| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
উপক্রমনিকা:
বরিশালের জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ত্ব, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৩ তে গো হারা সাবেক মেয়র, দশম জাতীয় সংসদের ১২৩ আসনের খয়রাতি এম.পি. জনাব শওকত হোসেন হীরনের মহাপ্রয়ানের পর বরিশাল-১২৩ আসনটি শূন্য হলে সেখানে উপ নির্বাচনে প্রার্থী হন হীরন জায়া জনাবা জেবুন্নেছা হীরন। খয়রাতি এমপির লজ্জা নিয়ে জনাব হীরন পারাপারে গেছেন বলেই কিনা তাঁকে নির্বাচনের মাধ্যমে জেনুইন এমপি বানানোর জন্য জনাব সাইফুল ইসলাম লিটন উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে গেলেও নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে তাঁর কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
প্রধান অঙ্ক:
সময়: ১৫ জুন ২০১৪
স্থান: বরিশাল সদর
উপ-নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রিজাইডিং অফিসার বললেন খেয়াল রাখতে যাতে করে কাষ্টিং ভোটের পরিমান ৩০-৩৫% এর মাঝে থাকে। যাই হোক সকাল ০৭:৫৫ মিনিটে বুথে প্রয়োজনীয় সামগ্রী যথা: ব্যলট পেপার, ভোট বাক্স, অমোছনীয় কালি, ওয়ান টাইম লক ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে আসলাম। বুথে উপস্থিত ছিল শুধুমাত্র সরকার দলীয় এজেন্ট। প্রথমেই একজন এজেন্ট এসে বলল স্যার আজকে সারাদিন কোন ভোটার আসবেনা। সারাদিন আমরা কয়েকজন মিলে ভোট দিব। কি সুন্দর আবদার! আমি না শুনার ভান করলাম। অপরদিকে আমাদের প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা ছিল জাল ভোট কিংবা ব্যলটে গণহারে সীল মারার সময় আমরা যেন নিজ হাতে কিছু না করি। মাঝে মাঝে কিছু চ্যানেলে দেখা যায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা পোলিং অফিসারগণ সীল মারে। এমনটি যেন না হয়। যা করার এজেন্ট, নেতা কর্মীরা করবে।
যাই হোক আমার বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৫৫ জন। সারাদিন আমার নিকট থেকে বৈধ ভাবে ব্যলট নিয়েছেন দুইজন। দুজনার কেউই গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন নাই। প্রথমজনের কথা বলছি। এসে পোলিং অফিসারের নিকট নাম ভোটার ক্রমিক নং বলেই আমার নিকট ব্যলট চাইল। আরেকজন পোলিং অফিসারকে আমি বললাম উনার আঙ্গুলে অমোছনীয় কালি লাগাতে। তিনি বললেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমার আঙ্গুলে কালি লাগানোর প্রয়োজন নাই বলিয়া প্রকাশ্যে ভোট দিয়ে চলে গেলেন। যাক ভোট নেয়ার নতুন নিয়ম শিখলাম। অবশ্য তিনি পরবর্তীতে অন্তঃত আরো দু’টি ভোট অন্যদের পক্ষে দিয়েছেন। দ্বিতীয় জনের কথা এবার বলা যাক। উষ্কু-খুষ্কু চেহারার একজন লোক এসে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানপূর্বক ভোট দিতে চাইলেন। তথ্যাদি যাচাই শেষে তাকে ব্যলট দেয়ার পর তাকে অনুরোধ করলাম গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিতে। তিনি তা না করে বললেন দলের জন্য অনেক করেছি কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাই নাই। তাই প্রকাশ্যে দলের এন্টি প্রার্থীকে ভোট দিব বলিয়া ভোট দিলেন।
কিন্তু ৮:০৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা না বললেই নয়। একজন এজেন্টের সাথে কয়েকজন নেতাকর্মী এসে বলল ব্যলট দেন, ভোট দেই। এ কথা বলে আমার কাছ থেকে ব্যলট বইটি কেড়ে নিয়ে তাতে সীল মারা শুরু করল। অনেক অনুরোধ করার পর দশটি পাতা রেখে অর্থাৎ ৯০ টি ব্যলটে সীল মেরে সেগুলো স্বচ্ছ (!) ব্যলট বাক্সে রেখে চলে গেল। ঘন্টাখানেক পর আবার এসে নতুন ব্যলট বইটি নিয়ে গেল। তাদেরকে বললাম আরে তোমরা তো এমনিতেই জিতবে। আর মারার দরকার কি? তারা বলল উপর থেকে নির্দেশ আছে অন্তঃত ৫১% ভোট যে করে হোক কাষ্ট করতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমার বুথে ২৫০ টি ভোট কাষ্ট হয়েছে, যার মধ্যে ২টি লিগ্যাল।
