| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাহফুজশান্ত
আসুন, "ধর্মান্ধতা পরিহার করে ধর্মিষ্ঠ হই" "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম" [আল-কোরআন-৯৬. সূরা আল-আলাক] ০১. পাঠ কর (এবং ঘোষনা / প্রচার কর) তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন- ০২. সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। ০৩. পাঠ কর, আর (ঘোষনা / প্রচার কর) তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত। ০৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন- ০৫, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।] পবিত্র কোরআনের ৯৬ নম্বর সূরা 'আলাক'-এর প্রথম এই পাঁচটি আয়াত অত্যন্ত মূল্যবান এবং যা মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ফেরেশতা জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত সর্বপ্রথম ওহি অর্থাৎ ঐশীবাণী। মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের নামে শিক্ষা লাভের জন্য পাঠ করা ( Study ) অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় থেকে জ্ঞানার্জন করা এবং জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে কলমের ব্যবহার অর্থাৎ 'লিখন' যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে তা সর্বজনবিদিত। মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে খাঁটি মানুষ রূপে গড়ে তোলার জন্য যে সর্বপ্রথমে এই ধরণের চমৎকার ও কার্যকর ঐশীবাণী প্রদান করে অনুপ্রাণিত করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে পার্থিব জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের বিষয়ে জ্ঞান চর্চার তাগিদে সময় বের করে নিতে হয়েছে। যে জ্ঞানের কোন সীমা পরিসীমা নেই, যে জ্ঞানের কথা লিখতে বসলে মহাসাগরের এমনকি আকাশ ও পাতালের সকল জলরাশিকে কালি বানালেও তা ফুরিয়ে যাবে- তার জন্য এই সময়টুকু অতি নগন্য। তথাপি আমার এই ছোট্ট প্রয়াসের জন্য দয়াময় আল্লাহতায়ালা যে আমাকে সুযোগ ও তৌফিক দিয়েছেন সেজন্য আমি অবনত মস্তকে সর্বশক্তিমান স্রষ্টার কাছে প্রতি মূহুর্তে শুকরিয়া আদায় করছি। সত্যের স্বরূপ উদঘাটনে যতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছি তার সবটুকুই আল-কোরআনের ঐশীবাণীসমূহের মর্ম সঠিকভাবে অনুধাবনের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আর ব্যর্থতার জন্য একজন অতি সাধারন মানুষ হিসেবে আমার অযোগ্যতা ও অজ্ঞতাই সম্পূর্ণরূপে দায়ী। হে বিশ্ববিধাতা করুণাময় মহান আল্লাহ , সর্বপ্রকার অনিচ্ছাকৃত ভুল-ভ্রান্তির জন্য সর্বদা অবনত মস্তকে ক্ষমাভিক্ষা চাই। আর সরল ও সত্যের পথ যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তার উছিলায় একজন হতভাগা পাপী বান্দা হিসেবে তোমার জ্যোতির্ময় আরশের ছায়াতলে চিরকালের জন্য একটুখানি ঠাঁই চাই। আশাকরি ছোটখাট ভুলত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। চিন্তাশীল সুধীজনদের সুচিন্তিত পরামর্শ ও সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করা হবে।
ইংরেজদের অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে যারা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে সব ধর্মের মানুষের স্বপ্রণোদিত উপস্থিতি ছিল বলেই ইংরেজরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য শুধু অসহযোগ আন্দোলন নয়, বরং স্বশস্ত্র সংগ্রামেরও যে প্রয়োজন ছিল তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভারতের ইতিহাসের পাতায় স্বশস্ত্র বিপ্লবী হিসেবে যাদের নাম সহজেই চোখে পড়ে তারা হলেন সুভাষ বোস, মাস্টার-দা সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ভগদ সিং প্রমুখ। নিঃসন্দেহে তাদের আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনমনীয় মনোভাবের কারনে তারা সকল প্রজন্মের অনুপ্রেরণার পাত্র। কোন বিপ্লবের বটবৃক্ষ হঠাৎ করেই গজিয়ে ওঠে না। এর বীজ রোপণ করা থেকে শুরু করে অঙ্কুরোদাম হওয়া এবং পুষ্প পল্লবে সুশোভিত হওয়ার মাঝে অনেকগুলো পর্যায় পার হতে হয়। বীজ যেখানে রোপিত হয় সেখানকার মাটি ও পরিবেশ যদি অনুকূল না থাকে তাহলে সুপ্ত অঙ্কুর বীজের মাঝেই বিনাশ প্রাপ্ত হয়। যাঁরা বিপ্লবের বীজ বপনের পরিবেশ রচনা করেন তাদের অতুলীত ভুমিকা অস্বীকার করা অকৃতজ্ঞতারই নামান্তর। বর্তমানে ভারতীয়রা মুসলিম বীর সেনানীদের নাম নিতে কৃপণতা করলেও ইংরেজদের জুলুমের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র আন্দোলনের হাতেখড়ি যে মুসলিম বীরদের হাতেই হয়েছিল তা ইতিহাসই সাক্ষি দেয়। