| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশকে যে কারনে ভাল লাগেঃ
১/ মায়ের দেশ, বাবার দেশ, ভাইয়ের দেশ, নিজের দেশ যেখানটায় আমি বেড়ে উঠেছি, যার প্রতিটি ঋতু আমাকে আন্দোলিত করে। মায়ের দেশের গ্রামের রাস্তার কথা মনে হলে পৃথিবীর সবচাইতে আকর্ষণীয় স্থান ও কিছু মনে হয় না। তার মাটির গন্ধে মন পাগল পারা, ফুল ফলের মহনীয় আকর্ষণ আরও কত কি? যে খানে আমি দৌড়ে খেলে, বেড়িয়ে, আদরে আর শাসনে বড় হয়েছি, সেটা ভাল না লেগে উপায় আছে? সেটা কারো সাথে দুলনা হয় না। মা এবং দেশ নিয়ে কোন তর্ক চলে না।
২/ অন্তত লাইফটা প্রেসার কুকার লাইফ না। সময় চেজ না করেও দিন চলে যায়। অফুরন্ত সময় পরিবার আর বন্ধুদের দিবার। হাজার Flexibility র দেশ বাংলাদেশ। আরাম আয়েশের কোন কমতি নাই। বোরিং হবার উপায় নাই। ক্লান্তি পেলে অনেক উপকরন আছে সতেজ হবার।
৩/ একটু অবস্থাপন্ন হলে, নিজের কাজ আরেকজনকে দিয়ে করানো যায়। এটাতে বিলাসিতা ফুটে উঠলেও কর্ম সংস্থান চিন্তা করতে হবে। এই সুবিধা গুলো আছে বলেই অভাবীরা কিছু করে খেতে পারছে। তবে তাদের মূল্যায়নের প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকে অবশ্য এই কথায় এসে একটু কচলানোর চেষ্টা করবে। নিজের কাজ নিজে করতে চাইলে বাংলাদেশে বসেও করা যাবে, কেউ মানা করবে না। কেউ বসে না খেলেই হোল।
৪/ সিস্টেম না থাকাতে অনেক কিছুর মত বাসা ভাড়া নিবার সিস্টেম অনেকটা সহজ, বাইরের দেশের মত Complex and buerucratic না। .
৫/ ধর্ম কর্ম সহজ। পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ। মসজিদে আজান হয়। সেটা নতুন কিছু না কিন্তু বাইরে থাকলে সেই আজান শুনার জন্য মন কাঁদে। তারপরেও ইসলামিক চর্চা যথাযত হয় না। একটু ধার্মিক হলে মানুষ তাকে নিয়ে বিভিন্ন টিপ্পনী কাটে। সবার মাঝে প্রগতিশীল হবার প্রতিযোগিতা। প্রগতিশীল মানে যদি ধর্মকে রক্তাত্ত করা, তাহলে আমার আপত্তি আছে। প্রগতিশীলতা অনেক ভাল ভাবেও চর্চা করা যায় বলেই আমি মনে করি।
৭/ সবকিছুই হাতের কাছে পাওয়া যায়। টাকা থাকলে দেশে বাঘের চোখও ড্রয়িং রুমে সাজিয়ে রাখা যায়।
৮/ একটু চেষ্টা করলে ভাল ভাল কাজ করা যায়। যেমন, রক্তদান, দারিদ্রের কর্মসংস্থান সহ অনেক কিছু।
৯/ সবচেয়ে বড় যেটা, নিজের দেশে একটা সোশ্যাল লাইফ আছে, সোশ্যাল রিকগনিশন আছে, বাইরে যে যত কাবিলই হউক না কেন, কে কাকে চেনে?
