| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কেনাকাটা শেষ করেই ক্যাশ পেমেন্ট
করে বের হয়ে যাচ্ছে সনি,
পিঁছন থেকে ম্যানেজার ডাক দিলেন
ম্যাডাম আপনা ফোন রেখে যাচ্ছেন।
ম্যানেজারের ডাকে পিছনে ফিরে
সনি দেখে ম্যানেজারের হাতে
একটা মোবাইল।
কিন্তু সনির মোবাইল তো সনির সাথেই আছে,
ওটা কার ফোন?
সনি মনে মনে ভাবল যার ফোন
হবে হোক, অন্তত আমি নিয়ে গেলে
ফোনের মালিক ফোন দিলে মোবাইলটা ফিরেয়ে দিব।
এখন যদি মোবাইলটা আমি না নিয়ে যায়,
হয়তো ম্যানেজার সেটা ফোনের আসল
মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিবেনা।
মোবাইল হাতে নিতে দেরী নেই,
একটা কল আসল ফোনটা তে।
সনি রিসিভ করে কোন কথা বলার
সুজোগ পেলনা।
ওপাশ থেকে রাজীব খুব অনুনয় করে বলতে লাগল,
- দেখু, মোবাইলটা আমার একটু
আগে মনে হয় শপিং সেন্টারে
হারিয়ে ফেলেছি।
আপনি যেই হোন না কেনো,
আমার মোবাইলের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু ওটাতে আমার কিছু ছবি
আছে ওগুলো
খুব প্রয়োজন।
ছবি গুলো হারিয়ে গেলে
আমি আর ছবি গুলো জীবনে ও
ফিরে পাবনা।
দয়া করে আপনি মোবাইল রেখে
দিন,
শুধু ছবি গুলো
দিন প্লিজ।
সনি - অনেক হয়েছে থামুন, আমি চোর না।
& মোবাইল আপনি যেখানে হারিয়েছেন
ওখানেই আমি আছি,
এসে আপনার মোবাইল নিয়ে যান।
রাজীব - ধন্যবাদ ম্যাডাম,
জাস্ট টেন মিনিট।
আমি আসছি।
সনি লাইন কেটে মোবাইলের
স্ক্রীনের দিকে চোখ দিতেই
শিউরে উঠলেন,
একি আমার ছবি এই মোবাইলের ওয়ালপেপারে কেনো?
তাও আজ থেকে ১০ বছর আগের ছবি।
সনি ভাবতে লাগল এই ছবি তো আমি
এক মাত্র রাজীবকে দিয়ে ছিলাম,
চমকে গেলেন সনি।
এটা রাজীবের ফোন নাকি?
রাজীব আর সনি এক সময় দু জন
দু জনে খুব ভালবাসার মানুষ
ছিল।
দুর্ভাগ্যই বলতে হয় আজ রাজীবের
কোন খোঁজ সনির কাছে নেই।
এক আসমানের নিচে থেকে ও
আজ ওরা যোজন যোজন দূরে।
কথা গুল ভাবতে ভাবতেই
পাঁশ থেকে
রাজীব - এক্সকিউজ মি ম্যাডাম,
আমার মোবাইলটা !!!
সনি রাজীবের দিকে থাকিয়ে
প্রায় ভুত দেখার মতই চমকে
গেল,
একি !! এতো সেই রাজীব এই ১২ বছরে
একটু ও চেন্জ হয়নি।
ঠিক আগের মতই রয়ে গেছে রাজীবের
পুরো ফেইস।
আমি স্বপ্ন দেখছিনা তো ??
সনি মনে মনে ভাবতে লাগল।
রাজীব কোন কথা না বলে, সনির
হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে
হাঁটা ধরলেন,
সনি - এক্সকিউজ মি !
রাজীব - আমাকে বলছেন?
সনি - আপনার নামটা কি জানতে পারি?
রাজীব - কেনো?
সনি - রাজীব তুমি আমাকে চিনতে পারছনা?
রাজীব - হুম !! না চেনার কি আছে?
কিন্তু চিনে আর লাভ কি?
সনি - তা ঠিক, কিন্তু তোমার ফোনের
স্ক্রীনে ওটা কার ছবি?
রাজীব - জানিনা।
সনি - তাহনে ছবিটা স্ক্রীনে দিয়েছে কেন?
রাজীব - ছবির মানুষটা কে দেখতে ভাললাগে তাই।
সনি - বিয়ে শাদী করেছ,
ব্চ্ছা-কাচ্ছা কয়টা আছে?
রাজীব - নাহ, এখনো বিয়ে করিনি।
আজ থেকে ১৩ বছর আগে এক জন কে
কথা দিয়ে ছিলাম, আজীবন তার জন্য
অপেক্ষা করে যাব।
তাই আজো সেই অপেক্ষার প্রহর গুনে
পথ চেয়ে আছি।
সনি - কিন্তু আমিতো আর তোমার জন্য
বসে থাকিনি, আমার বিয়ে হয়ে গেছে।
রাজীব - আমি জানি?
সনি - তাহলে জেনে ও ??
রাজীব - হ্যাঁ।
দু'জনেই নিশ্চুপ
হয়তো তারা ফিরে যেতে চাইল
আজ থেকে সেই বারো বছর আগের
সেই দিনে।
কিন্তু নদীর জল অনেক দূর গড়িয়ে গেছে।
সনির নিজের মোবাইলে ফোন এল,
সনির হ্যাসবেন্ডের।
ফোনের টোন দু'জন কে সম্ভিত ফিরিয়ে
দিল।
রাজীব আর কোন কথা না বলে
ওখান থেকে চলে গেল।
অনেক বছর পর সনিকে দেখে
রাজীবের পুরোনো বুকের ব্যাথাটা
বেড়েই গেল।
পর দিন সকাল বেলা,
সনি মোবাইলে সনির আম্মু ফোন
দিয়ে জানাল,
দূর সম্পর্কের এক আত্বীয়
মারা গেছে,
আর সে আর কেউ নয় রাজীব চলে গেল
শত কষ্টের ভিড় থেকে মুক্তি নিয়ে।
অতিরিক্ত সিগারেট খাওয়ার কারনে
কাঁশির সাথে মুখ দিয়ে রক্ত
বের হয়ে রাজীবের মৃত্যু হয়েছে।
এভাবেই রাজীবেরা নিজের ভালবাসা বুকে ধরে রেখে চলে যায় নীরবে।
আসলে সনির মত মেয়েরা বুঝেনা,
এভাবে কেউ তাঁদের জন্য
নিজের ওয়াদা কখনো ভঙ্গ করেনা।
২|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:৩৪
অপ্রচলিত বলেছেন: ভালো লাগলো। +++
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৪
অর্থনীতিবিদ বলেছেন: রাজীবের জন্য কষ্ট লাগলো। পৃথিবীতে এমন অনেক ছেলে আছে যারা ভালবাসাকে সম্মান জানিয়ে সারা জীবন অপেক্ষা করতে পারে, নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারে। আফসোস! তাদের ভালবাসার মানুষগুলো কখনও সেটা বুঝতে পারে না আর বুঝতে চায়ও না।