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, আজ সেই বীর যোদ্ধা ও শহীদদের মধ্য থেকে এমন কয়েকজনের নাম ও বীরত্বের কাহিনী সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যাঁরা পক্ষপাতহীন ইতিহাসের পাতায় ও বিবেকবান নিরপেক্ষ মানুষের স্মৃতির খাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ও থাকবেন। তবে আমি সেই সব বিতর্কিত সুবিধাভোগীদের কথা বলছি না যারা ধর্মের লেবাশ পরে থাকলেও তাদের যেমন কোন ধর্ম নেই, তেমনি ওরা অকর্ম করে শুধুমাত্র আপন স্বার্থসিদ্ধির জন্য।
ইংরেজ আমলের অরাজক পরিস্থিতি যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ঠিক তখন (১৭০৩ - ১৭৬৪ খৃঃ) তৎকালীন মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের তীর্থভূমি দিল্লিতে আবির্ভূত হলেন শাহ্ ওয়লিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী। ইংরেজদের দুঃশাসন, জুলুম এবং একই সাথে ধর্মীয় কুসংস্কার ও বিদেশী অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তি দানের লক্ষে সমাজ সংস্কারক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে তিনি নিজের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে ভারতবর্ষ তথা এই বাংলার মানুষকে নবজাগরণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা জীবন বাজি রেখেছিলেন তাদের মধ্যে সর্বপ্রথমে যার নাম না নিলেই নয় তিনি হলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আহমদ বেরলভী। যদিও তাদের এ আন্দোলনকে ওয়াহাবি আন্দোলন নামে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে মুসলিমদের স্বশস্ত্র যুদ্ধ অর্থাৎ জিহাদ।
সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভি ১৭৮৬ খৃষ্টাব্দে রায়বেরেলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভীষন সাহসী, সুঠাম দেহ ও প্রবল মানসিক শক্তির অধিকারী ছিলেন। শৈসবে তিনি সাহ আব্দুল আজিজ ও আকবর মসজিদ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং আল-কোরআনের প্রথম উর্দু অনুবাদক আব্দুল কাদেরের সংষ্পর্শে আসেন। জ্ঞানতাপস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন এই মানুষটি এক সময় ভারতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত টংকির নবাবের সংষ্পর্শে আসেন এবং সেনাবাহিনী বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। সেই সময় তাদের সাথে বৃটিশ বাহীনির যুদ্ধ চলছিল। কিন্তু হঠাৎ নবাব তার মত পরিবর্তন করে বৃটিশদের কাছে আর্থিক সাহয্যের হাত বাড়ালে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল বৃটিশদের কাছে একবার হাত পাতলে ভবিষ্যতে আর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারন করা সম্ভব হবে না। তিনি নবাবকে বিষয়টি বোঝাবার জন্য অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু নবাবের অনমনীয় মনোভাব দেখে তিনি এর প্রতিবাদ স্বরূপ নাবাবের সেনাবাহিনীর উচ্চপদ ত্যাগ করে টংকি ছেড়ে ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে দিল্লীতে ফিরে আসেন। একজন স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে এটি ছিল তাঁর পক্ষ থেকে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ। তখনও ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে না ওঠার কারনে সেই মুহূর্তে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সরারসরি অস্ত্রধারন করা সম্ভব ছিল না। তাই