| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লুদ্ধক
স্বপ্ন দেখাটা অভ্যাস হয়ে গেছে, আকাশ-কুসুম তো বটেই... বই পড়ার শখ আর হালকা লেখালেখি...
“দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু”
রবীন্দ্রনাথের অতিসত্য কবিতা। সিন্ধুর বদলে বংগোপসাগর ঘুরে এসেছিলাম কিছুদিন আগে। সে বিশাল খরচান্ত ব্যাপার, যা গেছে তাতে ছোটখাট দরিদ্র পরিবারের এক বছর চলে যাবার কথা। কিন্তু বিনিময়ে কি পেলাম...? ওই এলাকায় যাবার আগে আগে গেছিলাম যশোরের এক গ্রামে, সঙ্গে শুধু আসা যাওয়ার ভাড়া ছিল, বিনিময়ে স্বর্গ দেখে এসেছিলাম। চিটাগং গিয়েছি ট্রেনে...র ফার্স্টক্লাশ কেবিনে করে, এসেছি গ্রীনলাইনের ভলভোতে করে কিন্তু যশোরে শীতের রাতে ট্রাকে করে যাবার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাথে তার কোন তুলনা হয়...?
আমাদের চারুকলার বন্ধু ‘দেব’ মারা গিয়েছিল সড়ক দূর্ঘটনায়, তাকে আমরা ভুলে যাইনি। চারুকলার সবাই তার বাবাকে এখন বাবা বলে ডাকে। আমি চারুকলার ছাত্র না হলেও দেবের বন্ধু হওয়ার সুবাদে তার বাবার সাথে আমারও পিতাপুত্রের সম্পর্ক।বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়, তিনি বাড়ির বড় জাম্বুরা কিংবা পাকা পেয়ারা অথবা পোক্ত দেখে আখ নিয়ে ঢাকায় থাকা তার ছেলেদের দেখতে আসেন, কয়েকদিন আমাদের সাথে ঘুরাঘুরি করেন আর বাড়ি গিয়ে মায়ের সাথে গল্প করেন, ‘ঢাকায় আমার হাজারটা ছেলেপিলে’। মায়েরও শখ হয় তার ছেলেপিলেদের দেখতে তাই তিনি প্রায়ই বাড়িতে যেতে বলতেন। সবাই একাধিকবার গিয়েছে আগে কিন্তু আমি গেলাম এবারেই প্রথম। অদ্ভুত অভিজ্ঞতা!
পালক সন্তানদের প্রতি নাকি মা বাবার ভালবাসা বেশি থাকে, পরের ছেলে যেকোন সময় চলে যেতে পারে ভেবে অতিরিক্ত আদর দিয়ে তাদের কাছে ধরে রাখতে চান। অদ্ভুত ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দেখলাম, চলে আসার দিন সকালে কেউ আমাদের ঘুম থেকে ডাকে না, যদি বেলা বেশী হয়ে যায়, যাওয়া ক্যান্সেল হয়, যদি আরেকটা দিন বেশি থাকে!