১০/ দেশের খাবার অমৃত। বাইরে থাকলে এইসব অনেক মিস করা হয়। কিছু করার থাকে না।
১১/ চাইলেই আমরা নিজ নিজ স্থানে অনেক অবদান রাখতে পারি, দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা
১২/ দেশ দেশই! যে যাই বলুক, নিজের দেশে থাকতে পারার যে আনন্দ সেটা কোথাও গিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়। হতে পারে অনেক টাকা অনেক অনেক কিছু পাওয়া যায় কিন্তু সেই স্বাদ যা মনে আর মুখে লেগে থাকে, সে কি করে পাওয়া যাবে সেখানে।
দেশের সমস্যা যেটা মানুষ অহরহ বলে থাকেঃ
১/ সিস্টেমেটিক আইন, নিয়ম-কানুন নাই, শুধু বক্রতা। সোজা আঙ্গুলে ঘি কখনও উঠে না। আইন যা আছে, যথাযত প্রয়োগ নাই। ইচ্ছামাফিক চলে সব কিছু। যোগ্যতার মূল্যায়ন হয় না বেশির ভাগ জায়গায়।
২/ উন্নত রাস্তা ঘাট, মাঠ, পার্ক, ট্রাফিক সিস্টেম, Fastest Public Transport, Online Database নাই। এইসব নাগরিক জীবনের মুল চাহিদা। এইসন না থাকাতে মানুষের অনেক অবর্ণনীয় কষ্ট হয়। আজ পর্যন্ত আমরা ১৬ কোটি মানুষের একটা ডাটাবেজ করতে পারলাম না। অথচ আমাদের দেশের IT Expert রা বাইরের দেশে অনেক কিছু করে ফেলছে। তাদের দোষ নেই। সরকার সমূহের দায়িত্ব ওদের কাজে লাগানো।
৩/ যার কাজ কিংবা ব্যাবসা নাই, তার কোন সাপোর্ট ও নাই। সবাই বেকার বেকার করে তাকে আরও মানুষিক রগি বানিয়ে ফেলে। Odd Job/Part Time কাজ করার সুবিধা তেমন নাই।
৪/ বাচ্চাদের জন্য সরকারী সুবিধা অপর্যাপ্ত। যাও আছে সেখানেও লুটপাট চলে। স্কুলিং একটা বড় সমস্যা। সবখানে ধরাধরি, টাকা পয়সা আদান প্রদান ছাড়া ভাল কিছু সম্ভব হয় না।
৫/ সোশ্যাল সিকিউরিটি বলতে তেম্ন কিছু নাই। অহরহ দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রতিকার নাই, শাস্তি নাই। এখানে পুলিশকে কেউ সন্মান করে না। না করার অনেক কারন আছে। যে একবার থানায় যাবার সইভাজ্ঞ হয়েছে সে জানে কত ঘা হলে ছাড় পাওয়া যায়।
৬/ লিখাপড়ার সিলেবাস ভাল, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সিস্টেমেটিক না হওাতে সমস্যা হয়। তাওপরেও আমাদের লিখাপরা আমি কখনই খারাপ বলব না। আমরাই দেশের বাইরে এই লিখাপরা দিয়েই সব কিছু করছি। সিস্টেমেটিক হলে Recognition Value অনেক বেশী হতো।
৭/ শিক্ষা ব্যাবস্থায় রাজনিতিকরন আসলেই ভাল কিছু দিচ্ছে না। ছাত্র রাজনীতি আমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছে বহুকাল। তারপরেও ব্যাপারগুলো আরও নগ্ন হচ্ছে বলেই মনে হয়। যোগ্যতার মূল্যায়ন হয় না।
৮/ মানুষের ইনকাম অনুযায়ী খরচ বেশী। Inflation বেশী। মানুষ হাপিয়ে উঠে। তবে মানুষ মাত্রাতিরিক্ত খরচ ও করে। অযাচিত খরচ করে খাবার আর লাক্সারির পিছনে।
৯/ নিত্ত প্রয়োজনীয় জিনিসে লোণ সুবিধা নাই বললেই চলে, শর্ত ব্যাপক থাকে। প্রয়োজনের সময় মানুষ যে সেবাটা দরকার তখন পায় না।
