নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

"ছেলেকে দিয়ে যাচ্ছি, হাড্ডি ফেরত পেলেও চলবে।"

২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৭

শুরুতেই বলে নেই, আমি দেশের তামাম শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপমান করে এই লেখা লিখছি না। আমার মা, আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা হচ্ছে এই যে একটা ডাক্তারের, একটা ইঞ্জিনিয়ারের, একটা উকিলের, একটা পুলিশের সমালোচনা করেন, অমনি ভিমরুলের মতন গোটা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, পুলিশ সমাজ আপনাকে ওদের দুশমন মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই অতি আলগা পিরিতির কারণেই আমাদের দেশে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যায়। তারপরে কান্নাকাটি শুরু হয় "আমরা কেনু বিলাত আম্রিকার মতন হুলাম না? হুয়াই!?" বা "নব্বই পার্সেন্ট মুসলমানের দেশে এমুন কেনু হলো?"
দেশের এক স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এক জোড়া সাইকো শিক্ষক-শিক্ষিকা একটি ছোট্ট শিশুকে নির্যাতন করছে। আমার বাচ্চাকে এমন করলে আমি এই দুই জানোয়ারকে জেলের ভাত না খাওয়ানো পর্যন্ত দম নিতাম না।
তা ঘটনা হচ্ছে, আমাদের দেশে শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্টুডেন্ট পেটানোর ঘটনা নতুন কিছু না। মার খেয়েছেন আমার দাদায়, মার খেয়েছেন আমার পিতায়, আমিও মার খেয়েই বড় হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলেকে মার খেতে হয়না।
আমাদের যুগে একটা কথার খুবই প্রচলন ছিল, পিতামাতা সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোর সময়ে টিচারদের বলতেন "ছেলেকে দিয়ে যাচ্ছি, হাড্ডি ফেরত পেলেও চলবে।"
কথাটার গূঢ় অর্থ হচ্ছে, ছেলেকে পিটিয়ে মানুষ করতে হবে। লাইসেন্স দিয়ে দিলাম। উনাদের বিশ্বাস ছিল সন্তানকে না পেটালে সন্তান মানুষ হয়না।
আমার বাবা একটু ব্যতিক্রম ছিলেন। তিনি সন্তানদের মারধরে বিশ্বাস করতেন না। টিচারদের বলতেন, অন্য কোন শাস্তি দাও, কিন্তু ফিজিক্যাল মারধর না।
আমরা হয়তো "মানুষ' হই নাই, কিন্তু যাদের মারধর খেতে দেখেছি, ওরাও আমাদের চেয়ে উন্নত কোন প্রাণী হতে পারেনি।
আর যেগুলি ভাল ছাত্রছাত্রী ছিল, যারা জীবনে উন্নতি করেছে - ওরা কিন্তু কখনই মার খায়নাই।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, মারের ফলে লাভটা কি হলো?
আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে আমরা দেখি উনারা অনেকেই নিরুপায় হয়েই শিক্ষকতায় আসেন। যারা অন্য কোন ভাল চাকরি পান নাই, বা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, উনারাই স্কুলের শিক্ষকতা করেন। এরা সুযোগ পেলেই চাকরি ছেড়ে বেশি বেতনের চাকরিতে চলে যাবে।
খুব কম শিক্ষক পাবেন যারা নিজের ইচ্ছায়, শিক্ষকতা পেশাকে ভালবেসে এই পেশায় আসেন। উনাদের মিশন থাকে মানুষ বানাবার কারিগর হওয়া। বাকিদের মনে থাকে ফ্রাস্ট্রেশন। জীবনের নানান ব্যর্থতার ঝাল ওরা অসহায়, নির্বল শিশুদের উপর মেটায়। সেকারনেই দেখবেন অতি তুচ্ছ কারনে ওরা এমনভাবে মারধর করে যেন ওর আপন মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা খেয়েছে।
নাহলে সামান্য হোমওয়ার্ক না করার জন্য কেউ অমানুষের মতন পেটাবে কেন? ক্লাসে মনোযোগ না দেয়া বা চঞ্চলতার কারনে যে শিশুটিকে পশুর মতন পেটানো হয়, কয়টা শিক্ষক খোঁজ নেন যে হয়তো শিশুটির ADHD আছে, হয়তো হাই ফাংশনিং অটিজম আছে! দিনের পর দিন হোমওয়ার্ক মিস করা শিশুর বাড়ির পরিস্থিতি সব ঠিক আছেতো? খোঁজ নিয়েছেন কখনও? সেই সময়, ইচ্ছা, ভালবাসা, মমতা কোথায়? অথচ আমাদের শেখানো হয়, পিতামাতার পরেই শিক্ষকের স্থান!
আমার বাচ্চাকে যখন স্কুলে ড্রপ করতে যাই, দেখি ওর টিচাররা স্কুলের ট্রাফিক কন্ট্রোল করছেন। শিশুরা যেন নিরাপদে নামতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। তাঁদের প্রত্যেকের মুখ হাসিখুশি, উঁচু সাউন্ডে কোন আপলিফ্টিং মিউজিক বাজছে, টিচারদের অনেকেই তালে তালে নাচানাচি করছেন কিংবা স্টুডেন্টদের হাই ফাইভ দিচ্ছেন, জড়িয়ে ধরে ওয়েলকাম করছেন - পুরো ঘটনাটাই একটা দারুন পজিটিভ ভাইব দেয়। বাচ্চারা স্কুলের/ক্লাসের/লেখাপড়ার/শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভয় পায় না, স্কুল ওদের জন্য আনন্দের স্থান।
এইটা আমাদের দেশে কেন মিসিং? দায় কি কিছু শিক্ষক শিক্ষিকার উপর যায় না? যারা লেখাপড়ার মতন অতি আনন্দের বিষয়টাকে শিশুমনে বিষিয়ে তোলেন?

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমাদের দেশে শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্টুডেন্ট পেটানোর ঘটনা নতুন কিছু না।
...........................................................................................................
সঠিক কথা, তবে
এখন সেই দিন নাই,
ছাত্ররা শিক্ষকের কলার ধরে অপমান করে !
আমরা এখন জাহান্নামের যুগ পার করছি ,
এটাও আমাদের কর্মফল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.