| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইসলামী শরীয়তের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে ফিৎনা ফাসাদ এবং বিশৃঙ্খলা থেকে সমাজকে রক্ষা করা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করা।শাস্তি প্রদান ও প্রতিশোধ গ্রহণ ইসলামী শরীয়তের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়। বরং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদান করাই মূল লক্ষ্য অর্থাৎ শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিস্ঠা হয় সেই পরিমাণ শাস্তি প্রয়োগই হচ্ছে শরীয়তের কাম্য।কিছু লোক প্রায়ই বলে, “ অনেক দিন আগে যেই বর্বরোচিত সাজা মরুভূমির বুকে চালু ছিল তা কি আজকের আধুনিক সময়ে ব্যবহার করতে পারি কিনা? চুরির অপরাধের সাজা হিশেবে চোরের হাত কাটা সঠিক কিনা। এসব আইন এই একবিংশ শতাব্দীর এই পৃথিবীতে গ্রহনযোগ্য কিনা, যেখানে অপরাধীকে সাজা দেয়ার চেয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে ভাল করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়? ” খুবই ভাল প্রশ্ন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এ সময়েও কিছু প্রশ্ন এসে যায়। সেগুলো হচ্ছে, কিভাবে এই শতাব্দীর আইন একজন মানুষকে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে হাজার হাজার মানুষ মেরে ফেলা, অন্য একটি দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সমর্থন করে? কিভাবে একটি দেশের মানুষদের তাদের নিজ দেশ থেকে অন্যায় ভাবে উচ্ছেদ সমর্থন করে? কিভাবে ধর্ষণের শাস্তি হিশেবে অপরাধীকে ছোট খাট শাস্তি দিয়ে সতর্ক করে? কিভাবে দুর্নীতি, অপরাধ করেও আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের কিছুই হয় না? কিভাবে খুন করেও একজন রাজনৈতিক নেতার কোনো সাজাই হয় না? ইত্যাদি অজস্র উদাহরণই দেয়া যায় যা এই একবিংশ শতাব্দীর আইনের এবং এর প্রয়োগের খারাপ দিক তুলে ধরা যায়। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, এসব আইন মানুষেরই তৈরি। তাই মানুষ নিজের সুবিধা অনুযায়ী, স্বার্থ অনুযায়ী এসব আইনের পরিবর্তন অথবা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। নিজের স্বার্থ অনুযায়ী আইন মেনে চলে অথবা আইন ভঙ্গ করে, আইন কে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী।
মানুষের তৈরি এই আইনগুলোতে বেশীরভাগ সময়ই সত্য মাথা কুটে মরে। আর ইসলামের আইনগুলো হচ্ছে আল্লাহ্র দেয়া আইন। তা এর প্রধান আইন গুলো কখনোই পরিবর্তিত হবে না। অনেকই ইসলামের এই আইনগুলোকে বর্বর বলে থাকেন। তাদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখা যায়। যখন আপনার বাসায় চুরি বা ডাকাতি হয় তখন আপনি কেমন বোধ করেন? বা চোরকে ধরতে পারলে তাকে বেধরক পিটিয়ে মেরে ফেলেন বা অর্ধমৃত করে ফেলেন কেন? কেন তখন ভাবেনা বেচারা তো অভাবে পরে চুরি করছে, তাকে সহানুভূতির সাথে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন না বা তাকে এ পথ থেকে সরিয়ে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করেন না? কারন তখন তা আপনার স্বার্থের বিপক্ষে যায়, তাই না? কেন পুলিশ কে বা অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের আপনার কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার জন্য তিরস্কার করেন? কেন তাদের শুধরানোর চেষ্টা করেন না? কারন সেই একি, স্বার্থ। আর আপনি করবেন টাই বা কি। তাদের সাজার জন্য মামলা করবেন? সেই মামলা শেষ হতে হতে অনেক সময় লাগবে বা হবেই না। মামলা চালাতে চালাতে আপনার যতোটুকু ক্ষতি হয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশী ক্ষতি হয়ে যায়। তখন আপনি আইনের সময়ক্ষেপণ বা জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন আর চুপ করে মেনে নিবেন। কিন্তু সেই একি অপরাধের জন্য প্রমাণ হলেই যখন সাথে সাথে ইসলাম তা প্রয়োগ করে তখন তা নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুলবেন, বলবেন এতে আইনের খেলাপ হচ্ছে বা মানবাধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে বা বর্বর । কারন, এটা আপনার স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আপনার বোন বা বউ বা আত্মীয় স্বজনের কাউকে যদি কেউ ধর্ষণ করে তখন আপনি চাইবেন তৎক্ষণাৎ সেই লোকটিকে খুন করতে। কিন্তু সেই একই জিনিস যখন ইসলাম করবে অন্যের ক্ষেত্রে তখন তা বর্বরোচিত হবে আপনার কাছে। আর তা যদি আপনার ভাইয়ের ক্ষেত্রে হয় তাহলেতো আপনি ইসলামের চৌদ্দ গোসটি উদ্ধার করবেন। ধর্ষিতা যে আরেকজনের বোন তা কিন্তু আপনার মনে থাকবে না। আর প্রকাশ্যে ইসলামের শাস্তি বাস্তবায়নের ফলে যে আরও ১০০ টি ধর্ষণের হওয়ার আশংকা চলে গেল প্রাণ হারানোর ভয়ে তা আপনার মাথায়ই আসবে না। আপনি সমর্থন করবেন তখন ধর্ষক কে প্রথম বারের মতো লঘু শাস্তি দিয়ে শুধরানোর সুযোগ করে দেয়া। এর ফলে যে আরও ১০০ টি ধর্ষণ ঘটার সুযোগ করে দেয়া হলো তা আপনার মাথায়ই আসবে না। কারণটা সেই একই, এটা যে আপনার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয়। একই কথা আসে খুনের ক্ষেত্রেও। ব্যাভিচারের ক্ষেত্রেও তাই। এসব ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে একটি শাস্তি দিয়ে যে আরও ১০০ টি অপরাধ করার পথ বন্ধ করে দেয় ইসলাম , তা আপনি গ্রাহ্যই করবেন না। আপনি ভাববেন যে এক বিংশ শতাব্দীর আইনের প্রয়োগ সঠিক হলে এবং সবাই সৎ হলে, সমাজ ঠিক থাকলে এসব অপরাধ আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যাবে। খুব ভাল কথা। খুব ভাল সমাধান। কিন্তু “ সবাই সৎ হলে, সমাজ ঠিক থাকলে ” এটা আপনি কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন? প্রত্যেক কে সৎ হতে হবে। কিন্তু কিভাবে সৎ করবেন সবাই কে? আপনি ভাবে “ সবাই সৎ হলে, সমাজ ঠিক থাকলে ” আর ইসলাম বলে কিভাবে সবাই কে সৎ আর সমাজ কে ঠিক করা যায়। আপনি করেন আশা আর ইসলাম দেয় সমাধান। ইসলাম দেয় সৎ থাকার উপদেশ , কিভাবে চললে সৎ থাকা যায় সেই পথ দেখায়। অসৎ হলে দুনিয়াতে কি শাস্তি হয় তার সাবধানতা এবং প্রয়োগ, আর মৃত্যুর পর কি শাস্তি রয়েছে সেটা বলে। ইসলাম বলে তোমার প্রতিটি কাজ, চিন্তা ভাবনা সব কিছুই আল্লাহ্ দেখছেন। তিনি সৎ কাজের পুরস্কার এবং অসৎ কাজের শাস্তি দেবেন। ইসলাম বলে কিভাবে প্রত্যকে নিজে নিজে সৎ হওয়া যায়। এবং এর জন্য শাস্তি এবং পুরস্কার দুটোই প্রভাবক হিশেবে কাজ করে। প্রত্যেককে সৎ করার মাধ্যমেই ইসলাম সমাজ কে পাপমুক্ত করে। ইসলামের আইন বর্বরোচিত নয়। এটি সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য।
সবাই জানে যে ইসলামে চুরির দায়ে চোরের হাত কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এটা কখন। যখন ইসলামের অন্যান্য মৌলিক আইনগুলো ঠিকভাবে মানা হবে। যেমন, প্রত্যকে যখন নিয়মিত যাকাত দেবেন এবং কর্ম সংস্থানের সুযোগ থাকবে। মানে যখন চুরি ডাকাতি না করেই কাজ করে কস্ট করে হলেও জিবিকা নির্বাহ করার সুযোগ থাকবে। তখন যদি কেউ চুরি করে তখন সেটা লোভে পরেই করবে। যেটা ক্ষমার যোগ্য না। তখনই এ আইন প্রয়োগ করা হবে। সৌদি আরবে এ আইন বলবত আছে। কিন্তু সেখানে যেয়ে আপনি এমন দেখবেন না যে অনেক মানুষের হাত কাটা হয়েছে চুরির দায়ে। কারন ওই একটি দুটি ঘটনা দিয়েই বাকি চুরির সম্ভবনা বন্ধ করা হয়। কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া ওই একটি দুটি ঘোটনাকেই ফলাও করে প্রচার করে বর্বরোচিত বলে। বাকি ১০০ টা চুরি বন্ধের কথা বলেই না।
