নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালোবাসি পিকাসো বুনুয়েল দান্তে বিট্‌ল্‌স্‌ ডিলান আর বেটোফেন শুনতে

সক্রেটিস বলেছিলেন নিজেকে চিনতে তাই আমি আজ খুজে ফিরছি নিজেকে

দয়ালু

ভালোবাসি পড়তে বলতে লিখতে মুখবইএ আমি https://www.facebook.com/nome3211

দয়ালু › বিস্তারিত পোস্টঃ

করুণা ২

১০ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ২:৫৪

আগেই লিখেছিলাম যে অতীতের ইমনের জন্য আমার মানে বর্তমানের ইমনের করুণা হয়। আগে ভাবতাম ২০০৮ সালের আগেও ভাবতাম এই দেশে ভালো কিছুই হয়না, যা হয় সব বিদেশে, সুন্দর কিছুই নাই এখানে। যেভাবে পারি দেশের বাইরে যাব টাকাপয়সা কামাবো বাইরেই থাকব। এই পোড়ার দেশে আর ফিরবোনা। এই ছিল তখনকার আমার মনোভাব। শুনতে আশ্চর্য লাগতে পারে কিন্তু এটা বদলানোর পিছনে দুটি জিনিস রয়েছে। এক আমার হাত ভেঙ্গে যাওয়া আর দুই জীবনানন্দ দাস।



হাত ভাঙ্গার ব্যাপারটা আগে ব্যাখ্যা করি। যদি স্মৃতি প্রতারণা না করে তাহলে ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ আমার বাম হাত ভাঙ্গে। তারপর প্রায় একবছর আমাকে বিকালে স্পোর্টসের সময় হাজিরা দিলেই ছুটি ছিল। আমি এই সময়টা কাটাতাম কলেজ লাইব্রেরীতে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এক কোনাতে বসে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র পড়তাম। প্রিয় পাঠক কল্পনা করুন পনের বছর বয়সের এক সদ্য বয়ঃসন্ধিকাল পেরোনো এক কিশোর যার কিনা তিন গোয়েন্দা বা মাসুদ রানা অথবা খুব বেশি হলে সমরেশ শীর্ষেন্দু পড়ার কথা সে কিনা পড়ছে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র। একটু অবিশ্বাস্য তাইতো। কেউ কেউ হয়তোবা বলেই ফেলেছেন ব্যাটা চাপা মারার জায়গা পায়না। নাহ আতেঁল ছিলামনা আর চাপাও পিটাচ্ছিনা। মাসুদ রানা আমি এখনো পড়ি তখনো পড়তাম। রানা রাখা থাকত আমার ঘুমের আগ মূহুর্তের জন্য আর বিকাল কাটাতাম ওই নিরস দলিলপত্র পড়ে। মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে গেলে পড়তাম সমরেশ শীর্ষেন্দু সুনীল এদের লেখা। তখন বুঝতে শিখি এই দেশ পাওয়ার জন্য কি পরিমাণ ত্যাগ আমরা স্বীকার করেছি। কারো কারো কাছে তিরিশ লক্ষ শহীদ আর দু লক্ষ বীরাঙ্গনা শুধুই সংখ্যা মাত্র। আবার কেউ কেউ তো বলে এত মরেনাই। কিন্তু যার এই দলিলপত্র পড়া সে বুঝবে এই সংখ্যাগুলির মর্ম। যদিও আমার পুরোটা পড়া নাই। দ্বাদশ খন্ড পর্যন্ত পড়া।



দ্বিতীয় কারণ জীবনানন্দ দাস। উনার কবিতা আসলে পাঠ্য হিসেবেই পড়া। ক্লাস এইটে আবার আসিব ফিরে দিয়ে পরিচয়। তখন ভাবতাম কিসের টানে উনি ফিরে আসতে চান আমাদের মাঝে। কিসের টানে তিনি ফিরে আসতে চান এই বাংলায়? এই প্রশ্ন আমাকে ভাবিয়েছে বহুদিন। কেন লিখেছে

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে - এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয় - হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,

হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে

কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।

কেন তিনি ফিরে আসতে চেয়েছেন বারবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়েছি ২০০৯ সালে বাঙলার মুখ কবিতাতে যেখানে তিনি লিখেছেন

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ

খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে

চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে

ভোরের দোয়েলপাখি - চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ

জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ;

ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;

মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে

এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ

তারপর থেকেই আমি নিজের দেশের সৌন্দর্যকে একটু অন্যভাবে দেখতে লাগলাম। তবে থেকেই বুঝলাম মাতৃভুমি কি? কিসের এই টান।

অতীতের আমার জন্য বর্তমানের আমার করুণা হয় নিজের দেশের প্রতি অবহেলার জন্য। আর হয় যারা এখনো অতীতের আমার মনোভাব ধারণ করে তাদের জন্য

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই মে, ২০১৪ রাত ১:৫২

পংবাড়ী বলেছেন: ভালো।

২| ১৭ ই মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫১

দয়ালু বলেছেন: ধন্যবাদ
:)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.