১০/ পকেটে টাকা থাক না থাক, মেহেমানদারীতে আমাদের শ্রেস্ট হতেই হবে।
১১/ উন্নত চিকিৎসা সেবার অভাব। ডাক্তার, ক্লিনিকের কমতি না থাকলেও সত্যিকার প্রফেশনাল হতে পারিনি আমরা। প্রায়শই দেখা যায় ভুল চিকিৎসা কিংবা অর্থলোভীদের কারনে ভাল মানুশের মৃত্যু বা ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।
১২/ রাস্তা ঘাটে লক্ষ্য লক্ষ্য ফকির, যাদের কাজে লাগানোর জন্য কখনও সরকারী উদ্দ্যাগ চোখে পরেনি।ফলাফলে, থুথু মেরে কিংবা সাপের ভয় দেখিয়ে ভিক্ষা বা সাহায্য আদায় অনেক বেশী চোখে পড়ে।
১৩/ সবচেয়ে বড় যে কন্সারন সেটা হচ্ছে নিরাপত্তা। কোথাও মানুষ নিরাপদ নাই। এই ছিনতাই, রাহাজানি, শ্লীলতাহানি, অপদস্ত, খুন, গুম, অপহরণ, ডাকাতি, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি সহ নানা প্রতিকূলতার মাঝে আমাদের দিন যায়। এইসবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তেমন কোন সাহায্য করতে পারে না বলেই দেখেছি।
১৪/ আরেকটা কারন দেখিয়ে মানুষ দেশ ছাড়ে সেটা হচ্ছে 2nd generation. বাচ্চারা নিরাপদ না। খেলার জায়গা নাই, বাইরে বের হতে পারে না, ভাল স্কুল ensure করা যায় না ইত্যাদি ইত্যাদি।
১৫/ চাকুরিতে discrimination এর স্বীকার হওয়া। নগ্ন তেলবাজি সর্বত্র। রাজনৈতিক প্রভাব। ব্যাবসায় ভাল লোকের অভাব। সবখানে লুটেপুটে খাবার প্রচেষ্টা। ভাল কিছু করতে চাইলে সম্ভব হয় না। হিংসা বিদ্বেষ লেগেই আছে। মূল্যায়ন নাই। চাকুরিদাতার ভাবখানা এইরকম যে উনি জমিদার আমরা উনার প্রজা। খারাপ মানুষের জয় জয়কার। সবাই কুতিল মানুষকে ভয় পায় আর সে সুজুগে ওঁরা অনেকের ক্ষতি করে ফেলে। আরও অনেক অনেক।
তারপরেও দেশ থেকে অনেকেই চলে যেতে চায়, কেউ পারে কেউ পারে না। যারা লিখাপড়ায় অগ্রগামী, তারাই এই সুবিধা নিতে পারে, অন্যরা তেমনটা পারে না। বিদেশ আসা খুব কঠিন কিছু না কিন্তু আমরা অনেকেই নিয়ম কানুন না জানাতে অনেক টাকা অপাত্রে খরচ করি। বাইরের জীবন আর দেশে থাকার জীবনের অনেক পার্থক্য। দুইটার সাথে কোন তুলনা হয় না। সব জায়গাতেই সুবিধা অসুবিধা থাকে। এডজাস্ট করতে হয়, সেটা যেখানেই হউক। আমি মানতে পারি না যখন কেউ বিদেশকে স্বর্গের কাছাকাছি নিয়ে যায়, আবার এটাও মানতে পারি না দেশের সবকিছু খারাপ। এটা যার যার Perception and context এর ব্যাপার। যদি কেউ ভাল থাকে, সেটা যেখানেই থেকেই থাকুক না কেন, ভাল কথা। জীবন সব খানেই টেনে নিতে হয়। ক্লান্তি সব খানেই আসতে বাধ্য। ৩০ বছর বয়সে যা ভাবতাম এখন ভাবতে পারি না, নিশ্চয় ৫০ কিংবা ৬০ এ গিয়ে অনেক অন্যরকম ভাবব। এইটুকু জ্ঞান নিয়ে কথা বললে সমস্যা হয় না। অনেকের জীবন কষ্টের সেটা শুধু বয়ে টেনে নেওয়া। হার্ড টাইম যদি কপালে লিখা থাকে সেটা দেশ বিদেশ দুই জায়গাতেই সম্ভব। কেউ মেকি হাসে, কেউ জাহির করে আমি ভাল আছি, হয়ত অনেকে সত্যি ভাল আছে। জানি না সত্যিকার কে কেমন আছে?