ইসলামী শরীয়তের লক্ষ হচ্ছে ফিৎনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা থেকে সমাজকে রক্ষা করা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা। সামাজের সঠিক শান্তির নিশ্চয়তা বিধান করা।ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা।ইসলামের প্রতিটি বিধান, মূলনীতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় রয়েছে প্রতিটি মানুষের জন্য কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তা আর ইসলামের সেই বিধান, মূলনীতি ও মূল্যবোধ ততক্ষণ পর্যন্তֽ অনুধাবন করা সস্ভব নয় যতক্ষন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামিক শাস্তিবিধান এবং বিশেষ করে ইসলামী দন্ডবিধির ভয় ভীতির প্রভাব সম্পর্কে অনুভূতি না আসবে। কারণ বর্তমান সময়ে ইসলামিক মূল্যবোধ ও তার বিধান সাধারণ মানুষের এবং বিশেষ করে কিছু সংখ্যক মুসলমানকে প্রভাবিত করতে পারছে না। শাস্তির জন্য ইসলাম প্রমানের উপর জোর দেয়। সাক্ষ্য নিয়েই তারপর শাস্তি প্র্যয়োগ করে। কেউ যদি অকাট্যভাবে সাক্ষী না দেয় তাহলে তাদেরকে ইসলামী শরীয়তে শাস্তি দেয়ার বিধান রেখেছে। আর তাদের এ শাস্তির বিধান শুধুমাত্র তাদের এ অপরাধের জন্য নয় বরং তাদের শাস্তির বিধান এ জন্যই করা হয়েছে যে, তা একজন মানুষের মানবিক দুর্বলতার কারণে আবেগের বশবর্তী হয়ে অত্যন্ত গোপনে কৃত অপরাধকে তারা গোপন রাখার বদলে এবং তাকে নসিহত ও তাওবার প্রতি আহবান ও সঠিক পথে ফিরে আসার উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে তাকে লজ্জিত, অপমাণিত এবং সামাজিক ও মানসিকভাবে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্যই তারা এ কাজটি করেছে এবং এরই মধ্যে দিয়ে তারা সমাজে ফেৎনা ফাসাদ সৃস্টি করেছে এবং অশ্লীলতার ও বেহায়পনার প্রসার ঘটিয়েছে। এজন্যই ইসলামী শরীয়ত তাদের শাস্তির বিধান রেখেছে। যাতে সমাজে ফিৎনার সৃস্টি না হয়।
যে সকল অপরাধ মানুষের মাল-সম্পদ এবং হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত যেমন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকান্ড ইত্যাদি অপরাধের শাস্তি, মানুষের মানবিক দুর্বলতা ও যৈবিক তাড়নায় কৃত অপরাধের শাস্তির চেয়ে ভিন্ন প্রকৃতির। আর তার কারণ হচ্ছে চুরি, ডাকাতি ও হত্যা ইত্যাদি অপরাধের শাস্তি প্রয়োগ করে সরাসরি অপরাধীকে ঐ ধরণের শাস্তযোগ্য অপরাধ থেকে বিরত রাখা এবং মানুষের জান মালের হেফাজতের জন্য। সমাজে অশ্লীলতা আর গোপনীয়তা প্রকাশ করার জন্য নয়। এ জন্যই চুরি, ডাকাতি ও হত্যাজনিত অপরাধের শাস্তি প্রয়োগ সাধারণ সরল সোজা মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করে না। কারণ সাধারণ মানুষের অন্তরে কখনও চুরি, ডাকাতি ও অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা এবং নিস্পাপ মানুষকে হত্যা করার ইচ্ছা ও কল্পনা থাকে না। কিন্তু সাধারণ নুষের মনে সাধারণত: এ ভয় ও আতঙ্ক সবসময়ই থাকে যে, যেকোন সময় তার মাল-সম্পদ চুরি বা ডাকাতি হয়ে যেতে পারে এবং যেকোন সময় তার উপর কেউ আক্রমন করে বসতে পারে। এ জন্যই যখন চুরি, ডাকাতি বা ইত্যাদির শাস্তি প্রয়োগ করা হয় তখন সে তার পক্ষে সাড়া দেয়। কারণ তাতে মানুষের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিস্ঠা হয়। তাই বলা যায় ইসলামী আইনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ন্যায় নীতির ভিত্তিতে, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিস্ঠা মধ্য দিয়ে একটি আদর্শ ও শক্তিশালী সমাজ গঠন করা। ইসলামের আইন বর্বরোচিত নয়। এটি সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং মানবিক।
২|
২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:৫১
আশরাফ মাহমুদ মুন্না বলেছেন: .
