| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশ ও জাতির শত্রুরা তাদের মুখোশ ছেড়ে স্বমূর্তিতে আবিভর্ূত হয়েছে। মনুষ্য চেতনা ও ইসলামী মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে এই দোজখের কীটরা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাদের উপাসনালয় ধ্বংস করছে। বাড়িঘরে আগুন জ্বালাচ্ছে। দেখেশুনে মনে হচ্ছে ইয়াহিয়া, টিক্কা ও নিয়াজির উত্তরসূরিরা আরেকটি একাত্তর সৃষ্টিতে উন্মত্ত। আশার কথা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। বিবেকবান মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গড়ে উঠছে প্রতিরোধ। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তাদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরের নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো মূল্যে সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দল এসব হামলার সঙ্গে জড়িত। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও মুখ খুলেছে সাম্প্রদায়িকতাবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে। জোটগত সীমাবদ্ধতার ঊধের্্ব উঠে তারা ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ ও লুটপাটের নিন্দা করে এ অপতৎপরতা দমনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষসহ দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ব্যবস্থাপনাকে যে কোনো আক্রমণ থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। উচ্চ আদালত, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া সংখ্যালঘুদের জন্য সান্ত্বনা বলে বিবেচিত হলেও তা নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে পারেনি। অসৎ রাজনীতি ও অথর্ব প্রশাসনের ওপর ভরসা করার অবকাশ সত্যিকার অর্থে কম। তবে বকধার্মিক গণশত্রুদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধকে আমরা আশাজাগানিয়া হিসেবে অভিহিত করতে চাই। বিশ্বাস করি, হামলাকারীদের প্রতিহত করাকে সবাই দেশপ্রেমসুলভ দায়িত্ব হিসেবে বেছে নেবেন।
©somewhere in net ltd.