সে নিরেট এক গ্রাম, চারপাশে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, মাঝে মাঝে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে খেজুর, নারকেল আর সুপুরি গাছ। পাট ক্ষেত, আখ ক্ষেত আর পানের বরজের মাঝে খুব সহজেই হারিয়ে যাওয়া যায়। আমার জীবনে প্রথমবারের মত রাতের বেলায় খেজুরের হাড়ি নামিয়ে পাটকাঠিকে স্ট্র’য়ের মত ব্যবহার করে খেজুরের রস খেলাম, আখ ক্ষেতে রাতের বেলায় পছন্দসই আখ কেটে সেখানেই খেলাম, পথে কুড়িয়ে পাওয়া সুপুরী নিয়ে সোজা পানের বরজ থেকে পান পেড়ে খেলাম। পুরোপুরি স্বর্গস্বর্গ অনুভুতি, হাত বাড়িয়ে সবকিছু পাওয়া যায়, শীতকাল না হলে মাছও ধরতাম। সেই স্বর্গে ফেরেশ্তার মত ছিলেন দেবের বড়ভাই সুবীর দাদা, তাকে মুখ ফুটে বললেই হয় ‘দাদা এই জিনিসটা দরকার’। খেজুর গাছের ‘মাথি’ বলে একটা ব্যাপার আছে,যেখান থেকে খেজুরের রস উতপন্ন হয় সেই জায়গা, সেটা নাকি খুবই মজার, সেটা খেতে হলে একটা পুরনো খেজুর গাছকে প্রান দিতে হয়, দাদা সেই মাথির জন্যে একজনকে গাছে তুলে দিয়েছিলেন প্রায়, আমি বলেকয়ে বাদ দিয়েছি, আমাদের আনন্দের জন্যে একটা পুরনো খেজুর গাছের প্রান কেড়ে নিতে মন সায় দেয়নি।
সেই শীতে আগুন জ্বালিয়ে আমরা সারারাত বাইরে কাটাতাম সব ভাই ব্রাদার মিলে, সেই আগুনের ব্যাবস্থা হতো কারো ঊঠান থেকে না বলে আনা পাটকাঠি দিয়ে, বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ আনন্দের ব্যাবস্থাও ছিল। সবচেয়ে ভাল লেগেছে সেখানকার লোকজনদের, সেই গ্রামের সবাই সবার আত্নীয়, সবাই সবার পরিচিত, সবাই খুবই আন্তরিক। তাদের জনসংখ্যার ১০০ ভাগ শিক্ষিত, মাটির ঘর থেকে বেরিয়ে আসা একটা শিক্ষিত ছেলের স্মার্টনেস দেখলে অবাক হতে হয়, এদের সবাই ভালো ভালো জায়গায় পড়াশুনা করে। এদের দেখার পর আমাদের সিলেটের মানুষদের পড়াশোনা নিয়ে আমার আফসোসটা আরো বেড়েছে।
বাবা সুবীর দাদার সাথে কথা বলেন না, তার করা কিছু অন্যায়ের জন্যে তাকে ছেলে বলে পরিচয় ই দিতে চান না। আমাদের নিয়ে তার স্বপ্নের কথা আমি জানি, তিনি আর বেশীদিন বাঁচবেন না তবু দেবের সমাধির কাছে তিনি দুটো ঘর তুলছেন, ঢাকা থেকে তার ছেলেরা আসলে নাকি এখানে থাকবে, তিনি আবেদন জানিয়েছেন বছরে অন্তত একটা দিন যেন তার সব ছেলেরা সেখানে যায়, সেটা দেবের মৃত্যুদিবস। আমি ছোটবেলায় কখনও নিজেদের গ্রামে যাইনি, তবু ‘আমার নিজগ্রাম’ রচনায় কোন এক গ্রামের কথা বানিয়ে বানিয়ে লিখে দিতাম, এখন যদি এমন কোন রচনা লিখতে হয় তবে আমি নিঃসঙ্কোচে লিখব, ‘আমার গ্রাম যশোরের সাগরদাঁড়ি...’
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৪৪
লুদ্ধক বলেছেন: ধন্যবাদ...।
২|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩৯
জ্যোস্নার ফুল বলেছেন: অনেক গুছিয়ে আবেগ প্রবন লেখা লিখেছেন।
দেব পরিবারের জন্য সমবেদনা, আপনার জন্য শুভকামনা।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৪৪
লুদ্ধক বলেছেন: ওর জন্যে দোয়া করবেন...
৩|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৪০
আরিয়ানা বলেছেন: আপনি তো চমৎকার লেখেন !! খুব প্রাণ আছে, আর আছে আবেগ আপনার ভেতর।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩০
লুদ্ধক বলেছেন: ধন্যবাদ... কিন্তু সামুতে তো কেউ আমার লেখা পড়েই না... ![]()
৪|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:১৬
আজমান আন্দালিব বলেছেন: ভালো লাগলো। +++++
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩২
লুদ্ধক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই...
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩১
রোজেল০০৭ বলেছেন: ভালো লাগা সহ +++