| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাউসার আলম
কতজনের কত কিছুই হল আমার না হয় পান্তা ভাত আর নুন, কত কী যে হওয়ার কথা ছিল আমার না হয় পাগলামিটাই গুণ।।
ইভ টিজিং: ‘এসিড নিক্ষেপ’ এর এর ভয়াবহ অবস্থা কাটিয়ে উঠার পর দেশ আবার দেখল আরেকটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা।আর এটি হল"ইভ টিজিং"।Our Society is suffering from many social evils at the moment. One of the worst evils is the Eve Teasing. আমেরিকায় ইভ টিজিং কে বলা হয় যৌন নিপীড়ন (সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট)।বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় ইভ টিজিং অর্থে বলা হয়েছে, ‘কোনো নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজকে বোঝাবে। কাজ অর্থ স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের রাস্তাঘাটে দেখে শিস দেওয়া, গান গাওয়া, চোখ বাঁকা করে তাকানো, নারীর শালীনতা অমর্যাদা করার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, কোনো শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা বস্তু প্রদর্শন করা এবং অনুরূপ মন্তব্য, শব্দ নারী শুনতে পায় বা বস্তু দেখতে পায় কিংবা কোনো নারীর নির্জনবাসে অনধিকার প্রবেশকেও ৫০৯ ধারায় অভিযোগ হিসেবে গণ্য হবে।’
বাংলাদেশে ইভ টিজিংএর কিছু ঘটনা:
দেশে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে৷ স্কুল বা কলেজের আসা-যাওয়ার পথে বখাটেদের উৎপাতের শিকার হয় নারী শিক্ষার্থীরা৷ এক্ষেত্রে নিজেদের একেবারেই নিরাপদ মনে করেন না ১০ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী৷
###মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার (ইভ টিজিং) প্রতিকার চাওয়ায় এবার এক মায়ের প্রাণ কেড়ে নিল বখাটেরা। তাঁর নাম চাঁপা রানী ভৌমিক (৪৮)। রাস্তায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পশ্চিম গাড়াখোলাতে গত মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। চাঁপা রানী মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের করণিক। তাঁর স্বামী স্বপন কুমার বিশ্বাস মধুখালী উপজেলার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিদর্শক। তাঁদের যমজ দুই মেয়ে ফরিদপুর চিনিকল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, আর মেজো মেয়ে ঢাকার ইডেন কলেজে পড়েন।নিহত চাঁপার ভাই অরুণ কুমার ভৌমিক গতকাল বখাটে দেবাশীষকে আসামি করে মধুখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ হত্যায় ব্যবহূত মোটরসাইকেলটি জব্দ করতে পারলেও দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
### ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ১২ অক্টোবর বখাটে রাজন ও আসিফ নাটোরের অকুতোভয় কলেজশিক্ষক মিজানুর রহমানের ওপর মোটরসাইকেল তুলে হামলা চালায়। এরপর ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর মিজানুর রহমান মারা যান। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর কলেজের রসায়নের প্রভাষক ছিলেন।
### রামপুরার দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ইলোরাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত বখাটেরা। ইলোরা এ ঘটনার কোনো প্রতিকার পায়নি। শেষ পর্যন্ত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। এ রকম আরও অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। ইদানীং প্রতিবাদ হচ্ছে, থানায় অভিযোগ জমা পড়ছে কিন্তু বখাটেদের তৎপরতা থামছে না। বরং তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
### একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মিরপুর কমার্স কলেজে পড়ে। কিন্তু কিছু বখাটে ছেলে কলেজ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে দিনে-রাতে জ্বালাতন করে। তিনি ও তাঁর পরিবার এ নিয়ে অতিষ্ঠ হলেও কারও কাছে এখনো অভিযোগ করেননি।
### ভিকারুননিসা নূন স্কুলের একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে বাসাবো থেকে রিকশায় স্কুলে আসা-যাওয়া করে। কিছুদিন ধরে এক বখাটে মোটরসাইকেলে করে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছে। তিনি বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমি পেয়েছি এবং পুলিশ কমিশনারকে তা জানাতে বলেছি।’
