| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সে একজন সাধারণ নাসরিন..বোঝার বয়স হবার আগেই মা-বাবার আর সমাজের ইচ্ছার বলি হয়..বয়স আর কত হবে ১৩ কি ১৪ আর তখন ওই কচি ঠোটেঁ লাল লিপস্টিক আর শরীর জুড়ে লাল শাড়িতে সেজে বসে ছিল অচেনা এক পুরুষের জন্য..হ্যা পুরুষটি তার স্বামী..বিয়ে তো হয়ে গিয়েছে..নাসরিন তো তখনো বিয়ের অর্থই বুঝে উঠতে পারেনি..তখনো বান্ধবীদের সাথে ঘুরাঘুরি আর স্কুলে যাওয়ার জন্য চুলে বেনি গাথাঁ..কিন্তু সে তো এখন কারো বউ আর কারো ছেলের বউ..ইচ্ছা করলেই যে বাহিরে যাওয়া যায়না আর স্কুলেও যাওয়ার কথা বলতে গেলেই শাশুড়ি বলেন যাও দেখি রান্না আগে সেড়ে দেখাও..আর স্কুলে যাওয়া হলোনা..হঠ্যাত্ কাজ করার সময় কেমন যেন মাথা চক্কর কাটল..দৌড়ে গিয়ে শুয়ে পড়লো সে..কি যেন কিছুই ভাল লাগেনা..কিছু খেতেও ইচ্ছা করেনা..হয়েছে টা কি..আবার বমিও আসে..এইসব দেখে তো শাশুড়ি খুবই খুশি..সে এবার দাদি হবে..কি খুশির খবর...নাসরিনের তেমন কোন অনুভূতি কাজ করছেনা..একটু ভয়ই পেয়ে গেল..তবে আশে পাশের বাড়িতে পর্যন্ত খবর পৌছেঁ গেছে..ওই বাড়িতে বাচ্চা হবে যে..দিন মাস যাচ্ছে আর নাসরিনের শারিরিক পরিবর্তন হচ্ছে..এই অবস্থাতেই সে কাজ করে রান্না করে আর কিছুক্ষণ পর পর হাপিয়ে বসে পড়ে মাটিতে..এমন সময় আরেটা জিনিস সে টের পেল..তার স্বামী রাতে আসার সময় কেমন যেন এলোমেলো ভাবে হেটেঁ আসে আর ঘরে টুকেই ঘুমিয়ে পড়ে..বিষয়টা কিছুদিন দেখেই সে আচঁ করতে পারলো কি সমস্যা হয়েছে..তার স্বামী নেশাগ্রস্থ..এই সময় সে কি করবে কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছিলনা..পেটে বাচ্চা আর স্বামী মাতাল যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল তার মাথায়..দাতেঁ দাতঁ কামড়ে থাকলো শ্বশুড় বাড়িতেই..এদিকে কিছু দিনের মধ্যেই তার একটি ফুটফুটে ছেলে জন্মদিন..আদরের ছেলে মা নাম রাখলো বাবলা..ছেলে কে নিয়ে সারাদিন কাটঁত তার..যেন কোমল হাতে এক পুতুল পেয়েছে..আর রাত হলেই স্বামীর বকাঝকা আর মারধর..এইভাবেই দিন কাটছে মাস যাচ্ছে হচ্ছে বছর..বাবলাও বড় হচ্ছে আর মা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করে যাচ্ছে...কিন্তু স্বামীর অত্যাচার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে..চাকুরী নেই সারাদিন ঘরে বসে থাকা আর বকাঝকা করা..আবারো নাসরিন এক ভুলের ভাগিদার হলো..গর্ভে আরেকটি সন্তান..এইভাবে দিন কাটাচ্ছে কিন্তু স্বামীর অত্যাচার কোনভাবেই যেন কমার নয় বরং দিন যাচ্ছে আর বেড়েই যাচ্ছে..ভূমিষ্ট হলো এবার একটি মেয়ে..মেয়ে হওয়া দেখেই তার স্বামী বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল..এই ছোট বাচ্চা নিয়ে এখন নাসরিন কি করবে কিছুই খুজেঁ পাচ্ছেনা..শেষে বাবার বাড়ি চলে গেল..স্বামীর কোন খোজঁ নেই..১৯ বছর বয়সে নাসরিন দুই বাচ্চা আর স্বামী ছাড়া এক দিশেহারা মহিলা...বাবার বাড়ি থাকে ঠিকই তবে শান্তির আর কোন মুখ দেখেনা বললেই চলে..বাচ্চারা বড় হচ্ছে তাদের দেখা শোনা স্কুলে নিয়ে যাওয়া ঘরে টুকিটাকি কাজ করতে করতে নিজের সব সাধ কবে যে মাটিতে বিলীন হয়ে গেছে তা তার মনেই নেই..কৈশোর পাড় করেছে এক অজানা ঝড়ে আর এখন যৌবনে সে এক মহা প্রলয়ে দাড়িয়ে আছে.বাচ্চারা নিজ বয়সে বড় হচ্ছে তবে মায়ের মনও কেমন যেন পরিবর্তন আসছে..এই রকম জীবন আর ভাল লাগেনা..ছেলেমানুষ দেখলেই একটু কথা বলতে ইচ্ছে করে..অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলেও কথা বলতে ভাল লাগে..ভুল নাম্বারে মিস কল দিয়েও মধুর আলাপ ভাল লাগে..কেমন যেন উড়া উড়া ভাব কিছুই যেন ভাল লাগেনা..আবার বাচ্চাদের জন্য কিছু করতেও পারেনা..কি যেন এক জীবন কাটাচ্ছে ..নাই সংসার নাই ভালবাসার মানুষ নাই বাচ্চাদের প্রতি মায়ের ভালবাসা..এই না জীবন..একজন ২৩ বছরের নাসরিনের...
©somewhere in net ltd.