| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সেই কবে স্কুলের ছোট গল্প লিখার প্রতিযোগীতায় লিখেছিলাম.. তাই ভাষাগত ভূলের জন্য অান্তরীকভাবেই দুঃখিত এবং লজ্জিত ।
অনেকদিন ধরে ভাবছি বান্দারবান যাব, কিন্তু সময় , টাকা-পয়সা এবং সহমতের মানুষের অভাবে হয়ে উঠছিলো না । যাবার কথা ছিল ৬ জনের । সজিব , নাজমুলভাই, সেলিম, মশিউর ,রেজা ভাই এবং আমি । উদ্বেগটা আমিই নিয়েছিলাম , গত ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ইং শেষ সপ্তাহে, ফেসবুকে আমার প্রিয় " ভ্রমন বাংলাদেশের" ইভেন্ট দেখে । প্রথমে সজিব কে রাজি করালাম, তারপর একে একে নাজমুল ভাই, রেজা ভাই সহ অন্যরা । ইচ্ছে ছিল ভ্রমন বাংলাদেশের সাথে যাবার, কিন্তু আমাদের টাইম শিডিউল মিলছিলোনা । স্বিদ্ধান্ত নিলাম মার্চের ১৩/০৩/১৪ তারিখে রওনা দিব, কিন্তু বাধ সাধলো নাজমুল ভাই, ওনার স্যার ( আমাদের ও স্যার) ঐ সময় ছুটিতে থাকবে, আসবে ১৫ তারিখ । শুরুতেই বাঁধা, কিন্তু আমি অনঢ়, বললাম এর পরের সপ্তাহে যাব ( ২০/০৩/২০১৪) । যারা যাবে, এক সপ্তাহ পূর্বে কনফার্ম করতে হবে, কারন বাসের ভালো টিকেট পাওয়ার একটা ব্যাপার থাকে । মশিউর এবং সেলিম তিন দিন পর জানালো যাবে না ( একটা করপোরেট গালি দিলাম) । কারন যতদুর জেনেছি বান্দারবান ট্যুরের জন্য কমপক্ষে ৬ জন হলে ভালো, না হলে টাকা পয়সা একটু বেশী খরচ হয় । বাসের টিকেট কাটতে হবে ১৫/০৩/১৪ ইং তারিখে । অামি সজিব কে বোঝাতে লাগলাম প্রয়োজনে আমরা দু-জন ই যাবো । ১৫ তারিখ রেজা ভাই বললো যাবে না , কিছুই বললাম না ( প্রশাষনিক লোক তো ) । শেষ পর্যন্ত নাজমুল ভাই কে জিজ্ঞাসা করলাম , তাহলে কি আমরা তিনজনের টিকেট করবো ? নাজমুল ভাই সংকোচ নিয়েই ( অতি ভাল মানুষ. মুখ ফোটে তো বুক ফাটে না ) সম্মতি দিল । এখানে বলে রাখি, আমরা সবাই একই অফিসে কর্মরত ।
প্রথমে কমলাপুর বাস শ্যামলী কাউন্টারে টিকেটের খোঁজ নিলাম টিকেট অাছে, এসি ৮৫০/-, নন-এসি ৬২০/- । হাণিফ কাউন্টারে গেলাম ওদের এসি বাস নেই ( এসি বাস খোজার শর্ত দিয়েছিলো সজিব) । হাণিফের কাউন্টার হতে জানলাম, বান্দারবানে শুধু শ্যামলী এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনের এসি বাস রয়েছে, এরপর চলে গেলাম আরামবাগ । প্রত্যেকটা কাউন্টারে সীট খালি রয়েছে শেষের দিকে । শ্যমলীর একটি বাসে সীট পেলাম সি সিরিয়ালের ১-২ এবং ৪ । ছাড়ার সময় ১০.৩০ ( আরামবাগ থেকে), আমি বললাম আমরা সোনারগাঁও থেকে উঠবো । ওরা বলল বাস ছাড়ার পাঁচ মিনিট পূর্বে যেন ফোন করে সুপারভাইজার এর সাথে কথা বলে নেই ।
টিকেট কাটার এক ঘন্টা পর সজিবের ফোন, বললো নাজমুল ভাই না-কি বলেছে, এর পরের সপ্তাহে যেতে ( কারন লোক কম )। আমি বললাম টিকেট করে ফেলেছি আর বললাম বন্ধুভাবাপন্ন মন থাকলে বন্ধুর অভাব হয় না, আমরা বান্দারবান পৌছে বন্দু ঠিক করে ফেলবো ।
এবার প্রস্তুতির পালা ! " ভ্রমন বাংলাদেশের" এবং অন্যান্য ভ্রমন গ্রুপের ভ্রমন কাহীনি পড়ে বান্দারবানে কি কি অসুবিদে হতে পারে, কি-কি নেয়া লাগবে তার একটা লিষ্ট করে তিনজনের কাছেই রেখে দিলাম । আমরা কিছু কেনাকাটা করলাম । অামি বাটা (বসুন্ধরা সিটি) থেকে একটি ব্যাগ কিনলাম ৯৫০ টাকা দিয়ে ( ব্যাগের কোয়ালিটি পরে বলি) , কিছু ঔষধ , সুইনগাম নিলাম । সজিব - নতুন ট্যাব , অডোমাস ক্রীম । নাজমুল ভাই ওর স্ল্যাইন , চকলেট ইত্যাদি ।
