নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কল্পনাই সুন্দর; কল্পনা ইজ ওয়ান্ডারফুল\nএকা থাকি, লিখি... লেখার মাঝে নিজেকে খুঁজি। শব্দের শহরে খালি পায়ে হেঁটে বেড়াই... দুনিয়াদারি ভাল লাগে না। ওয়ান্ডারফুল লাগে না। “কল্পনাই সুন্দর, বাস্তবের বেল নাই”- এইরকম একটা ভাব ধরার চেষ্টা করি। বই পড়া আর ল

এম. এ. হায়দার

এম. এ. হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

হিমু, তুমি কোথায়? (উপন্যাস) (পর্ব-৩)

২৪ শে জুন, ২০১৪ সকাল ১১:২৭

ফুপুর বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটছি। হাঁটতে হাঁটতে আকাশ দেখছি। কি সুন্দর নীল-সাদার মিশেল! সাদা অংশ একটু একটু সরছে, নীল অংশ স্থির। সাদা অংশ সরলে নীল অংশ বেরিয়ে আসছে। চমৎকার দৃশ্য।



আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ বলে উঠল, ‘আরে! হিমুভাই না?’

চোখ ফিরিয়ে দেখলাম, একজন অপরিচিত লোক দাঁড়িয়ে আছে। জিহ্বা লাল। মুখ থেকে জর্দার ঘ্রাণ আসছে। মিষ্টি মিষ্টি ঘ্রাণ।

মনে মনে ভাবছি, ব্যাটা তুই কে? দেখছিস না, আকাশ দেখছি? এর মাঝে কি? এ আসলে কে? ভাবে-সাবে মনে হচ্ছে আমাকে চেনে। সময় দিলে নিশ্চয়ই আমারও মনে পড়বে।

আমি হাসিমুখে বললাম, ‘তারপর? চলে কেমন?’

লোকটা দাঁত বের করে হাসল। পান খাওয়া দুই সারি দাঁত বেরিয়ে এল। এই হাসির ভঙ্গি আমার পরিচিত।

‘ভাইজান তাহলে আমারে চিনছেন?’

‘অবশ্যই চিনেছি। আপনার নাম আলাউদ্দিন। হাজত থেকে সেবার ছূটিয়ে নিয়ে আসলাম। উপকার করে তারপর ভুলে যাব? অন্যে উপকার করলে মানুষ তাকে ভুলে যায়, নিজে কাউকে উপকার করলে ভোলে না।... আছেন কেমন?’

‘এই, আল্লা রাখছে... তা হিমুভাই, এই গরমে কই যান?’

‘কোথাও যাই না। এমনি হেঁটে হেঁটে আকাশ দেখছি।’



আলাউদ্দিনের সাথে আমার পরিচয় সামান্য। একবার ধানমন্ডি থানায় আটকা পড়েছিলাম। তার সাথে একরাত কাটাতে হয়েছে। পরদিন ট্রিকস খাটিয়ে বের হয়ে এসেছি। সাথে উনাকে বের করে এনেছি। তার সাথে একরাত কথা বলে ভাল লেগেছে। এ পর্যন্তই। আমার সম্পর্কে তার ধারণা যথেষ্ট নয় বলেই সে বিস্মিত হল।

আব্বে হালায় কয় কি- টাইপের একটা লুক দিয়ে বলল, ‘গরমের মধ্যে রাস্তায় রাস্তায় আকাশ দেখতেছেন?’

‘খোলা প্রান্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলেই রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে দেখছি। আকাশ দেখার জন্য খোলা প্রান্তর সবচেয়ে ভাল। সবুজ ঘাসে গা এলিয়ে দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে থাকা... কিংবা পানিতে ভাসতে ভাসতেও দেখা যেতে পারে। চিৎ হয়ে ভেসে তাকিয়ে থাকতে হবে। শহরে তো সেই ব্যবস্থা নেই।’

আলাউদ্দিন কে ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত মনে হল না। সে এড়িয়ে গিয়ে বলল, ‘এই গরমে রাস্তায় রাস্তায় না হাঁইটা, চলেন, আমার বাসায় চলেন। গরীবের বাড়ি। চারডা ডালভাত খাবেন।’

আমি হাসলাম। বললাম, ‘জ্বি আচ্ছা, চলুন।’



গেলাম আলাউদ্দিনের গরীবের বাড়িতে। ছোট টিনের ঘর। তালা মেরে দেখে বললাম, ‘আপনি কি একাই থাকেন নাকি?’

