| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যখন আমি মাধ্যমিকের ছাত্র, সবাই বলল science নাও, scope অনেক। নিলাম তাই। পড়ালিখার পোকা কখনও ছিলাম না। মনে আছে এখনও, একটু পড়েই ভাবতাম হয়ে গেছে। এই স্বভাব থেকে আর বেড়িয়ে আসা হয়নি। আমার মা আমার পিছনে লেগেই ছিল, সারাদিন বাইরে থাকলেও আমাকে বলতেন, বাবা তোমাকে দিয়ে হবে। একই সাথে পারিবারিক ব্যাবসার সাথে জড়িত ছিলাম। উপায় ছিল না। ব্যাবসা ছিল ডেইরি আর পোলট্রি। একটা ফিডের দোকান ছিল। নিজেদের ব্যাবসায় কখন ও বা একজন কর্মী আবার কখনও বা মালিক হিসাবে কাজ করতাম। কাজগুলো অনেক এঞ্জয় করতাম। বাবাকে হারিয়েছি উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার পরেই। সাথে সাথেই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন শেষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। কয়েকটা ফ্যাকাল্টিতে টিকলাম। সায়েন্স মাথায়, তাই চয়েস দিতে লাইনে দাঁড়ালাম। physics, chemistry ব্লা ব্লা। কি মনে করে লাইনের শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে আসলাম। নাহ! সায়েন্স পড়ব না। চলে এলাম। আমাকে গাইড করার কেউ ছিল না। এই প্রথম নিজে ভাবতে লাগলাম। মনে হোল ল পড়ি, এই করে করে শেষ পর্যন্ত বিবিএ। কেন মার্কেটিং চয়েস দিয়েছি সেটা আমার ছাত্ররা জানে। হেসে খেলে প্রানের শারটল ট্রেন আর খেলার মাঠেই কখন বিবিএ শেষ হয়ে গেল টের পেলাম না। এম,বি,এ দেওয়ার সাথে সাথে চারিপাশের (সমাজ বলে যাকে আমরা চিনি) মানুষ বলত, এইভাবে কি দিন যাবে? নিজেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয়? তবে, কি করতে হবে? এম,বি,এ করস, চাকুরি কর, ভাল করবে। চাকুরি শুরু করলাম, একটা দুইটা তিনটা চাকুরি করলাম এক বছরে। গেলাম HSBC. কিছু দিন ভাল লাগলেও কিছুদিন পর থেকে যন্ত্র অনুভব করলাম নিজেকে। কিন্তু ছাড়ার চেষ্টা করিনি। ওইটাকে কেন্দ্র করে এগুব ভাবছিলাম। কোন এক ঝড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সুজুগ হোল। আসি আসব না করছিলাম। সমাজ বলল যাও, যে বলা, এসেই গেলাম। এসে কি করব বুঝতে পারছিলাম না। মেহের স্যার আমাকে এমন কিছু কথা বলেছিল, যেটা যুক্তি দিয়ে কাউন্টার দেওয়া সম্ভব ছিল না। খুব বেশী কিছু জানা ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে কি কি করতে হয়। নিজেকে অনেক অযোগ্য মনে হতো, কাউকে কিছু বলতাম না। আমি যোগ্য কিংবা অযোগ্য, সেটা আমার ছাত্র ছাত্রীরা পরিমাপ করতে পারে, আর কেউ না। আর কেউ করলেও আমি বিশ্বাস করব না। এই জন্যই করব না, এই সমাজে বেশির ভাগ মানুষের একটা চোখ কানা। ছাত্ররাই আমার সবকিছু ছিল, দিতে চেষ্টা করেছি, পেরেছি কিনা জানি না। একদিন, নুরুল করিম স্যার আমাকে বলেছিল, সময় তোমাকে অনেক কিছু শিখাবে, তুমি টেরও পাবে না। আমি যতদিন বাচব, উনার এই সেই কথা ভুলব না। আসলেই সময় অনেক শিখিয়েছে। সেটা ভাল হউক কিংবা খারাপ হউক। তখন ভাবতাম, সারা জীবন মাস্টারি করব, তাই ভাল লাগছিল। আবার সমাজ এসে বাগড়া দিল। বলল, তুমি কি আদু ভাই থাকবে, পোলাপাইন পড়ালে শুধু চলবে, নিজেকেও আপডেট করতে হবে। তো, কি করতে