| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সমুদ্র কন্যা
তিথি প্রীতিভাজনেষু, ঠিক এইরকমই একটা রাত, যার কৈশোর কেটে গেছে দূরন্ত অবহেলায়, এখন যার দূর্দান্ত যৌবন...তোকে দেয়া গেল। সঞ্জীবদার নিজের ছায়া, বাড়িয়ে দেয়া হাত, এবং তার নিরব হাতছানি উপেক্ষা করার অনিচ্ছুক সাহস- আর সেই ভলভো বাসটার দ্রুত চলে যাওয়া- দেখতে দেখতে অনেকটা পথ অতিক্রান্ত আজ! সময়ের দাবী বন্ধুত্ব আজ নিত্য অভ্যাস কিনা সে ভাবনা নিন্দুকের ঘাড়ে চাপিয়ে চল পেরিয়ে যাবো অবহেলার হিমালয়। কোন কথা আজ নয়, কারণ আমরা আজ জেনে যাবো আগের মত কিছু নেই। আজ গানের তালে হাওয়ার নাচ, বুকে স্বাধীনতার স্বপ্ন.....এইসবসহ বেরিয়ে যাবো সমুদ্র-স্নানে। মুক্তি আজ আমাকে ইশারায় অভিসারের আহবান জানাচ্ছে। একবার যদি সুযোগ পাই, আমিও আলিঙ্গন করবো মুক্তির স্বাদ। নীলাচলের পাদদেশে বাধা ঘরের ধারটায় আজ ফুটেছে অনেক রঙমাতাল অর্কিড আর তার খুব কাছে একটা মাত্র ক্যাকটাস! কিন্তু আমি আজ উপলব্ধি করি কাঁটা বাদ দিলে ক্যাকটাসের ফুলের তোড়ায়ও ভালবাসা হয়। একদিন বহুদিন পরে যদি একটা দিন আমার হয়, কথা দিচ্ছি সেই দিনটা তোদের...শুধু রাতটুকু আমার নিজস্ব। কারণ তোরাতো অন্তত জানিস, ভালবাসা পেলে-আর একবার যদি ভালবাসা পাই তাহলে আমি আকাশ ছুঁবো! কারণ বুকে আমার সাগরদোলার ছন্দ। তবুও ভাবনার গভীরে একটা অক্টোপাস এমনভাবে জড়িয়ে রাখে, আমি শ্বাস নিতে পারি না। তবুও জানি একদিন এই চাঁদের সঙ্গী রাতটার মত হারতে হারতে জিতে যাবো আমি, তুই, সে, তারা অথবা আমরা সবাই.......................
প্রতিদিন যখন ক্লাসে ঢুকি শুনি বাচ্চারা ক্রমাগতই হিন্দী সিনেমা, নায়ক-নায়িকা, কার্টুন ক্যারেক্টার নিয়ে গল্প করে যাচ্ছে। এমনকি খুব সাবলীলভাবে হিন্দী বলেও তারা। ১৪ই ডিসেম্বর ক্লাসে ঢুকে বাচ্চাদের নাম ডাকলাম, পিছন ফিরে বোর্ডে তারিখ, উপস্থিত-অনুপস্থিত লিখছি আর শুনছি ওরা গল্প করছে 'কে রা-ওয়ান, কে জি-ওয়ান' সেসব নিয়ে। আমি ঘুরে খুব ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ১৪ই ডিসেম্বর দিনটা সম্পর্কে কে বলতে পারবে। কি হয়েছিল ওই দিনে?
তারা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। তারপর একজন বলল, আজকে ভিক্টরী ডে। আর এরকজন বলল, বড়দিন। আমি ওদের এ্যাসাইনমেন্ট দিলাম যেন সবাই বাসায় যেয়ে পত্রিকা পড়ে আর আজকের দিনটা সম্পর্কে জেনে আসে। পরদিন তাদের আমি জিজ্ঞাসা করবো।
আমার এই বাচ্চাগুলো ক্লাস থ্রিতে পড়ে। টিচারস রুমে ফিরে যখন ঘটনাটা বললাম, সিনিয়র ক্লাসের এক শিক্ষক তাঁর পর পর তিন ক্লাসে অষ্টম-নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করলেন একই কথা। নবম শ্রেণীর পড়ালেখায় খুব খারাপ, অমনোযোগী, ভয়ংকর দুষ্ট একটা ছেলে ছাড়া কেউ উত্তর দিতে পারল না।
কিন্তু এসব বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ১৫ই আগস্ট কি? আমি জানি তারা খুব সহজেই জবাব দিবে, ভারতের স্বাধীনতা দিবস। চাই কি জাতীয় সঙ্গীতটাও শুনিয়ে দেবে নির্ভুলভাবে। ১৪ই আগস্ট সম্পর্কেও তারা জানে বেশ ভালভাবেই। কিন্তু বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের চরম বিতৃষ্ণা। এক বাচ্চাকে বলছিলাম সামনে পরীক্ষা, বাংলাটা আগে শেষ কর। সে কিছুক্ষণ বইটা উল্টে পাল্টে করুণ মুখে বলছে, মিস কেন বাংলাই পড়তে হবে! সে অন্য যেকোন কিছু পড়তে রাজি, বাংলা বাদে। আটাত্তুর মানে ও লেভেল পড়ুয়া এক ছাত্র বলছিল, এইটি এইট।
কেন?