লেখাটি একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গেছে। লেখার কাঠামো ও প্রদত্ত যুক্তিসমূহ অকাট্য নয়। তুলনাগুলোও সঠিক হয় নি। আইনের সাথে আইনের তুলনা চলে, কিন্তু আইনের সাথে ঘটনা/নজির এসবের তুলনা চলে না। মনে রাখতে হবে আইনের তাত্ত্বিক আলোচনা এক জিনিষ, আর চলমান বিচ্ছিন্ন ঘটনা অন্য জিনিষ। তালগোল পাকিয়ে ফেললে হবে না। ইসলামী আইন একটু গুরুতর বিষয়। প্রচুর প্রস্তুতি দরকার। মনে হয়েছে তাৎক্ষণিক আবেগ প্রসূত লেখা।
নেভার মাইণ্ড।
ধন্যবাদ।
২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ১০:৫৭
মেহেদী আনোয়ার বলেছেন:
ধন্যবাদ। আসলে এখানে শুধুমাত্র আমার মত তুলে ধরেছি। তাত্ত্বিক আলোচনা এর পর করবো ইন্সাল্লাহ।
৩|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:০০
সজীব আকিব বলেছেন:
এত কিছু লেখার পরো আপনার চুরির অপরাধে হাত কেটে ফেলা কি সমর্থযোগ্য হল?
কোরানেই চুরির অপরাধে হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এগুলোর নামই হল ইসলামি বর্বরতা। এগুলোর পক্ষে সাফাই গাইছেন, লজ্জা লাগে না?
চুরির শাস্তি সম্পর্কে কোরানে বলা হচ্ছে-
As for the thief, both male and female, cut off their hands. It is the reward of their own deeds, an exemplary punishment from Allah. Allah is Mighty, Wise."
Qur'an 5:38
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:৪১
মেহেদী আনোয়ার বলেছেন: আপনার দেয়া আয়াতটির ঠিক পরের আয়াতটি এমন But he who repents after he has committed wrong, and makes amends, Allah will graciously turn to him. Truly Allah is All-Forgiving, All-Compassionate.