### আলেয়ার অপরাধ একটিই ৷ বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া৷ আর তাই যে ছেলেটি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো সেই পেট্রোল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তার শরীরে৷ অষ্টাদশী আলেয়ার শরীরের ৭০ ভাগই আগুনে পুড়ে যায়৷ছয়দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর মারা যায় বাংলাদেশী এই কিশোরী৷ এভাবেই নিপীড়ন করে বাংলাদেশের অনেক মেয়েকে হত্যা করা হয় বা আত্মহত্যা করার জন্য প্ররোচনা করা হয়৷ আলেয়ার খালা যিনি এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘আলেয়ার সারা শরীর আগুন জ্বলতে থাকে৷ সে এদিক থেকে ওদিক ছুটতে থাকে আগুন নেভানোর জন্য৷ কিন্তু পারেনা৷ তার মুখ ছাড়া সমস্ত শরীরই পুড়ে যায়৷''
তিনি আরও বলেন, এপ্রিল মাসে ওই ছেলেটি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলো আর মে মাসেই আলেয়াকে মরে যেতে হলো৷ তিনি বলতে থাকেন, যদিও আমরা সবাই ছিলাম তারপরও ওই ছেলেটিকে নিয়ে সে আতংকে থাকতো৷ প্রথমদিকে আমরা পুলিশের কাছেও যাইনি কারণ ছেলেটি আমাদের হুমকি দিয়েছিলো যাতে আমরা পুলিশকে খবর না দেই৷ যখন আলেয়া তাকে বলেছিলো সে তাকে বিয়ে করতে চায়না, সে বলেছিলো ‘‘তুমি যাতে অন্য আর কাউকে বিয়ে করতে না পারো সে ব্যবস্থাই করবো৷''
### ২০০৮ সনের ২১শে অক্টোবরএক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার মত “সামান্য ঘটনার (ট্রিফ্লিং ম্যাটার)” জের হিসেবে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও তিনজন শিক্ষক সহ ১৫ জন জখম হয়েছেন। মারামারির ঘটনাটি বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর ইন্টারভিউ দিয়ে ও ঘটনার ফলে রাজপথের যানজটে জনজীবনে দুর্ভোগের বিবরণ সহ। কিন্তু এই উত্যক্তের ঘটনা এবং যাকে করা হোল তার শারিরীক-মানসিক যন্ত্রণা এতোই “সামান্য” ছিল যে প্রতিবেদক পাঠককে তা জানানো বা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। “সাত খন্ড রামায়ন পড়ে” আসলেই “সীতা কার বাপ” বোঝার উপায় নেই।
###
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান:
এক বছরে ১২৬৯ উত্ত্যক্তকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার ৫২০।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া হিসাবে দেখা গেছে, গত আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ইভ টিজিং বা উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় সারা দেশে ১৫০টি মামলা হয়েছে। আর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে ৩৭৭টি। এক হাজার ২৬৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৫২০ জনকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসাবে দেখা গেছে, গত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মহানগর পুলিশ উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় এক হাজার ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময়ে ২৫টি মামলা হয়। ৮৩৪ জন বখাটের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আসে। এদের মধ্যে মুচলেকার মাধ্যমে ৪১৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়।
র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক এম সোহায়েল প্রথম আলোকে বলেন, র্যাব গত দুই বছরে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা নিয়ে ৩৬৯টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ১৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব মোট ৫১টি মামলা করে। এর মধ্যে সাতটি মামলায় আসামিদের কারাদণ্ড হয়েছে। ১৬ উত্ত্যক্তকারীকে অভিভাবকেরা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তিনজনকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে র্যাব। বেশির ভাগ উত্ত্যক্তকারীর বয়স কম।
রাজশাহী: রাজশাহীতে উত্ত্যক্তের ঘটনায় মে মাস থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মামলা হয়েছে রাজশাহী মহানগরে, দুটি মামলা হয়েছে বাগমারায় এবং একটি করে মামলা হয়েছে দুর্গাপুর ও তানোর উপজেলায়। উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় জেলার বাগমারায় এক মেয়ের চাচা খুন ও ভাই প্রহৃত হন। রাজশাহী মহানগরে এক ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বখাটেদের আটক করে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
উত্ত্যক্তের ঘটনায় সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে গত মঙ্গলবার রাজশাহীর বাঘা থানায়। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া গত ১৯, ২০ ও ২১ মে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উত্ত্যক্তকারী সন্দেহে নয় যুবককে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এদের মধ্যে ছাত্র, বখাটে, প্রভাবশালীদের সন্তান ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষকও ছিলেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় উত্ত্যক্তের কারণে মেয়ের সঙ্গে বাবাকেও যেতে হতো কলেজে।
