| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফুপা সম্ভবত আমার কাজ-কারবারে অভ্যস্ত। তিনি বিস্মিত হলেন না। স্বাভাবিক গলায় বললেন, ‘ঘেউ ঘেউ শুরু করেছো কেন? তোমার মতলবটা কি? বাদল যদি জানতে পারে তখন সেও ঘেউ ঘেউ করা শুরু করে দেবে। ম্যাড থেকে ডগ হয়ে যাবে। মুখ দেখানো দায় হয়ে পড়বে।’
‘ঘেউ ঘেউ করি নি। ঘেউউ করেছি। এর মানে হল, চায়ে চিনি কম। চিনি লাগবে। সুগার লেভেল হাই করতে হবে।’
‘আমি সুগার পাব কোত্থেকে? আমি তোমার জন্য সুগারের ডিব্বা কোলে নিয়ে বসে আছি?’
‘একটু ডেকে বলে দেন যে- ঘেউউ।’
ফুপা আঙুল মটকালেন। তিনি রাগতে শুরু করেছেন। সামলে নেবার চেষ্টা করে বললেন, ‘দ্যাখো হিমু, আরেকটা উল্টা-পাল্টা কথা বললে আমি তোমার বিরুদ্ধে নেগেটিভ অ্যাকশন নিতে বাধ্য হব। তুমি আমাকে নেগেটিভ অ্যাকশন নিতে বাধ্য করো না।’
‘কি ধরনের নেগেটিভ অ্যাকশন জানতে পারি?’
‘আর একটা কথা নয়, এখন বিদায় হও।’
‘চা-টা খেয়ে যাই।’
‘খাও। চা খাও। চা খেয়ে বিদায় হও।’
‘আর টাকাটা...’
‘কোন কথা না। গেট আউট।’
‘ফুপু একটু বাসায় যেতে বলছিলেন।’
‘যেখানে খুশি যাও। জাস্ট গেট লস্ট ফ্রম মাই আইজ।’
ফুপাকে রাগত অবস্থায় রেখে বেরিয়ে আসলাম। তার কথা-বার্তা শুনে তো বাদল-বিষয়ক কোন ইঙ্গিত পাওয়া গেল না। ব্যাপার বুঝতে হলে ফুপুর বাসায় যেতে হবে। অবশ্য ব্যাপার কি তা জানার জন্য আমি কোনরকম আগ্রহ বোধ করছি না। হিমু হয় উদাসীন।
ফুপু আমাকে দেখে খুশি হলেন।
‘আয় হিমু, আয় বোস।’
আমাকে যত্ন করে বসানো হল।
‘রোদে রোদে ঘুরে চেহারার এ কি অবস্থা করেছিস! এই কুলসুম, কুলসুম, এক গ্লাস শরবত দিয়ে যা। জলদি। হিমু এসেছে।’
‘কুলসুম তো নেই।’
‘নেই মানে?’
‘নেই মানে নেই। ভ্যানিশ। তিনদিনের কথা বলে দেশে গেছে, আসতে দুই সপ্তাহ লাগবে।’
‘আরে, ঠিকই বলেছিস তো। এখন মনে পড়ল। চিন্তায় কোন কিছু মাথায় থাকে না। কিন্তু তুই জানলি কি করে?’
‘আমার সুপারন্যাচারাল পাওয়ার আছে। সেই পাওয়ার দিয়ে জেনেছি।’
‘দেখ্, হিমু। আমার সাথে এসব বলতে আসবি না। আমি জানি তুই কি।’
‘কেন? আমি যা বলছি তা ঠিক হয় নি? এরকম অকাট্য প্রমাণ সত্ত্বেও তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে না?’
‘কাকতালীয়ভাবে লেগে গেছে আর কি। তাও পুরোপুরি হয় নি। তিনদিন না, চারদিনের কথা বলে গেছে। সেই চারদিন এখনো যায় নি। গেলেই চলে আসবে। সবাইকে মিথ্যুক ভাববি না।’
‘ভাবাভাবির ব্যাপার না। এটা হচ্ছে টেনডেন্সি। দি কাজের বুয়া টেনডেন্সি।’
‘রাখ তোর টেনডেন্সি। আজে-বাজে কথা রাখ। এদিকে আমি পড়েছি বিরাট ভেজালে। চিন্তায় চিন্তায় অস্থির হয়ে আছি।’
‘কোন কিছুই স্থির না। জগতে সবকিছুই অস্থির।’
‘এক চড়ে দাঁত ফেলে দেব, হারামজাদা।’
ফুপুর মেজাজ চড়ে যাচ্ছে। আমি মৌন থাকলাম। আপাতত তাকে রাগিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে না। ফুপাকে এইমাত্র রাগিয়ে দিয়ে এসেছি। এধার-ওধার দু’ধার রাগানো ঠিক হবে না।
‘তোকে দেখে মেজাজ আরও খারাপ হয়ে গেল।’
(মৌনতা)
‘তুই এত আজে-বাজে কথা বলিস কেন?’
(মৌনতা)
ফুপু একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘আমারই ঠিক হয়নি। শুধোশুধি মাথা গরম করেছি। আসলে বাদলের চিন্তায় মাথা নষ্টের জোগাড় হয়েছে।’
আমি নিরবতা ভেঙে সহানুভূতি ঢেলে বললাম, ‘সমস্যাটা কি?’
ফুপুর গলা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তোকে বলে শান্তি পাই। তোর ফুপাকে তো বলতেও পারছি না।
‘কি ঘটনা?’
ফুপু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বললেন, ‘বাদলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
আমি চেয়ার থেকে পড়ে যাবার মত একটা ভঙ্গি করে বলল, ‘বলো কি? সর্বনাশ।’
ফুপু কাঁদো-কাঁদো গলায় বললেন, ‘আমার কিছু ভাল লাগছে না, হিমু। আমি থাকতে পারছি না এভাবে।’
‘ফুপা কিছু জানে না কেন?’
‘ডাক্তার জানাতে নিষেধ করেছে? ধাক্কা সইতে পারবে না।’
‘ছেলে হারিয়ে যাবে, বাবা জানবে না? বাবা অফিসে বসে চা খাবে?’
‘বুঝতে পারছিস না ব্যাপারটা।’
‘বিস্তারিত বলো।’
‘যাবার আগে বাদল দু’তিনদিন পাগলামি করছিল। তোর ফুপা ওকে খুব করে ঝেড়েছে।’
‘উচিত কাজ করেছে। ছেলে ন্যাংটো হয়ে রাতের বেলা ছাদে বসে তারা গুনবে, বাবা কিছু বলবে না?’
‘সেরকম কিছু না।’
‘কাছাকাছি কিছু। তো বাবা কিছু বলবে না? সন্তান পাগল হয়ে যাবে, বাবা চেয়ে চেয়ে দেখবে?’
‘তোর ফুপাকে বলেছি, ও ওর বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গেছে। আসল ব্যাপার কিছু বলতেও পারছি না। বাদল রাগ করে চলে গেছে ব্যাপারটা সে নিতে পারবে না। হয়তো মদ ধরে বসবে। ডাক্তার বলেছে, কোন মদ্যপান না। মদ্যপান মানে স্ট্রেইট ডেথ।’
‘ফুপার অবস্থা তো তাহলে সুবিধার না।’
‘তোর ফুপার কথা বাদ দে।’
‘ঠিক আছে, বাদ দিলাম। কার কথা বলব?’
‘কার কথা বলবি মানে? তিনদিন ধরে আমার ছেলের খোঁজ নেই, তুই বলছিস কার কথা বলবি?’
‘ও, হ্যাঁ, বাদল। তিনদিন হয়েছে নাকি?’
‘আর কি? এই তিনদিন আমার গলা দিয়ে ভাত নামছে না। ওকে তুই খুঁজে বের করে এনে দে, হিমু।’
‘অবশ্যই খুঁজে বের করব। ভাবনার বিষয় আছে। শরবত দাও।’
‘দেই নি? দেখেছিস, কিছুই মাথায় থাকে না আমার।’
ফুপু ব্যস্ত ভঙ্গিতে উঠে শরবত নিয়ে আসলেন।
‘চিনি ঠিক হয়েছে?’
