| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এটা আমার মা কে নিয়ে লিখছি , আমি অনেক আগে থেকেই আম্মুর মুখে গল্প শুনতে পছন্দ করতাম। হটাৎ একদিন মা কে চেপে বললাম “মা তুমি কি জিন ভূত কখনো দেখেছো? আগের দিনে নাকি অনেক রহস্যজনক ঘটনা ঘটত ,এরকম কিচু তুমি দেখনাই?” আম্মু বলসে যে ,”হ্যাঁ পৃথিবীতে অনেক রহস্য আছে , অনেক ঘটনা আছে যার ব্যাখ্যা দেয়া যায়না “ আমি মা কে বললাম আছে নাকি এমন কোন ঘটনা তোমার জীবনে ?, আম্মু বলে যে ,আমার জীবনে নেই কিন্তু আমার চোখে দেখা ঘটনা আছে, যা অন্য কারো সাথে ঘটেছে । আমিতো এটা শুনেই চোখ ছানাবর করে ফেললাম, মা কে বলছিলাম যে এখনি ঘটনা বল...।আম্মু অম্নি বলা শুরু করলেন“”আমি তখন খুব ছোট বয়স ২বছর+ ।আমি নাকি খুব তাড়াতাড়ি দৌড়াতে শিখেছিলাম । আমার বাবা তখন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এ চাকরি করতেন ।তখন বাবা নরসিংদী ভেরানগর থানায় ট্র্যান্সফার হন। আমার বয়স তেমন বেশি না ।কোয়াটারে থাকতেন না,তাই আমার আব্বু যে বাসা ভারা নেন সেটি ছিল টিন সেট এর এল মডেলের বাড়ি । টিনের পেছনে দেয়াল ছিল , দেয়াল টি ছিল ডাক বাংলোর । তারই শেষ কোনে কবর স্থান ছিল । ঘটনা শুরু হয় ঠিক এভাবে। আমার মা আমাকে রাতের খাবার খাওয়ানোর পর ঘুমিএ পরেছে আমাকে নিয়ে , সেদিকে বাবার নাইট ডিউটি ছিল ,তাই বাবা রাতে আর আসেন না। হটাত একটি নারী কণ্ঠের বিকট আওয়াজে আম্মুর ঘুম ভেঙ্গে যায় । আমার আম্মু স্পষ্ট একাধিক বার আওয়াজটি পায়।আওয়াজ টি ছিল হাসির । গলা ফাটানো হাসির মত। মা আমাকে নিয়ে একা তাই মা কিছুতেই সাহস পাচ্ছিলেন না। কোনরকম মা রাতটি পার করেন। তারপর ভোর বেলা আমার মা শুনলেন যে আমাদের প্রতিবেশীরা সকলেই ওই আওয়াজটি শুনতে পায়। এর পর থেকেই সবার মাঝে একটি আতঙ্খ ছড়িয়ে যায়। আমার আব্বুকে সব কিছু জানানো হয়। কিন্তু আব্বু এগুলকে তেমন পাত্তা দেননা । ঘটনা সেখান থেকে একের পর এক রহস্য বাড়াতে থাকে। প্রায়ই রাত্রে একিই আওয়াজ শুনছে , কিন্তু কে হাসে কে কান্না করে কেও আঁচ করতে পারেনা, দেখতে দেখতে কিছুদিন কেটে যায় ।আমিও বড় হচ্ছি । একদিন দুপুরে আমার আম্মু আমাকে দুধ ও চিনি দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাওয়াচ্ছিলেন। আমার পেছন পেছনে দৌড়িয়ে নাকি খাওয়ানো হতো । আমাদের প্রতিবেশীর একজনের মেয়ে ছিল। মেয়েটি আমার চাইতে দুই বৎসরের বড় ছিল । আমার সাথে সাথে মেয়েটিও সেদিন আম্মুর হাঁতে ভাত খাচ্ছিল। খাচ্ছি আর আমরা