আজ সন্ধ্যায় যখন ওর বাসায় গেলাম, দেখলাম ওর মা গভীর মনযোগ দিয়ে ফুল ভলিউমে হিন্দী সিরিয়াল দেখছে। তিনি উঠে গেলে ছেলেরা হিন্দী কার্টুন দেখবে, এটাই স্বাভাবিক।
খুব ছোট ক্লাস থেকে শুরু করে একদম উঁচু ক্লাসের বাচ্চাদের আমি দেখেছি কি ভীষণভাবে তারা হিন্দীতে আসক্ত! ইংরেজী মাধ্যম স্কুল বলে বাংলা ক্লাস ছাড়া অন্য যেকোন সময়ে তারা বাধ্য ইংরেজীতে কথা বলতে। শিক্ষকদেরও এ ব্যাপারে কড়াকড়ি। কিন্তু নবম-দশম শ্রেণীতো বটেই, প্রথম শ্রেণীর বাচ্চাদেরও আমি দেখেছি অবলীলায় হিন্দী বলছে, কোথাও তাদের বাধছে না। সমস্তক্ষণ তারা বিভিন্ন চ্যানেল আর চরিত্র নিয়ে কথা বলছে। তারা শুদ্ধ, সঠিক ইংরেজী শিখছে না। তারা বাংলাও শিখছে না, বাংলা-ইংরেজী খুবই বিচিত্র উচ্চারণে একটা আজগুবী ভাষায় কথা বলে। কাঁচের উপর ধারাল কিছু টানলে যেমন গা শিউড়ে উঠা কিঁইইইইইচ একটা শব্দ হয়, ওই ভাষাটা শুনলে ঠিক একই অনুভুতি হয়।
তবে তারা হিন্দীটা রপ্ত করেছে বেশ ভালভাবেই।
কেন?
কারণ তাদের শেখানোর কেউ নেই। বাবা-মা সমস্তক্ষণ এত ব্যস্ত যে তাঁরা সন্তানকে ভাষা, দেশ, সাধারণ জ্ঞান, ন্যায়-নীতি, ভাল আচরণ-মন্দ আচরণ, বড়দের সম্মান, বন্ধুদের সহযোগিতা, নৈতিকতা কিচ্ছু শেখাতে পারেন না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে, কিংবা মেসি কোন দেশের খেলোয়াড় এই সাধারণ উত্তরগুলোও তারা দিতে পারে না। যখন তখন বন্ধুর সাথে মারামারি, নোংরা ভাষায় গালাগালি শুরু করে দেয় খুব সামান্য, তুচ্ছ কারণে; শিক্ষকের সামনেই। শিক্ষককে দেখে পথ ছেড়ে দেয় না, বরং তাঁকেই নেমে যেতে হয় পথ থেকে। কত অবলীলায় তারা বলে দেয়, I hate Bangladesh! কেন? কারণ বাংলাদেশ সবকিছুতেই হেরে যায়, সবকিছুতেই পিছিয়ে।
আমার মনে পড়ে না ছোটবেলায় আমাকে কেউ খুব যত্ন নিয়ে দেশ, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এই জিনিসগুলো সম্পর্কে বলেছিল। এ সম্পর্কে আমার জ্ঞান পাঠ্যবইয়ের পড়া পর্যন্তই সীমিত ছিল বরাবর। আমি নিজে খুব যে সচেতন ছিলাম তাও আমি কখনো বলি না। বরং অনেকটাই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া ছিলাম। কিন্তু তারপরও যখন বাংলাদেশের খেলা হয়েছে আমি রুদ্ধশ্বাসে দেখেছি, উত্তেজনায় ছটফট করেছি; পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যখনই বাংলাদেশ নিয়ে কোন কথা শুনেছি আনন্দে চোখে পানি চলে এসেছে; ইতালি থেকে চাচা একবার এক ভাইয়ের জন্য শার্ট এনেছিলেন, আনার পর দেখা গেল তাতে লেখা 'মেইড ইন বাংলাদেশ', তখন বোধহয় আমার বয়স বার কি তের, কি খুশিই না লেগেছিল তখন! আনন্দে শিরশির করেছে সমস্ত শরীর। কোথায় পেয়েছিলাম এই বোধ?
ছোটবেলায় আমি আর ছোট ভাই খুব ঝগড়া, মারামারি করতাম, সারাক্ষণ লেগে থাকতাম একজন অন্যজনের পিছে। কিন্তু বাইরের কেউ যদি ওকে কিছু বলতো, আমি দুহাতে ওকে আড়াল করতাম, প্রয়োজনে নিরীহ, মৃদুভাষী আমি গাল ফুলিয়ে ঝগড়াও করতাম। আমার এক বন্ধু ছিল খুব হিংসুটে। ও একবার অনেক নিচু মন্তব্য করেছিল আমার পরিবার নিয়ে, আমি ওর সাথে বহুদিন কথা বলি নি। আমার স্কুলটার ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও মান ছিল খুব খারাপ। কিন্তু আর কোন স্কুলকে আমি কোনদিন ভাল বলি নি। আমারটাই সেরা। আর যখন দেশের প্রশ্ন আসে, অনেক গর্ব আর অহংকার নিয়ে আমি বলি, আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা...
আমার এই বোধের জন্ম হয়েছিল আমার পরিবার থেকে, আমার স্কুল থেকে, হৃদয়ের খুব গভীর থেকে।
এখনকার বাবা-মা ভুলেও ভাবে না বাচ্চাদের কিছু শেখানোর আছে তাদের। এক গুচ্ছ টাকাসহ ঘাড়ে গাদা গাদা বই চাপিয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু স্কুলেই বা কে শেখাবে! ওইদিন যখন আমি অক্ষম রাগে, দু:খে, হতাশায় টিচারস রুমে ফিরে চিৎকার করছিলাম খুব বয়স্ক দুজন শিক্ষক ছাড়া কারো কোন সমর্থন পাই নি। বরং একজনকে দেখেছি মাথা নিচু করে ব্যঙ্গের হাসি হাসতে। ক্লাস পার্টি বলে একটা বিচিত্র সংস্কৃতি এদের আছে। স্কুল থেকেই তখন সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। সারাদিন ধরে তারা উঁচু শব্দে হিন্দী গান চালাতে থাকে আর সেই সাথে চলতে থাকে নাচ। শিক্ষকেরাও ওইদিন বাচ্চাদের সাথে তাল মেলান। গত ক্লাস পার্টিতে আমি খুব অবাক হয়ে খেয়াল করলাম যে গানটার সাথে বাচ্চারা, শিক্ষকরা একই তালে নাচছে সে গানটা আমি কোনদিন এর আগে শুনিওনি। ওদের সবার মাঝখানে নিজেকে একটা আজব চিড়িয়া লাগছিল। দুই শিক্ষকের মুখে সেদিন বিজয় দিবস এবং পতাকা নিয়ে এত অবমাননাকর কথা শুনেছি যে পরের দুই দিন আমি আর তাদের সাথে কথা বলতে পারি নি।
বাচ্চাগুলো বাসায় কিছু শেখে না, বাবা-মার শেখানোর ইচ্ছেটুকুই নেই। অনেক বাবা-মাকে আমি খুব গর্ব করে বলতে দেখেছি, আমার বাচ্চাতো বাংলা বলতে-লিখতেই পারে না, সবসময় ইংরেজীই বলে। আমার স্কুলে অন্য দেশের যেসব বাচ্চা আছে তারা বাংলার বদলে পরিবেশ বিজ্ঞান পড়ে। আমার ক্লাসে একটা নতুন বাচ্চা ভর্তি হল। ওরা বাংলাদেশী, আবার একইসাথে আমেরিকার নাগরিক। ওর মা একদিন এসে বলল, ওর জন্য বাংলাটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ওকে পরিবেশ বিজ্ঞানটাই পড়াতে চাচ্ছি। আর তাছাড়া আমরাতো থাকবোও না বাংলাদেশে, বাংলা না শিখলেও হবে। আমার ক্ষমতা থাকলে আমি বলতাম, বাংলা ওকে পড়তেই হবে, এটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সে ক্ষমতা আমার হাতে ছিল না। স্কুলেও তারা কিছু শিখতে পারে না। কারণ শিক্ষকদের অবস্থা আরো করুণ। তাই আমি যখন তাদের বলি, আমার ক্লাসে কেউ হিন্দী বলতে পারবে না। ওরা খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। 'কেন মিস!' বাসায় বা শিক্ষকের কাছে শুনে ওরা এটাকেই স্বাভাবিক ধরে নিয়েছে।
আমি খুব ছোট্ট একটা স্কুলে কাজ করি। কিন্তু এখানেই আমি আরো বড় বড় স্কুলগুলোর ছাত্র-শিক্ষকদের দেখা পাই। তাই একটা সার্বিক চিত্র আঁকতে আমার কষ্ট হয় না। একটা পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেছে এই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে। সামনের প্রজন্মটাও আমরা ধ্বংস করে দিচ্ছি। এই লজ্জা, এর দায়ভার কি আমাদের না?
আজকাল খুব হতাশ লাগে এসব দেখলে। কি আশ্চর্য জীবনীশক্তিতে ভরপুর এই কচি প্রাণগুলো। অথচ এদের এ জীবনীশক্তির কি বিপুল অপচয় হয়ে যাচ্ছে অবিরাম। কিন্তু কি করবো! খুব দু:খ নিয়ে ওইদিন ছোটবোনকে বলছিলাম, অনেক কথার শেষে ও বলল, তুমি একা কি-ই বা করবা আপু। সব কথার শেষ কথা ওটাই হয়ে আসছে সবসময়। আমি একা কি করবো! এটা কি আমার একার দায়িত্ব! কি দরকার তারচেয়ে, চোখ বুজে নিজেরটা বুঝে নেই না কেন, বাকি সব উচ্ছন্নে যাক। তারপরে সব সয়ে যায়, আমরাও গা ভাসিয়ে দেই স্রোতে। কিন্তু কিছুই কি করার নেই? কোন সমাধানই কি নেই?
শেষের আগে:
১৪ তারিখ বাচ্চাদের এ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিলাম দিনটা সম্পর্কে জেনে আসতে। পরদিন ক্লাসে ঢুকে যখন জানতে চাইলাম, দেখলাম অর্ধেকের বেশি বাচ্চাই বলতে পারছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ওইদিন পাকিস্তানিরা সমস্ত শিক্ষক, ডাক্তার, লেখক, সাহিত্যিককে হত্যা করেছিল। আমি জানতে চাইলাম 'কেন?'
তারপর নিজেই উত্তর দিলাম, 'ধর আমাদের স্কুলটাই একটা দেশ। তোমরা সবাই এখানে আছো, কিন্তু কোন স্যার-মিস নাই। সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে খারাপ লোকেরা। তখন কি হবে? খুব ভাবল তারা, আর তারপরে তাদের চোখের তারাই আমাকে বলে দিল কি ভীষণ উপলব্ধি তাদের হয়েছে। আমি ওদের কথা দিয়েছিলাম আমাদের দেশের জন্মকথা বলবো। ক্লাসের একমাত্র পাকিস্তানী ছাত্রী কাবিশার কথা ভেবে সবাই বলছিল, মিস এখন এগুলো বললে কাবিশা মন খারাপ করবে। আমি বললাম, না, কাবিশাকেও জানতে হবে। শুরু করেছিলাম ব্রিটিশ আমল থেকে, শেষ করেছি ১৬ই ডিসেম্বরে। আমার বলা শেষে স্তব্ধ প্রত্যেকটা কোমল মুখ আর তাদের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে মনে হচ্ছিল কিছুক্ষণের জন্যও তারা অনুভব করতে পেরেছে দেশকে, মাকে। পুরো সময়টা কাবিশা বসে ছিল মাথা নিচু করে, ওর ফর্সা গালগুলো লাল টকটকে হয়ে গিয়েছিল। আমি জানি সে তার বাবা-মার কাছে কিছু শোনে নি এ বিষয়ে, আর যদি শুনে থাকেও তবে সেটা ভুল। আজ যদি সে তার দেশের মানুষের আচরণে লজ্জিত হয়ে থাকে, মনে মনেও ক্ষমা চায় তার বন্ধুদের কাছে তবে সেইসব নরপশুর আত্মার উপর সেটা হাজার গুণ অভিশাপ হয়ে লাগবে।
ক্লাস ফোরের নাফিস একদিন বলছিল, বাংলাদেশ ভাল খেলতে পারে না। তাই সে বাংলাদেশকে ঘৃণা করে। ছোট্ট, ছটফটে রাহীম লাফ দিয়ে উঠে নাফিসের বুকে মেশিনগান তাক করে বলে উঠল, তাহলে তোকে ১৬ই ডিসেম্বরে আমি মেশিনগান দিয়ে গুলি করে মারবো। গতকাল সারাদিন ব্লগে ঘুরে আমি মন ভাল করে দেয়া একটা লেখাই পেয়েছিলাম। আনন্দে চোখে পানি চলে এসেছিল লেখাটা পড়ে।
শেষ কথা:
হতাশায় ডুবে যেতে যেতে আমার এই ছোট্ট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি একদিন এরাই আবার ফিরিয়ে আনবে ভুল পথে যাওয়া আর সব্বাইকে। খুব গর্বভরে বলবে, 'আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা...'
...................................................................................
আজকাল এসব নিয়ে প্রায়ই খুব বিক্ষিপ্ত থাকি। জানি খুব এলোমেলো হল লেখাটা, যা বলতে চেয়েছিলাম সব বলা হল না। তবু....লিখলাম....
