নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কল্পনাই সুন্দর; কল্পনা ইজ ওয়ান্ডারফুল\nএকা থাকি, লিখি... লেখার মাঝে নিজেকে খুঁজি। শব্দের শহরে খালি পায়ে হেঁটে বেড়াই... দুনিয়াদারি ভাল লাগে না। ওয়ান্ডারফুল লাগে না। “কল্পনাই সুন্দর, বাস্তবের বেল নাই”- এইরকম একটা ভাব ধরার চেষ্টা করি। বই পড়া আর ল

এম. এ. হায়দার

এম. এ. হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

সেদিন শ্রাবণ মাস (উপন্যাস) (পর্ব-৩)

১০ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:০১

পান্থ ব্যস্ত ভঙ্গিতে হাঁটাহাঁটি করছে।



সামনে নানান কাজ পড়ে আছে। এক নাম্বার কাজ হল আরিফকে ফোন করতে হবে। আরিফ তার মামাতো ভাই। তার আজকে আসার কথা। কোন পর্যন্ত আসল আদৌ আসছে কিনা তা জানতে হবে। ছেলেটার সাথে তার খুব বেশি দেখা হয় না।



শেষবার যখন দেখেছিল তাও পাঁচ-ছ’ মাস আগের কথা। পাঁচ-ছ’ মাস খুব কম সময় না। এই সময়ে আলো অনেক দূরত্ব অতিক্রম করেছে।

আলোর গতি হল গিয়ে সেকেন্ডে তিন লক্ষ মাইল। না, মাইল না, কিলোমিটার। মানে এক সেকেন্ডে যায় তিন লাখ কিলোমিটার। ছয় মাসে কত?

ক্যালকুলেটর থাকলে বের করা যেত। হাতের কাছে কোন ক্যালকুলেটর নেই। শুধু যে হাতের কাছে নেই তা না, সারা বাড়িতে একটা ক্যালকুলেটর আছে কিনা কে জানে! জান্নাতের কাছে থাকতে পারে। ওকে কাছাকাছি পেলে জিজ্ঞেস করতে হবে।



সে মনে মনে কিছুটা বিরক্ত হল। গ্রামদেশে এই এক সমস্যা। সবুজ আছে, ডালপালা আছে- জ্ঞান-বিজ্ঞানের খবর নেই। দু:খ।

মনে মনে অংকটা করার চেষ্টা করলে কেমন হয়?

এক সেকেন্ডে যায় তিন লাখ কিলোমিটার।

এক মিনিটে যায় একশো আশি লাখ দ্যাট মিনস্ এক কোটি আশি লাখ কিলোমিটার।

এক ঘন্টায় যায় একশো আশি গুণ ষাট....

নাহ্। মাথা জ্বালা করে। থাক।



ছোটবেলায় সে এ ধরনের অংক চোখের নিমেষে করতে পারত। এখন সেই বয়স নেই!

আরিফ নিশ্চয়ই বের করতে পারবে মুখে মুখে - ছয় মাসে কতদূর যায় আলো। ছেলেটা অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট। ব্রিলিয়্যান্ট টু দা পাওয়ার টেন। যাক, আরিফ আসছে ভালই হল। গ্রাম-গঞ্জে আশেপাশে সব মফিজ ক্যারেক্টারের লোক। ইন্টেলেকচুয়াল লোকের খুব অভাব। আরিফ আসলে একজন ইনটেলিজেন্ট কথা বলার মানুষ পাওয়া যাবে।



পান্থ জিন্সের প্যান্ট থেকে মোবাইল বের করল। আরিফকে একটা ফোন করা দরকার। সে কোথায় আছে জানতে হবে।



ওপাশ থেকে ফোন ধরা হল, ‘হ্যালো, পান্থ ভাইয়া। ভাল আছেন?’

‘আছি তো মোটামুটি। দৌড়ের উপর আছি। নানান কাজ করতে হয়। আমি ছাড়া আর একটা লোকও নেই ঠিক-ঠাকমত একটা কাজ করতে পারে। সবকিছু আরকি আমাকেই দেখতে হয়।... তুমি ভাল আছো তো?’

‘তুমি কোথায় এখন? কতক্ষণ লাগবে আসতে?’

‘কাছাকাছি এসে পড়েছি আর পনেরো-বিশ মিনিট লাগবে হয়ত।’

‘ভুয়াপুর নেমে একটু ওয়েট করতে পারবে? আমি আসব কিনা চিন্তা করছি।’

‘আপনি আসবেন কেন?’

‘একটু কাজ ছিল। আসতে সময় লাগবে না। বিশ মিনিট। তুমি আসতে আসতে এসে যাব।’

‘বিশ মিনিটে চলে আসবেন। আপনি এখন কই?’

‘আমি বাড়িতেই... বাড়ির সামনে।’

‘এত তাড়াতাড়ি আসবেন কিভাবে? রোলার-কোস্টারে করে আসবেন নাকি?’

