| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি
জাহান্নামীদের খাদ্য-পানীয় এবং পোষাক-পরিচ্ছদ
জাহান্নামীদের খাদ্য হবে যাক্কুম এবং কাঁটাযুক্ত এক প্রকার গাছ। আর পানীয় হবে রক্ত-পুঁজ মিশ্রিত গরম দূর্গন্ধময় পানি। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, ‘তাদের জন্য খাদ্য থাকবে না কাঁটাযুক্ত ফল ব্যতীত, যা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তি করবে না’{সূরা গাশিয়া: ৬-৭}।
আয়াতে বর্ণিত (দ্বারী'ইল্) হচ্ছে এক প্রকার কাঁটাযুক্ত গাছ, যা হিজায-এ পাওয়া যায়।
উল্লেখিত খাদ্য যা জাহান্নামীগণ ভক্ষণ করবে। কিন্তু এতে তারা কোন স্বাদ অনুভব করবে না এবং শারীরিক কোন উপকারে আসবে না। অতএব, এই খাদ্য তাদেরকে শাস্তি স্বরূপ প্রদান করা হবে।
জাহান্নামীদের খাদ্য হিসাবে নির্ধারিত যাক্কুম সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যাক্কূম বৃক্ষ হবে পাপীদের খাদ্য, গলিত তামার মত তাদের উদরে ফুটতে থাকবে ফুটন্ত পানির মত’ {সূরা দুখান: ৪৩-৪৬}।
আর যাক্কুম-এর আকৃতি উল্লেখ করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আপ্যায়নের জন্য কি ইহাই শ্রেয় না যাক্কুম বৃক্ষ? যালিমদের জন্য আমি ইহা সৃষ্টি করেছি পরীক্ষাস্বরূপ, এই বৃক্ষ উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ হতে, ইহার মোচা যেন শয়তানের মাথা, তারা ইহা হতে ভক্ষণ করবে এবং উদর পূর্ণ করবে ইহা দ্বারা। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। আর তাদের গন্তব্য হবে অবশ্যই প্রজ্জ্বলিত অগ্নির দিকে’ {সূরা ছাফফাত: ৬২-৬৮}।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘অতঃপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা! তোমরা অবশ্যই আহার করবে যাক্কুম বৃক্ষ হতে এবং উহা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করবে, পরে তোমরা পান করবে উহার উপর গরম পানি, আর পান করবে পিপাষিত উটের ন্যায়। ক্বিয়ামতের দিন ইহাই হবে তাদের আপ্যায়ন {সূরা ওয়াকিয়াহ: ৫১-৫৬}।
উল্লেখিত আয়াত সমূহ থেকে বুঝা যায় যে, যাক্কুম বৃক্ষ যা আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদের খাদ্য হিসাবে নির্ধারণ করেছেন তা অতীব নিকৃষ্ট, যা উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ হতে। আর উহার ফল দেখতে কুৎসিত যা আল্লাহ তা‘আলা শয়তানের মাথা স্বদৃশ বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদেরকে প্রচন্ড ক্ষুধা প্রদান করবেন, আর এই ক্ষুধার্থ জাহান্নামীদের খাদ্য হিসাবে কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ যাক্কুম প্রদান করবেন। প্রচন্ড ক্ষুধার যন্ত্রণায় যখন তারা এই যাক্কুম বৃক্ষ খাওয়ার চেষ্টা করবে তখন তাদের গলায় এমনভাবে আটকিয়ে যাবে যা নিচেও নামবে না বের হয়েও আসবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার নিকট আছে শৃংখল ও প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকিয়ে যায় এবং মর্মন্তুদ শাস্তি’ {সূরা মুযযাম্মিল: ১২-১৩}।
এমতাবস্থায় জাহান্নামীরা আল্লাহর নিকটে পানি পানের আবেদন করবে। পান করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এমন গরম পানি দান করবেন, যা জাহান্নামীরা পিপাসিত উটের ন্যায় পান করবে। অতঃপর তাদের নাড়িভুঁড়ি এমনভাবে ফুটতে থাকবে যেমনভাবে গরম তেল ফুটতে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এবং যাদেরকে (জাহান্নামী) পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিবে’ {সূরা মুহাম্মাদ: ১৫}।
অর্থাৎ যখন তারা তাদের জন্য নির্ধারিত ফুটন্ত পানি পান করবে তখন তাদের পেটের ভেতরের সবকিছুই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে বের হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমীন!
আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদের পানীয় হিসাবে নির্ধারণ করেছেন জাহান্নামীদের শরীর হতে গড়িয়ে পড়া রক্ত পুঁজ মিশ্রিত গরম তরল পদার্থ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘অতএব এই দিন সেথায় তার কোন সহৃদ থাকবে না এবং কোন খাদ্য থাকবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত, যা অপরাধী ব্যতীত কেহ খাবে না’ {সূরা হাক্কাহ: ৩৫-৩৭}।
তিনি আরো বলেন, ‘ইহা সীমালংঘনকারীদের জন্য। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ। আরও আছে এইরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি’ {সূরা ছাদ: ৫৭-৫৮}।
আয়াতে বর্ণিত ফুটন্ত পানি ও পুঁজ অর্থ হলো, জাহান্নামীদের শরীর হতে গড়িয়ে পড়া রক্ত পুঁজ মিশ্রিত গরম তরল পদার্থ। অথবা বলা হয়ে থাকে যেনাকারী মহিলাদের লজ্জাস্থান হতে দুর্গন্ধযুক্ত যা বের হয় তা।
জাহান্নামীদের পানীয় হিসাবে আল্লাহ তা‘আলা আরো নির্ধারণ করেছেন গরম পানি। তিনি ইরশাদ করেন: ‘এবং যাদেরকে (জাহান্নামী) পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিবে’ {সূরা মুহাম্মাদ: ১৫}।
তিনি অন্যত্র বলেন, ‘তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে, ইহা নিকৃষ্ট পানীয় ও অগ্নি কত নিকৃষ্ট আশ্রয়’ {সূরা কাহফ: ২৯}।
তিনি অন্যত্র বলেন, ‘তাদের প্রত্যেকের জন্য পরিণামে জাহান্নাম রয়েছে এবং প্রত্যেককে পান করানো হবে গলিত পুঁজ, যা সে অতি কষ্টে গলাধঃকরণ করবে এবং উহা গলাধঃকরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সর্বদিক হতে তার নিকট আসবে মৃত্যু যন্ত্রণা কিন্তু তার মৃত্যু ঘটবে না এবং সে কঠোর শাস্তি ভোগ করতেই থাকবে’ {সূরা ইবরাহীম: ১৬-১৭}।
অতএব, উল্লেখিত আয়াত সমূহ থেকে প্রতীয়মাণ হয় যে, জাহান্নামীদের পানীয় হিসাবে আল্লাহ তা‘আলা চার প্রকারের বস্তু নির্ধারণ করেছেন। যেমন:
১- গরম পানি যার উত্তপ্ততা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার পরে অধিক গরম করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটাছুটি করবে। {সূরা আর-রাহমান: ৪৪} তিনি আরো বলেন, তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে। {সূরা গাশিয়াহ: ৫} আয়াতে তাপের শেষ পর্যায়কে বুঝানো হয়েছে যার পরে অধিক গরম করা সম্ভব নয়।
২- জাহান্নামীদের শরীর হতে গড়িয়ে পড়া রক্ত পুঁজ মিশ্রিত গরম তরল পদার্থ। অথবা বলা হয়ে থাকে যেনাকারী মহিলাদের লজ্জাস্থান হতে দুর্গন্ধযুক্ত যা বের হয় তা।
৩- জাহান্নামীদের গোশত এবং চামড়া নিঃসৃত পুঁজ।
৪- গলিত তামা।
আর পোষাক হিসাবে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদের জন্য আগুনের তৈরী পোষাক নির্ধারণ করেছেন। যেমন- তিনি বলেছেন, ‘যারা কুফরী করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোষাক, আর তাদের মাথার উপর ঢালা হবে ফুটন্ত পানি’ {সূরা হাজ্জ: ১৯}।
তিনি আরো বলেন, ‘সেই দিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃংখলিত অবস্থায়, আর তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং অগ্নি আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমণ্ডল’ {সূরা ইবরাহীম: ৪৯-৫০}।