তিনি ইংরেজদের পক্ষ থেকে আহ্বানকৃত সকল লোভ ও পদমর্যাদাকে উপেক্ষা করে আপাতত মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে বৃটিশ বিরোধী জনমত গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। একই সাথে তিনি সকল প্রকার ধর্মীয় কুসংস্কার ও বেদাত দূর করার লক্ষে স্পষ্ট বক্তব্য ও যুক্তি প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তুলে সমাজ সংস্কারের কাজও চালিয়ে যেতে থাকেন। এভাবে তৎকালীন ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ভিত নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
সৈয়দ আহমদ বেরলভী কাছে দিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত আরেকজন বিল্পবী সেনানীর নাম মীর নিসার আলী তিতুমীর। ইংরেজ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধে বাংলার প্রথম শহীদ তিতুমীর ১৮৩১ সালে চব্বিশপরগনার নারিকেলবাড়িয়ায় বাশের কেল্লা নির্মান করে সহযোদ্ধা সাধারন জনগনকে সাথে নিয়ে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তা ভারতবর্ষের তৎকালীন সকল বিল্পবীদের প্রেরণা যুগিয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় ও সকল বিপ্লবীদের খাতায় তাঁর এই বীরত্বগাথা চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
একই অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে দুর্বল চাষীদের উপর নিলকরদের জুলুম ও নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ফরিদপুরের হাজি শরীয়তুল্লাহ ও তাঁর পুত্র মহসীন উদ্দীন দুদু মিয়া দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। যা ফারাজিয়া আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব ছিল ইংরেজ দুঃশাসনের ভীত কাপিয়ে দেয়া সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ আন্দোলন। এই বিপ্লবে মুসলিমদের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি এবং তারই মুখ্য ভুমিকা পালন করেছিলেন।
১৯১১ সালের পর ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুসলিম ও হিন্দু ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন বেগবান হতে থাকে। একদিকে মওলানা মোহাম্মদ আলী ও মওলানা শওকত আলী ইংরেজদের বিরুদ্ধে জনগনকে জাগিয়ে তোলেন এবং আপন আবাসভূমিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তুলেন তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে। অপরদিকে সুদূর উত্তর-পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে পশতুন নেতা আব্দুল গাফফার খানের নেতৃত্বে গঠিত দল 'খোদায়ি খিদমাদগার' অর্থাৎ 'আল্লাহর দাস' এর ছত্রছায়ায় এবং সমতল এলাকায় মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন, যা ইংরেজদের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।
স্বদেশপ্রেমের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী নুতন ধারার রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দিয়েছিলেন। শুধু ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কারনে তিনি গ্রেফতার হন। বাংলাদেশের সিরাগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেয়া এই ক্ষণজন্মা মানুষটি বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতবর্ষকে ইংরেজদের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বিকল্প নেই। তাই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মতাদর্শকে তিনি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আসামের ভাসানচরে নির্যাতিত বাঙালী কৃষকদের পাশে থেকে তিনি এক বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশ করায় কৃষকরা ভালবেসে তাঁকে ভাসানচরের মওলানা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরবর্তীতে তিনি 'মওলানা ভাসানী' নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে পূর্ববাংলার মানুষের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকি-হানাদার বাহিনী তাঁর ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনি ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধকালীন প্রবাসি বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন। নির্লোভ ও সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই ধর্মিষ্ঠ মানুষটিকে পার্থিব কোন লোভ-লালসা কখনো তাঁর সরল সোজা পথ থেকে চুল পরিমাণও টলাতে পারেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দেশে ফিরে এসে ক্ষমতার মোহ ও পদমর্যাদার হাতছানিকে দূরে ঠেলে দিয়ে আবারও জনমুখী কর্মসূচি পালনে আত্মনিয়োগ করেন। বাংলাদেশকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্বরূপ ১৯৭৬ সালে লক্ষ লক্ষ জনগণকে সাথে নিয়ে লং মার্চ পরিচালনা করেন। সাধারন কৃষক, মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থেকে তিনি তাদের বেদনা, লাঞ্ছনা ও দুঃসহ জীবনের অভাব অভিযোগের কথা জনগণ ও সরকারের সামনে তুলে ধরতেন। স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাসই ছিল তার মনোবলের মূল উৎস এবং জনগণকে সাথে নিয়েই তিনি সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। দেওবন্দের মাদ্রসায় ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত ও আদর্শে দিক্ষিত পরহেজগার এই মানুষটি স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য পালনের এক বাস্তব দৃষ্টান্ত। বৈচিত্রময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অনাড়ম্বর জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটি তাঁর যেমন কথা ও তেমনি কর্মের মধ্য দিয়ে এ দেশের কোটি কোটি মানুষের মনের মণিকোঠায় চির জাগরুক হয়ে থাকবেন। বর্তমানে আমাদের দেশের জন্য তাঁর মত দূরদর্শী ও সুস্থ চিন্তা-চেতনার অধিকারী প্রজ্ঞাবান নেতার খুবই প্রয়োজন।
স্বশস্ত্র বিপ্লবীদের একের পর এক প্রতিরোধের মুখে ইংরেজ সরকার যখন নাস্তানাবুদ প্রায়। তাদের অবস্থা যেন 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি'। এই সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিপ্লব পরিচালনা এবং অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ যোগাড় করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই ১৯২৫ সালের ৯ মার্চ স্টেশন মাষ্টার সাহজানপুর থেকে লখনৌ গার্ড ভ্যানে টাকার বস্তা নিয়ে যাচ্ছে এই খবর পেয়ে হাই কমান্ডের নির্দেশে আশফাকুল্লাহ ও তার সঙ্গিরা তা ছিনিয়ে নেয়। কাকরি গ্রামের নিকটে এই লুটের ঘটনাটি সংঘটিত হয় বলে ইংরেজ সরকার তাদের বিরুদ্ধে 'কাকরি ডাকাতি' নামে মামলা করে। প্রথমত আশফাকুল্লাহ পালাতে পারলেও বেশ কয়েকমাস পর তারই এক পরিচিতজনের বিশ্বাসঘাতকতার কারনে তিনি ধরা পড়েন এবং ১৯২৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তার ফাঁসি হয়। ছয় ফুট লম্বা এই মানব সিংহ হাসতে হাসতে শহীদ হন। ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় তার কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল মুসলিমদের একত্ববাদের মূলমন্ত্র "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"।
সেই সময় এ উপমহাদেশের শিক্ষা বিস্তারে ও বিজ্ঞান, কলা, ধর্ম ও সমকালীন জ্ঞানচর্চার জগতে যুগান্তকারী বিপ্লব সাধনের সাথে যাদের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাঁরা হলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান, নওয়াব আব্দুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলী প্রমুখ। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজ সংস্কারকের ভুমিকাও পালন করেন।
দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সেনানী ও শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:৩১
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আমি আপনার মত নিরপেক্ষ ও বিবেকবানদের কথা বলছিনা-
আমি দেখেছি বলেই তো পোষ্টটা দিতে বাধ্য হয়েছি, প্রমাণ দেখুন-
নিচের লিংকের ৩৮ ও ৩৯ নং মন্তব্য-
বনু কুরাইযার অধিকাংশ পুরুষদের কেন হত্যা করা হয়েছিল?