তারিখ : ২০/০৩/২০১৪ ইং - অফিস থেকে বাসায় আসলাম । আমার ব্যাগ গুছালাম, অামি যা যা নিয়েছি সবই পূর্বেকার বান্দারবান ভ্রমনকারীদের তথ্যনুসারে এবং অবশ্যই ভ্রমন বাংলাদেশ কে সামনে রেখে । রাত ১০.৩০ মিঃ বাসা হতে বের হলাম , মেয়েটার জন্য মন খারাফ লাগছে, যদি আর ফিরে না আসি ? ১০.৪৫ মিঃ আমরা সোনারগাঁও'র মুগড়াপাড়াতে একত্রিত হলাম । বাস সার্ভিসের নির্ধারিত নাম্বারে ফোন দিলাম, জবাবে বললো বাস এখনো ছাড়েনি । কমলাপুর থেকে রাত এগারোটায় ছাড়বে, পরে জানতে পারলাম আমাদের বাসটি বান্দারবানের শেষের দিকের বাস । আমরা পনেরো মিঃ পর পর বাসের সুপার ভাইজর কে ফোন দিচ্ছি, জবাবে আর একটু , এই তো এসে গেলাম । অামাদের চোখের সামনে দিয়ে অন্যান্য বাস সাই সাই করে ছুটে যাচ্ছিলো ।
যা হোক শেষ পর্যন্ত রাত বারোটার সময় আমরা বাসে উঠলাম । বাসে উঠে দেখি সর্বাধিক যাত্রি আমাদের সমবয়সি কিংবা আমাদের থেকে ৫/৬ বছরের ছোট , মনে মনে খুশি হলাম এদের কারো সাথে হয়তো আমরা মিশে যেতে পারবো কুমিল্লায় নুরজাহান হোটেলের সামনে যাত্রা বিরুতিতে কয়েকজনের সাথে আলাপ করলাম কিন্তু কোন সায় পেলাম না , কিন্তু সবাই ঘুরতেই যাচ্ছে ।
সারা রাত ঘুমাতেই পারলাম না । ৮ জনের একটা গ্রুপ পুরো রাস্তাজুড়েই ডিস্ট্রাব করেছে, ওরা নাকি ডকুমেন্টারি করার উদ্দেশ্যে বান্দারবানে যাচ্ছে ( বাসের ভিতর লুঙ্গি পড়ে লুঙ্গি ডেন্স করাই কি এ ডকুমেন্টের উদ্দেশ্য কি-না বোধদয় নয় ) । ভোর ৬.১৫ মিঃ চট্রগ্রাম শহর অতিক্রম করে বাস তৃতীয় কর্ণফুলি ব্রীজের উপর দিয়ে অতিক্রম করছে, কিন্তু বাসের গতি ঘন্টায় ৪৫ কি.মি. । পিছন থেকে এক যাত্রি বলে উঠলো ড্রাইভার কি স্টিয়ারিং অটোতে দিয়ে ঘুমায় কি-না ? অামার চোখ তখন একটু তন্দ্রার মতো ছিলো । মাথা উচু করে দেখি ড্রাইভার পান চিবুচ্ছে । একটু পরে সুপারভাইজার কে জিজ্ঞাসা করলাম এত আস্তে কেন চালাচ্ছে ? জবাবে বলল রাস্তা লবন পানিতে ভিজা তাই । বলতে না বলতেই এস আলম পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করে গেল, এর পর শ্যামলী পরিবহনের ও একটি বাস । আমি নিরাশ হয়ে নাজমুলভাই কে বললাম আমাদের পৌছাতে ১০ টা বাজবে। আমার মনে করার কারন হলো আমি দুই পার্বাত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সেই ছোট বেলা থেকেই যাতায়াত করি, পার্বাত্য জেলার সীমানায় প্রবেশকরা মাত্রই দেখা মেলে পাহাড়ের, কিন্তু এখনো সেই রকম পাহাড় দেখা যায় নাই । একবারে যখন পাহাড় দেখলাম , তখন মাইলেজ নেম প্লেটে দেখি বান্দারবান অতি নিকটে । যাক পাহাড় দেখতে দেথতে আমরা সকাল ৮.১০ মিঃ বান্দারবান এস পৌছালাম । নেমেই এদিক ওদিক তাকাতে পারলাম না , কারন অামাদের ফেরার টিকেট করে নিতে হবে । বাস থেকে নামার মহুর্তে দু-তিনজনের কাছে আমাদের উদ্দেশ্য জানালাম কিন্তু পাত্তা পেলাম না । আমরা সেন্টমার্টিন পরিবহনের এসি টিকেট কাটলাম, কারন আমরা যে দিন ঢাকা পৌছাবো, সে দিনই আমাদের অফিস করতে হবে। টিকেট কাটার পর বাস কাউন্টারের ওয়াসরুমে ফ্রেশ হয়ে নিলাম । এরপর আমাদের গন্তব্য রুমা বাজার বাস স্ট্যান্ড । একটি অটো জনপ্রতি ১৫ টাকা করে রওনা দিলাম । কারন বগালেক যেতে হলে রুমা বাজার দিয়েই ভাল ।
