| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এম ডি মুসা
আমি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নই। আমি কোন কবিও নই।কবিতা লেখি, শখের বিষয়। জানি ছন্দ জানি মাত্রা এই নিয়ে আমার পথ যাত্রা।। কুসংস্কার এবং অন্যায় বিরুদ্ধে সোচ্চার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমার বুকের ভেতর মজুদ করা।
সভ্যতার বিকাশ, সমাজের রূপান্তর এবং মানুষের আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে শিল্প ও সাহিত্য এক অবিনাশী চালিকাশক্তি। একটি জাতির মননশীলতা কেমন হবে, তার নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ় তা নির্ভর করে সেই জাতির সাহিত্যচর্চা ও সংস্কৃতির সুস্থতার ওপর। বর্তমান সময়ে আমাদের সংস্কৃতিচর্চা, টেলিভিশন নাটক, চলচ্চিত্র এবং সামগ্রিক প্রকাশনা অঙ্গনে একধরনের স্থবিরতা ও অসামাজিক, রুচিহীন সংস্কৃতির অতিরিক্ত প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অবক্ষয় রোধ এবং শিল্প-সাহিত্যে এক যুগপৎ নবজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী প্রস্তাবনা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
নিচে এই ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার আলোকে শিল্প ও সাহিত্যের সার্বিক উন্নয়নের ওপর একটি বিশদ আলোকপাত করা হলো:
১. টিভিতে নাটকের স্ক্রিপ্ট বইমেলায় প্রকাশিত গ্রন্থনির্ভর করা
টেলিভিশন নাটক আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অথচ আজকাল মানসম্মত চিত্রনাট্যের অভাবে নাটকের মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে। নাটক যদি বইমেলায় প্রকাশিত মানসম্মত উপন্যাস বা গল্পগ্রন্থ থেকে রূপান্তরিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে তা একদিকে যেমন নাটকের সাহিত্যমূল্য বাড়াবে, অন্যদিকে লেখকদের বই প্রকাশে উৎসাহিত করবে। এর ফলে টিভি নাটক সস্তা বিনোদনের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও সংস্কৃতির দর্পণ হয়ে উঠবে।
২. চলচ্চিত্রে সাহিত্যনির্ভর কাহিনীর আবশ্যিক ব্যবহার
সিনেমার শক্তি তার শক্তিশালী গল্প ও চিত্রনাট্যে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলোর অধিকাংশই সাহিত্যকর্মের সফল সেলুলয়েড রূপায়ন। আমাদের চলচ্চিত্রে গল্পের মৌলিক সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশের প্রথিতযশা ও উদীয়মান লেখকদের প্রকাশিত উপন্যাস বা গল্পের অন্তত ৯০ শতাংশ গল্প থেকে চিত্রনাট্য গ্রহণের নিয়ম চালু করা উচিত। এতে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাহিত্যিকদের মাঝে একটি মেলবন্ধন তৈরি হবে, যা রূপালী পর্দায় সুস্থ বিনোদনের ধারা ফিরিয়ে আনবে।
৩. গণমাধ্যমে কবিতা আবৃত্তি বাধ্যতামূলক করা
কবিতা হলো মানুষের অন্তরের গভীরতম অনুভূতির শিল্পিত প্রকাশ। অথচ আধুনিকতার জিগির তুলে গণমাধ্যম থেকে কবিতার চর্চা দিন দিন সংকুচিত করা হচ্ছে। রেডিও ও টেলিভিশনের মূলধারার অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কবিতা আবৃত্তি বাধ্যতামূলক করা হলে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কাব্যানুরাগ ও ভাষার প্রতি মমত্ববোধ জাগ্রত হবে। এটি তরুণ প্রজন্মকে শুদ্ধ উচ্চারণ, মার্জিত রুচি এবং সৃষ্টিশীলতার দিকে ধাবিত করবে।
৪. ছন্দ-মাত্রার সঠিক চর্চা ও মুক্তছন্দের আধিক্য রোধ
সাহিত্য মানেই শৃঙ্খলা ও সুষমার মেলবন্ধন। অতি-আধুনিকতার নামে ছন্দহীন, এলোমেলো গদ্যকে কবিতা বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আজ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত এবং অক্ষরবৃত্তের মতো সুনির্দিষ্ট ছন্দ, মাত্রা ও মিলের ওপর জোর দিয়ে লেখালিখি করা জরুরি। মুক্তছন্দের নামে অগোছালো লেখার আধিক্য থেকে অন্তত পঁচানব্বই শতাংশ বেরিয়ে এসে ছান্দসিক ও পঙক্তিমালা নির্ভর পরিশীলিত সাহিত্য চর্চায় ফিরে যাওয়া উচিত।
৫. মৌলিক লেখার গ্রহণযোগ্যতা ও সৃজনশীলতার সৃষ্টি
অনুকরণ বা পরমুখাপেক্ষিতা কোনো জাতির সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারে না। বিদেশি সাহিত্য বা অন্ধ অনুকরণ বাদ দিয়ে আমাদের নিজস্ব মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে মৌলিক লেখার চর্চা বাড়াতে হবে। মৌলিক লেখার প্রকৃত মূল্যায়ন ও গ্রহণযোগ্যতা সমাজ ও রাষ্ট্রে নিশ্চিত করা গেলেই কেবল প্রকৃত সাহিত্যিক ও মানসম্মত সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব।
৬. সরকারি উদ্যোগে নতুন লেখক সৃষ্টি ও প্রতিবছর ১০০ বই প্রকাশ
নতুন ও উদীয়মান লেখকদের মেধা বিকাশের পথ সুগম করতে রাষ্ট্রের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ১০০ জন নতুন লেখকের ১০০টি মৌলিক বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ তরুণ প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক ও কবিদের আত্মপ্রকাশের পথ প্রশস্ত করবে এবং মেধাবী লেখকদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেবে।
উপসংহার
শিল্প ও সাহিত্যের এই যুগপৎ আন্দোলন সফল করতে হলে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা, গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা এবং লেখক-শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। একটি জাতির সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ড মজবুত না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন হোঁচট খায়। তাই সুস্থ ধারার সাহিত্য এবং প্রতিভাবান লেখকদের মূল্যায়ন করার মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ আজ সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি।
স্লোগানঃ ভালো লেখা বা লেখকের জন্য অপেক্ষায় জাতি।
মোঃ মুসা গাঙচিল। শশীভূষণ চরফ্যাশন ভোলা।
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৮
এম ডি মুসা বলেছেন: বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
২|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৩
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন- সহমত
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৮
এম ডি মুসা বলেছেন: এই আন্দোলন খুবই জরুরি!! সাহিত্যের হীনমন্যতা সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প নেই।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দেশে এখন কি সাহিত্য চর্চ্চার পরিবেশ বিরাজ করছে ???
..............................................................................
তাহলে মোল্লাদের আফগান সাহিত্য জানতে হবে ।