| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দয়ালু
ভালোবাসি পড়তে বলতে লিখতে মুখবইএ আমি https://www.facebook.com/nome3211
“আমি স্বার্থক,সায়ীদ জামান স্বার্থক” ভরাট গলাতে বলে উঠল ছেলেটি। এতক্ষন শায়লা রাহমান নতূন ছাত্রদের নাম একটু অন্যমনস্ক ভাবে শুনছিলেন, কিন্তু এই ছেলেটির নাম শুনতেই যেন দশহাজার ভোল্টের শক খেলেন। ঠিক যেন বাবু দাঁড়িয়ে আছে তাঁর সামনে। ভালো মত ছেলেটির দিকে তাকাতে যেন তিনি বাবুকে দেখতে পেলেন। সেই এক দাড়ানোর ভঙ্গি, একি কন্ঠস্বর, মুখের আদলটাও অনেকটা বাবুর মত। এমন কি তার পোশাকটাও। সেই রংচটা জিনস, আধাময়লা টিশার্ট, চোখে রিমলেস চশমা তার পেছনে একজোড়া মায়াময় চোখ যাতে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ঝিলিক। তার আর বাবুর সন্তান বেঁচে থাকলে আজ এর বয়সী হত। তিনি কোনমতে ওরিয়েন্টেশন শেষ করে বাসায় চলে এলেন। আজ তিনি কাঁদবেন। গত চব্বিশ বছরের চেপে রাখা কান্না আজকে তার বেরবে অঝোর ধারাতে।
শায়লা আর বাবু ছিলেন ক্যাম্পাসের আলোচিত জুটি। তারা যে শুধু পড়াশোনা একসাথে করেছিলেন তা নয়। ক্যাম্পাসের প্রতিটি শুভ উদ্যোগে তাদের পাওয়া যেত। মূলত তাদের পরিচয়টাও হয়েছিল এভাবে। যে যার বিভাগের সেরা ছাত্র/ছাত্রী ছিলেন। যদিও তাদের দেখলে মনে হতনা। ক্লাসের সময়টুকু বাদে সারাদিন আড্ডা বা সমাজ উদ্ধারে ব্যাস্ত থাকত তারা। আড্ডার প্রাণ ছিল এই জুটি। বাবু খুব ভালো কবিতা আবৃত্তি করত। আর শায়লা কবিতা লিখতেন। দুজনে অসাধারন ফলাফল করে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে যোগদান করেছিলেন। তাদের পরিবারও আর দেরি না করে তাদের গাঁটছড়া বেধে দিয়েছিল।
সুখেই কেটে যাচ্ছিল এই নবদম্পতির সময়। বিয়ের কয়েকদিন পর শায়লা নিজের ভেতর টের পেলেন এক নতুন প্রাণের আভাস। এই অতিথি ছেলে না মেয়ে তাই নিয়ে খুনসুটি চলত অবিরাম। এরি মাঝে জোরদার হয়ে উঠেছে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। তারাও জড়িয়ে আছেন এই আন্দোলনে। প্রায় দিন ক্লাস নেওয়ার পরে মিছিল মিটিং এ অংশ নিতেন। এমনি এক দিনের কথা। তারা পাশাপাশি হাটছেন মিছিলে। বাবু স্লোগান দিচ্ছেন আর শায়লা তার সাথে গলা মিলাচ্ছেন। হঠাত পুলিশী বাধার মুখে পড়ল তাদের মিছিলটা। তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষন শুরু করলে মারা যায় বাবু।
শোকে পাথরের মত হয়ে যায় শায়লা। মাঝে মাঝে আত্মহত্যা করার কথা ভাবলেও বাবুর শেষ স্মৃতি তাদের অনাগত সন্তানের জন্য তা করেনি শায়লা। একসময় স্বৈরাচারের পতন হল। কেটে গেল আরো বেশ কিছুদিন। শায়লার বেবি একটা কমপ্লিকেশনের কারনে জন্মের সময় মারা যায়। বাবুর মৃত্যু শায়লা যাওবা মেনে নিয়েছিল কিন্তু এটা মানতে পারেনি। বেশ কিছুসময় উন্মাদিনী ছিল সে। এরপর তার বাবা মার জোরাজুরিতে আবার বিয়ে করে সে। সুখেই আছে কিন্তু সন্তান হয়নি আর তার।
ওরিয়েন্টেশনের কিছুদিন পর শায়লা তার মৃত মায়ের একটা ডায়েরি খুজে পান। অনেকটা কৌতুহলের বশেই পড়তে শুরু করেন তিনি। কিন্তু জানতেননা এই কৌতুহল বদলে দেবে তার এই চিরচেনা অভ্যস্ত জীবনকে।
১৭ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:৫৬
দয়ালু বলেছেন: আলসেমির কারণে লেখা হচ্ছেনা
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:৪৪
মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: পরের পর্ব কই ??
কাহিনী খুব দ্রুত এগুচ্ছে। আরেকটু জমিয়ে দিলে বোধহয় ভালো লাগতো।