‘জ্বি। আর কে থাকবে, ভাই? আমার তো কোন পরিজন নাই।’

‘বিয়ে তো করেছেন। করেন নি?’

‘করছিলাম। বেবাক জিনিসপত্র নিয়া আরেকজনের সাথে ভাগছে। দেশটা হইছে চোরের।’

‘দু:খজনক।’

‘বিবাদ কইরা গেলে একটা কথা ছিল। মনকে একটা প্ররোচনা দিতে পারতাম। ঝগড়াটি বউ ভাগছে। ঘটনা সেরকম ছিল না। মিল অত না থাকলেও মহব্বত ছিল। মহব্বতে লাথি মাইরা সে চইলা গেল। দুনিয়াটা, হিমুভাই, খুব নিষ্ঠুর।’

আমি সান্ত্বনা দেবার ভঙ্গিতে বললাম, ‘ পৃথিবী খারাপ জায়গা।’

‘অতীবো, হিমুভাই। অতীবো খারাপ জায়গা। শালার দুনিয়ায় নানান ফ্যাঁকড়া।’

তার কথা-বার্তা শুনে অবশ্য কোন ‘ফ্যাঁকড়া’ মনে হচ্ছে না। চোখের তারা সবসময় হাসছে। প্রফুল্ল হাসি-খুশি মানুষ। হাজতে এই ব্যাপারটা বোঝা যায় নি। হাজতে বদরাগীদের চেনা যায়, হাসি-খুশি মানুষদের চেনা যায় না।

আমি উৎসাহী ভঙ্গিতে বললাম, ‘রান্না-বান্না কি আপনি একাই করেন?’

‘জ্বি।’

‘কোন অসুবিধা হয় না?’

‘জ্বি না, অসুবিধা হয় না। আমার রান্নার হাত ভাল। খাইলে বুঝবেন।... আগে কি এককাপ চা দিব, হিমুভাই?’

‘অসময়ে চা দেবার দরকার নেই।’

‘দরকার না থাকলে নাই। সময় হইলে দিব। আমার ঘন ঘন চা খাওয়ার অভ্যাস। চা-পান এইসব জিনিসের প্রতি আমার একটা অ্যাটেনশন আছে। সিগারেটের প্রতি তেমন অ্যাটেনশন নাই। ধূমপান হৃদরোগের কারণ।’

‘জ্বি।’

আলাউদ্দিনের সাথে ডাল-ভাত খেলাম। চার পদ।

ডাল।

ঢ্যাঁড়শ ভাজি।

আলু, সিম, ঢ্যাঁড়শ দিয়ে রুই মাছের তরকারি।

আলু-সেদ্ধডিম একত্রে মিশিয়ে ভর্তা।

এত সাধারণ খাবার যে এত অসাধারণ হতে পারে তা জানা ছিল না। আমি বিষম খেয়ে কৃত্রিম প্রশংসা করার জন্য তৈরি ছিলাম। কৃত্রিম প্রশংসা করতে হল না। প্রশংসা অন্তর থেকে এল।

‘আলাউদ্দিন সাহেব, আপনার রান্নার হাত তো অসাধারণ।’

‘জ্বি। আপনার দোয়া।’

‘আপনার হাতের রান্না গুণগত মানসম্পন্ন। স্বাদে অতুলনীয়।’

জবাবে আলাউদ্দিন মৃদু হাসল।

আমি থামলাম না। একবার স্টার্ট করায় একসিলারেশন ধরে গেছে। একসিলারেটেড অবস্থায় থামা কঠিন।

‘আপনি ভাল বাবুর্চি হতে পারবেন। আপনার হাত ভাল। হাতের একটা ব্যাপার আছে। হাতের প্রশংসা করতেই হবে। এইরকম একটা হাতে হ্যান্ডকাফ লাগানো হল, একথা ভাবাই যায় না।’

আলাউদ্দিন আরেক দফা মৃদু হাসল।

‘টমি মিয়া তো আপনার কাছে নস্যি। টমি মিয়ার বদলে চ্যানেলে চ্যানেলে চালু হবে আলাউদ্দিন মিয়া। লোকজন টমি মিয়ার রেসিপি দেখবে না, দেখবে আলাউদ্দিন মিয়ার রেসিপি। অল্পবয়সী তরুণীরা খাতা হাতে আপনার রেসিপি নোট নেবে।’

‘ভাইসাহেব, আপনি সুন্দর কথা বলেন।’

এবার আমি মৃদু হাসলাম।

আলাউদ্দিন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল ‘কিন্তু ভাই, এই দুনিয়ায় সুন্দর কথার কোন দাম নাই। সুন্দর কথা বললেই রোলারের ডলা। যে বাড়ির আমি গার্ড, সেই বাড়িতে ডাকাতির নামে আমারে গ্রেপ্তার করল। অভিযোগ ডাকাতদলের সাথে যোগসাজশ ছিল। এইটা কোন কথা বলেন?’