সিলেট: সিলেট সদর উপজেলার সাহেববাজার উচ্চবিদ্যালয়ে গত ১৮ জুলাই উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছিল এক ছাত্রী। এ ঘটনায় তিন বখাটেকে আসামি করে পরদিন সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। কিন্তু মামলার প্রায় এক সপ্তাহ পরও বখাটেরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করে। এর প্রায় এক মাস পর গ্রেপ্তার হয় দুই বখাটে। এ ঘটনার কথা উল্লেখ করে সাহেববাজার উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইভ টিজিংয়ের অভিযোগে মামলা করলে পুলিশ পাত্তা দেয় না। মামলা করে বখাটেদের গ্রেপ্তারে বিক্ষোভ করতে হয়।পুলিশ জানায়, সাহেববাজার উচ্চবিদ্যালয়ের এ ঘটনাসহ সিলেট কোতোয়ালি থানায় গত তিন মাসে ইভ টিজিংয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে দুটি। এ দুটি ঘটনার পাশাপাশি উত্ত্যক্তের জেরে খুনের ঘটনা ঘটেছে দুটি।
বরিশাল: বরিশাল উপবিভাগীয় পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের অপরাধ শাখার হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এ বিভাগে উত্ত্যক্তের অভিযোগে মাত্র ২৭টি মামলা এবং চারটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮৮ জনকে। এর মধ্যে ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৮ জন পলাতক। এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলায় উত্ত্যক্তের অভিযোগে নয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্ত্যক্তের অপরাধে ৪৩ জন যুবককে ধরে সংশোধনের জন্য অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রংপুর: রংপুর বিভাগীয় শহরে গত ছয় মাসে পাঁচটি মামলা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে বিদ্যালয়গুলোর ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার হারও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের শালবনে সরকারি বেগম রোকেয়া মহিলা কলেজের আশপাশ এলাকা, শহরের ধাপে অবস্থিত লালকুঠি বালিকা বিদ্যালয়, গুপ্তপাড়ায় সালেমা বালিকা বিদ্যালয়ে, সেনপাড়ায় সমাজকল্যাণ বিদ্যালয় ও কলেজের আশপাশের এলাকার পাড়া-মহল্লায় বখাটে যুবকদের উৎপাত বেশি।
ইভ টিজিং প্রতিরোধে প্রচলিত আইন:
পুলিশ জানায়, বখাটের ব্যাপারে তিন আইনে শাস্তির বিধান আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ আইনের ৭৬ ধারায় এ ধরনের অপরাধের শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নারীর শালীনতা ও মর্যাদার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধারাতে একই ধরনের শাস্তির বিধান আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা: পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা বন্ধ করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশের পুলিশ সুপারদের (এসপি) আট দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনায় বলা হয়, থানার কর্মকর্তারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকবেন। কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর স্কুল-কলেজে সরবরাহ করা হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন করা হবে। ছাত্রীদের চলাচলের রাস্তায় টহল জোরদার করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে সাদা পোশাকের পুলিশ পাহারায় থাকবে। পুলিশের উন্মুক্ত দিবসের আলোচনায় উত্ত্যক্ত করা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এসব আলোচনায় উত্ত্যক্তকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাতে হবে।
ইভ টিজিংয়ের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতে:
ইভ টিজিং বা উত্ত্যক্ত করা বন্ধ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই ধারা প্রয়োগ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধীকে ঘটনাস্থলে বিচার করে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন। তবে অর্থদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখ থাকছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা সম্পর্কে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে বলেছে, সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এ দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইভ টিজিং বন্ধের জন্য পৃথক কোনো আইন করার প্রয়োজন হবে না। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধির অধীনে ৯২টি আইনের প্রয়োগ করতে পারেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের মাধ্যমে তাঁরা এসব ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তবে কোনো মামলা নিতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে মামলা পাঠাতে হয়।দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় ইভ টিজিং অর্থে বলা হয়েছে, ‘কোনো নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজকে বোঝাবে। কাজ অর্থ স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের রাস্তাঘাটে দেখে শিস দেওয়া, গান গাওয়া, চোখ বাঁকা করে তাকানো, নারীর শালীনতা অমর্যাদা করার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, কোনো শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা বস্তু প্রদর্শন করা এবং অনুরূপ মন্তব্য, শব্দ নারী শুনতে পায় বা বস্তু দেখতে পায় কিংবা কোনো নারীর নির্জনবাসে অনধিকার প্রবেশকেও ৫০৯ ধারায় অভিযোগ হিসেবে গণ্য হবে।’
বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে আইনে বলা হয়েছে, কাউকে এই ধারায় অভিযুক্ত করতে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে—কী মন্তব্য করা হয়েছে, কোন শব্দ করা হয়েছে, কী ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা হয়েছে, কী বস্তু প্রদর্শন করা হয়েছে এবং কোনো নারীর নিভৃতবাসে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রবেশ করেছেন কি না অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতায় অমর্যাদা করতে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন কি না।
জানা যায়, ৫০৯ ধারায় প্রকাশ্য মাতাল ব্যক্তির অশোভন আচরণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
###ইভ টিজিং প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে
*****মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা তথা ইভ টিজিং প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইভ টিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থান ফলাও করে তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা এ কাজে নিরুৎসাহিত হয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সব সময় তাঁদের সন্তানদের খোঁজ রাখতে হবে।
*******হাইকোর্টের রায় : ইভ টিজিং যৌন হয়রানি -------
ইভ টিজিংকে (উত্ত্যক্ত) যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচনা করে আইনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে গোপনে অনুসরণ করার (স্টকিংক) বিষয়টি যৌন হয়রানির সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
আজ বুধবার বিচারপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ইভ টিজিং শব্দটি অপরাধের মাত্রা হালকা করে দেয়, এর পরিবর্তে সর্বস্তরে ‘যৌন হয়রানি’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। ইভ টিজিং প্রতিরোধে নির্দেশনা চেয়ে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।
এ ধরনের নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে তদারকি করতে প্রতি থানায় সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিকে প্রতি মাসে একবার জেলা উন্নয়ন কমিটিতে এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও সাক্ষীর নিরাপত্তা বিধানে সরকারকে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী)-এর যৌন নির্যাতনের স্থান হিসেবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রকে সীমাবদ্ধ না রেখে সব সরকারি ও বেসরকারি স্থানকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। মুঠোফোন (এসএমএস), এমএমএস, ই-মেইল ও ফোন-মোবাইলের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করে—এ বিষয়গুলোও আইনে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সব সাইবার ক্যাফের নিবন্ধন ও ব্যবহারকারীর পরিচয় সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারিসহ কয়েক দফা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। এর ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে দুই দিনব্যাপী দেওয়া রায় আজ শেষ হয়। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন মামলা পরিচালনা করেন।
ফাহিমা নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, এ রায়ের ফলে ইভ টিজিংয়ের শিকার নারীরা আইনের সুরক্ষা পেল। রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্যাতিত নারীদের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি নিরূপণের কথাও বলা হয়েছে। আদালতের রায়ের নির্দেশনাগুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৭
কাউসার আলম বলেছেন: Click This Link