পান্থ হেসে ফেলল। ‘অনেকটা ঐরকমই। সাইকেলে আসব। আমি কত স্পিডে সাইকেল চালাতে পারি কল্পনাও করতে পারবে না।’

‘ঠিক আছে। আমি বাসস্ট্যান্ডে নেমে অপেক্ষা করব।’

‘ওকে। ওকে বাই।’

পান্থ লাইনটা কেটে দিল।



***



জানালা দিয়ে তাকিয়েই জান্নাত পান্থকে দেখতে পেল। তিনি মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছেন! এই তো তিনি হাসছেন! ওপাশ থেকে কেউ নিশ্চয়ই কোন মজার কথা বলেছে।



কার সাথে কথা বলছেন তিনি? তার কোন বন্ধু? নিশ্চয়ই কোন বন্ধুর সাথে কথা বলছেন। বন্ধু না মেয়েবন্ধু? তার কি কোন মেয়েবন্ধু আছে?

থাকতেই পারে।

হঠাৎ তার রাগ লাগল।

না।

কেন থাকবে!



জান্নাত আয়নার দিকে একনজর তাকিয়ে চুল ঠিকঠাক করে নিল। তারপর বাইরে বেরোল।



পান্থ জান্নাতকে দেখে খুশি-খুশি গলায় বলল, ‘যাক্, তোমার সাথে দেখা হয়ে ভালই হল। তোমার সাথে একটা কথা ছিল’

জান্নাত জানতে চাইল, ‘কি কথা?’

সে মনে মনে কিছুটা অবাক হল। পান্থ ভাইয়ার তার সাথে কি কথা থাকতে পারে!

‘তোমার কাছে ক্যালকুলেটর আছে? নরমাল হলেও চলবে।’

জান্নাত মনে মনে বিস্মিত হল এবং কিছুটা হতাশ হল। এত কিছু থাকতে হঠাৎ ক্যালকুলেটরের কথা কোথা থেকে আসল!

সে মৃদু গলায় বলল, ‘আছে।’

‘আমাকে একটু দিতে পারবে?’

‘কেন পারব না? এখনই লাগবে?’

‘হ্যাঁ, এখনই লাগবে। তাড়াতাড়ি করে একটু এনে দাও। এক জায়গায় যেতে হবে।’

জান্নাত মৃদু গলায় বলল, ‘আনছি।’



শাহানা শুয়ে ছিল। তার প্রচন্ড মাথাব্যথা করছে। এরকম তার প্রায়ই হয়। হঠাৎ করে ব্যথাটা শুরু হয়। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে অসহ্য মনে হয়। তখন একসময় আপনাআপনি ব্যথাটা চলে যায়।



জান্নাত হঠাৎ করেই কেন যেন ব্যাগের চেইন টানাটানি করছে। চেইন টানার সামান্য শব্দটাও অসহ্য মনে হচ্ছে।

শাহানা বিরক্ত গলায় বলল, ‘কি খুঁজিস?’

‘ক্যালকুলেটর।’

‘ক্যালকুলেটর দিয়ে এখন কি করবি?’

‘একটু দরকার ছিল।’

‘কি দরকার?’

‘আপু, তুই বড্ড জ্বালাতন করিস। একটু খুঁজে দে না।’

‘পারব না। আমার মাথাব্যথা করছে।’

‘প্লিইইজ, আপু।’



শাহানা কোনকিছু না বলে অন্যপাশে ঘরে শুয়ে রইল।

জান্নাত তাড়াতাড়ি করে খুঁজছে। পাচ্ছে না। এখন তার মনে কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে ক্যালকুলেটরটা আদৌ নিয়ে এসছে কিনা।... না, না, মনে আছে, সে নিজে ব্যাগে তুলেছে। বাবা তুলতে বলেছিল। এখন গেল কোথায়?

তার খারাপ লাগছে। পান্থ ভাইয়া একটা জিনিস চাইলেন, তার কাছে আছেও অথচ সে দিতে পারছে না।



পান্থ ঠিক বাইরেই ছিল। জান্নাত ফিরে এসে লজ্জিত গলায় বলল, ‘ক্যালকুলেটরটা... খুঁজে পাচ্ছি না।’

‘নো ম্যাটার। জরুরী কোন দরকার ছিল না। এখন না হলেও চলবে।’

‘সরি।’

‘সরি বলছো কোন হিসাবে? সরি তুলে নাও।’

জান্নাত কিছু বলল না।

পান্থ খুশি-খুশি গলায় বলল, ‘ইন্টারেস্টিং একটা নিউজ আছে। আরিফকে চেনো তো? ঢাকা থেকে আসছে আজই। ওকে এগিয়ে আনতে যাচ্ছি। ও এলে দারুণ মজা হবে, কি বলো?’

আরিফ ভাইয়া এলে ঠিক কি কারণে দারুণ মজা হবে তা সে বুঝতে পারল না। সে বলল, ‘আপনি কি তাকে এগিয়ে আনতে যাচ্ছেন? এখনই যাবেন?’