আমি হা-হুতাশ শোনার প্রস্তুতি নিলাম। মাথা নেড়ে বললাম, ‘জ্বি না।’

‘আমি বললাম, আমার কাজ বাড়ি পাহারা দেওয়া। বাড়িতে চোর-ডাকাত ঢুকানো আমার কাজ না। আমার দায়িত্ব আমি সাধ্যমত পালন করার চেষ্টা করছি। সুন্দর কথা বলছি কিনা, হিমুভাই?

‘জ্বি।’

‘সুন্দর কথার বিনিময়ে আমি পাইলাম রোলারের ডলা। আমার জিহ্বা মুখ দিয়া বাইর হয়ে আসছিল। বাধ্য হইয়া বললাম, ডাকাতিতে আমার ভূমিকা আছে। টাকার অংশ আমার পাওয়ার কথা। তখন তো আর হিমুভাই উপায় ছিল না।’

আমি সায় জানালাম, ‘জ্বি, বুঝতে পারছি।’

‘আবার বউয়ের কথা ধরেন, কত মহব্বত ছিল। কোন লাভ হইল? সে আমারে দিলটা কি? আমার সবকিছু নিয়া ভাইগা গেল।

‘দু:খজনক।’

আলাউদ্দিন থামল না। তার দু:খের কথা বলার লোক নেই। মানুষের মন তার দু:খ অন্যকে বলতে চায়। দু:খ-কষ্ট লুকিয়ে রাখা মানে মনের বিরুদ্ধে যাওয়া। যে সবার কাছ থেকে কষ্ট লুকিয়ে রাখে বিশেষ বিশেষ সময়ে সেও বাধ্য হয় নিকটজনের কাছে তা সরাসরি বা ইঙ্গিতে প্রকাশ করতে।

আলাউদ্দিন দিলখোলা মানুষ। দেখানো দিলখোলা না। ভেতর থেকে দিলখোলা। সে তার দিল খুলে দিচ্ছে। আমার তাকে থামানো উচিত না।

‘ভাই, বুঝলেন, বউয়ের নাম ছিল মর্জিনা।’

‘তাই নাকি?’

‘জ্বি। মাঝে রিকশা চালাইতাম। সারাদিন রিকশা চালায় রাতে পিরীতের কথা বলতাম।’

‘ভাল তো।’

‘জ্বি, ভাই, ভাল। কিন্তু ভাল কথার আর কি দাম আছে?

আলাউদ্দিন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। ‘ভাল কথার কোন দাম নাই।... তারে নিয়া দুই লাইন গানও বানছিলাম।...



ও মর্জিনা

তোরে ছাড়া প্রাণে বাঁচবাম না...’



‘গভীর। আপনার এ দিকটার কথা জানা ছিল না।’

‘মাঝে মাঝে নিজের মনে এই দুই লাইন গুনগুন করতাম। সে এর অর্থ বুঝল?’

‘বাদ দেন। সবাই সবকিছুর অর্থ বুঝে না।’

আলাউদ্দিন বাদ দিল না। সে বলতে থাকল, ‘মাঝে মাঝে তার কথা মনে পড়ে খারাপ লাগে। পিরীতের কষ্ট বড় কষ্ট।’

আমি তাকে অনুভব করলাম। সহানুভূতি দিয়ে বললাম, ‘প্রাণে তো আর মরে যান নি। আপনার ভাল কিছু করার সুযোগ আছে। ধৈর্য ধরুন।’

‘আর সুযোগ। বেকার মানুষ। কাজ-কারবার নাই। ধার-দেনার উপর আছি।’

‘ধার-দেনা করা লাগবে না। ব্যবস্থা হবে। আপনার কাজ ধৈর্য ধরা।’



আমার কণ্ঠস্বরে এমন কিছু একটা ছিল আলাউদ্দিনের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।



***



হাতের কাছে প্যাঁচ লাগানোর যন্ত্র থাকলে প্যাঁচ লাগাতে মন চায়। আমি মোবাইল টিপে-টুপে ফুপাকে ফোন করলাম।

ফোন ধরল ফুপার পি.এস.।

‘হ্যাঁলো, কে বলছেন?’

‘আমি হিমু। আপনি কে?’

