| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এইমাত্র একটা চিঠি এসেছে। মেস ম্যানেজার বদরুজ্জামান সাহেব এসে দিয়ে গেলেন।
‘হিমুভাই, আপনার চিঠি। অত্যন্ত জরুরী। ভেরি আর্জেন্ট।’
‘ভেরি আর্জেন্ট তা বুঝলেন কি করে? আর্জেন্ট না-ও তো হতে পারে।’
বদরুজ্জামান সাহেব কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। এই ভদ্রলোকের অন্যের চিঠি পড়ার বদভ্যাস আছে। বদরুজ্জামান নামের মধ্যেই বদ, কিছু বদভ্যাস তো থাকবেই। এটা তেমন কিছু না।
‘ভাইসাহেব, মনে কিছু নিবেন না। আপনি হয়ত মনে করছেন, আমি চিঠি পড়ে দেখেছি। ভুল ভাবছেন। বদরুজ্জামান আল্লাহ্পাকের খাঁটি বান্দা। এই বান্দা এরকম কাজ কখনোই করবেন না।’
‘কিন' আপনি করেছেন। আমি নিশ্চিত। আপনি আমাকে চেনেন না। আপনি থাকেন ডালে ডালে, আমি থাকি পত্রে পত্রে।’
বদরুজ্জামান সাহেব দুই গালে চড় দিয়ে বললেন, ‘তোবা তোবা। এইডা আপনি কি বললেন? হিমুভাই, আপনি একথা বলতে পারলেন? আমি এই কাজ করব বলে আপনার ধারণা? আঘাত হইলাম।’
আমি দু:খিত হবার ভান করে বললাম, ‘আঘাত হবেন না। আপনার সাথে রসিকতা করলাম। হালকা রসিকতা। আপনার মত লোক এরকম কাজ কখনোই করবে না। যেদিন করবে সেদিন ইস্রাফীল শিঙ্গায় ফুঁক দেবে।’
ভদ্রলোক শুকনোমুখে বললেন, ‘অ। তাই বলেন।’
‘ব্যাজার মুখে থাকবেন না। হাস্যমুখে থাকবেন। কে কি বলল তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। আল্লাহ্র সৎ বান্দা হবে ন্যায়ের পথে পাহাড়ের ন্যায় অটল।’
‘এইটা একটা কথা বলছেন।’
‘এখন তাহলে আসুন। চিঠিটা পড়ি, কি বলেন? আমারও মনে হচ্ছে কোন জরুরী ব্যাপার। আপনার সিক্সথসেন্স যা বলেছে, আমারও তাই বলছে।’
চিঠিটা হাতে নিয়ে ভাবতে লাগলাম। কে চিঠি দিতে পারে? রূপা? মাজেদা খালা? ফাতেমা খালা? সুরমা ফুপু?
রূপা যে নয় তা বোঝা যাচ্ছে। রূপা হলে চিঠির ওপর লেখা থাকত রূপালি কালিতে। রূপালি কালি কখাটা কি ঠিক? নীল কালি, সবুজ কালি, রূপালি কালি? উঁহু, রূপালির সাথে কালি শব্দটা যাচ্ছে না। কোলোকেশন হচ্ছে না।
রূপা বাদ দিলে বাকি থাকে খালা, ফুপু এইসব। এইসব স্বজনেরা। হা হা। হুঁম, এদেরই কেউ পাঠিয়েছে। মনে হয় সুরমা ফুপু। বাদলের গলায় আবার কাঁটা ফুটেছে কিনা কে জানে! বাঘের গলার হাড় নামাতে বক লাগে। বাদলের গলার কাঁটা নামাতে লাগে হিমু।
চিঠি খুলে নিশ্চিত হলাম। সুরমা ফুপুই পাঠিয়েছেন। আশ্চর্যজনকভাবে সংক্ষিপ্ত চিঠি।
হিমু,
জলদি চলে আয়। তোকে ভীষণ দরকার। দেরি করবি না, খবর্দার।
ইতি
তোর সুরমা ফুপু
পুনশ্চ-১: বাদল আবার পাগলামি শুরু করেছে। তাড়াতাড়ি আয়। দা কুইকার, দা বেটার।
পুনশ্চ-২: অত্যন্ত জরুরী। ভেরি আর্জেন্ট।
সংক্ষিপ্ত চিঠির ব্যাপারটা অস্বাভাবিক। সুরমা ফুপু সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠাবার মহিলা না। তার চিঠি সুরমা নদীর মতই দীর্ঘ। তবে ভেরি আর্জেন্ট ব্যাপারটা স্বাভাবিক। এ ধরনের মহিলার কাছে সব ধরনের ঘটনাই ভেরি আর্জেন্ট। নন-আর্জেন্ট কোন ঘটনা নেই।
