| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাতব্বর০১
ভালবাসুন নিজকে, ভালবাসুন সবাইকে, ভালবাসুন সত্যকে।
*******************************
এক প্রখ্যাত সাংবাদিক ডাক্তারদের
উদ্দেশ্যে লিখেছেন “ এই দেশের নিরানব্বই শতাংশ মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রাখেনা। গিয়ে দেখুন তারা আপনাদের সম্পর্কে কি বলে? প্রতিবছর এদেশের হাজার হাজার মানুষ পাশের
দেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য।
আপনাদের তবুও লজ্জা হয়না।”
- প্রিয় সাংবাদিক মহাশয়, আমাদের
লজ্জা করে আপনাদের তথ্য-উপাত্তহীন নিরেট বচন ।
এদেশের নিরানব্বই শতাংশ রোগী আমাদের উপর আস্থা না রাখলে তো আমাদের ডাক্তারদের মাছি মারতে হতো। আমাদের সরকারি হাসপাতালের মেঝেগুলো খা খা করতো।
বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে যে ডাক্তারেরা, তাদের না খেয়ে থাকতে হতো।
তবু স্বীকার করি এ দেশের অনেক মানুষ পাশের দেশে চিকিৎসা করতে যায়। এবং এও সত্য পাশের দেশ থেকে ফিরে এসে আবার আমাদের কাছেই চিকিৎসা নেয়।
এবং স্বেচ্ছায় খুশী হয়েই নেয়। ফিরে এসে তারা এও বলে “গেছিলাম, মনে করছিলাম ..... “। অর্থাৎ তাদের মোহভংগও হয়।
এখন এর জন্য আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত কিনা সেই সিদ্ধান্তে যাওয়ার
আগে আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর
জানতে হবে।
হে প্রিয় ইলেকট্রনিক সাংবাদিক, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই দেশী চ্যানেল দেখেনা। ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখে।
আপনারা কি লজ্জা পেয়ে আপনাদের
চ্যানেল গুলি বন্ধ করে দিয়েছেন?
নাকি আমরা কখনো বলেছি আপনাদের
লজ্জা পাওয়া উচিত? আমরা তো বরং আমাদের বৌ ঝি দেরই গাল
মন্দ করেছি। আপনারাও সভা ডেকে বলেছেন ভারতীয় চ্যানেল দেখানো বন্ধ হোক। আমরা তো কোনদিন বলিনি আইন করে এদেশের রোগীদের ভারত যাওয়া বন্ধ করা হোক।
এদেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতীয়
হিন্দি ছবি দেখে।
এদেশের বাংলা ছবি মৃত্যু মুখে।
আমরা বাংলা ছবির নায়ক,কুশীলবদের
লজ্জা পেতে বলিনি। বরং আমাদেরই
লজ্জা লাগে আমরা এরকম কেন?
এই দেশের অধিকাংশ তরুনী ইন্ডিয়ান ড্রেস কেনে হাজার হাজার টাকা দিয়ে। দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলি বোঝাই হয়ে থাকে ইন্ডিয়ান শাড়ি,পাঞ্জাবি,
থ্রি পিসে। কই আপনারাতো এদেশের বস্ত্র
ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনারদের
লজ্জা পেতে বলেন না? আপনারা বরং দোষ দেন এই দেশের মানুষের রুচি বোধের। দোষ দেন দেশাত্ববোধের।
এই দেশের মানুষ শুধু হেলথ টুরিজমই করেনা। তারা হানিমুনও করে বিদেশে।
যে জীবনে কুয়াকাটাই দেখেনি, নীল
গিরি দেখেনি সে বেড়াতে যায়
পাতায়া বীচে। কি বলবেন একে? আমাদের প্রকৃতি ব্যর্থ? প্রকৃতিকে লজ্জা পেতে বলবেন?আমাদের দেশে নিরাপত্তা নেই এই কি অজুহাত?
ভাই সাহেব, এই দেশের এক শ্রেনীর মানুষ
আছে যারা এই দেশে থেকেও এই দেশে নেই। তারা এই দেশের খাবার পছন্দ করেনা, এই দেশের এডুকেশন পছন্দ করেনা, কারিকুলাম পছন্দ
করেনা (ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে)। তারা এই দেশ নিয়ে কোন স্বপ্নও দেখেনা। আমি এদের অনেককেই দেখেছি তাদের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য
হলো তারা বিদেশে ‘সেটেল্ড’ হতে চায়।
আমরা কোন যোগ্যতায় এদের
চিকিৎসা দিয়ে আকৃষ্ট করবো?
আস্থা বা বিশ্বাসের কথা বলছেন?
এদেশের কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা।
এদেশের মানুষের নোবেল
লরিয়েটে বিশ্বাস নেই, এভারেস্ট
বিজয়ে আস্থা নেই।
আমরা ডাক্তাররা কিভাবে সবাইকে হঠাৎ
করে আস্থাশীল করবো?