‘এগিয়ে আনতে যাচ্ছি কথাটা ভুল। এমন না যে ওকে পথ চিনিয়ে আনতে হবে। যাচ্ছি কিছু কাজে। অবশ্য পরে গেলেও হয়।’

‘জরুরী কিছু?’

‘না। এমনি টুকটাক হাবি-জাবি।’

জান্নাত হঠাৎ বলে বসল, ‘তাহলে নাহয় না গেলেন।’ বলেই তার মনে হল কথাটা বলা উচিত হয় নি। কেন বলল সে?

পান্থ খুশি-খুশি গলায় বলল, ‘একটা চক্কর মেরে আসি।’ বলেই সে সাইকেলটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।



জান্নাত মন খারাপ করে ঘরে ঢুকল আর সাথে সাথে টেবিলে রাখা ক্যালকুলেটরটা চোখে পড়ল। কি আশ্চর্য! সে এত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করল অথচ চোখের সামনে টেবিলেই ছিল!

পান্থ ভাইয়া কি চলে গেছেন? সে ক্যালকুলেটরটা নিয়ে তাড়াতাড়ি বের হতে গিয়ে ধাক্কা লাগিয়ে পানির জগটা ফেলে দিল।

বেশ কিছুটা পানি মাটিতে পড়ল।

বিরক্ত হল সে। পথের মধ্যে পানির জগটা আবার কে রাখল?



জান্নাত বাইরে এসেই দেখে পান্থ ঠিক আগের জায়গাই দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাকে দেখে সে হাসিমুখে বলল, ‘হাতে ওটা কি?’

‘ক্যালকুলেটর।’

‘হা হা। লাগবে না এখন আর। এইমাত্র মোবাইল দিয়ে করলাম। মোবাইলের ব্যাপারটা মাথায় ছিল না। রোদে রোদে ঘুরে ব্রেইন উড়ে যাচ্ছে দিন দিন।’

জান্নাত কিছু বলল না।

পান্থ বলল, ‘ইন্টারেস্টিং একটা অংক। তোমাকে পরে বলব।’

‘আপনি যাচ্ছেন না ভুয়াপুর?’

‘ও, না। আরিফকে ফোন করে চলে আসতে বলে দেই দাঁড়াও। জরুরী কোন কাজ নেই। ভুয়াপুরে গিয়ে ভুয়া কাজে সময় নষ্ট।’

জান্নাত কিছু বলল না।

পান্থ খুশি গলায় বলল, ‘তাছাড়া তুমি যখন বললে নাহয় না গেলেন তারপর থেকে আর যেতে ইচ্ছা করছে না। হা হা হা।’





***





আরিফ দৌলতপুর পোঁছাতে পোঁছাতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে। জার্নির কারণে সে কিছুটা ক্লান্তি বোধ করছে।



সে যথেষ্ট তাড়াতাড়ি করে সবার সাথে কুশল বিনিময় করল। গ্রামাঞ্চলে মানুষ সাধারণত রাতের খাবার তাড়াতাড়ি সেরে ফেলে। অন্য সময় হলে আরিফ দেরি করত কিন্তু তাকে তার ছোটকাকী ডাকার সাথে সাথেই সে বসে পড়ল।



তার ছোটকাকা আর ছোটকাকী এখানেই থাকেন। দাদীর দেখাশোনা করেন। দাদী ইদানীং বেশিরভাগ সময়ই অসুস্থ থাকেন। কখন কি হয়ে যায় ঠিক নেই। আরিফ একটু আগেই তাঁর সাথে দেখা করেছে, তখন অবশ্য তাঁকে অসুস্থ মনে হয় নি।



আরিফকে দেখেই তিনি বলেছেন, ‘কে? আমগো আরিফ না?’



‘জ্বি, দাদীজান। কেমন আছেন আপনি?’



‘আছি আর কি কোন রকম। ডাকের অপেক্ষায় আছি।’

‘ওষুধপত্র ঠিকঠাকমত খান তো?’



‘আইনা দেয়, খাই। এসব খেয়ে তো কোন লাভ নাই।’



পাশ থেকে আরিফের ছোটকাকা কথা বলে উঠলেন। তার নাম মুজতবা। বিশালদেহী শরীর। দেখলে ভয় লাগে এরকম। অল্প কথাকে রং চড়িয়ে বলা এই লোকের একটি বদভ্যাস।

মুজতবা বললেন, ‘খাইতে চায় না। খালি উজানি করে।’



আরিফ তখন বলেছে, ‘ওষুধ ঠিক-ঠাকমত খাবেন। ওষুধ না খেলে তো অসুবিধা হবে।’





তিনজন এক লাইনে খেতে বসেছে।

আরিফ, পান্থ আর মুজতবা।



ছোটকাকী এটা-ওটা তুলে দিচ্ছেন।



আরিফকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘এইটা হল চিতল মাছ, দেই?’







(চলবে...............................................................)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.