দুজনেই দৌড়াচ্ছিলাম । মেয়েটি আমাদের কল পাড়ের দিকে চলে যায় , একটু পর হটাৎ করে মেয়েটি চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গরাগরি খেতে থাকে। সবাই ছুটে যেয়ে মেয়েটিকে ধরেন। মেয়েটা চোখ বড় বড় করে গোঙরানি আওয়াজ করতে থাকে, এবং মেয়েটি সবাইকে খুব অবাক করে দিয়ে সবার সামনেই মরে যায় । আমার আম্মু সব চাইতে বেশি ভয় পেয়ে যায় কারন হল আমার মা নিজ হাতে মেয়েটিকে খাওয়াচ্ছিলেন কিন্তু আমিও তো একী সাথে খাচ্ছীলাম । কিন্তু কেওই বুঝে উঠতে পারলোণা যে কী কারণে মেয়েটী আজ এভাবে মারাগেলো? মেয়েটি একমাত্র ছিল ।ওর বাবা ছিল একজন দলিল লেখক।মেয়েটি মারা যাওয়ার সবাই জানতে পারে যে সাতটি খারাপ জিনিস নাকি মেয়েটির উপর ছিল। মেয়ের বাবার সাথে নাকি অনেকেই কুফরি করেছে যে তার পরিবার কে ধংস করে দেয়ার জন্যে। যাইহোক মেয়েটিকে সন্ধা হওয়ার সাথে সাথেই দাফন করানো হয়। আর দাফন হয় আমাদের বাসার পিছনের কবর স্থানেই। সেদিন রাতের ঘটনার মত আজকের মধ্য রাতে সেই মেয়ে কণ্ঠের হাসির আওয়াজ শোনা গেলো। আমার মা সহ বাবাও আজ শুনে অবাক। এটা কি জিনিস? এমন হাসছে কে? পরদিন ভোর হওয়ার সাথে সাথে সবাই আরও তাজ্জব !! কবর স্থানে সবাই যেয়ে যেয়ে দেখছে যে গতকাল্কের মেয়েটিকে কবর থেকে অর্ধ বের করানো আর সাড়া দেহ ছিরে নিয়েছে মাংস গুলো খুবরিয়ে তুলেছে আর পেট থেকে সবকিছু বের করে ফেলেছে । অবশ্য এই কবর স্থানে কোন প্রাণী ধকার সম্ভাবনা ছিলনা। আসলে কি আমনটা হয়েছে? আমি একদমই এসব বিশ্বাস করছিলাম না,কিন্তু আম্মু যখন এই ঘটনা আমাকে বলে তখন আম্মুর মুখের আকৃতি বদলে যায় ,তখন উপলব্ধিকরি যে আসলেই কতটা অস্থিরতায় আমার মা ছিল। কিভাবে একটি শিশু সবার সামনে মরে গেল?ঘটনা সেখানে থেমে যায়নি , তার পরের থেকে ওই বাড়িটাতে একটা ভয় ছড়িয়ে পড়ল । সব ভাড়াটিয়ারা এক হয়ে সেদিন রাতেই বসে বসে আমাদের ঘরে ঘটনা কি হল এই নিয়ে আলাপ করছে ,আর এমন সবাই সেই বিকট কান্না সবার বুক চেপে শুরু হল ......। একজন যাচ্ছে বিকট কান্না ও হাসি একত্রে করে ।আওয়াজ টি সবাই শুনল , ২ জন নাকি শুনেই অজ্ঞান হয়ে গেছেন। সারা রাত সবাই জেগে ছিল, কেও এক ফোটাও ঘুমায়নি, পরের দিন সকাল হওয়ার সাথে সাথেই ৬টি ভাড়াটিয়া সহ আমরা সেই বাড়িটি ছেরে দিলাম, এই আমার সংক্ষিপ্ত ঘটনা, কিন্তু আমি এখনো বুঝতে পারলাম না কি এর মানে?
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:০৩
এহসান সাবির বলেছেন: আমিও বুঝতে পারলাম না।