‘বুঝেছি। আমি আপনার ফুপার সেক্রেটারি।’

‘তারপর, কেমন আছেন? বাড়ির সবাই ভাল?’

‘জ্বি।’

‘সবকিছু তো ঠিকই আছে, তাই না?’

‘জ্বি, সবকিছু ঠিকই আছে।’

‘তাহলে ফুপাকে দিন। নাকি আমার সাথে আপনার কোন জরুরী আলাপ আছে?’

‘ইয়ে... একটু পরে দিলে হয় না?’

‘কেন? কোন অসুবিধা?’

‘ইয়ে মানে... তিনি একটু ব্যস্ত এখন।’

আমি গলার স্বরে কাঠিন্য ঢেলে বললাম (কাঠিন্য তো কঠিন। কাঠিন্য ঢালে কিভাবে?) ‘মূল ঘটনা বলুন। আমার সাথে ত্যানা পেঁচাবেন না। আমি হলাম হিমু। এইচ ডাবল ই এম ইউ।’

কাজ হল। পি.এস. সাহেব সামান্য ইতস্তত করে বললেন, ‘জ্বি... তিনি হালকা ড্রিংকস করছেন।’

‘বলেন কি!’, এবার আমি চমক ঢাললাম। যদিও ফুপা ও মদ সংক্রান- কোন ব্যাপারে আমার চমকাবার কথা না। ‘অফিসে ড্রিংকসের আসর?’

‘ইয়ে... আসর নয়, ঠিক। বাসায় নিষিদ্ধ তো, এজন্য এই ব্যবস্থা।’

‘তাই বলে আর কোন জায়গা নেই? অফিস ভাসিয়ে দিচ্ছেন?’

‘পরিমিত পরিমাণে চলছে। ভাসাভাসি স্টেজে গেলে তো জানাজানি হয়ে যাবে। বিষয়টা আমি ট্যাকল করছি।’

‘আপনি তো ভাল লোক দেখা যাচ্ছে!’

‘হে হে... জ্বি, ধন্যবাদ।’

‘কিন্তু এটা কি ঠিক হচ্ছে? আমি শুনেছি, ফুপার কন্ডিশন নাকি ভাল না? মদ্যপান মানেই স্ট্রেইট ডেথ?’

‘ওসব বাজে কথা। ডাক্তার সুবিধামত বলেছে। মদ্যপান এক দিক থেকে স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।’

‘তাই নাকি?’

‘জ্বি।’

‘ইন্টারেস্টিং তো।’

‘অবশ্যই ইন্টারেস্টিং। যারা নিয়মিত মদ খায় তাদের হার্টে প্রবলেম কম হয়। সহজে চমকায় না। হার্ট অ্যাটাক কম হয়।’

‘ভাল তো।’

‘জ্বি।’

‘হার্ট অ্যাটাকের ভয় কম বলছেন?’

‘জ্বি।’

‘একটা খারাপ সংবাদ আছে, তাহলে তো সেটা এখনই দেওয়া দরকার।’

‘এখনই?’

‘জ্বি। জরুরী খারাপ সংবাদ।’

পি.এস সাহেব বললেন, ‘আচ্ছা, একটু হোল্ড করুন।’

আমি হোল্ড করলাম। আমরা সবাই হোল্ড করেই আছি। হোল্ড ছেড়ে দেওয়ার সিস্টেম নেই। জীবনে যত যাই আসুক, আমাদের কাজ হোল্ড করে থাকা।

কয়েক সেকেন্ড হোল্ড করে থাকার পর ফুপার জড়ানো কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ‘এই, হিমু?’

‘জ্বি।’

‘মাই সান। ফোন করেছো কেন?’

‘আমি তো আপনার সান না।’

‘তুমি আমার সান এর বয়সী। এখানে তো কোন আর্গুমেন্ট নেই?’

‘জ্বি না।’

‘এবার বলো। কি বিষয়ে ফোন করেছো? শর্টকাটে বলবে। আমি বেশি সেনটেন্স নিতে পারছি না।’

‘একটা কুখবর দিতে ফোন করেছি। আপনার সান এর বিষয়ে।’

‘কুখবর?...’ ফুপার জড়ানো কণ্ঠস্বর। তিনি মনে হয় তার লিমিটের কাছাকাছি এসে পড়েছেন।

‘জ্বি, মানে খারাপ খবর।’

‘তুমি না হয় অফিসে চলে এসো। টুমরো এনিটাইম। আমি বুঝতে পারছি না তোমার কথা। ওয়ার্ডস মাথায় যাচ্ছে না।’

‘একটু জরুরী ছিল।’

‘আচ্ছা, ভেঙে ভেঙে বলো। স্লো মোশনে বলবে। যাতে ব্রেইনে ক্যাচ করতে সুবিধা হয়।’

‘জ্বি। গেছে।’

‘কি গেছে?

