নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

‌হানাহানি ছেড়ে দিন, কলম হাতে তুলে নিন

আলী আকবর ভুঁইয়া

লেখালেখি হোক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

আলী আকবর ভুঁইয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

মা, আমার পৃথিবী

৩১ শে জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৪:৪২

আমার মা, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। আমার মা, আমার স্বপ্নের পৃথিবী। আমার মা, সুন্দরের ভূবণ। আমার মা ফুলের বাগান। মা আমার চোখের মধ্যমণি। আমার মা, প্রেম ভালোবাসার আকর। আমার মা, আবেগ, অনুভূতি, রাগ, অভিমানের কেন্দ্রবিন্দু। ছোটবেলায় মায়ের সাথেই আমাদের যত রাগারাগি, রাগ, অভিমান আর ঝগড়া হতো। মা হাসিমুখে এসব সহ্য করেন। এ কারণেই বুঝি তার নাম হলো মা। মা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু। মা আমার, সোনার চেয়েও দামি, গোলাপের চেয়েও সুন্দর, হিরার চাইতেও মূল্যবান। মায়ের চাঁদমুখখানা আমার ভালোবাসার আরতি। মায়ের মুখ নিসৃত বাণী মধুর চেয়েও মিষ্টি। মায়ের হাসির কাছে মুক্তার ঝকমকে ভাব ম্লান হয়ে যায়। মায়ের মন রজনীগন্ধার মতো সাদা। মায়ের চোখে থাকে বঙ্গোপসাগরের গভীরতা। সে গভীর চোখ দিয়ে মা সন্তানদেরকে পর্যবেণ করে থাকেন। সে কারণেই বুঝি সন্তানের চোটখাট জিনিসও মায়ের চোখ এড়িয়ে যায় না। মা হলেন ঘরের সৌন্দর্য। মা না থাকলে ঘরের শোভা থাকে না। কথায় আছে, মা নাই গৃহে যার সংসার অরণ্য তার, দেখিলে মায়ের মুখ, মুছে যায় সব দুঃখ। খাটি কথা বটে। যে সন্তানের মা নাই তার কোনো ঈদ নেই। তার জীবনে প্রকৃত কোনো আনন্দই নেই।

আমার মা আর দশটা মায়ের মত শিতিা নন। নিজের নামটি পর্যন্ত তিনি লিখতে পারেন না। নিরর, স্বারজ্ঞানহীন উন্নত, মার্জিত স্বশিতি একজন মানুষ হলেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিা না থাকলেও মা শিার কদর বুঝতেন। তাইতো সাত ছেলেমেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করেছেন। পড়ালেখার জন্য মা খুব কড়াকড়ি দিতেন। পাঠশালায় না গেলে ভাত বন্ধ করার হুমকি দিতেন। মাগরিব থেকে এশার আজান পর্যন্ত ছিল পড়ার রুটিন। সে রুটিনের নড়চড় মা পছন্দ করতেন না। আমরা সবাই কুপির আলো জ্বালিয়ে পড়তে বসতাম। মা পাশে বসে হাতপাখার বাতাস করতেন। এশার নামাজ পড়ে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। কারণ, ফজর হলেই যে আবার ঘুম থেকে উঠতে হবে। এটাই হলো আমার মায়ের শিা। এখনকার মায়েরাতো ছেলের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যাবে বলে সকালে ছেলেকে জাগাতে চান না। আমার মা এ সবের ধার ধারতেন না।

অল্প বয়সে মায়ের বিয়ে হল। নানারা ছিল অবস্থাসম্পন্ন পরিবার। বিয়ে হয়েছে টানাটানির সংসারে। নানার বাড়ির গোলা ভরা ধান পুকুর ভরা মাছ ছিল। বড় হয়ে মায়ের মুখে সে মাছের কত্ত গল্প শুনেছি। মাকে বাবার সাথে কোনোদিন রাগারাগি করতে দেখিনি। মা ছিলেন সাদাসিদে অল্পেতুষ্ট মানুষ। বেশি কথা বলতেন না। বেশি কথা বলা পছন্দও করতেন না। সব সময় চুপচাপ থাকতেন। বসে বসে কি যেন ভাবতেন। কি যেন চিন্তা করতেন আনমনে। নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেন। ছেলেমেয়েদের জন্য দোয়া করেন।

মায়ের ছিল দু’টি মাত্র শাড়ি। খয়েরি আর বেগুনি রঙের। ছোটবেলায় মাকে দেখতাম খয়েরি আর বেগুনি রঙের শাড়ি দু’টি পরতেন। সে শাড়ি দু’টিতে আমরা মুখ লকাতাম। কান্না করলে মা শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দিতেন। ঘুম থেকে উঠলে মায়ের আঁচলে চোখ মুছতাম। মায়ের এখন অনেক শাড়ি। পরে কুল করতে পারেন না। ঈদের সময় মা অন্য অভাবীদের মাঝে তা বিতরণ করেন।

মা ছিলেন নানীর প্রথম সন্তান। আদরে বড় হয়েছেন মা। টানাটানির সংসারে এসে মা যেন অকুল সাগরে হাবুডুবু খেতে লাগলেন। একে একে সাত ছেলেমেয়ের লালন পালন করতে মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। একথা যখন লিখছি তখন আমার চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে। হে আল্লাহ, তুমি আমার মাকে মাফ করে দাও। আমার মায়ের উপর রহম করো। আমার মাকে বার্ধক্যের কষ্ট থেকে মুক্তি দাও। মাকে দীর্ঘ হায়াত দান করো। যেন মায়ের সেবা করে আমরা যাতে জান্নাত অর্জন করতে পারি। মা যেন জাহান্নামের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। মায়ের গোমড়া মুখ আমি দেখতে চাইনা। মায়ের হাসিমুখ দেখে বাকী জীবন কাটাতে চাই। ইট পাথুরে শহরের মানুষগুলো যেন দয়ামায়াহীন। অধিকাংশকেই আমার মানুষ বলেই মনে হয় না। এদের ভেতর কিছু মানুষ আছে স্বচ্ছ, নির্মল ও পবিত্র হৃদয়ের। তাই শহুরে জীবনে বসে বসে মায়ের কথা ভাবি। গভীর রাতে আকাশের তারার সাথে মায়ের গল্প বলি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.