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪৪
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: বাবা-মা, অভিভাবকের দায়ভারই বেশি। বাচ্চাদের দোষ কোথায়! ওরা যা দেখে তাই শেখে।
তবু...তারপরও খুব ইচ্ছা হয় কচি প্রাণগুলোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে। চেষ্টাটা করতে হবে সবাইকেই।
২|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩৩
ফয়সাল তূর্য বলেছেন: ভালো বলেছেন আপু। অতি সত্য কিছু কথা।
+++
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এই সত্য কথাগুলো সবাইকেই জানতে হবে তূর্য। কাজ করতে হবে সবাইকে একসঙ্গে।
৩|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪৬
হাসান মাহবুব বলেছেন: লেখাটা যখন শুরু করি, মনটা বিষিয়ে উঠছিলো। শেষ করার পর গর্ব হল। সব শিক্ষক যেখানে পুঁথিগত বিদ্যার ভান্ডার উজার করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে সেখানে তোমার এই চেষ্টাকে স্যালুট দিতেই হয়। এভাবেই গড়ে তোলা সম্ভব একটা সচেতন প্রজন্ম। হাল ছেড়ো না কখনও।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: বাচ্চাগুলোকে দেখলে ভীষণ কষ্ট হয় আমার। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব করে যাবো। অন্তত পাঁচটা বাচ্চাও যদি এর মধ্য থেকে বের হয়ে আসে, আমার জন্য সেটা বিশাল পাওয়া।
৪|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:১৪
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন:
লেখাটার সাথে কতটা আবেগ জড়িয়ে আছে তা আচঁ করতে পারছি কিছুটা হলে । আমার মা একজন স্কুল শিক্ষিকা ।
এই পোষ্টে আবার আসবো । স্যালুট টু ইউর ফিলিং । অলসো টু ছোট্ট রাহীম এবং অবশ্যই 'আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা' ।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাগুলো সবাই আমার অনেক আদরের। ওদের ভেতর অফুরন্ত প্রাণশক্তি, শুধু ঠিক পথটাই ওরা জানে না।
আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করি ওদের মধ্যে এই চেতনাটুকু ছড়িয়ে দিতে, 'আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা...'
৫|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:৩৫
মিরাজ is বলেছেন: কৃতজ্ঞতা আপু।
ছোট্ট ছোট্ট ঘটনায় একদিন বদলে যাবে আমাদের দেশ বদলে যাবে আমাদের সমাজ। স্বপ্ন দেখি।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:০১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: স্বপ্ন দেখি মিরাজ।
একইসাথে নিজ নিজ জায়গায় থেকে কাজ করে যেতে হবে, চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নইলে কিছুই বদলাবে না।
ভাল থেকো।
৬|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:৩৫
তেরো বলেছেন: কি বলবো...ব্যাপারটা খুব ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল। একবার আমাদের এক আত্নীয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। উনি বলছিলো তাদের মেয়ে 1-100 পর্যন্ত লেখতে পারে কিন্তু বাংলায় পারে না। ইংরেজীতে হেলো হাই বলতে পারে। অবাক হলাম। বাংলা পারে না এইটা উনি খুব গর্ব করে বললেন। বলার কিছুই নেই। তারা সারাদিন হিন্দি সিরিয়াল দেখে আর ভাবে যে ছেলে মেয়েকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালে স্ট্যাটাস হবে। এরকম অনেকের আছে। আমি ছোটবেলা যে আর্ট স্কুলে যেতাম সেখানে অনেক ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্ট রা আসতো। আমার স্কুল এলাকার স্কুল। এত পরিচিত না তার উপর বাংলা মিডিয়াম। ওখানকার ছেলে মেয়ে গুলো বাংলা মিডিয়াম শুনলেই এমন ভাবে নাক কুঁচকাতো। বাংলা পড়তে পারে না খুব গর্ব করে বলতো। হতাশ হতাম।
বিশাল কমেন্ট দিয়ে ফেললাম। তবে লেখার শেষ অংশটুকু পড়ে ভাল লাগলো। আমিও আপনার মতো স্বপ্ন দেখি আমাদের বাংলাদেশ সবার সেরা হবে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:১৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: সুজলা সুফলা বাংলাদেশের মাটিতে সোনা ফলে ,মানুষ গুলো কে বলে ভেতো বাঙালি।
2011 April National Geographic Magazine লিখেছে "other countries should take Bangladesh as a role model for climate change ,how they are tackling it in a sustainable way". জ্বলে পুড়ে ছারখার তবু মাথা নয়াবার নয়।
আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করে যাই। আমাদের বাসায় ডিশের লাইন লেগেছে ২০০৯ এ। আগে খারাপ লাগতো সবার বাসায় ডিশ আসে শুধু আমাদের বাসায় নাই। এখন মনে হয় মামনি ঠিক করেছেন।ভাল লাগে দেখে আমার ছোট ভাই বোন বই মেলায় গিয়ে বস্তা ভরে বই কিনে নিয়ে আসে।আমি বাংলা মিডিয়াম এ পরেছি কিন্তু অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে যখন শুনি "you speak damn good English " তখন আমার শিক্ষকদের শ্রদধা জানাই। english medium এর টিচার রা যদি he/she,is /are এর পার্থক্য করতে না পারে তাহলে ছাত্র রা কি শিখবে ,আর বাসায় বাবা মায়ের কাছে দেশ / ধর্ম / সংস্কৃতি না শিখে তাহলে কোথায় শিখবে?
