| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাওলানা এনায়েত উল্লাহ
আমি আল্লাহকে ভালোবাসি
সিদ্দিক আলম দয়াল/ফিরোজ আমিন সরকার, ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে: বিএসএফের গুলিতে নিহত ১৯ জনের পরিবারে কান্না থামেনি এখনও। ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা অসহায় এ পরিবারগুলো তাদের শিশুসন্তানদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বজনদের হারিয়ে তারা দিশাহারা। কোলের সন্তানের কষ্টের কথা ভেবে মরতে গিয়েও পারেনি হতভাগা এক মা। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার সীমান্তজুড়ে মানুষের আহাজারি। আর কত রক্ত দিতে হবে বিএসএফের গুলিতে- এ প্রশ্ন মোহাম্মদ আলমের স্বজনদের।
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা। তিন দিকে ভারতীয় সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়া। সারাক্ষণ বিএসএফের টহল। সন্ধ্যার পর জ্বলে ওঠে সার্চ লাইট। ভারতী টর্চের ঝকঝকে আলোয় বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অনেক গ্রামের মানুষ ভয়ে চলাফেরা করতে পারে না। আবার কারও কারও সয়ে গেছে। কুলিক নদী দু’ভাগ করে দিয়েছে দু’দেশ। ভারত-বাংলাদেশ। নদীর পাশ দিয়ে সীমান্ত পিলার। কাঁটাতারের এপারে নোম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয়দের অবাধ যাতায়াত আছে। কিন্তু বাংলাদেশীদের জন্য নোম্যান্স ল্যান্ড হারাম। সারাক্ষণ সশস্ত্র অবস্থান বিএসএফের। সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দুই বাংলার চোরাকারারিদের সখ্য গড়ে ওঠে। দিনে-রাতে সীমান্তের ওপারে অঘোষিতভাবে ভারতীয়দের গরু বিক্রির হাট বসে। ফোনে ফোনে দাম ঠিক হলে পারাপারের ব্যবস্থা। ওপারের গরু ব্যবসায়ীরা কাঁটাতার পার করে দিয়ে খালাস। আর এ গরু আনতে যায় এপারের গরু ব্যবসায়ীর দালাল বা লেবাররা। তারা প্রতি সীমান্ত থেকে এনে হাতবদল করলে মজুরি পায় গরুপ্রতি ১ হাজার টাকা। আর এদের নেপথ্যে থাকে গডফাদাররা। তারা থাকে আড়ালে।
সীমান্তের এপার ওপার দু’পারের মানুষ গরু ও চোরাকারবারিদের নাম-ঠিকানা জানলেও মুখে বলতে সাহস পায় না। আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ে লাহিনী গ্রামের গডফাদার মোহাম্মদ আলী, নয়ন আর লিপটনের মতো অনেকেই। আর এদের ১ হাজার টাকার জন্য বিএসএফের গুলিতে জীবন বলি হয় ফারুকের মতো দরিদ্র যুবকের।
নোম্যান্সল্যান্ড থেকে গরু আনতে গিয়ে অথবা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের জমিতে কাজ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত শতাধিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন বিএসএফের গুলিতে। কয়েক দিন আগে জমিতে কাজ করতে গিয়েছিল রতনাই মারাধার গ্রামের আবদুর রহিম তার ছেলে আবদুল খালেক চোখা। ছেলেকে বিয়েও দেন বছর দুই আগে। সংসার সুখেই কাটছিল। কিন্তু পিতার আদেশ মানতে গিয়ে জমিতে কাজ করতে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খালেকের বুক ভেদ করে বিএসএফের গুলি। সেখানেই মারা যায়। তারপর লাশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় সীমান্তের ওপারে। বিএসএফের গুলিতে স্বামী খালেকের মৃত্যুর খরব শুনে নতুন বউ তোইমা বেগম অজ্ঞান হয়ে যান। কোলের শিশু সন্তান কাদেরকে নিয়ে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি ক্যাম্পে যায়। পতাকা বৈঠকের পর রক্তাক্ত লাশ হাতে পায় তোইমা। একই ভাবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় বেউঝাড়ি জাফরতলি গ্রামের আকবর আলী, দাড়াতুন মিয়া, রতনাই কাশিবাড়ি গ্রামের ইসমাইল মিয়া, মোহাম্মদ আলম, রতনাই মরাধার গ্রামের ইসলাম মিয়া।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড কমেনি। আরও বাড়ছে। কথায় কথায় গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়। তিনি জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বেউরঝাড়ি সীমান্তে ফারুক হোসেন, আনছার আলীসহ ৭ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বলা হয় এরা গরু ব্যবসায়ী। ফারুক নিহত হওয়ার পর তার পরিবারে নেমে এসেছে মহাসঙ্কট। বেঁচে থাকলে কামাই করে বউ, মা-বাবাসহ সকলের খাবার জুটতো। কিন্তু তার বাবা-মা সবাই আছে এখনও স্ত্রী সাহেরা বেগমসহ কারও পেটের ভাত যোগাড় হয় না ।
অবশেষে জীবন বাঁচাতে সাহেরা নিজেই অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করেন। খালেকের মতো ইসলাম, মোহাম্মদ আলমের বাড়িতে গিয়ে বোঝা যায় কি অবস্থা তাদের। সাংবাদিক এসেছে শুনে বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে নিহতদের কারও ঘরে কোন ছবি নেই । ওই এলাকার লোকজন সাংবাদিকদের বলেন, গত ১ বছরে অন্তত ১৯ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সীমান্ত বৈঠক হয়েছে শুধু লাশ ফেরৎ দেয়ার জন্য। তারপর রক্তাক্ত গুলিবিদ্ধ লাশ আসে বাংলাদেশের মায়ের কাছে। স্বজনদের হাতে। কিন্তু সীমান্ত হত্যার বিচার হয়নি ।
গুলিতে নিহতদের নাম কোথাও লেখা নেই। তাদের হিসাবও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগ্রহ করতে হয় অথবা স্থানীয়দের কাছে সংগ্রহ করতে হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা নামগুলো মনে রাখেন তবে দিন-তারিখ নয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর পর নিহতের পারিবার ও গ্রামে শুরু হয় স্বজনদের আহাজারি। গ্রামজুড়ে শুধু কান্না আর কান্না। মাত্র সামান্য সময়ের মধ্যে এ ১৯ জনের মৃত্যুর পর ঠাকুরগাঁও সীমান্তের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক আর কান্না। আবার কবে কখন লাশ হতে হয়। এ অবস্থায় বাড়িঘর জমিজমা বিক্রি করে অনেকেই জীবন বাঁচাতে সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যেতে চান। কিন্তু জমির ক্রেতা নেই। তাই প্রাণ দিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত
কপি পেস্ট
Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:০২
হাওড়ার যোগী বলেছেন: বন্ধু দেশের গুলিতে বাংলাদেশী মর্ছে-তার জন্য আহাজারী করা মানেই আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি!