| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘সবল নিউক্লিয়ার বল’ নাম টা শুনলেই বোঝা যায় এটা মহা জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল।প্রায় ১৪শ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং এর ফলে যে কনিকা গুলি তৈরি হয়েছিল তাদের নাম কোয়ার্ক (Quark) . কোয়ার্ক এর ছয়টি ফ্লেভার আছে: আপ(Up), ডাউন(down), চার্ম(charm), স্ট্রেঞ্জ( strange), টপ(top) ও বটম(bottom)। এই প্রতিটি ফ্লেভারের আছে তিনটি করে বর্ণ: লাল, সবুজ ও নীল। কোয়ার্ক গুলো স্বত্রন্ত ভাবে অবস্থান করতে পারে না ।স্বত্রন্ত ভাবে অবস্থান করলেই তাদের কোনো না কোনো রঙ থাকবে কিন্তু সবল নিউক্লিয়ার বলের একটা ধর্ম হলো এই বলের ফলে যা সৃষ্টি হবে তার কোনো রঙ থাকবে না । আসলে গ্লুয়ন নামক একটি কনিকা সবল নিউক্লিয়ার বল বহন করে ।গ্লুয়ন শুধু নিজেদের মধ্যে এবং কোয়ার্ক গুলোর মধ্যে নিজের কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে ।গ্লুয়নও স্বত্রন্ত ভাবে অবস্থান করতে পারে না কারন গ্লুয়নের ও রঙ আছে । অনেক সংখ্যক গ্লুয়নের সমষ্টির ফলে একটা অস্থির কনিকার সৃষ্টি হয় যার নাম গ্লুবল(Glueball) .
সবল নিউক্লিয়ার বলের ফলেই কোয়ার্ক গুলো নিজেদের মধ্যে গ্লুয়ন(Gluon) বিনিময়ের করে সৃষ্টি করে হেড্রন (Hedron) ।এই হেড্রনের কোনো রঙ নেই।
হেড্রন দুই প্রকার। মেসন আর ব্যারিওন । একটি quark এবং একটি Anti quark নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে তৈরি করে মেসন আর ব্যারিওন তৈরি করতে তিনটি করে কোয়ার্ক নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে । সবচেয়ে হালকা আর stable ব্যারিওনের উদাহারন হলো প্রোটন এবং নিউট্রন । আরো ভারি কিছু ব্যারিওন সৃষ্টি হয় যেমন ওমেগা ,জাই ,সিগমা , ষ্টারসিগমা ইত্যাদি ।এগুলো stable না হওয়ার কারনে ভেঙ্গে গিয়ে প্রোটন এবং নিউট্রনে পরিনত হয় ।
প্রোটন এবং নিউট্রন নিউক্লিয়ার সবল বলের ফলে যুক্ত হয়ে তৈরি করে নিউক্লিয়াস। নিউট্রনের কোনো চার্জ না থাকলেও প্রোটনের ধনাত্মক চার্জ আছে তাই নিউক্লিয়াসের চার্জ হলো ধনাত্মক ।
প্রোটন এবং নিউট্রন মিলেই যদি নিউক্লিয়াস তৈরি হবে তাহলে সর্ব প্রথম কোন নিউক্লিয়াস টি তৈরি হয়েছিল ? হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ? না তার কারন হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না । প্রোটন -নিউট্রন মিলে যে প্রথম নিউক্লিয়াস তৈরি হয়েছিল তার নাম হিলিয়াম ।তবে সবার আগে যে নিউক্লিয়াস তৈরি হয়েছিল তার নাম হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস কারন একটা প্রোটনকেই আমরা হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস বলি ।অর্থাৎ একটা প্রোটন যখন তার চারপাশ থেকে একটা ইলেকট্রন কে তার কক্ষপথে আটকে ফেলে তখন তৈরি হয় হাইড্রোজেন পরমানু । হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস যখন তার চারপাশ থেকে দুটি ইলেকট্রন কে তার কক্ষপথে আটকে ফেলে তখন তৈরি হয় হিলিয়াম পরমানু । এভাবে বিগ ব্যাং এর ৩ লক্ষ আশি হাজার বছর পর তৈরি হয়েছিল হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং লিথিয়াম ।
নিউক্লিয়াসের কক্ষ পথে ইলেকট্রন কে আটকে রাখতে সাহায্য করেছিল যে বল তার নাম তড়িৎ চৌম্বক বল( Electromagnetic Force) । এই বল সবল নিউক্লিয়ার বলের চেয়ে কম শক্তিশালি হলেও এর শক্তি ওতটা কম নয় ।
এই হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ,লিথিয়াম পরমানু গুলো নিজেদের মধ্যে fusion reaction এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তৈরি করলো নক্ষত্র যাদের বিস্ফোরণে আরো ভারি মৌল তৈরি হলো যা দিয়ে সৃষ্টি হলো গ্রহ ,উপগ্রহ,ও এই ইউনিভার্স এর অনেক জানা অজানা বস্তু ।
এই হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ,লিথিয়াম পরমানু থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা দুই লাইনে লিখলেও এটা ঘটতে সময় লেগেছিল প্রায় ১বিলিয়ন বছর (১ বিলিয়ন=১০০০০০০০০০ বছর) । নক্ষত্র গুলো থেকে গ্রহ উপগ্রহ সৃষ্টি হয়ে সেগুলো তাদের ই কক্ষপথে ঘুরতে থাকে ।একটা নক্ষত্র তার চারপাশে যে বলের ফলে গ্রহ উপগ্রহ গুলোকে ধরে রাখে তার নাম মহাকর্ষ ।এই বল না থাকলে কি হত আমরা নিউটনের মহাকর্ষ সুত্র থেকে জানতে পারি ।নিউটন তার বিখ্যাত মহাকর্ষ সূত্র ও বিধি প্রনয়ন করে ব্যখ্যা করেন কিভাবে সারা মহাবিশ্বে নক্ষত্র , গ্রহ ও উপগ্রহ সমূহ ঘোরাঘুরি করছে। অবশ্য এর আগেই জোহান কেপলার নামের এক জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সূর্য কেন্দ্রিক সৌরজগতের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। নিউটন এসে উক্ত সৌরজগতের চিত্রের আসল তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দান করেন এবং মহাবিশ্বে কিভাবে নক্ষত্র জগত বিচরন করে গুচ্ছ গুচ্ছভাবে বিশেষ করে গ্যালাক্সির আকারে তার জন্য মহাকর্ষীয় আকর্ষনের ব্যখ্যা প্রদান করেন এবং এ সম্পর্কীয় সূত্র ও বিধি প্রনয়ন করেন।
এই বিরাটকায় ইউনিভার্সের এক ক্ষুদ্র নক্ষত্রের এক বিন্দু সমতুল্য গ্রহের এক কোনায় বসে ভাবতে ইচ্ছে করে আমি নিজেও তো এই ইউনিভার্সেরই একটা অংশ আর এটা ভেবে ভাল লাগে যে আমি ছিলাম ,আমি আছি ,আমি থাকব । আমি মরে গেলেও আমার শরীরের কোটি কোটি প্রোটন ,নিউট্রন ,ইলেকট্রন ,কোয়ার্ক গুলো মরবে না ।এগুলো মিশে যাবে এই অসীম ,শূন্য ,বৃহৎ ইউনিভার্সেই ।
©somewhere in net ltd.