| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খেলার মাঠ থেকে সবে ফিরেছে কমল ।সূর্য ডুবে গেলেও একেবারে অন্ধকার হয় নি ।সন্ধ্যা সবে মাত্র রাতের আঁধারে হারানোর পায়তারা করছে ।এমন সময় কমল তাদের দোচালা মাটির বাড়ির উঠোনে প্রবেশ করে ।ছোট বোন শিউলি কুপি জ্বালিয়ে বারান্দায় পড়তে বসেছে ।ঠাকুর মা তার ঘরে বসে নির্বাক তাকিয়ে আছে ঠাকুর দার ছবির দিকে । কমলের মা রান্না ঘরে রান্না করছে ।
কমল কে বাড়িতে ঢুকতে দেখে শিউলি ফিস ফিস করে বলে দাদা তারাতারি পড়তে বস মা কিন্তু রাইগা আছে ।কমল বলে তুই পড় ,পড়ে জজ ব্যারিস্টার হ।শিউলি মুখটা করে আবার পড়া শুরু করে । কমল চলে যায় বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়টায় ।হাত পা ধুয়ে এসে বোনের পাশে পড়তে বসে । মাকে শুনিয়ে শুনিয়ে জোরে জোরে পরতে থাকে কমল ।মা বেড়িয়ে এসে চিৎকার করে বলে খালি খেলা আর খেলা ,কোন কাজ নাই ,পড়াশোনা নাই , আজ আসুক তোর বাবা দেখ তোর কি অবস্থা করি ? শিউলি বলে ওঠে মা দাদা কে বকো ক্যান,দাদা তো পরতে বইছেই । মা বলে ওঠে এই তুই চুপ থাক , দাদা কে কিছু বললেই তোর গায়ে কি আগুন জ্বলে ? জ্বলেই তো –শিউলির উত্তর ।
কমল এবার বলে ওঠে মা রান্না হইছে ? খিদা লাগছে তো ।
আজ আগে মার খাবি তারপর ভাত খাবি ।
না মা আগে ভাত খাই তারপর মার খাবো...
মা আমারও খিদে পেয়েছে । এই কথা টা শিউলি বলেই দাদার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দেয় ।আর একটু পড় মা তারপর এক সাথে খেতে দেব ।
এমন সময় বাড়ির পেছন দিকে কয়েকটা পায়ের শব্দ শোনা যায় ।ক্রমেই তাদের পায়ের শব্দ জোরে হতে থাকে । বুকের মধ্যে ধর ফর করে ওঠে শিউলির মায়ের।
হটাৎ ৮ -১০ জন লোক বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে , শিউলির মাকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির উঠোনে নিয়ে আসে ,কমল বাঁচাতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় কমল বাবা বাবা বলে দৌর দেয় ,শিউলি কাঁদতে কাঁদতে ভয়ে ঠাকুর ঘড়ে গিয়ে ঢোকে । ঠাকুর মা চিৎকার করে বউমা বউমা বলে ডাকতে থাকে ।কোন উত্তর আসে না। এবার অমানুষ গুলো বলে ওঠে , শুয়োরের বাচ্চা মালাউন সাহস কত ভোট দিতে গেছে ,আজ জন্মের মনে ভোট দেওয়াবো । ওই বুড়ি মাগি টা কই ? অই বুড়ি আবার গেছিল কোর্টে সাক্ষী দিতে ।আজ ওইটারে জ্যান্ত জ্বালামু ।এই বলে ওড়া সারা ঘড় বাড়িতে আগুন লাগাতে থাকে । কমল ওর বাবা কে গিয়ে বলে বাবা বাবা কারা যেন মাকে ধরে মাড়ছে তুমি শিগগিরি চলো । কমল আর তার বাবা দৌড়ে আসতে থাকে আর এদিকে পুড়তে থাকে একটা ছোট স্বপ্ন ,একটা সংসার ,একটা গর্ভবতী গাভি ,পুড়তে থাকে এক বৃদ্ধার শরীর ,পুড়তে থাকে কিছু বই ,আর পুড়তে থাকে ঠাকুর ঘড়, সাথে ঘড়ের ভেতর লুকিয়ে ভয়ে কাঁপতে থাকা শিউলি ।দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে হিংসার আগুন ।ছোট পুকুর টার মাঝে দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা । বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকে মায়ের নিথর দেহ ।
কেউ এগিয়ে আসে না পুরো দেশটাই তো জ্বলছে হিংসার আগুনে ।
২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৫
দুর্বার চঞ্চল বলেছেন: ধন্যবাদ
৩|
১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:১৪
রুদ্র জাহেদ বলেছেন: কেউ এগিয়ে আসে না পুরো দেশটাই তো
জ্বলছে হিংসার আগুনে ।
নির্মম বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে লেখা।ভালো লেগেছে+
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৪৬
এহসান সাবির বলেছেন: ভালো লিখেছেন। হ্যাপি ব্লগিং।