বড় ফুপাদের বাসায় আমার যাওয়া নিষিদ্ধ। তার ধারণা, বাদলের মাথা নষ্টের পিছনে আমার হাত আছে। শুধু হাত না, আমিই ‘হোতা’। অর্থাৎ মাথা নষ্টের মূলে আমি। মাথানষ্টকারী।
আমার হাত এখন পাঞ্জাবির পকেটে। পকেটহীন পাঞ্জাবিগুলোতে পকেট লাগানো হয়েছে। পকেট এডিশন না, বড়সড় পকেট। পকেটে হাত দিয়ে ভাবছি, কি করা যায়। সুরমা ফুপুর বাসায় যাওয়াটা উচিত হবে না। বড় ফুপা গতায়াত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইংরেজীতে যাকে বলে, স্ট্রিক্টলি প্রহিবিটেড। এ অবস্থায় বাসায় গেলে আমাকে গুলিও করা হতে পারে-ফুপার একটা বন্দুক আছে। ঢাকার অ্যাডিশনাল আইজি তার বন্ধুমানুষ। তাকে দিয়ে বন্দুকটা লাইসেন্স করিয়েছেন। সেই রাইফেল এখনো টেস্ট করা হয় নি। বাঘ যেমন শ্বদন্ত নিয়ে শিকারের অপেক্ষায় থাকে, তিনিও তেমন রাইফেল নিয়ে শিকারের অপেক্ষায় আছেন। সুযোগ পেলেই ঢিচাং।
যাওয়ার আগে ফুপার অনুমতি প্রয়োজন। তার অফিসে আগে ঢুঁ মেরে যাওয়া যাক। এ মাসের টাকাটা নিয়ে আসি, গতমাসের টাকাও বাকি আছে। যারা অবাক হচ্ছেন তাদের বলছি, ফুপা প্রতি মাসে আমাকে দশ হাজার টাকা দেন। এই ব্যাপারটা সম্প্রতি চালু হয়েছে। বিনিময়ে বাদলের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। আমি কথা দিয়েছি, দূরে থাকব। কথা মেনে চলা হচ্ছে।
কথা মেনে চলা অবশ্য জরুরী কিছু না। প্রয়োজনমত কথা অমান্য করা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ওয়াদা করাই হয় তা ভেঙে হাঁপ ছেড়ে বাঁচার জন্য। যাহোক, এই মুহূর্তে ‘হাঁপ’ ছাড়তে চাচ্ছি না। আপাতত হাঁপ ধরে রেখে বাঁচতে চাচ্ছি।
ফুপা আমাকে দেখেই চট করে একগাদা ফাইল টেনে নিলেন। আমি গদগদ ভঙ্গিতে বললাম, ‘স্লামালিকুম, ফুপা। তারপর, আপনার শরীর কেমন? ব্লাড প্রেসার কমেছে?’
ফুপা ঠিক ঘোঁৎ না তবে সে জাতীয় একটা শবদ করে বললেন, এতক্ষণ তো কমই ছিল। তা, তুমি কি মনে করে?’
‘এমনি আসলাম। ভাবলাম, আপনার সাথে কিছু গল্পস্বল্প করি।’
‘গল্পস্বল্প? তুমি কি আমার সাথে রসিকতা করার চেষ্টা করছো?’
‘আপনি তো আমার দুলাভাই না। আপনার সাথে রসিকতা করতে যাব কেন? আমি সিরিয়াসলি বলছি। মনে করুন, টিভিতে প্্েরাগ্্রাম হচ্ছে। “অল্প স্বল্প গল্প”। কিংবা “প্রাণ সিনিয়র জুস ফুপালাপ”।
‘প্রাণ সিনিয়র জুস?’
‘বাজারে জুনিয়র চলছে। ফুপাস'ানীয় মানুষদের প্রতি সম্মান রেখে সিনিয়র। এরকম তো তৈরি করা উচিত। যাহোক, সে অনুষ্ঠানে প্রতি পর্বে একজন “ফুপা” ধরে আনা হবে। আইডিয়াটা কেমন?’
‘ফুপা ধরে আনা হবে মানেটা কি? কার ফুপা?’
‘নির্দিষ্ট কারও না। সকলের ফুপা। দয়াল বাবা থাকে যেরকম সেরকম। সার্বজনীন।’
‘তুমি কি আমার সাথে ফাজলামি করার জন্য এসেছো?’
‘ফাজলামি কেন হবে? গল্প করতে এসেছি।’
‘অফিসে গল্পের আসর?’
