| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাসুদ রানা, কিশোর ক্লাসিক,তিন গোয়েন্দা, ওয়েস্টার্ন সিরিজ, কুয়াশা সিরিজ কিংবা রহস্য পত্রিকা– নামগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে কি?"২৪/৪, সেগুন বাগিচা, ঢাকা-১০০০" –মনে পড়ছে কি এই ঠিকানা? যদি এই শব্দগুলো আপনার কাছে নিছক শব্দের বাইরেও কিছু মনে হয়,তবে আপনার জীবনে একজন ভদ্রলোকের প্রভাব অনস্বীকার্য – "কাজী আনোয়ার হোসেন"!
বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্লভ কিছু প্রাপ্তির মাঝে অন্যতম এদের বই পড়ার অভ্যাস, পাঠ্যবইয়ের ভাঁজের ভেতর লুকিয়ে গল্পের বই পড়া এবং ধরা খেয়ে বাবা-মা'র বকুনি খাওয়া আমাদের কৈশোরের সোনালী স্মৃতি। আমরা অনেকেই আমাদের প্রানের লেখক হুমায়ুন আহমেদকে তার কৃতিত্ব দেই, দুঃখজনকভাবে ভুলে যাই- তাঁরও আগের নিভৃতচারী লেখক ও প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেন-এর নাম উল্লেখ করতে, তাঁর হাতের উপর সৃষ্টি হওয়া "সেবা প্রকাশনী"-র কথা স্মরণ করতে।
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন ও সাজেদা খাতুনের সন্তান কাজী আনোয়ার হোসেন পড়ালেখা করেছেন সেন্ট গ্রেগরি স্কুল ও জগন্নাথ কলেজ থেকে,পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে বাবার দেয়া দশ হাজার টাকানিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেসের যাত্রা শুরু করেন। আট হাজার টাকা দিয়েকেনা একটি ট্রেডল মেশিন আরদুজন কর্মচারী নিয়ে সেগুনবাগান প্রেসের শুরু, যা পরবর্তীকালে নাম পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী ("সেগুন" শব্দের 'সে' এবং"বাগিচা" শব্দের 'বা' নিয়ে"সেবা")।
লাল-হলুদ প্রজাপতির চিহ্ন ধারণ করা বইগুলো দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে আমাদের ক্লান্তিহীন আনন্দ দিয়ে আসছে। কাজী আনোয়ার হোসেন শুধু পাঠক সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেই অবদান রাখেন নি, তার হাত ধরে বেশ কিছু স্বনামধন্য লেখক ও অনুবাদকও বাংলা সাহিত্যেরআঙ্গিনায় পা রেখেছেন, হুমায়ুন আহমেদের মতো কালজয়ী লেখকও চরম আর্থিক কষ্টের সময় সেবা প্রকাশনী থেকে বই (অনুবাদ) বের করে টাকা পেয়েছিলেন, হুমায়ুন আহমেদ তাঁর লেখায় সেই সাহায্যের জন্য কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রতি আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আত্মকেন্দ্রিক ও প্রচারবিমুখ এই নিভৃতচারীমানুষটি নিশ্চয়ই গর্ববোধ করতে পারেন বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে, বই পড়ার মতো চমত্কার অভ্যাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে যে তাঁর-ই আশ্চর্যরকম সহজাত লেখনীর মায়াবী পরশে!
জয়তু কাজী আনোয়ার হোসেন!
জয়তু সেবা প্রকাশনী!!
পুনশ্চ: লেখাটি লেখার জন্যবেশ কিছুদিন ধরেই মনের ভেতরে একটি "তাগিদ" অনুভব করছিলাম, লেখা শেষ করার পড়েমনটা কিছুটা খারাপ হয়ে গেলো। কেমন জানি "কাষ্ঠ-কাষ্ঠ প্রবন্ধ" হয়ে গেছে লেখাটি, অনেকটা 'প্রমথ চৌধুরী'-র লেখার মতো! সিরিয়াসলি কোনো কিছু লেখার চেষ্টা করার এই এক জ্বালা, পাঠককুল মার্জনা করবেন আশাকরি।[লেখক:-জাভেদ কাইসার,কাজীদার ৭৭তম জন্মদিনে]
২|
২০ শে জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪০
বিশ্বাষ ঘাতক বলেছেন: ধন্যবাদ অপূর্ণ।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১:৩৯
অপূর্ণ রায়হান বলেছেন:
+++++++++++++++++++++++++
ব্লগে স্বাগতম