| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কুঙ্গ থাঙ
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবী করছি...
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী বাংলাদেশের প্রায় ষাট হাজার মানুষের মাতৃভাষা। এ ভাষায় যারা কথা বলে তাদের কাছে ভাষাটি ‘ইমার ঠার’ নামে পরিচিত যার অর্থ হলো ‘আমার মায়ের ভাষা’। বাংলাদেশের মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এবং সিলেট জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী জনগোষ্ঠির মানুষ বাস করে। ভাষাটি উত্তরপূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যে সৃস্ট এবং এর ব্যাকরন বিশেষ করে ধ্বনিতত্ত ও শব্দকোষ মণিপুরী মৈতৈ ভাষা দ্বারা প্রভাবিত। এ ভাষার দুটি উপভাষা রয়েছে - রাজারগাঙ এবং মাদইগাঙ। বাংলাদেশে মাদইগাঙ ভাষাভাষীর সংখ্যা তুলনামুলকভাবে বেশী।
সর্বনাম পদ
আমি - মি
আমরা - আমি
তুমি - তি
তোমরা - তুমি
সে - তা(পুং)/তেই(স্ত্রী)
তারা - তানু
আমাদের - আমারতা
ক্রিয়াপদ
বসা - বহানি
দাঁড়ানো - উবাঅনি
বলা - গুজুরানি, টটরানি
পড়া - তামকরানি, পাকরানি
লিখা - ইকরানি
গান করা - এলাদেনা
শুনা - হুনানি
যাওয়া - যানা
ফেরা - আলথক অনা
তৈরীকরা - হঙকরানি
খাওয়া - খানা
পান করা - পিনা
বেড়ানো - বুলানি
বিশেষন পদ
ভাল - হবা
মন্দ - হবানেই
সুন্দর - চুনা
বিশ্রী - থি
নরম - কঙালা
শক্ত - দদা
সুগন্ধ - নুংশি
দিক
পুর্ব - মুঙ
পশ্চিম - পিছ
উত্তর - অওয়াঙ
দক্ষিন - খা
সংখ্যা
এক - আগ
দুই - দুগো
দশ - দশগো
বিশ - আক্কুড়ি
পঞ্চাশ - য়াঙখেই
একশত - আহৌ
হাজার - লিশিং
বাক্যরীতি
আর্য-ভারতীয় ভাষাশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এ ভাষার বাক্যরীতির সাথে বাংলা, অসমীয়া, হিন্দী ও উড়িয়া ভাষার মিল পাওয়া যাবে। বাড়তি বৈশিষ্ঠ্যগুলো হলো -
(১) এ ভাষায় বচনভেদে ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়। যেমন -
আমি বই পড়ি - মি লেইরিক তামকরুরি
আমরা বই পড়ি - আমি লেইরিক তামকররাঙ
(২) লিঙ্গভেদেও ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়। যেমন -
সে (পুং) বই পড়ে - তা লেইরিক তামকরের
সে (স্ত্রী) বই পড়ে - তেই লেইরিক তামকরিরি
(৩) না-বোধক বাক্য হলে ক্রিয়ার পুর্বে না বসে। যেমন -
তুমি বই পড়না - তি লেইরিক না তামকরর
(৪) প্রশ্নবোধক বাক্য হলে ক্রিয়ার পরে বিভক্তি বসে। যেমন -
তুমি কি বই পড়? - তি লেইরিক তামকররগো?
কিছু অনুবাদ
কেমন আছেন - কিসারে কিতা / কিমে কিসাদে
আমি এখন বাড়ী যাব - মি এবাকা গরে যিতৌগা
এই সংবাদটি তাড়াতাড়ি পাঠাও - পৌ এহান চালাক্ক দিয়াবেঠা
সে আমার বন্ধু - তা মোর মারুপগো
তোমার চেহারা ভারি সুন্দর - তর মেইথঙহান জবরে চুনা
তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে - তি মর লগে আহরগো/আহুরিগো
তুমি কি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা জান - তি ইমার ঠার হারপারগো
রবীন্দ্রনাথের লেখা আমার খুব ভাল লাগে - রবীন্দ্রনাথর ইকরা মরতা হবা লাগের
আমি তোমাকে ভালবাসি - মি তরে বানা পাউরি
ধন্যবাদ - থাকাত
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৯
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: ধন্যবাদ। সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা নিয়ে আপনার অনুভুতি জেনে ভাল লাগল।
২|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১৪
রাহা বলেছেন: আপনার নামের অর্থ কি ?