‘আসর না। জাস্ট গল্প। আমি আর আপনি আছি। দুইজনে আসর হয় না। আপনি শুরু করুন। আমি পরে টান দেব।’
‘মাই ডিয়ার ইয়াংম্যান, আমি কোন গল্প জানি না। আর আমার ধারণা, সেটা তোমার চেয়ে ভাল কেউ জানে না।’
মাই ডিয়ার বলে সম্বোধন করা হয়েছে। লক্ষণ সুবিধার না। রেগে গেলে এরকম সম্বোধন করা হয়। এটা কোন ডিয়ারিং ব্যাপার না।
ফুপা রেগে গেছেন। তাকে আরেকটু রাগিয়ে দেওয়া যাক। দেখা যাক, তিনি কি করেন। মানুষকে রাগিয়ে দেওয়ার মাঝে আলাদা মজা আছে। মানুষ রেগে গেলে অদ্ভূত সব কান্ড করে। সেই কান্ড দেখে মজা পাওয়া যায়।
আমি হাসিমুখে বললাম, ‘যে কোন একটা গল্প বললেই চলবে। টোনাটুনির গল্প তো জানেন। সেটাই বলুন। না মনে পড়লে, আমি শুরু করে দেই। মনে পড়বে। এক দেশে ছিল এক টোনা। আরেক ছিল টুনি। টোনার খায়েশ হল, পিঠা খাবে।
‘আমার ধারণা, তুমি আমাকে এখানে টোনাটুনির গল্প শোনাতে আসো নি।’
‘ঠিকই ধরেছেন, পেমেন্টটা দিন। আমি বিদায় হই।’
‘হ্যাঁ, টাকা নাও। টাকা নিয়ে বিদায় হও। চা খাবে?’
‘চা খাব না, কফি খাব।’
‘কফি হবে না, চা-ই খেতে হবে।’
ফুপা একটা বেল টিপে দিলেন। প্রায় সাথে সাথে চা হাজির। এর মধ্যে কোন সাংকেতিক ব্যাপার আছে? একবার বেল টিপলে চা, দুইবার বেল টিপলে কফি- এরকম? কুকুরের ভাষায় ব্যাপারটা কিরকম? ঘেউ মানে চা, ঘেউঘেউ মানে কফি। ঘেউউ মানে চায়ে চিনি কম, চিনি লাগবে।
চায়ে আসলেই চিনি কম।
আমি বললাম, ঘেউউ।..
হিমু, তুমি কোথায়?...বাকি পর্বগুলো এখানে ক্রম অনুসারে
(চলবে......................................)
১৫ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৫
এম. এ. হায়দার বলেছেন: আচ্ছা।
২|
১৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:৩২
মুহম্মদ ইমাম উদ্দীন বলেছেন: অনেকদিন হিমু সিরিজের বই পড়িনা। হিমুর কথা মনে পড়ে গেল।
দারুন লিখেছেন। হচ্ছে তো। চালিয়ে যান।।
১৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ৯:১৯
এম. এ. হায়দার বলেছেন: সেটাই। আর হিমু লেখা হবে না, ভাবতেই কেমন যেন লাগে।
আনন্দের জন্য লিখছি।
কিছু ভুল-ত্রুটি হতে পারে। আনন্দের স্বার্থে কিছু ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করা যায়।
আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।
৩|
১৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ১০:২৮
লিংকন১১৫ বলেছেন: আমি বললাম, ঘেউউ।...
অনেক অনেক ভাল লাগলো
স্যার তো চলেগেলেন , আর তার হিমু মিসির আলি কে রেখে গেলেন
১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:৫৪
এম. এ. হায়দার বলেছেন: ধন্যবাদ... আর শুভ্রকে বাদ দেবেন না, প্লিজ।
৪|
১৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ১১:৪২
এমাজ আরেফিন বলেছেন: ভাল লাগল আমি ভেবেছিিলাম আমিও শুুরু করব। যাক ভালই হল।
১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:৫৭
এম. এ. হায়দার বলেছেন: শুরু করলে আওয়াজ দিয়েন। ...
৫|
১৭ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:০০
খোকন িময়া বলেছেন: ভাল লাগলো
২৪ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:১৩
এম. এ. হায়দার বলেছেন: ধন্যবাদ...
৬|
২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:১৩
উদ্ভট কাব্যখোর বলেছেন: ভুয়া হইসে হয় নাই জনাব.।.।.।.।.।.। ব্যাথিত হইবেন না চালাইয়া যান মর্দ.।.।.।.।
২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:২৩
এম. এ. হায়দার বলেছেন: আচ্ছা।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:৩২
জাদ রহমান বলেছেন: হয় নি।