আশা করি বুঝতে পেরেছেন এখানে কি বুঝাতে চেয়েছে। কোরআনের একটি আয়াত পরেই সিদ্ধান্তে চলে আশা ঠিক নয়। সমগ্র সুরার কথা বুঝে তারপর সিদ্ধান্তে আসা উচিত। নাহয় শুধু বিভ্রম ছড়ানো যায়। যেমনটা আপনি করলেন। আর চুরির অপরাধ কখন একজন লোকের হাত কেটে ফেলা হয় তা কি আপনি জানেন? মনে হয় না। কারন আপনি শুধু হাত কেটে ফেলা হয় এটা শুনেই সিদ্ধান্তে চলে এসেছেন। জানার চেষ্টাই করেননি। যদি চুরি ডাকাতি ছাড়া সৎ ভাবে কাজ করে কষ্ট করে হলেও জীবন ধারনের সুযোগ থাকা সত্তেও যদি সে চুরি করে, যদি সেটা ক্ষুধার তারনায় না হয়, যদি সে অনুতপ্ত না হয়, বা একবার ক্ষমা পেয়েও আবার যদি একি কাজ করে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি তাকে ক্ষমা না করে, তখন এ শাস্তির প্রয়োগ করা হয়। আর এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষতির পরিমানের উপড়ও নিরভর করে। যদি এই চুরির ফলে সে যদি আর্থিক বা সামাজিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে দারুন ক্ষতির সম্মুখীন হয় তখন এই আইন প্রয়োগ করা হয়। এমন নয় যে আপনার সেল ফোন বা পকেটমারার অপরাধেই কারো হাত কেটে ফেলা হবে সাথে সাথে। এটা নির্ভর করে অপরাধের পরিমানের উপর। আর হাত কেটে ফেলা হচ্ছে চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি। একমাত্র নয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
৪|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:২৯
সুরাইয়া ফেরদৌস দীপান্বিতা বলেছেন: চুরির অপরাধে হাত কেটে ফেলা সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং মানবিক।
পুরুষের বহুগামিতা আর নারীর মনগামিতা সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং মানবিক।
আল্লাহ নবী বিশ্বাস না করলে গলাকাটা মৃত্যুদন্ড সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং মানবিক।
---- শুনতে জানি কেমন কেমন লাগে। নাকি এইটা খালি আমারই একারই এমন ধারনা?
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:৪৫
মেহেদী আনোয়ার বলেছেন: চুরির দায়ে কখন হাত কাটার বিধান আছে তা আমি উপরের মন্তব্যেই বলেছি। আর যেসব জিনিস বললেন তা সম্পর্কে আপনার ভুল ধারনা আছে ঠিক এই হাত কাটার ব্যাপারটির মত। আসা করি ইনশাল্লাহ পরের পোস্ট গুলোতে তা বলতে পারব। ধন্যবাদ।
৫|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:৩২
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: আপনার কাছে একটা প্রশ্ন করি। ধরুন আপনি চোরের হাত কাটবেন কারণ এক চোরের হাত কেটে তার চুরি থামাবেন, সাথে দশটা চোর ভয় পাবে। আপনি তাকে সংশোধন করার ক্ষমতা রাখেন না।
কিন্তু সেই ক্ষমতা থাকা সত্বেও পরম শক্তিমান আল্লাহ কেন তার হাত কাটার নির্দেশ দেবেন? তিনি তো চাইলেই চোরের চুরি করার প্রতোজনীয়তা বা ইচ্ছা পালটে দিতে পারেন। নাকি তিনি এটা বাস্তবে পারেন না, কেবল মুখেই দাবী করেন?
এর পরেও এই আইনটা কি আপনার মানুষের বানানো মনে হয় না?
৬|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:৩৩
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: আপনার কাছে একটা প্রশ্ন করি। ধরুন আপনি চোরের হাত কাটবেন কারণ এক চোরের হাত কেটে তার চুরি থামাবেন, সাথে দশটা চোর ভয় পাবে। আপনি তাকে সংশোধন করার ক্ষমতা রাখেন না।
কিন্তু সেই ক্ষমতা থাকা সত্বেও পরম শক্তিমান আল্লাহ কেন তার হাত কাটার নির্দেশ দেবেন? তিনি তো চাইলেই চোরের চুরি করার প্রয়োজনীয়তা বা ইচ্ছা পালটে দিতে পারেন। নাকি তিনি এটা বাস্তবে পারেন না, কেবল মুখেই দাবী করেন?
এর পরেও এই আইনটা কি আপনার মানুষের বানানো মনে হয় না?
