নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অসুস্থ শহরের নাগরিক মন, তাই পালিয়ে বেড়ানোর আয়োজন...

কাঙাল মিঠুন

ইদানীং/ আবছা রোগে মরে যায় বইয়ের পাতা/ ক্যালেন্ডারে নকশা আঁকে প্রাক্তন প্রেমের দাগ/ বাগানের ফুল চুরি করে যায় আবেগহীন গুবরে...

কাঙাল মিঠুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাড়িওয়ালা- ০১

২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:২৮


আর যাইহোক, আজকের ঘটনাতে বেশ অবাক হয়েই তাকিয়ে রইলেন কফিল মিয়া। প্রায় ষাট বছরের জীবনে আর যাইহোক, এভাবে কেউ মুখে ঝামা ঘষে দিতে পারেনি। বাবার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন দুইটা চারতলা বাড়ি। ৬০০ টাকা থেকে বাসা ভাড়া দেওয়া শুরু করেছিলেন। আর এখন প্রতিটি ইউনিটের ভাড়া কমসে কম ৬০০০ টাকা। করোনার সময়ে যদিও একটু সমস্যায় পড়েছিলেন, তখন কয়েকজন ব্যাচেলরকে বাধ্য হয়ে ভাড়া দিতে হয়েছিল। আর এখানেই বোধ হয় জীবনের বড় ভুল করেছেন। এর আগেও ব্যাচেলর ভাড়া দিয়েছেন তবে সেগুলো বেশ পরিচিত ছিল। কখনো গোলমাল করেনি। কাছাকাছি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো, ঠিক সময়ে আসতো যেতো খেতো ঘুমাতো। তাদের আচরণে ভালো লাগা ছিল বলেই নিজের কাজের বুয়াকে ছেলেগুলোর রান্নাবান্নার কাজে দিয়েছিলেন। সকাল আর রাতে দু বেলা রান্না করে দিত বুয়া। একই বাসায়, শুধু ২ তলা আর ৫ তলায়। বিনিময়ে বাড়তি কিছু অর্থ রোজগার হওয়াতে বুয়াও বেশ খুশি ছিল। বছর দুয়েক ছিল সে ব্যাচেলর ছেলেপেলেগুলো। গনা গুনতি মোট ৮ জনের মতো। তিন রুমে আর ডাইনিং এর জায়গাটায় বোর্ড দিয়ে নিজেরাই নিজেদের মতো করে থাকার জায়্গা করে নিয়েছিল। প্রতি শুক্রবার জুম্মাবারে ডেকে ডেকে নামাজে নিয়ে যেতো, এছাড়াও মোট তিনটা রমজানের রোজার নামাজ সেই ছেলেগুলোর সাথে পড়তে পেরেছিলেন। পানি কম থাকলেও কিছু বলত না। নিজেরা কয়েকটা বড় বালতি কিনে পানি জমিয়ে রাখতো। বিদ্যুৎ খরচের বেলাতেও বেশ হিসেবী। মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার্ভিস চার্জ সব পরিশোধ করে দিত। তাদের এরকম নিয়মানুবর্তীতা দেখে তিনি নিজে থেকেই পানির বিল মওকুফ করে দিয়েছিলেন। এজন্য ওরা বাড়িওয়ালাকে প্রায়ই কৃতজ্ঞতা জানাতো। এসব কথা তিনি জেনেছেন বুয়ার কাছ থেকে। কোনোদিন কোনো কিছু মানা করতে হয়নি। কারণ এমন কোনো কাজ ওরা করেনি যে ওদের শাসন করতে হয়। কিংবা কড়ামুখে কোনো কথা বলতে হয়। আহা! কী ভালোই না ছিল সেই ছেলেগুলো।
ওরা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হলো করোনার প্রকোপ। বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়া চলে গেলো বাসা ছেড়ে। বাসা খালি থাকার পর অনেক ভেবেচিন্তে এই একটা ইউনিট, ৫ তলার সেই ইউনিটটাই তিনি দিলেন এই ব্যাচেলরগুলোকে। কিন্তু এদের কাছে তিনি এমনভাবে ধরা খাবেন বুঝে উঠতে পারেননি। এম্নিতে নতুন ব্যাচেলর ছেলেদের কোনো দোষ নেই। ঠিক সময়ে সব কিছুই পরিশোধ করে দেয় তবে সমস্যা একটাই, পানি খরচ করে বেশি। একটু নয়, প্রায় দ্বিগুনের মত। ওরা ওঠার দুই মাসের মাথায় তিনি সেটা বুঝতে পেরেছেন। তখন ভেবেছিলেন