হবে? উচ্চশিক্ষায় যেতে হবে। অনিচ্ছা সত্তেও চেষ্টা শুরু। UK, USA তে সুজুগ তৈরিও করেছিলাম, কিন্তু ব্যাক্তিগত কিছু কারনে করা হোল না। এরি মাঝে এম,ফিল শেষ করলাম। সমাজ তখন বলেই যাচ্ছে, না বাইরেরটা হলেই ভাল হতো। আমেরিকার অসফল মিশন শেষে আবার সেই সমাজ আমার উপর আরেক চোট নিল। আমি সেই চোট আর সময়কাল কখনো ভুলব না, ভুলার না। অনেকে অনেক মজা নিয়েছে। ভিতরে মজা পেয়ে উপরে মলম লাগানো মানুষ সম্বন্ধে জানলাম। আমি তখন মাস্টারিতে মজে ছিলাম, আমার সমস্ত devotion সেটাকেই কেন্দ্র করে। লোকালি PhD করতে চাইলাম, পারলাম না। একটা টাইটেল ১৭/১৮ মাস আটকে থাকলে ধৈর্য থাকে না। বাইরে একটি চেষ্টার ফসল স্বরূপ অস্ট্রেলিয়া। সমাজ বলল, একি করছ?, এইখানে আর কদিন পরেই নামের আগে ডঃ লাগাতে পারবে, কি দরকার সময় নষ্ট করার। সমাজের অন্য অংশ বলছিল যাও। গেলাম। এলাম অস্ট্রেলিয়া। ৬ই মার্চ ২০১০ থেকে আজ অবধি এইখানে। ইমিগ্রান্টের দেশ অস্ট্রেলিয়া। শত দেশের মানুষের মিলন মেলা। অনেকটা আমেরিকার মত। সুবিধা এখানে সবাই ইংরেজিতে কথা বলে যেটা আমেরিকায় অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠে না। PhD শেষের পথে, সমাজ বলছে থেকে যাও। দেশে আসলে একদিন আফসোস করবে। আমার যেই ছাত্ররা আমাকে দেশে ফিরতে বলত, তারাই বলে স্যার এখানে এসে আপনি পেরে উঠবেন না। বন্ধুরা বলে, কেন এই সুজুগ নিবি না। সহজ না ব্যাপার গুলো, তারপরেও ইমিগ্রান্ট country চাইলে কোন না কোন ভাবে দেরিতে হলেও হয়ত হবে। ব্যাপারগুলো complicated, অন্তত আমার কাছে।সমাজের আরেকটা অংশ বলছে, একটা Post Doctorate কর। ব্যাবসা প্রশাসনের ছাত্রদের এইসব সুজুগ তৈরি করা অনেক কঠিন, আর তা যদি হয় মার্কেটিং থেকে, কোন কথাই নাই। সমাজের কথা শুনতে শুনতে আমার কথা শুনার মানুষ নাই। এই চিত্র অনেকের সাথে মিলবে, কেউ বলে কেউ বলে না। যে যেটা করে, সেটা ডিফেন্ড করে, আর সেটাই স্বাভাবিক। Moral হোল, আমরা আমাদের মত চলতে পারি না। কোন না কোন কারনে আমরা দিক পরিবরতিত হই। অনেক দিন চলে গেলে মনে হয়, না, ওইটাই আমার জন্য ঠিক ছিল। তবে, আল্লাহর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ যে, সমাজের কারনেই করি আর নিজের ইচ্ছেতেই করি, আমি নিজেকে চাপমুক্ত রাখতে পেরেছি সব সময়। সব কিছু করেই লিখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। সময় লাগছে কিন্তু বিশ্বাস হয়ে যাবে। এই চলতি পথে যাদের সামান্য অবদানও আছে, তাদের সবার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া থাকলো। আর যারা ছোট খাট কাঁটা বিছিয়ে আমার পথকে একটু কণ্টকময় করেছিল, তাদের হেদায়েত কামনা করছি। কাঁটা বিছানো ঠেকলে মানুষ সাবধানে চলতে শিখে, তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশী থাকে। আলহামদুলিল্লাহ! যেখান পর্যন্তই আসছি, আর সামনে না গেলেও আফসোস থাকা উচিৎ না। আমার কোন যোগ্যতা না থাকার পরেও আল্লাহ হয়ত আমার বাবা-মায়ের দোয়ার কারনেই আমাকে অনুগ্রহ করেছে অনেক দিক থেকে। আমি সারাদিন সিজদায় পড়ে থাকলেও কম হবে। আল্লাহ সবাইকে ভাল রাখুক। আমীন!
#সোজা সাপটা # ২
©somewhere in net ltd.