| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মঞ্জুর চৌধুরী
আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!
এপস্টিন ফাইলস নিয়ে গোটা বিশ্বেই তোলপাড় তুলছে। আমিও লিখেছি, লিখছি। আজকে এর আরেক অংশ নিয়ে আলোচনা করা যাক।
১. শয়তানের পূজা, নরমাংস ভক্ষণ ইত্যাদি অভিযোগ/গুজবের আড়ালে চাপা পড়ছে ও এবং ওর সখাসখীদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত শিশুকামিতা ও ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচার, গুম/খুন এবং ইজরাইলের গুপ্তচরবৃত্তির মতন বিরাট বিরাট সব অপরাধ। কেউ কি প্রশ্ন তুলছেন যে কেন বিল ক্লিন্টন, ইলন মাস্ক, সৌদি/আমিরাতি নেতা, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমুখদের নাম ওর কাস্টমার লিস্টে থাকার পরেও একজনকেও গ্রেফতার করা হলো না? যে আমেরিকা গর্ব করে যে এদের লিগ্যাল সিস্টেম দুনিয়ার সেরা, এবং ওরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে, সেই আমেরিকার জন্যও কি এটি কলঙ্কজনক নয়?
২. যে পশ্চিমা বিশ্ব নারী স্বাধীনতার কথা বলে, নারীদের অধিকারের কথা বলে, নারীদের উন্নতির কথা বলে, সেই পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী সব নেতারাই এই হারামজাদার ক্লায়েন্ট! কাকে ফেলে কাকে বাদ দিবেন? এদের হিপোক্রেসি নিয়ে কেউ কথা বলেছে? এখন না বললে কবে বলবে?
আচ্ছা, ভাল কথা, লিস্টে স্টিফেন হকিং, যাকে নিউটন-আইনস্টাইন পরবর্তী যুগে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মস্তিষ্ক বিবেচনায় করা হতো - উনার নাম দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন তিনি রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে হুইল চেয়ার চালাতে চালাতে ওর পার্টিতে চলে আসতো।
আসল ঘটনা হচ্ছে, ওর ফাইলে নাম আছে মানেই যে সে ক্লায়েন্ট, এমন না। মূলত তিনি ২০০৬ সালে ক্যারিবিয়ানে একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, যেটি এপস্টেইনের অর্থায়নে হয়েছিল। সেই কারণেই তার নাম নথিতে এসেছে।
৩. আমার বাচ্চা স্কুলে যায়। ওর লেখাপড়া বা অন্যান্য এক্টিভিটির খবর আমি রাখি। এমন সময়ে কেউ যদি এসে বলে আমার বাচ্চা এমন এক স্কলারশিপ পেয়েছে যার কারনে সে প্রেসিডেন্টের অফিসে/পার্টিতে নিমন্ত্রণ পাচ্ছে - তখন কি আমার সাথে সাথে বিশ্বাস করে ফেলা উচিত? আমার কি একটু মাথা খাটানো উচিত যে গোটা আমেরিকায় লাখে লাখে বাচ্চা ফেলে হঠাৎ আমার বাচ্চাই কেন ও কিভাবে, কোন লজিকে এত বিশাল অপরচুনিটি পেল?
একই কথা চাকরির ক্ষেত্রেও। আমি তেল-মালিশের চাকরি করি। আমাকে কেউ এসে বলল বড়লোকের শরীর মাসাজ করলে টাকা বেশি মিলবে। কিন্তু বড়লোকের বাড়িতে যেতে হবে। আমার কি তখন একটু সাবধানে পা বাড়ানো উচিত না?
আমি জানি খোঁজ খবর নিলে আমি দেখবো এই লোকটা প্রেসিডেন্টের বিয়েতে দাওয়াত খাওয়া লোক, প্রেসিন্ডেন্ট, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশ্বের বাঘা বাঘা সেলিব্রেটিদের সাথে পার্টি করা লোক - কিন্তু আমাকে এখানেই মাথা খাটাতে হবে যে সেলিব্রেটি মানেই আসমানের ফেরেস্তা না। বরং উল্টা হবার সম্ভাবনাই বেশি। একজন হলিউড স্টারকে আমরা স্টার বানাই পর্দায় ওর অভিনীত চরিত্রের কারনে। পর্দায় যে মহান চরিত্রটিকে আমরা দেখি, সেটি কোন এক লেখকের মস্তিষ্কপ্রসূত চরিত্র, যা কোন ঝানু ডিরেক্টরের পরিচালনায় এবং অভিনেতার অভিনয়গুনে পর্দায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে। বাস্তবের সেই অভিনেতা, ডিরেক্টর, লেখক, প্রেসিডেন্ট সবাই সাধারনের মতোই দোষ গুনে ভরপুর একজন মানুষ। এইটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।
৪. ক্লিনটনের সাথে ট্রাম্পের একটা বড় পার্থক্য হচ্ছে ট্রাম্প কি সেটা আমরা মোটামুটি সবাই জানি। যে আশা করে সে একটা মহামানব, ওর বুদ্ধিশুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। কাজেই ওর নাম এই ফাইলে থাকা বিস্ময়কর কিছু না যেমনটা বিস্ময়কর ছিল না পর্ণোতারকার সাথে ওর সম্পর্কের ঘটনাটা। আমিতো অবাক হচ্ছি গোটা দুনিয়ায় নীলজগতের মাত্র একজন মহিলা এসে এই দাবি করলো? শয়ে শয়ে নারীর এমন দাবি তোলার কথা ছিল। ভাইজানের রেপুটেশন এমনই।
তবে ক্লিনটনকে নিয়ে অনেকেই ধাক্কা খেয়েছে। আবারও প্রশ্ন করি, কেন? মনিকার ঘটনা সবাই ভুলে গেছে? বিল ক্লিনটনের কথাবার্তা শুনে আবেগাপ্লুত হতে পারেন, হয়তো প্রেসিডেন্ট হিসেবেও সে সফল, কিন্তু তার অর্থ চারিত্রিক দিক দিয়ে সে আল্লাহর অলি - এর গ্যারান্টি কিভাবে দিবেন? ক্লিনটন টাইপ মিচকাগুলিই ডেঞ্জারাস। উপরে ভগবান, ভিতরে শয়তান - এদের দংশন প্রাণঘাতী হয়ে থাকে।
কাজেই নিজের বাচ্চা ছেলে মেয়েকে নিয়ে rule of thumb হচ্ছে, কাউকেই বিশ্বাস করবেন না। কাউকেই না। মনে করবেন আপনি একটা জঙ্গলে বাস করছেন। আমাজনের গহীন জঙ্গল। আপনার সন্তানের দিকে কিছু হিংস্র জানোয়ারের নজর পড়েছে। ওদেরকে রক্ষার দায়িত্ব আপনার। শুধুই আপনার।
আপাতত এই পয়েন্টগুলি হজম করেন। 
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: উপরে ভগবান, ভিতরে শয়তান - এদের দংশন প্রাণঘাতী হয়ে থাকে।
.................................................................................................
আমাদের দেশে এর কমতি নেই,
সাহস থাকে তো নাম বলে দিন
আরেকটি জনবিস্ফারন আসুক !!!