বুকে হাত দিয়ে বলেন, আপনাদের কেউ
বিশ্বাস করে? সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ
রাখলে দেখবেন। এক মতিঝিলে ৫
মে হেফাজতের সমাবেশে কতজন মানুষ
মারা গেল সেই তথ্যটাই কেউ ঠিক
করে বিশ্বাস করাতে পারছেন না কাউকে।
না সরকার না মিডিয়া। এদেশের মানুষ
বরং বিশ্বাস করে চাদে ‘হঠাৎ দেখা সাঈদি’
কে।
হোমিওপ্যাথির মত অপবিজ্ঞান বছরের পর বছর চলে কোন কমপ্লেইন ছাড়া। আপনারাও মহা সমারোহে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। সর্পরাজ, জ্যোতিষ রত্নের সবচেয়ে বড়
প্রচারযন্ত্রও আপনারাই।
আপনারাই বলুন কার লজ্জা পাওয়া উচিত?
আপনাদের বলবার কেউ নেই। সেটাই সমস্যা।
কারণ এই সমাজের ক্ষমতার দন্ডটি আপনাদের হাতে। প্রচার যন্ত্রটি আপনাদের হাতে, স্বয়ং নেপোলিয়ন যেটাকে ভয় পেত।
আপনাদের গায়ে পোশাক নেই। আর আমাদেরও
দুর্ভাগ্য ‘রাজার পোশাক ‘ গল্পের সেই
বালকটির দেখা আমরা পাইনি যে আপনাদের বলবে “রাজা মশাই আপনি তো ন্যাংটা”।
এই দেশটা সবার আগে। দয়া করে এই
কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন।
আর কয়েকটি তথ্য কষ্ট করে জোগাড় করুন।
১. বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কত আর
জাপানের শিশু মৃত্যুর হার কত?
২. বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত?
আপনাদের প্রিয় পাশের দেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত?
৩. বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দুই দশক আগে কত ছিল আর এখন কত?
৪. বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রনের
বর্তমান অবস্থা কি? পাশের দেশের
কি অবস্থা?
৫. মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল
অর্জনে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবদান
কি আর অন্যান্য খাতের অবদান কি?
প্রশ্ন বেশী হয়ে যাচ্ছে?
আজ এ পর্যন্তই থাক।
তবে সব প্রশ্নের আগে আপনাদের
জানতে হবে একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের
অবস্থা নিরুপন করার মাপকাঠি বা প্যারামিটার গুলি কি?
এটা না জানলে উপরের প্রশ্নগুলিতেই আর যাওয়া হবেনা। আপনাদের নির্ভর
করতে হবে এডিশনাল এসপি মাসুদের কব্জির জোরের উপর। অথবা হসপিটাল ভাংচুর করা রোগীর স্বজনের বক্তব্যের উপর।
আফসোস শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই
আপনারা আক্রমনকারী সন্ত্রাসীদেরই বিশ্বাস করেন।
তারাই আপনাদের রেফারেন্স। তারাই আপনাদের শিরোনাম।
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫০
মাতব্বর০১ বলেছেন: apnar mone hoi lekhata pora sesh korar agei ga jala pura shuru hoia gese....ai jonno agamatha kuchi bujhenni.....lekhata abar monojug dia porar onurudh roilo......ki bujhaite chaichi bujhte parben.
২|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৬
আগুনে পাখি বলেছেন: লেখাটার সোর্স ফেসবুক। কিন্তু লেখাটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
যারা আমাদের ঐক্য সহ্য করতে পারে না তারাই আবোল তাবোল বকবে :/ এতে কান না দিলেও হবে
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১৩
মাতব্বর০১ বলেছেন: আগুনে পাখি বলেছেন ,যারা আমাদের ঐক্য সহ্য করতে পারে না তারাই আবোল তাবোল বকবে :/ এতে কান না দিলেও হবে ।shohomot
৩|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১৬
নিরবতার ঝি ঝি পোকা বলেছেন: আপনার অনুরোধ রাখলাম, তাই আবার পড়লাম, বোঝলাম-আপনি একজন ডাক্তার, কবিরাজ না। তবে পথে পথে যেমন হাতুরে ডাক্তাররা ওষুধ বিক্রি করে তেমন করে আপনিও বোঝাতে চাইলেন, ডাক্তার মানে কবিরাজ না। তবে আপনার বক্তব্য স্পষ্ট আপনি একজন বড় ডাক্তার, সার্টিফিকটেগুলো এ্যাড করে দিলে প্রমাণ সহ পেতাম আপকি কি চেক করে ডাক্তার না ডায়গনেষ্টিক ডাক্তার। কারণ তারা এটাও বলতে পারে না, চোখে না দেখলে অন্ধ হয় কিনা। এরজন্যও এক্সরে লাগে। অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন, এগুলো কি কুইজ। পুরস্কার কি কি আছে? পাঠানোর শেষ তারিখটা লেখা থাকলে হয়তো অনেকেই অংশগ্রহন করার সুযোগ পেত।
ডাক্তার সাহেব এটা সত্য যে অসুস্থ্য হলে মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। কিন্ত ডাক্তারদের এজন্য নিশ্চয় গর্ব করার কিছু নেই। কারণ দা কাচি বানানোর জন্য কামারের কাছেই যেতে হবে।
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:১৪
মাতব্বর০১ বলেছেন: আগুনে পাখি বলেছেন ,যারা আমাদের ঐক্য সহ্য করতে পারে না তারাই আবোল তাবোল বকবে :/ এতে কান না দিলেও হবে ।
৪|
২৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:১৩
দুরন্ত পথিক০৫ বলেছেন: @নিরবতার ঝি ঝি পোকা, আপ্নের এতো গা জ্বলে কেন?