ফেসবুকে করা আমার বড় বোনের কমেন্টটাই তুলে দিলাম। আমাদের অহংকার করবার মত একটা ইতিহাস আছে, নিজেদের নিয়ে গর্ব করবার মত বহু কিছু আছে। তা না করে যদি আমরা পরগাছা হওয়াটাকেই বেছে নিই, তাহলে আর কি আশা করা যায়! বোধটুকু জন্ম নিক সবার মনে।
৭|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:৩৯
কল্পবিলাসী স্বপ্ন বলেছেন: +++++
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:১৮
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ।
৮|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:৪৫
কালো হিমু বলেছেন: লেখাটা যখন পড়ছিলাম, ক্ষোভে চোখের কোণটা চিকচিক করছিল। পড়া শেষ করে মাথা নিচু করে ছিলাম অনেক্ষণ। জানেন, শুধু এই জন্যই আমার স্বৈরশাসক হতে বড় মন চায়, তাহলে সব হিন্দী চ্যানেল ব্যান করে দিতাম। আমরা বড় ঘাড়ত্যাড়া।
কোটি কোটি প্লাস আপনাকে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:২৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এমন একজন স্বৈরশাসক সত্যি এখন দরকার আমাদের। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা, আমরা কেন দেখবো বলেন তো! আমাদের ঘরে যারা দেখছেন তাদের কেন আমরা বোঝাতে পারবো না, বন্ধ করতে পারবো না! আমি ব্লগেই অনেককে বলতে শুনেছি, ঘরে মা-বোন-বউ দেখে, কিছু বলতে পারি না, চুপচাপ সহ্য করতে হয়। কেন?
আপনি যদি বোঝেন আপনার পরিবারের বাকি সদস্যরা কেন বুঝবে না? নিজের বোধটুকু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দিলেতো হবে না, ছড়িয়ে দিতে হবে। শুধুমাত্র তাহলেই আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি।
ভাল থাকবেন কালো হিমু।
৯|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:৫৬
মাহমুদা সোনিয়া বলেছেন: amar moner kotha guloi bolecho.. Gr8 writing..
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৩৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: মনের কথাগুলো মনে রেখে দিলেই হবে না সোনিয়া, কাজও করতে হবে সেভাবে। তোমার বা আমার দায়িত্ব এখানে বহুগুণ!
১০|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:১০
াহবুব বাবুই বলেছেন: +++
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৩৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ।
১১|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:১২
নোমান নমি বলেছেন: বেশ ভাল। পড়া শুরু করেছি হতাশা দিয়ে শেষ করেছি আশা দিয়ে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৩৮
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এই আশাটাই শক্তি হোক!
ভাল থাকুন নোমান।
১২|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:২৬
ধীমান অনাদি বলেছেন: ++++++++++++
আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে।ওরা চাইবেনা, তবুও শেখাতে হবে। যেমন সাক্ষরজ্ঞান হয়েছিলো, তেমনি দেশ সম্পর্কে জানতে হবে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৪
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: দেশপ্রেমের জন্য সাক্ষরজ্ঞানের প্রয়োজনতো পড়ে না। বই-পুস্তক পড়ে খুব জ্ঞানী হয়ে কেউ মাকে ভালবাসতে যায় না। শিক্ষাটুকু আসতে হয় পরিবার থেকে, নিজের ভিতর থেকে।
ছড়িয়ে দিতে হবে আমাদের। সবাইকেই চেষ্টা করে যেতে হবে নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ।
ধন্যবাদ অনাদি।
১৩|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:০০
তন্ময় ফেরদৌস বলেছেন: খুব ইমোশনাল হয়ে গেলাম লেখাগুলা পড়ে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এই আবেগকেই শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে তন্ময়।
ভাল থাকুন।
১৪|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:০৯
ভিয়েনাস বলেছেন: গাদা গাদা বই দিয়ে বাচচাদের স্কুল ব্যাগের পেট শুধু বেড়েই চলেছে কিন্তু তারা প্রকৃত শিক্ষা পাচ্ছে কি না সেটা দেখা হচ্ছে না । সেখানে পরিবারের ভুমিকা অপরিসীম । আপনার লিখাটা পড়ে ভালো লাগলো ।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: শিশুর শিক্ষার মূল ভিত হল পরিবার, তার প্রথম ও প্রধান শিক্ষক মা। গাদা গাদা বই নয়, শিশুকে শেখাতে হবে প্রতিটি পদে, খেলার ছলে, গল্পে, সুরে, আদরে। সাথে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা...তাহলেই কেবল আশা করা যায় একজন সত্যিকারের মানুষ।
ধন্যবাদ ভিয়েনাস।
১৫|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:৫৪
kak বলেছেন: ভয়ংকর হলেও সত্যি যে আমাদের দেশে প্রকৃত দেশপ্রেমিক খুব কম।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১০
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: প্রকৃত দেশপ্রেমিককে গড়ে নিতে হবে আমাদেরই, চেষ্টা করতে হবে সবাইকেই।
১৬|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:৫৭
বৈকুন্ঠ বলেছেন: হ...... দিন দিন দেশ রসাতলে যাইতাসে
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: দেশ রসাতলে যাওয়ার পিছনে কার দায়ভার কতটুকু তাওতো একবার ভেবে দেখা দরকার...দরকার পুরোপুরি নিমজ্জিত হওয়ার আগে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা...