‘একদম ঠিক হয়েছে। বার্কলেস।’
‘বার্কলেস মানে কি?’
‘সাংকেতিক ব্যাপার।বুঝবে না।’
‘আমার বুঝা লাগবে না। তুই আমার বাদলকে খুঁজে বের কর।’
‘অবশ্যই খুঁজে বের করব। তুমি টেন্সড হয়ো না। সপ্ততল মৃত্তিকা, অতল জল, দুর্গম গুহা- সে যেখানেই থাকুক না কেন, হিমু পৌঁছে যাবে তার কাছে। তারপর কানটি ধরে তোমার কাছে ডেলিভারি করবে।’
‘কান ধরার কথা আসছে কেন?’
‘অবশ্যই কান ধরার কথা আসবে। প্যারেন্টসকে না জানিয়ে গেছে। তার খবর আছে। হি হ্যাস সাম নিউজ। ... পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে?’
‘হুঁ। তবে পুলিশ কিছু করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।’
‘আমারও তা মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশের পুলিশ কোন কাজের না। গোঁফ অপরাধীয়ে। ওদের দিয়ে কিছু হবে না।’
‘এখন কি হবে, হিমু?’
‘কি আর হবে? বাদল ফিরবে। বাদল আসবে ঘরে। আমি তো আছি।’
‘ভরসা দিচ্ছিস?’
‘অবশ্যই। এ নিয়ে তোমাকে কিছু ভাবতে হবে না। ভাববে হিমু।। হিমু যখন একবার কাজ হাতে নিয়েছে, সে কাজ করেই ছাড়বে।’
‘তোর কথায় জানে পানি পেলাম, হিমু।’
‘অবশ্যই পানি পাবে। বিশুদ্ধ পানি। যে পানির অপর নাম হাসপাতাল না, যে পানির অপর নাম জীবন। ঠিক আছে, আমি তাহলে কাজে নেমে পড়ি। স্ট্রেইট ইন অ্যাকশন। অপারেশন বাদলহান্ট।’
‘হ্যাঁ। আর শোন্, একটা মোবাইল সাথে রাখ্। যোগাযোগে সুবিধা হবে।’
‘বাতিল সেট না হলে আছি। আমি বাতিলের কারবার করি না।’
‘নতুন সেট আমি এনে রেখেছি।’
‘গুড।’
‘অগ্রযাত্রার রিপোর্ট ঠিকমত পেশ করবি।
‘জ্বি, জাঁহাপনা।’
‘ফাজলামো রাখ। আর তোর ফুপা যেন জানতে না পারে এসব।’
‘একটা কাকও টের পাবে না।’
‘কাক টের পেলে তো কোন অসুবিধা নেই। তোর ফুপা না জানলেই হল।’
‘জানবে না। দু’দিন সময় তুমি আমাকে দাও। আমি সেইফ এন্ড সাউন্ড ওকে খুঁজে বের করব।’
‘বলছিস?’
‘বলছি। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। গলা দিয়ে নামিয়ে ভাত খাও। খুঁজে বের করার দায়িত্ব আমার। না বের করতে পারলে নাম উল্টিয়ে রাখব। হিমু হবে মুহি।’
আমি নতুন মোবাইল সেট পকেটে নিয়ে বের হয়ে এলাম
হিমু, তুমি কোথায়?...বাকি পর্বগুলো এখানে ক্রম অনুসারে
(চলবে..............................................)
১৭ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ২:১৮
এম. এ. হায়দার বলেছেন: জ্বি, ঠিকই ধরেছেন। বর্ণনা কম হয়ে গেছে। বিশেষ করে এ পর্বে ডায়ালগ ছাড়া কিছু ছিল না।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১:৩৩
সোহানী বলেছেন: নাহ্ ঠিক জমেনি..... বেশি ডায়ালগ হয়ে গেছে মনে হয়....