‘হারিয়ে গেছে।’

‘কে হারিয়ে গেছে?’

‘বাদল।’

‘ইয়েস, দ্যাস রাইট। বাদল। কি হয়েছে ওর?’

‘হারিয়ে গেছে।’

ফুপা কিছু বুঝতে পারলেন না। জড়িত গলায় বললেন, ‘বাদল ইজ আ গুড বয়। হট সে?’

আমি কিছু ‘সে’ না করে ফোন রেখে দিলাম।



***



হ্যাঁ, বাদল গুড বয়। বাদল ভাল বালক। আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি। সে পাউরুটি খাচ্ছে। তাকে খুব ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে। আমি বললাম, ‘এই বুদ্ধু, কেমন আছিস?’

বাদল জবাব দিল না। তার এদিকে তাল নেই। সে ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে ঢকঢক করে পানি খেতে লাগল।

আমি বললাম, ‘বাবা-মার উপর রাগ করেছিস?’

সে জবাবে ‘পুচুত’ করে পানি ছিটাল। তারপর আরও দুই ঢোক পানি খেয়ে ব্যস- হয়ে বোতল ব্যাগে ঢোকাতে লাগল।

‘তোর জন্য একটা ভাল খবর আছে। তোর বাবা তোকে গুডবয় বলেছে।





হিমু, তুমি কোথায়?...বাকি পর্বগুলো এখানে ক্রম অনুসারে



(চলবে......................................)

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:২১

মেঘের পরশ বলেছেন: লেখার জন্য ধন্যবাদ। মনে হচ্ছে লেখার মধ্যে হিমু হিমু অথবা হুমায়ুন হুমায়ুন ভাবটা ঠিকমতো আসেনি।

২৪ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:২৬

এম. এ. হায়দার বলেছেন: আরো লেখব... ভাব আমি আনব।

২| ২৪ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৯

এম এম কামাল ৭৭ বলেছেন: মিল অত না থাকলেও মহব্বত ছিল। মহব্বতে লাথি মাইরা সে চইলা গেল। দুনিয়াটা, হিমুভাই, খুব নিষ্ঠুর।’ আসলেই তাই।

২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৩০

এম. এ. হায়দার বলেছেন: ডাইরেক্ট মনের কথা...

৩| ২৫ শে জুন, ২০১৪ সকাল ৮:৩৬

আমি দিহান বলেছেন: নিরন্তর শুভকামনা রইলো

২৫ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৬

এম. এ. হায়দার বলেছেন: আমি দিহান, আপনাকে ধন্যবাদ :)

৪| ২৫ শে জুন, ২০১৪ সকাল ৮:৫৭

সাদনূর সালেহীন স্বপ্নীল বলেছেন: এই কাজটা ঠিক কতটা যুক্তিযুক্ত বলুন তো? একজন লেখকের তৈরি চরিত্রকে আপনার বিশ্লেষন করার অধিকার আছে,কিন্তু সেই চরিত্র দিয়ে নতুন উপন্যাস লেখার অধিকার সম্ভবত নাই।

২৫ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০১

এম. এ. হায়দার বলেছেন: এই কাজটা আবেগযুক্ত এবং নির্মল আনন্দের জন্য... সেই অর্থে যুক্তিযুক্ততা বিচারের স্তর বা পর্যায় এটা নয়।

৫| ২৮ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৭

মুনতাসির নাসিফ (দ্যা অ্যানোনিমাস) বলেছেন: আপনার লেখার আর্ট ভালো লাগলো...
একটা ছোটগল্প পড়লাম মাত্রই ...
এটা এখনো পুড়োটা পড়িনি, তবে চেখে দেখে বলছি...
ভালোকথা দু একটা ছবি যোগ করে দিলে মন্দ হয় না কিন্তু, উপস্থাপনা পূর্ণ হয়ে ওঠে ...
এমনিতেও সুন্দর যখন লেখা...
শুভকামনা রইলো...

২৮ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৯

এম. এ. হায়দার বলেছেন: সারাজীবন বই পড়েছি তো। ব্লগ নতুন লিখছি। ছবির ব্যাপারটা কখনো সেভাবে চিন্তা করি নি।
এ নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

রম্য ভাল লাগলে একসময় সময় করে পড়তে পারেন... এই লেখাটা বেশ কিছুদিন যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.