১৭|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:০৬
টুকিঝা বলেছেন: আপি, তোমার মত সব শিক্ষক যদি এত সুন্দর করে নিজের দেশ কে বাচ্চা গুলোর সামনে তুলে ধরত, তাহলে দেখতে তারা ঠিকই দেশের জন্য অনেক ভালবাসা নিয়েই বড় হত!! কিছু আশা তো করাই যায়, হয়তো সেই ভালবাসা টা ওরা লালন করবে নিজেদের মাঝে!! সেই আশায় বসে থাকলাম, নাহলে পরের প্রজন্ম যারা এখনও আসেনি তাঁদের কি হবে সেই ভেবে ভেতরটা কেঁপে ওঠে!!
অনেক ভাল লাগা।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: শুধু আশা করলেই হবে না টুকি, সেইসাথে কাজও করতে হবে। শিক্ষকের ভূমিকা এখানে অনেক বড় কিন্তু প্রত্যেককেই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে চেষ্টা করে যেতে হবে।
১৮|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৫:৫৩
ঘুমকাতুর বলেছেন: লেখাটা মোটেই এলোমেলো হয়নি।
অনেক ভাল লিখেছেন ++
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
১৯|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৬:৩০
নস্টালজিক বলেছেন: তোমার লেখাটা এই ভোরবেলায় পড়ে আবেগতাড়িত হলাম!
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১৮
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ছোট ছোট বাচ্চাগুলো আমাকে প্রতি মূহুর্তে আবেগতাড়িত করে ভাইয়া। কিছু একটা করার জন্য আমি ছটফট করি।
২০|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৩০
বাকী বিল্লাহ বলেছেন: প্রাথমিক পর্যায়ে তিন ধারার শিক্ষা উঠিয়ে দিয়ে অভিন্ন সার্বজনীন শিক্ষা চালু করার দাবিতে সোচ্চার হতে হবে আমাদের.. সেইটাই একমাত্র উপায়।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:২৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: অভিন্ন শিক্ষাপদ্ধতি না হলেও অন্তত তিন পদ্ধতির মধ্যে একটা সমন্বয় থাকা প্রয়োজন আর প্রয়োজন ন্যূনতম মান বজায় রাখা। সরকারের উচিত প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কারিকুলাম নির্দিষ্ট করে দেয়া, যাতে যা ইচ্ছা তাই না করতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর তারা মান বজায় রাখছে কি না তার জন্য নিয়মিত মনিটরিং এর ব্যবস্থাও করতে হবে। দু:খজনক ব্যাপার হল এ সমস্ত কিছুই কাগজে-কলমে আছে, কিন্তু এর প্রয়োগ নেই।
২১|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৩২
শরমিন বলেছেন:
"হতাশায় ডুবে যেতে যেতে আমার এই ছোট্ট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি একদিন এরাই আবার ফিরিয়ে আনবে ভুল পথে যাওয়া আর সব্বাইকে। খুব গর্বভরে বলবে, 'আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা...' "
আমিও এইভাবে স্বপ্ন দেখতে চাই, আর আমি জানি আমাদের মতো সবাই চায়, এই চাওয়ার জোরেই হয়তো এই আকাঙ্খা সত্য হবে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:২৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না শরমিন, সে স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য কাজও করতে হবে। আমার গন্ডী খুব সীমিত, কিন্তু তোরা কাজ করছিস অনেক বড় পরিসরে। আশা করি সবার মিলিত চেষ্টায় এই আকাঙ্খা সত্য করা সম্ভব হবে।
২২|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৩৫
রুমমা বলেছেন: আসলে ইন্ডিয়ান চ্যনেলগুলো বন্ধ না করলেই না।এগুলো থেকে শেখার কিছুই নেই কিনতু খুবই আকর্র্ষনীয়।আমার মনে হয় আসলে স্কুলগুলো যদি বাংলা ভাযার উপরে ,আদবকায়দার ব্যপারে সব চারিত্রিক ব্যপারগুলোর দিকে নজর দিত তাহলেই মনে হয় অনেকটা কাজ হতো।কারন এখন বাংলা ঐতিহ্য আর চারিত্রিক গুনের ব্যপারগুলো বিরল প্রজাতির প্রানীর মত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।আমাদেরই এদের আগলে রাখতে হবে।
কিনতু আমাদের বাচ্চাগুলোর কি হবে,আমাদের ভবিষ্যত কি?আমার পরিচিত এক বাচ্চার মা হাসতে হাসতে বলছিলো উনার মেয়ে বলেছে তাকে একটা পেট বের করা স্কার্ট কিনে দিতে হবে।এখনকার বাচ্চারা শুধু চুমু দিতে বললে লিপ কিস দিতে চায়।আমার মনে হয় আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প হেলা বৈশাখে হোলি খেলার মত রং ছিটাছিটি শুরু হয়ে যাবে।উফ......কি হবে আমাদের?
