনোমতে বাঁচিয়ে বাঁচা গেলো, কিন্তু মনটাকে বোধ হয় আর বাঁচানো গেলো না!
কিন্তু গোটা বাংলার কোন হাসপাতালে যে মনের করোনা নির্ণয় হয় সেটা এখনও খুঁজে পাইনি! তাই মনের সাথে এক ঘরে বাস করছি ভয়ে ভয়ে, কখন জানি মন থেকেই না হয় শরীরে ছড়িয়ে যায় এ তীব্র ভীতিটা। এতদিন যে মনটা শরীরটাকে সাহস জুগিয়েছে, আজ সে নিজেই খুক খুক কেশে চলেছে?
আচ্ছা, শরীর কি মনকে সাহস দিতে পারে? যেমন মন শরীরকে দেয়?
জানালা দিয়ে উড়ে আসা পলতে পলতে মেঘ শেষ বিকেলে নিজের বাড়ির পথ ধরে যাচ্ছে, খুব ইচ্ছে করছে ওদের ডেকে বলি "ও মেঘ, তোমার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম বলে যাও! হয় মোবাইল, নয় ফেসবুক, নয় টুইটার-ইন্সট্রাগ্রাম-টেলেগ্রাম যেকোনো একটা কিছু দিয়ে যাও! ভীষণ মন খারাপের দিনে তোমাকে দেখতে চাই! "
ফেসবুকে-টুইটারে ইত্যাদি ইত্যাদিতে কত মেঘময় নাম! মেঘের আগে পিছে নানান নামের নানান আইডি। সবগুলোই কি মেঘেদের?
আচ্ছা, মেঘেরা কী জানে এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নাম দিয়ে কত আইডি খোলা? কিংবা তারা যদি কোনোদিন আইডি খুলতে যায় ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদি ইত্যাদি আবার বলে বসবে নাতো "Please, change the name. This name/id has another existance!"
টুক করে বিকেলটা লাল থেকে কালো হয়ে গেল। এখন কালচে অন্ধকার।
না, মনের শরীরটা ভালো না বড্ড! বেতাল জ্বর, গোলেমেলে কাশি, হৃদয় পোড়া গন্ধটাও আজকাল পাচ্ছে না যে!
©কাঙাল
©somewhere in net ltd.