২|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:২৪
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: মুসলমানদের অবদান অস্বীকার করে কোন জানোয়ার? গাঁধীজীর সাথে যেমন সব ধর্মের লোক ছিল তেমনি নেতাজীর ফৌজ এর মধ্যেও ছিল। বড় বড় নেতাদের নাম ত আপনি করেই দিয়েছেন।
পশ্চিমবাংলার প্রাথমিক স্কুলেও তিতুমীর এর বাঁশের কেল্লার যুদ্ধকাহিনী পড়ানো হত। একটা বই আমার কাছেই আছে।
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:৪৩
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আমি দেখেছি বলেই তো পোষ্টটা দিতে বাধ্য হয়েছি, প্রমাণ দেখুন-
নিচের লিংকের ৩৮ ও ৩৯ নং মন্তব্য-
বনু কুরাইযার অধিকাংশ পুরুষদের কেন হত্যা করা হয়েছিল?
৩|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:২৮
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: কিন্তু মুসলমানে অবদান অস্বীকার করা হইছে এমন কথা আপনার মনে আসে কেন? কে অস্বীকার করে তার নাম বলেন। দুই থাবড়া দিলেই ইতিহাস মনে পড়ে যাবে।
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:৪৫
মাহফুজশান্ত বলেছেন: থাক ভাই, না জেনেই হয়ত বলেছে-
৪|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:২৯
মাহমুদ ইমতিআজ বলেছেন: দেইখেন বেশি কিছু কইলে আপনেরে রাজাকার কইব।
অসংখ্য ধন্যবাদ, চমৎকার পোষ্টের জন্য।
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:৫০
মাহফুজশান্ত বলেছেন: যা সত্য তা তো বলতেই হবে ভাই-
এইসব বলাবলি অনেক আগেই হজম করে ফেলেছি-
রাজাকারদের সাথে আমাকে জড়িয়ে লাভ হবে না-
কারন আমার বুকে মুক্তিযুদ্ধের ছবি আঁকা আছে-
০৬ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:১৪
মাহফুজশান্ত বলেছেন: Click This Link
৫|
০৫ ই জুন, ২০১১ রাত ১২:৩৭
রবিন-৭৭ বলেছেন: দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: কিন্তু মুসলমানে অবদান অস্বীকার করা হইছে এমন কথা আপনার মনে আসে কেন? কে অস্বীকার করে তার নাম বলেন। দুই থাবড়া দিলেই ইতিহাস মনে পড়ে যাবে।
০৫ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:৪৫
মাহফুজশান্ত বলেছেন: থাক ভাই, না জেনেই হয়ত বলেছে-
৬|
০৫ ই জুন, ২০১১ রাত ১:০১
বাল্মীকি বলেছেন: মুস্লিমদের অবদান কে অস্বীকার করলো? আপ্নে কিসের সাথে কি মিলাইলেন?
০৫ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:৪৭
মাহফুজশান্ত বলেছেন: ভাই, ২ নং মন্তব্যের জবাবে প্রমাণ দেয়া আছে, দেখে নিতে পারেন-
আমি কিসের সাথে কি মিলালাম একটু বুঝিয়ে বলবেন কি?
৭|
০৫ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:৫৬
জাহিদুর রহমান মাসুদ বলেছেন: স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষমন্ত্রী ও কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) প্রিন্সিপাল মওলানা আবুল কালাম আযাদ কি মুসলিম ছিলেন না?
০৫ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:২৬
মাহফুজশান্ত বলেছেন: স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষমন্ত্রী ও কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) প্রিন্সিপাল মওলানা আবুল কালাম আযাদ কি মুসলিম ছিলেন না?
অবশ্যই মুসলিম ছিলেন। তাঁর বিষয়ে নুতন করে বলার কিছু নেই। ভারতের ইতিহাসের পাতায় পাতায় এমনকি রাষ্ট্রীয় খাতায় তাঁর নাম ও কর্ম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে-
আমি এমন কিছু মানুষের কথা বলতে চেয়েছি যাদের বীরত্বের ইতিহাস নুতন করে পর্যালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে-
৮|
০৬ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৩৭
আজাদ আল্-আমীন বলেছেন: পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
০৬ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৩৯
মাহফুজশান্ত বলেছেন: ধন্যবাদ-
৯|
০৭ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:৫৪
মাহফুজশান্ত বলেছেন: ০৬ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৫৪
দাউদ রনি বলেছেন: স্বীকার-অস্বীকারের কথা আসতেছে কেন? স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিল, তারা কি মুসলিম হিসেবে না বিপ্লবী হিসেবে অংশ নিয়েছিল?