এ সম্পর্কে হাদীছে এসেছে, আবু মালেক আল-আশ‘আরী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, (মৃতের জন্য) বিলাপ করে ক্রন্দনকারিণী তার মৃত্যুর পূর্বে তাওবাহ না করলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার তৈরী পোষাক এবং দস্তার তৈরী বর্ম পরিয়ে উঠানো হবে।*৩১*
জাহান্নামের শাস্তি হতে মুক্তিলাভের ব্যর্থ চেষ্টা
আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর বিভিন্ন প্রকার অত্যন্ত ভয়ংকর শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, যা থেকে জাহান্নামীরা জীবনের সবকিছুর বিনিময়ে মুক্তিলাভের চেষ্টা করবে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘যারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাদের মৃত্যু ঘটে তাদের কারো নিকট হতে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়-স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনও কবুল করা হবে না। এরাই তারা যাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে, এদের কোন সাহায্যকারী নাই’ {সূরা আল-ইমরান: ৯১}।
তিনি আরো বলেন, ‘যারা কুফরী করেছে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি হতে মুক্তি লাভের জন্য পণ-স্বরূপ দুনিয়ায় যা কিছু আছে তাদের তার সমস্তই থাকে এবং তার সহিত সমপরিমাণ আরও থাকে তবুও তাদের নিকট হতে তা গৃহীত হবে না এবং তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে’ {সূরা মায়িদা: ৩৬}।
হাদীছে এসেছে, আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে দুনিয়ার সর্বাধিক মালদার-সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ঢুকিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নেয়ামতের সুখ অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম, হে পরওয়ারদেগার! (আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি)।*৩২*
অন্য হাদীছে এসেছে, আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা কম ও সহজতর শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিকে বলবেন: যদি গোটা পৃথিবী পরিমাণ সম্পদ তোমার থাকত, তাহলে তুমি কি সমূদয়ের বিনিময়ে এই আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করতে? সে বলবে, হাঁ, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আদমের ঔরসে থাকাকালে এর চাইতেও সহজতর বিষয়ের আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, আমার সহিত কাউকে শরীক কর না, কিন্তু তুমি তা অমান্য করেছ এবং আমার সহিত শরীক করেছ।*৩৩*
ইনশাআল্লাহ চলবে ...
রচনাঃ
শরীফুল ইসলাম বিন জয়নাল আবেদীন
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,
সঊদী আরব।
*৩১* মুসলিম, ‘অতিরিক্ত বিলাপকারী’ অধ্যায়, হা/২২০৩, রিয়াযুছ ছালেহীন, ‘মৃতের জন্য বিলাপ করা হারাম’ অনুচ্ছেদ, হা/১৬৬৪, বাংলা অনুবাদ, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ঢাকা, ৪/১৩১।
*৩২* মুসলিম, হা/৭২৬৬, মিশকাত, ‘জাহান্নাম ও তার অধিবাসিদের বর্ণনা’ অধ্যায়, হা/৫৪২৫, বাংলা অনুবাদ, এমদাদিয়া ১০/১৬১।
*৩৩* বুখারী, ‘জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ’ অধ্যায়, হা/৬৫৫৭, বাংলা অনুবাদ, তাওহীদ পাবলিকেশন্স ৬/৬৫।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৮:৫৩
মো: জালাল হোসেন বলেছেন: ওরে বাবারে !