অনেক সময় দেশের মানুষ বাইরে থাকা মানুষগুলো কত কষ্ট করে, সেই সম্বন্ধে তাদের ধারনা থাকে না। তারা মনে করে বিদেশ মানে সুখ আর টাকা। সুখ তো আর ধার নেওয়া যায় না, টাকা ধার চাওয়াটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।দেশের মানুষও অনেক সময় কটাক্ষ করে বলে, জানি ওঁরা দেশের বাইরে কি করে খায় আর চলে? এটা বাড়াবাড়ি। বাইরে কাজের মূল্য আছে সেটা যে কাজই হউক। দেশে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের মানুষ মূল্যায়ন করে না করে, বিদেশে এই পেশায় আসার জন্য মানুষ দিন রাত ঘাম জরাচ্ছে। যাই হউক, কথা হচ্ছে, কোথাও সেটেল হওয়া দোষের কিছু না। আমাদের নিজেদের ৭ জেনারেশন ঘাঁটলেও দেখা যাবে আমারাও অরিজিন বাংলাদেশী না। হয়ত কেউ বিহার, কেউ কলকাতা, আসাম, কেউ বা দিল্লি, কেউ আফগান, পাকি কিংবা ইরান। আজ আমরা বাংলাদেশী, জন্ম দিয়েছে, তাই দায়টা বড্ড বেশী। সেটা আগের কিংবা পরের জেনারেশনের থাকতে হবে বলে কথা নেই। একেকজনের দায়ের একেক রকম দায়বদ্ধতা। কেউ পাত্তা দেয়, কেউ দেয় না, কেউ চায়, পারে না, কিংবা কেউ চায়ই না। নিজের দেশে যখন নুন্নতম সুবিধা নাই, বেঁচে থাকার গ্যারান্টি নাই সেখানে থেকে কি হবে? আবার, আমি পলিটিক্স ঘৃণা করি হিসাবে বেড়ে উঠে, পলিটিশিয়ানদের কাছেই আবার দেশ ঠিক করার আবেদন করি!! হ্যাঁ ব্যাপারটা অনেকটা বিপরীতমুখী। গায়ের কাদা আরেকজন কেন পরিস্কার করবে? কাদায় কাদায় কর্দমাক্ত আমি বলে উঠি আর না! আর পারি না! যে করেই হউক দেশ ছাড়তেই হবে। ছাড় বাবা সমস্যা নাই, যে দেশ তোমাকে জন্ম দিয়েছে, লালন করেছে, সে একেবারে কিছু দেয় নাই, সেটা ঠিক না। বাইরে থেকেও অনেক কিছু করা যায়। তাই বলে, সব খারাপের দেশ বাংলাদেশ, সেটা ঠিক না। কে কোথায় থাকবে সেটা মানুষের নিজের প্রচেষ্টা আর আল্লাহর ইশারা বলেই মনে করি। আক্রমন পালটা আক্রমনের কিছু নাই। সবাই সবাইকে রেস্পেক্ট করলেই মিটে যায়। দেশের স্বাদ একমাত্র দেশই দিতে পারে। কেউ থাকতে হবে কথা নেই, এটা মেনে নিলেই ভাল লাগে। তবে, দেশে কিংবা দেশের বাইরে একটাই প্রতিধ্বনি, দেশের মানুষ একটু শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, একটা স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেম চায়। আমরাই করব সব, শুধু একটা সিস্টেম আর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। যোগ্যতার মূল্যায়ন চাই, পলিটিক্সের ভিক্টিম হতে চাই না, ষড়যন্ত্রের স্বীকার হতে চাই না, ইত্যাদি ইত্যাদি। সবশেষে, আমি কি করব, আমি কোথায় থাকব, আমার রিজিক কথা থেকে আসবে, আমার সাথে কি কি হবে সব আল্লাহতালাই জানেন। আমার প্রচেস্তার উপরই ভাগ্য নির্ধারিত হতে বাধ্য।
# নিজের মায়ের দেশের সাথে কোন কিছুই তুলনা হয় না
©somewhere in net ltd.