যারা আন্দোলন করেছেন তারা সবাই বিপ্লবী। শুধু শুধু ধর্ম দিয়ে বিভাজন তৈরি করছেন কেন?
...........
জানি অনেকেই আমার কথায় গোস্বা করবেন। কিছু করার নাই।
জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
----------------------------------------------------------------------
লেখক বলেছেন: আমার মূল পোষ্ট এবং মন্তব্যের জবাব গুলো দেখেছেন কি?
দেখলে তো এমন প্রশ্ন করার কথা না!
কোন বিভাজন তৈরি করা নয়, বরং যারা মুসলিমদের অবদান স্বীকার করতে কৃপনণতা করে- আমার এই পোষ্টটি মূলত তাদের জন্য
আমি কৃপনতা করতে দেখেছি বলেই তো পোষ্টটা দিতে বাধ্য হয়েছি, প্রমাণ দেখুন-
নিচের লিংকের ৩৮ ও ৩৯ নং মন্তব্য-
Click This Link
১০|
০৭ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৪:২৮
নষ্ট কবি বলেছেন: দেখলাম- শুনলাম- জানলাম- আগেই জানতাম- নতুন করে আবার জানলাম ।
কিন্তু সে প্রেক্ষিতে এই পোষ্ট দিলেন- সেটাতে আপনার বোঝায় কিছুটা ভুল বলে মনে হল।
০৭ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:২৮
মাহফুজশান্ত বলেছেন: ভুলকে শুধু ভুল বললেই তো ভুল হয়ে যায় না- ভুল ধরিয়ে দিলে না হয় বুঝতাম
১১|
০৮ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:৩৬
অচিনপাখি বলেছেন: কাউকে অস্বীকার করতে দেখিনাই এখনো...............
@লেখক, আপনার বোঝার ভূল..
০৮ ই জুন, ২০১১ রাত ১০:৫৫
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আমি দেখেছি বলেই তো পোষ্টটা দিতে বাধ্য হয়েছি, প্রমাণ দেখুন-
নিচের লিংকের ৩৮ ও ৩৯ নং মন্তব্য-
Click This Link
১২|
৩১ শে মে, ২০১২ দুপুর ১২:৩৫
রমিত বলেছেন: সুন্দর পোস্ট! আগে চোখে পরে নাই। আপনাকে ধন্যবাদ।
৩১ শে মে, ২০১২ বিকাল ৫:১২
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ ও শুভকামনা-
১৩|
২৭ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৫:২৫
ভাবছি বসে একা বলেছেন: তথ্য বহুল লেখা। আশা করি এমন লেখা আরো লিখবেন। তবে শিরোনাম না অন্যভাবেও দেয়া যেতে পারতো.....
২৮ শে জুন, ২০১২ রাত ১:০০
মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
১৮ নং মন্তব্যটি দেখে নিন প্লিজ!
১৪|
১১ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:৩০
ফরিদ আলম বলেছেন: মাহফুয ভাই, আমরা একটা ছোট পত্রিকা প্রকাশ করি ইসলামের আলো নামে (আমরা ভারতীয়)। সেখানে আপনার এই লেখা প্রকাশ করতে চাই, যদি আপনি সম্মতি জানান।
ভালো থাকবেন।
১৩ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৯:১২
মাহফুজশান্ত বলেছেন: জী ভাই, শুধু এটি নয়, ভাল মনে করলে ইসলামের সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য আমার যে কোন লেখাই প্রকাশ করতে পারেন।
ধন্যবাদ-
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:১৮
প্রদীপ মিত্র বলেছেন: কাউকে অস্বীকার করতে দেখিনাই এখনো