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: হুবহু বাংলা তো হবেনা, 'কে ওখানে' খুব কাছাকাছি হয়।
৩|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৯
রাশেদ বলেছেন: ভালো পোস্ট। নতুন আইডিয়া। চলুক...
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩১
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
৪|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:২৮
আন্ধার রাত বলেছেন:
আই নামো নুংশি --এই কথাটি আমার এক বান্ধবী আমাকে শিখিয়েছে।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: বান্ধবীর সাথে আপনার বন্ধুতা অটুট থাকুক এ কামনা করি।
৫|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:০৯
ফারহান দাউদ বলেছেন: নিজের ভাষা নিয়ে আপনার এই গর্ব ভালো লাগলো।চালিয়ে যান।
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:৩৭
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: মাতৃভাষা নিয়ে সবারই গর্বিত হওয়া উচিৎ।
৬|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:২৩
মৃদুল মাহবুব বলেছেন: ভালো পোষ্ট। ভালো লাগলো ।
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার কি নিজস্ব বর্ণ আছে?
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৫০
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: ধন্যবাদ।
না, তবে মণিপুরী মৈতৈ ভাষার নিজস্ববর্ণমালা রয়েছে। বর্তমানে ইস্টার্ন নাগরি লিপি যেখানে বাংলা হরফ রয়েছে তার একটি সংস্করণ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা লেখার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই লিপিটি অসমীয়া এবং মণিপুরী মৈতৈ ভাষায়ও ব্যবহৃত হয়।
৭|
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:১৯
নেমেসিস বলেছেন: ভালোলাগলো । অনেক কমন শব্দ দেখি বাংলার কাছাকাছি ।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০২
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: কমন শব্দগুলো তৎসম। আর্য-ভারতীয় ভাষাশ্রেণী হওয়ায় বাংলা, অসমীয়া, হিন্দী, উড়িয়া ও চাকমা ভাষার মধ্যে মিল পাবেন।
৮|
০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:২০
ময়ুরবাহন বলেছেন: ভাল লাগল। আরো দেবেন।
+
৯|
০৯ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:১৫
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন: থাকাত! মি তর ইকরা তামকরুরি। তর ইকরা মরতা হবা লাগের
আপনার টিউটোরিয়াল দেখে চেষ্টা করলাম।
১৩ ই মে, ২০০৮ রাত ১:২২
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: গিরকরে হৃদিয়ৌপা থাকাৎ (আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ
)
১০|
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:১৪
এম্নিতেই বলেছেন: ভাল লাগল
১১|
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪
বিষুন বলেছেন: হৃদিয়ৌপা থাকাৎ। ইমার ঠার না হারপারগো । মি মারুপগো বানা পাউরি ।
আপনার শিক্ষকতা থেকে চেষ্টা করলাম । আবার বলি - হৃদিয়ৌপা থাকাৎ
১২|
২০ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৪৯
দীপান্বিতা বলেছেন: কিমে কিসাদে!
১৩|
০৩ রা জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:৩৮
ইসফানিদয়র আরিওন বলেছেন: আমি মনিপুরি শিখতে চাই । বইয়ের নাম দিলে ভালো হয় ।
১৪|
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:২১
নাহিদ তানভীর বলেছেন: ভালো লাগলো
১৫|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৮
htusar বলেছেন: ভাল লেখসেন ।
১৬|
১৬ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১৫
এম. মিজানুর রহমান সোহেল বলেছেন: পাঠকের
দিক
থেকে
আমি
১০০১
তম
পাঠক!
ভালো
লাগলো।
১৭|
১৬ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:২৬
গ্রাম্যবালিকা বলেছেন: পাঠকের
দিক
থেকে
আমি
১০০৪
তম
পাঠক!
ভালো
লাগলো।
"কে ওখানে" ভাই। আপনার পোষ্ট মনযোগ দিয়ে পড়লাম। "থাকাত তরে"
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭
সেলিম তাহের বলেছেন: বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার সাথে প্রাথমিক পরিচয় ঘটিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর তাঁদের মুখের ভাষাকে একটি প্রাথিস্ঠানিক চর্চার মধ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখবার এই প্রয়াসকে স্বাগত জানাই।