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১:০১
মেহেদী আনোয়ার বলেছেন: কখন চুরির দায়ে হাত কাটা যায় তা আমি উপরে ব্যাখ্যা করেছি। ওখানে একটা কথা লেখা আছে যে যদি আসামি অনুতপ্ত হয় তখন তাকে ক্ষমা করে সৎ ভাবে জীবন যাপনের সুযোগ করে দেয়ার বিধান। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আল্লাহ্ কেন তার চুরির ইচ্ছাটা বন্ধ করে দেন না। এখানে আপনাদের আল্লাহ্ সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা এই ধারণার জন্য দায়ি। আল্লাহ্ সবক্ষমতার অধিকারি, তিনি মানুষের মনের কথা চিন্তা ভাবনা সবই জানেন। মানুষের ভাগ্য তিনি নিয়ন্ত্রন করেন। কিন্তু একটা জিনিস তিনি মানুষের জন্য স্বাধীন করে দিয়েছেন যা তিনি নিয়ন্রন করতে পারেন কিন্তু করেন না। সেটা হচ্ছে মানুষের চিন্তা বা ইচ্ছা এবং সে অনুযায়ি চেষ্টা। মানুষের চিন্তা, চেষ্টা দেখেই তিনি প্রত্যেকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেন এবং পরিবর্তন ও করেন। চিন্তা বা ইচ্ছা স্বাধীন করেছেন বলেই আপনি তাঁর বিরুদ্ধে ভাবতে পারছেন। আপনার চিন্তা বা ইচ্ছা, চেষ্টার উপরই আপনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। আর এই কারনেই পবিত্র কোরাআনে মানুষ কে গভীর ভাবে চিন্তা করতে বলা হয়েছে, সৎ চিন্তা করতে বলা হয়েছে, নিয়ত বা ইচ্ছার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। এখন চোর যদি প্রকৃতই তার কাজের জন্য অনুতপ্ত হয় তখন আল্লাহ্ তাকে সে পথ থেকে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে দেন। আর একারনেই কৃত কর্মের জন্য অনুতপ্ত হলে শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করতে বলেছেন তিনি। এখন আপনি বলুন কোনটা সঠিক? এর পরেও এই আইনটা কি আপনার মানুষের বানানো মনে হয় ?
৭|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:৪৫
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: মেহেদী আনোয়ার@ ধন্যবাদ, ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দেবার জন্য। এটা আমিও লিখতে শুরু করেছিলাম।
লেখক যেভাবে হাতকাটা আইনকে শাস্বত বলতে চাইছেন ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। অবস্থা বিচার করে এই আইন স্থগিত রাখার অনেক নজির ইতিহাসে আছে। একমাত্র যাকে সংশোধন করা সম্ভব হবে না তার উপরেই এই শাস্তি প্রযোজ্য। আমিও সেই কথাটাই বলতে চাইছিলাম, একটা চোরকে সংশোধন করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব হতে পারে, আল্লাহ পক্ষে অসম্ভব হতে পারে না। তাই এই আইন নিশ্চিতভাবেই মানুষেরই তৈরী।
৮|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:৫৬
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: আর একটা ব্যাপার, ধরুন আপনি (বা আপনার দ্বারা নিযুক্ত লোক) আপনার কোনো শত্রুর বাড়িতে রাত্রে ঢুকে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করে এল। কি শাস্তি হতে পারে এর জন্য? এমন ঘটনা সমাজে ঘটে আশা করি অনেক শুনেছেন।
৯|
২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১:৫৫
মশিউর মামা বলেছেন:
@ দু পেয়ে - এর জন্য শাস্তি হবে কি হবে না তা নির্ভর করে লোকটা কেমন তার উপর | লোকটা যদি নির্দোষ হয় তাহলে এইটা অপরাধ আর লোকটা যদি শুওর শ্রেনীর হয় যার কাজ শুধু অন্যের নামে অপবাদ দেয়া আর ঘৃনা ছড়ানো তাহলে তাইলে মনে হয় এইটা অপরাধ না | কারণ পাগলা কুকুর মারলে সেইটা অপরাধ হয় না , সমাজের উপকার হয় |
১০|
২৭ শে জুন, ২০১১ রাত ১:৩৯
সজীব আকিব বলেছেন:
মানে চুরির পর যদি চোর অনুতপ্ত হয় এবং তওবা করে তবে আল্লা ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু এতে তো তার শাস্তি মওকুফ হল না। আল্লা সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন চোরের হাত কর্তনের জন্য। কিন্তু কেউ ক্ষমা চাইলে হাত কর্তন মাফের কথা তো বলা হচ্ছে না।
ব্যাপারটা হল, চোরের হাত কর্তন করতে হবেই।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:৪৭
রাহীম বলেছেন: ইসলামের আইন বর্বরোচিত নয়। এটি সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং মানবিক।
স হমত ১০০% পিলাস ।