১০ মিঃ এর মধ্যে আমাদের রুমা বাজার বাস স্ট্যান্ড এ নামিয়ে দিল । নেমেই টিকেট কাউন্টারে গেলাম এবং জানতে পারলাম মাত্র দুই মিঃ পূর্বে একটি বাস ছেড়ে চলে গেল । পরের বাস ৯.৩০ মিঃ এ । আমরা দ্বিতীয় বাসের টিকেট করলাম জনপ্রতি ১০০ টাকা করে (মনে মনে খুশি হলাম সোর্স থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে আমাদের বাজেট মিলেছে ) ।
বাস ছাড়তে যেহেতু বেশ সময় আছে, তাই সকালের নাস্তা সেরে ফেলা ভালো। টিকেট কাউন্টারের বিপরীত দিকে একটি খাবারের হোটেল , সামনে গিয়ে দেখতে পাই ডাব , নাজমুল ভাই বলল ডাব খাবে ( নাস্তা খাবে না) কারন আমার বাসা থেকে আনা পরোটা আর ডিম মামলেট দিয়ে আমরা চট্রগ্রামের ব্রেকে খেয়েছিলাম । জিজ্ঞাসা করলাম ডাব কত করে , বলল - বড়টি ৩০ , মাঝারি টি ২৫ টাকা করে ( ছোট নেই) । যথারিতী বড় ডাব কাটা হলো, ওম্মা ডাবে পানি নেই , দ্বিতীয় টি কাটা হলো - তা ও পানি নেই । অামি ডাব ওয়ালা কে বললাম, থাক ভাই ডাব খাবো না । দোকানদান নাছোড় বান্দা, অামরা দিনের প্রথম কাষ্টমার, অামাদের কে ফিরালে সারাদিনের ব্যবসার খবর অঅছে । এবার মাঝারি সাইজের একটি কাটা হলো, নাঃহ এবার পানি মিলেছে, সূ-মিষ্ট পানি । আমরা তিন জনই ডাব খেলাম ।
ডাব খেতে খেতে দেখলাম খাবার হোটেলে ডুবো তেলে পরোটা ভাজছে, আমি বললাম আমি পরোটা আর চা খাব , আমরা পরোটা আর তিন জনের জন্য চা" এর অর্ডার দিলাম । নাস্তা সেরে আমরা হোটেলের বাহিরে এসে দাড়ালাম, দেখলাম তিনটি ছেলে দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে এবং তাদের সবারই কাঁদে বেগ । এগিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম এবং আমাদের পরিকল্পনা জানালাম । এবার আর ফিরতে হয়নি, ছেলে গুলো খুবই আন্তরিক, আমাকে বলল তাদের কোন পরিকল্পনা নেই, তবে বগালেক পর্যন্ত যাবে । ওরা আমাদের সাথে যোগ হলো । আমি বললাম বাসের টিকেট করেছেন ? বলল হ্যাঁ । এরপর আমরা একসাথে বাসে উঠলাম । বাস নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে ছেড়ে দিল, মঝার ব্যাপার হলো, আমাদের বাসে যে সমস্ত যাত্রিরা ছিল তাদের বেশিরভাগই বগালেকে দেখা হয়েছে । যাত্রিদের মধ্যে একজন জার্মানী মেয়ে পর্যটক ও ছিল ।
বাস ছাড়ার পৌনে এক ঘন্টার মধ্যে যাত্রা বিরুতি, জায়গার নাম ওয়াই জাংশান । আমরা বাস থেকে নেমে পড়লাম । কলা, পেপে কিনলাম এবং খেলাম ( আমাদের সাথে পেপে কাটার ছূরি ছিল) । ২০ মিঃ বিরুতির পর বাস আবার চলা শুরু করলো, এবার আমি আর সজিব বাসের ছাদে ছড়ে বসলাম । আহঃ সে - কি আনন্দ । তবে সে আনন্দ বেশিক্ষন ছিল না , রুমা নতুন ব্রীজের ১০ কি.মি. পূর্বে নেমে জেতে হলো, এক ফরেষ্ট কর্মকর্তার অর্ডারে ।
আমরা "রুমা " নতুন ব্রীজের কাছে নেমে যেতে হলো । জায়গাটার নাম ছাইফোপাড়া ।
চলবে......
©somewhere in net ltd.