নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এখানে কাম-কাজ ছাড়া ফাউল প্যাচাল পারা হয়

দ্রোপদী

আম জনতারও নিম্ন শ্রেনি

দ্রোপদী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুক্তি

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৯

আমি নতুন প্রজন্মের স্মারক। আমার মানষিক মস্তিষ্কের বিকাশ বয়সের আগেই ঘটেছে। ৫ম শ্রেণীতে পড়ার আগেই নারী-পুরুষের ভাব ভালবাসার পাঠ পড়া শেষ। বাস্তবিক জীবনের নতুন নতুন তত্তকথা শেখাও মাশাল্লাহ!!!! ব্য়সের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে; ঠিকঠাক হিসাব করলে বয়সই বরং পিছিয়ে যাবে। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন মাছ ধরতে জানি কিনা, সাতার পারি কিনা, গাছে চড়তে জানি কিনা তাহলে মাথা চুলকিয়ে মাথার চুল শেষ করে ফেললেও জবাব দিতে পারব না। যদি বলেন হা-ডু-ডু কিংবা বোচি খেলেছি কিনা তাহলে ভাই বলে রাখছি রচনা লেখার সময় শব্দদুটা শিখেছিলাম এর বেশি জানি না। জানতে চাইও নি; কারন নিজেকে নিয়ে আমি এত গর্বিত ছিলাম যে এসব খেত মানে গ্রামের খেত লোকের কাজ বলে নাক সিটকাতাম। হয়ত সবার শিশুকাল আমার মতন ছিল না কিন্তু আমরা বিশেষ করে শহুরে শিশুরাই ছিলাম এমন। বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম বোধহয় গন্ডারের চামড়ার পড়ত কমেছিল, লজ্জা তখন পেয়েছি যখন বিদেশি বন্ধুরা এইসব আমার so called খেত কাজগুলোকে অনায়াসে করে লোকজনকে তাজ্জব বানিয়েছে আর আমি কিছু পারি না বলে মরমে মরেছি। ভেবে দেখলাম দোষ কি কেবল আমার একার!!! আমার মা- বাবা দুজনেই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন; তাহলে আমি কেন পারি না!!!!!! আমিতো অবাধ্য সন্তান ছিলাম না, যে কারো কথা শুনি না। আমি ভেবে আরো তাজ্জব হলাম আসলে আমার মা -বাবাও আমার এসব নিয়ে ভাবেন নি বরং আমার অকালপক্কতাকে সঠিক বলে সমর্থন দিয়েছিলেন। তারাও বোধহয় মেনে নিয়েছিলেন পারিপার্শিক অবস্থা দেখে। ভেবেছিলেন হয়ত এসব জানা,পারা জীবনের কোন কাজে লাগে না!!!!! এখন ভাবি কি মস্ত ভুল করেছিলেন তারা। আমি সুযোগ পাই নি, আমার খেলার জায়গা ছিল না। আমার বাবাদের মত পাড়ার বন্ধুর দল ছিল না, আমার মায়ের মত দাদি-নানি ছিল না। আসলে, আমার পাখনা মেলার জায়গা রাখেনি আমার পুর্বসরীরা; আমি বন্দী ছিলাম আমার ঘরে, আমার Internet এ। আমি কিছু পারি না বা জানি না বা আমার সেইসব মধুময় memory নেই; সেজন্য আমি একা দায়ী নই। আমার শিশুকাল, আমার মা-বাবারা বন্দী রেখেছিলেন সতর্কতার নাম করে। আমরাও তাই করছি; আমাদের শিশুদের আটকে রেখেছি নিরাপত্তার নাম করে। ভেবে দেখুন এতে আমাদের শিশুরা আরো নির্লিপ্ত হবে!!! এভাবে চলতে থাকলে আমি ভাবতে পারি না কি হবে আর দুই জেনেরেশন পর। তাই আজ এই মহান সাধীনতা দিবসে এই চাওয়া সব শিশুদের শিশুকাল মুক্ত হোক, তাদের মানসিক বিকাশ সুস্থ হোক। নতুন প্রজন্ম যদি সুস্থ না থাকে, যদি মজবুত না থাকে তবে ১৯৭১ সালের সাধীনতার কানা-কড়িও দাম থাকবে না। ভুলে যাবেন না শহীদেরা কোন অহমিকাময় নকল মাকাল ফলের জন্য নয় বরং জীবন দিয়েছিলেন যাতে সব সময়ের নতুন প্রজন্ম সাধীন ও সুস্থ বাংলাদেশের মুখ দেখে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.