নাকি ডাক্তারের নাম শুনলেই গা জ্বলা জন্মগত সমস্যা।
নাকি কলিকাতা হারবালের দালাল।
![]()
৩০ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:০৫
মাতব্বর০১ বলেছেন: আগুনে পাখি বলেছেন: যারা আমাদের ঐক্য সহ্য করতে পারে না তারাই আবোল তাবোল বকবে :/ এতে কান না দিলেও হবে ।
৫|
০২ রা মে, ২০১৪ রাত ১০:১০
সিফাত সারা বলেছেন: লজ্জা পাচ্ছি , পাওয়াই উচিত
৬|
০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৬
নিরবতার ঝি ঝি পোকা বলেছেন: শেষ দিয়ে শুরু হয় কি না জানি না। তবে গায়ে জ্বালা ধরেছে ঠিকই, তবে ডাক্তার আর সাংবাদিকের বিষয়টিকে নিয়ে নয়। সাংবাদিকদের প্রতি এত রাগ যখন তখন আজ থেকে টিভি দেখা বন্ধ করে দিন। কি হবে, তারা তো সব আবোল তাবোল বলে। তবে সাংবাদিকদের প্রতি সালাম এ কারণে যে, তারা অন্তত ডাক্তারদের মতো কসাই না। না না রাগ করবেন না, গরুর কাটার কসাই না, মানুষের পকেট টাকার কসাই। তাদেরই বা দোষ কি, শোনেছি, এখানে অনেক বাবার কালো টাকা সাদা হয় ছেলে মেয়েকে ডাক্তার বানাতে। পাপের টাকার ফল কি আর সোনা হয়। অবাক লাগে, দেড় বছরের শিশুটি যখন রাতে ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আসার পর রাত তিনটায় মৃত প্রায় তখন ডাক্তারকে ফোন দেয়ার পর বলে, ওষুধ খাওয়ান, এ্যাকশন শুরু হতে কিছুটা সময়তো লাগবে। তখন অবস্থা বেগতিত দেখে, হাসপাতালে নেয়া হলে, ডাক্তারের-ই জাত ভাই বলে, কোন কসাইয়ের কাছে নিয়ে ছিলেন। এখনও মহাখালী নিয়ে যান। সাংবাদিকরা ভুল করলে প্রতিবাদ জানিয়ে তার সমাধান করা যায়, কিন্ত ডাক্তারের ভুল চিৎসায় মারা গেলে, প্রতিবাদ করলে তারা সুষ্ঠু কর্মস্থল খোজেন। দুরন্ত পথিক০৫ জম্মগতভাবে কেউ গাড়ে জ্বালা নিয়ে জম্ম নেয় না। নাকি এটারও ওষুধ আছে আপনাদের কাছে। ঘরে আর যেতে হবে না, যারা জীবন আপনাদের কাছেই কাটিয়ে দিতে হবে। বলা যায়, না কুকুরের লেজের বিশ্বাস নেই। সিফাত সারা আপনি লজ্জা পেতেই থাকেন। আপনার লজ্জা পাওয়ায় উচিত।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৪
নিরবতার ঝি ঝি পোকা বলেছেন: লেখাটা পড়ে বোঝলাম আপনি একজন ডাক্তার, কবিরাজ না। তবে পথে পথে যেমন হাতুরে ডাক্তাররা ওষুধ বিক্রি করে তেমন করে আপনিও বোঝাতে চাইলেন, ডাক্তার মানে কবিরাজ না। তবে আপনার বক্তব্য স্পষ্ট আপনি একজন বড় ডাক্তার, সার্টিফিকটেগুলো এ্যাড করে দিলে প্রমাণ সহ পেতাম আপকি কি চেক করে ডাক্তার না ডায়গনেষ্টিক ডাক্তার। কারণ তারা এটাও বলতে পারে না, চোখে না দেখলে অন্ধ হয় কিনা। এরজন্যও এক্সরে লাগে। অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন, এগুলো কি কুইজ। পুরস্কার কি কি আছে? পাঠানোর শেষ তারিখটা লেখা থাকলে হয়তো অনেকেই অংশগ্রহন করার সুযোগ পেত।
ডাক্তার সাহেব এটা সত্য যে অসুস্থ্য হলে মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। কিন্ত ডাক্তারদের এজন্য নিশ্চয় গর্ব করার কিছু নেই। কারণ দা কাচি বানানোর জন্য কামারের কাছেই যেতে হবে।