হয়তো ট্যাংকির কোথাও সমস্যা হয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ছে। কিন্তু মিস্তিরি ডেকে যখন কোনো সমস্যা খুঁজে পেলেন না তখন গোয়েন্দা গিরি শুরু করলেন। ওরা যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণ ছাদের ট্যাংকিতে পানি দেখেন। খেয়াল করলেন সকালে ওরা বের হয়ে যাবার সময় ট্যাংকি প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে যায়, আবার সন্ধ্যায় আসলেই ট্যাংকি অর্ধেক খালি। যেখানে দিনে দুইবার পানি তুললেই হত, সেখানে মোট তিন চারবার পানি তুললেও ট্যাংকিতে পানি থাকছে না। আর শুক্রবার কিংবা ছুটির দিনগুলোতে পাঁচ ছয়বারও পানি তুলতে হয়। মোট ছয় জন থাকে ওরা। তাতেই এই অবস্থা আর অন্য ভাড়াটিয়ারা তও এত পানি খরচ করে না!
এক শুক্রবার ওদের সাথে কথা বলতে মনস্থির করে জুমায় যাবার আগে ওদের ফ্ল্যাটে গেলেন কফিল মিয়া। উদ্দেশ্য জুমার নামাজের ডাক আর বিষয়টি ওদের জানানো। কিন্তু ওএর জানানোর সাথে সাথে এমন এক ভ্যাবাচ্যাকা খাবেন সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। এখন মনে হচ্ছে না জানালেই বোধ হয় ভাল হত।
ওদের মধ্যে সুদীপ নামের ছেলেটা বেশ চটপটে। নামে বোধ হয় মুসলিম বলে মনে হচ্ছে না। কফিল মিয়ার কথার জবাব দিল সেইই।
“আঙ্কেল, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ঠিক কিনা? আমরা নিজেদের পরিষ্কার রাখতে সবসময় গোছল ইত্যাদি করি। আমাদের জামাকাপড়ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। আপনি একজন মুসলিম হয়ে নিশ্চয়ই এ ব্যাপারটাকে খারাপ চোখে দেখবেন না। আবার যদি আমরা কখনো অপরিষ্কার থাকি আপনিই আমাদেরকে শুধরে দেবেন। কিন্তু এ না বলে আপনি আমাদের পানি কম খরচ করার কথা বলছেন। এখন মনে করেন, একথা যদি অন্যান্য লোকেরা জানে তাহলে আপনাকে কী মনে করবে? ঠিক আছে আমরা আপনার কথাই মেনে নিলাম। তবে আজকের জুমায় নামাজের পড়ে মসজিদে এ ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন করবো ইমাম সাহেবকে। উনি যদি বলেন আপনার কথা ঠিক তাহলে আপনার কথাই মেনে নিব। আর যদি বলেন যে আমাদের কথা ঠিক তাহলে আমাদের ব্যাপারটা মেনে নিতে হবে। আর যদি বলেন বাসা ছেড়ে দিতে তাহলে পুরো মহল্লায় জানিয়ে দেবো যে পরিষ্কার থাকতে আমরা গোছল করি আর সেজন্য আপনি আমাদেরকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। আমার সাথে যারা আছে তারা যদি এ কথাগুলো ভালো করে বলতে না পারে তাহলে আমিই টুপি পড়ে মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে এ কথা জানিয়ে আসবো।“
এরপর আর কথা বাড়াননি কফিল মিয়া। এখন তিনি মসজিদের দিকে যাচ্ছেন আর ভাবছেন, সত্যিই কী সুদীপ মাথায় টুপি পড়ে এ কাজ করবে? নাকি তাকে ভয় দেখিয়েছে? ঈমান বিরোধী এ কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি সুদীপ টুপি পড়ে ভেক ধরে মসজিদে যায় তাহলে কী সুদীপের নিজ ধর্মের বিশ্বাসের ক্ষতি হবে? এই মাসালাটা জেনে নিতে হবে কারও কাছ থেকে, খুবই গোপনে।
এখনও মসজিদে পৌঁছাননি, ক্রমাগত একটা কথাই ভেবে যাচ্ছেন কফিল মিয়া।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.