| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধর্মদ্রোহিতা ও ধর্মান্ধতা
-----------------------------------------
-----------------------------------------
শিক্ষা কিংবা প্রযুক্তিতে উৎকর্ষতার নামে আমরা ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছি। উদার মানসকিতা কিংবা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা- দুটোই আজ শূণ্যের কোঠায়।
অথচ, আমাদের এ মাতৃভূমি এমনটা ছিল না। আবহমানকাল ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি ছিল ঈর্ষা করার মতো।
আগে সুন্দর দিন কাটালেও, ইদানীং সুন্দরের চর্চা প্রায় বিলুপ্ত। ২০০০ সালের পর থেকে হঠাৎ করেই এদেশে বেড়ে যায় ধর্মহীনতার সংস্কৃতি। ধর্মহীনতার প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয় ধর্মান্ধতা। আমার কাছে মনে হয়, ধর্মদ্রোহী ও ধর্মান্ধ- দুটোই শান্তি বিনাশী।
ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হওয়া একটি ব্যক্তিগত বিষয়। যেমন ব্যক্তিগত বিষয় ধর্মচর্চা। সমস্যা হয় তখন, যখন তথাকথিত নাস্তিকতার নামে ধর্মপ্রচারকদের ব্যাপারে অশ্লীল মন্তব্য করা হয়।
একজন মানুষ যদি স্রষ্টায় বিশ্বাস করে মানসিক শক্তি ও শান্তি পায়, তাতে নাস্তিক ব্যক্তিটির গা জ্বলার কোনো কারণ নেই। আবার কেউ যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করে মানসিক শান্তি পেতে চায়, তাকেও জোর করে ধর্মের ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে না।
ঈশ্বরভক্ত ও ঈশ্বরদ্রোহী- দুজনই যদি মানবতার কল্যাণে সময় ব্যয় করতো তাহলে এ পৃথিবী ও দেশ হতো সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের পারস্পরিক আক্রমন সমাজের শৃংখলা বিনষ্ট করছে।
দেশে টুপি ও বোরখার সংখ্যা বেড়ে গেলে নাস্তিকদের কেন গাত্রদাহ হয়? টুপি পরা, বোরখা পরা ব্যক্তিগত রুচির অংশ। নাস্তিক ব্যক্তিটি রেগুলার ক্লিন শেভ করলে, জিন্স টি শার্ট পরলে কি বাধা দিচ্ছে কোনো আস্তিক?
সত্যি বলতে কি, এদেশে ধর্মপ্রচারের নামে যেমন ধর্ম ব্যবসায়ী আছে, তেমনি নাস্তিকতা'কে বেচে খায় কিছু কুলাঙ্গার।
আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই।
মানবিক হই।
সবাই সবাইকে শ্রদ্ধা করতে শিখি।
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম!
কিন্তু এখন পারি না কেন?
তারিখ: ১৬ জুন, ২০১৬
বিকাল ৫ টা। পদ্মা ফেরিতে বসে বসে। 
©somewhere in net ltd.