| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দীর্ঘ দেড় মাস ধরে পরীক্ষা দিলাম। পড়াশুনা করেছিলাম পরীক্ষার আগের ছয় মাস। রকেট গতির পড়াশুনা। তখন বার বার বাবা বলতেন " এইভাবে আগে শুরু করতি তাইলে তো হইতোই। আমার আব্র একটা বদঅভ্যাস ছিল, জোরে জোরে পড়তাম। আমাদের বাড়ির টিনের চাল কাপিয়ে ফেলতাম। আশপাশের মানুষ গুলা মুগ্ধ নাকি বিরক্ত বুঝতাম না। যাই হোক পরীক্ষা দিলাম, পরীক্ষা সুরুর আগে থেকেই নামাজ পরা শুরু। আমাদের যে গ্রুপটা ছিল তারা প্রত্যেকেই এই নামাজ পরার ব্যপারটা অনেক সিরিয়াসলি নিয়েছিল। পুরাই নামাজি হইয়া গেলাম পরীক্ষার পর। সবসময় মসজিদে সকল ওয়াক্তে। হুজুর যখন মোনাজাত করতেন, আমি তখন কয়েকটা সাবজেক্টের নাম উল্লেখ করে আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করতাম। বিশেষ করে অংক, ইসলাম ধর্ম আর হিসাব বিজ্ঞান ( ইসলাম ধর্মে অবজেকটিভ একটু বেশি খারাপ হইছিল) । প্রত্যেক যোহর নামাজের পর মসজিদের তিন তলায় আমাদের গ্রুপটা বসতাম। জিকির করতাম।
অবশেষে আসলো সেই মহেন্দ্রখন দিন। রেজাল্ট দিবস...
নার্ভাস কাকে বলে, কত প্রকার, কি কি ?? ওই দিন টের পাইছি। সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা উদগ্রীব ভয়, কি না কি হয় !!!
যোহর নামাজ পড়ে আমরযার যার যার বাসায় চলে গেলাম এবং বিকাল ৩.৩০ মিনিটে সবাইকে স্কুল মাঠে থাকতে বললাম। আমি বাসায় এসে ভাত খাইছিলাম কিনা মনে নাই। আমি আব্বা, আম্মা। আম্মা তুক্তাক কাজ করছেন, আব্বা সকালের বাসি পত্রিকা নিয়ে আনমনে বসে আছেন। তার চোখেমুখে কৌতূহল। না জানি ছেলে কি করে। পাস করবে তো। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "কিরে কখন যাবি রেজাল্ট আনতে, আল্লাহই জানে কি কান্ড করছ তুমি।" বিছানার পাশে নিচের ফ্লোরে আমি চিত হয়ে শুয়ে আছি। আমার মাথার উপর মিল্লাত ফ্যান ঘুরছে। কখন যে ঘুমিয়া পড়লাম টের পেলাম না। হঠাৎ চোখ খুলে দেখি চারটা প্রায় বেজে গেছে। গুরি গুরি বৃষ্টি হচ্ছিল। মুখটা কোন রকম ধুয়ে দৌড় দিলাম স্কুলে। স্কুলে গিয়ে ধাক্কার মত খাইলাম। অনেকেই দেখি কাঁদছে, অনেকে মনমরা, অনেকে আনন্দে লাফাচ্ছে। এদিক ওদিক দেখলাম, হঠাৎ রনি নামে এক বন্ধু বলল, ভাই পাস করছেন
এই দিকে আসেন, আমি দেখছি পাস, এইবার আপনি দেখেন, আমি দেখলাম, রেজাল্ট পাইলাম, দিলাম লাফ খাইলাম পিছলা লাগলো প্যাঁক।
আহা !!! কি আনন্দ।
বাসায় এসে বাবাকে বললাম। উনার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। জামা পরে সোজা গেলেন স্কুলে। প্রধান শিক্ষিকার সাথে দেখা করলেন। আমার রোল নাম্বার দেখালেন, ম্যাডাম বললেন আপনার ছেলে তো ব্যবসায় শিক্ষা শাখাতে সবচাইতে ভাল রেজাল্ট করেছে। বাবা ডাইরেক্ট বললেন, আপা মশকরা করেন ? আপা বললেন, সত্যি, এই দেখুন !!! বাবা দেখলো, এক ফালি হাসি দিলো। আমি তার হাসি মাখা মুখ টা ম্যাডাম রুমের বাইরে থেকে দেখলাম। তারপর বাবা সোজা গেলেন মিষ্টির দোকানে। ১০ কেজি মিষ্টি কিনলেন, ৫ কেজি স্কুলে দিয়ে আসলেন, বাকি ৫ কেজি এলাকার বাড়ি বাড়ি বিলিয়ে দিলেন। বাবার যে কি আনন্দ...
আমার চাইতে বাবা বেশি খুশি ![]()
©somewhere in net ltd.