আরেকটি ছোট্ট ঘটনা। আনুমানিক ২৫ বছরের এক তরুণ আসল ভোট দিতে। ভোটার ক্রমিক নং জানেনা। জীবনের প্রথম ভোট দিতে আসল। সাথে নিয়ে এসেছে জাতীয় পরিচয়পত্র। আমার নিকট থাকা তালিকার কোথাও তার নাম পাওয়া গেলনা। জীবনের প্রথম ভোট দিতে না পারার তার মুখে আমি হতাশার ছাপ দেখলাম। তাকে বললাম এই তালিকায় আপনার নাম না থাকলে আমি আপনার ভোট নিতে পারবোনা। আপনি ভোট কেন্দ্রে এসেছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ছেলেটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবার কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে নিয়ে আসলো এবং অন্য একজনের নাম বলে তার ভোট ছেলেটিকে দিয়ে দেয়াল। আমি ছেলেটিকে বললাম একটু আগে আপনাকে যে ধন্যবাদ দিলাম সেটি আমি প্রত্যাহার করে নিলাম। অবশ্য ধন্যবাদ প্রত্যাহারে তার কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলনা। ব্যলট লুট করে গণহারে ভোট দেয়ার সময় একজন বলল কিছু ভোট টেলিভিশনে দে। ব্যাপারটা খারাফ দেখা যায়।
জাল ভোট এবং ব্যলট লুটের ঘটনা একটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা ম্যানের সামনে পড়ে। পরে তাকে (সাংঘাতিক) ২০০০ টাকা সম্মানি দিলে তিনি কোন ফুটেজ গ্রহণ না করে চলে যান।
তারপর বিকাল ৪:০০ তে ভোট বাক্স লক করে দিলাম। সবগুলো বক্স একত্র করে ভোট গণনা শুরু হল। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষনা করা হল। একটি রেজাল্ট শীট তারা নিয়মানুযায়ী নিয়ে গেল। যাওয়ার পথে তারা জয়ধ্বনি করতে লাগল। আমি নিশ্চিত এ জয়ধ্বনি গণতন্ত্রের বুকে শেল হয়ে বিঁধবে। তবে যাই হোক দিনশেষে কিন্তু গণতন্ত্রের বিশাল জয় হল বটে!
পরিশেষ: সারাদিন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার পর ২০০০ টাকা পেলুম। তার মাঝে ১০ টাকা অবশ্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হল। এর সাথে পকেট থেকে আরো ২০০ টাকা যোগ করে ২১৯০ টাকা দিয়ে নিকটস্থ বাটার সো-রুম থেকে এক জোড়া জুতো কিনে নিলাম।
যবনিকা।।
আমার রুমমেট কলিগ গত কয়েকদিন আগে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট এর উপর একটি স্পেশাল ট্রেনিং করে আসলো। তার সাথে অফিস শেষে হাসি-ঠাট্টা করার এক পর্যায়ে সে বলল আমি এখন এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট এক্সপার্ট। একদম এক্সপোর্ট করে দিব। আমি বললাম দে আমাকে এমন কোথাও এক্সপোর্ট করে দে যেখানে এ্যডমিরাল জেনারেল আলাদিনের গণতন্ত্র অনুপস্থিত।
২৩ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:১০
মুহাম্মদ তৌহিদ বলেছেন: অ্যাডমিরাল জেনারেল আলাদিনের রাজতন্ত্রের আমলে অন্তঃত ভোটের নামে প্রহসন হতনা
২|
২৩ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৭
ঢাকাবাসী বলেছেন: এর নাম বাংলাদেশ! সব হয়!
২৩ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:০৭
মুহাম্মদ তৌহিদ বলেছেন: ঠিক বলেছেন।
৩|
১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:১৮
খেলাঘর বলেছেন:
যে লোক মুক্তিযোদ্ধা বলে নিজকে দাবী জানায়ে ভোট দিয়েছিল, সে মুক্তিযো্ধা কখনো নয়; কোন মুক্তিযোদ্ধা কারো জন্য এমন ধরণের কাজ করবেন না; ঐ লোক খারাপ লোক ছিল; তাদেরকে দেশ থেকে বের করবো
১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:১০
মুহাম্মদ তৌহিদ বলেছেন: ওরা আসলে আসলে মুক্তিযোদ্ধা নয়। মুক্তিঝুদ্ধের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যায়ভাবে সুবিধা ভোগকারী।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৩০
আমিজমিদার বলেছেন: অ্যাডমিরাল জেনারেল আলাদিন ইন্দাহু মাদ্রেঁচদ্রেঁ!