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: কি হবে আমাদের!! এই চিন্তায় আতঙ্কিত হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না রুমমা। প্রথম পদক্ষেপ আমাদেরই নিতে হবে। সেই বাচ্চার মা'টিকে আপনার বোঝানো উচিত ছিল পেট বের করা স্কার্ট পরতে চাওয়া মেয়েকে ভদ্র-সভ্য-আধুনিক করে না, উগ্র করে। পহেলা বৈশাখ আর হলি খেলা যে দুটো আলাদা সংস্কৃতি, বাচ্চাদের মাথায় ঢোকাতে হবে আমাদেরই।
নিরুপায় হয়ে হাল ছেড়ে দেয়াটা কাজের কথা নয়। বরং নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে হবে।
২৩|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০০
রিমঝিম বর্ষা বলেছেন:
বিক্ষিপ্ত থাকো। তোমার বিক্ষিপ্ততা কিছুটা হলেও ছড়িয়ে দিতে পেরেছো। আমি (আমার মত আরো আছে নিশ্চয়ই) তো তাও পারিনা। খুব ভেবেছিলাম মনের কিছু ভাব নাহয় এখানেই দিয়ে দেই, যা আমার দেশকে ঘিরে, দেশের প্রতি আমার সমস্ত অনুভবকে ঘিরে। কিন্তু পারিনি। একরাশ লজ্জায় আমার মাথা নিচু হয়ে গেছে; আমার হাত থেমে গেছে। তোমার ছোট বোনটি বললোনা যে একা কি করতে পারবা? কিছু করতে না পারার লজ্জা, অক্ষমতা এখন "দেশকে ভালোবাসি" এই কথাটা বলতেও থামিয়ে দেয়।
চাদনী চকে গিয়ে খুব পছন্দ হয়ে যাওয়া লাল-কালো একটা জামার কাপড় কিনেছিলাম। কেনার পর জানলাম ওটা পাকিস্তানী কাপড়। তারপর থেকেই কেমন গুমোট লাগছিলো। ওটা ফেলে দিলে চারপাশ থেকে শুনতাম "ঢং"। যার আরো সিনোনিম প্রায়ই শুনি পাকিস্তান বিরোধী কিছু বললেই। তারপরেও আমি সেটা ছুঁড়ে নর্দমায় ফেলতে পারিনি। একদিন একজনকে দেখিয়ে বললাম, এটা পাকিস্তানী কাপড়। তুমি নেবে? সে এমন একটা হাসি দিলো যেন এমন অবাক করা কথা জীবনে শোনেনি। সে নিয়ে আপ্লুত হোল। আমিও ভারমুক্ত হোলাম।
কতগুলো পুতুল নিয়ে মাতো প্রতিদিন। তোমার ক্ষমতা আছে একটু একটু করে কিছুটা হলেও সঠিক বোধের বীজ তাদের মধ্যে বুনে দেয়া। তাইবা কম কি! অনেক অনেক শুভকামনা তিথি।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: সত্যি আপু, কতগুলো পুতুল আমার। নরম, তুলতুলে এখনো তাদের মনের জমিন। আমি খুব চেষ্টা করে যাই তাদের শেখানোর, বোঝানোর। এমন কি কখনো মা'দেরও ডেকে বলি, এটা করবেন না। ওর জন্য খারাপ হয়।
কিন্তু ওদের ঘরে ঘরে গিয়েতো আমি অবস্থার বদল করতে পারবো না। ক্লাসের চল্লিশ-পয়তাল্লিশ মিনিট আমার কাছে যা জেনে যায়, বাড়ি গিয়ে যে তার উল্টো পুরাণ হয়ে যায় আপু। দু:খটা সেখানেই।
এমন অক্ষমতা কখনো না আসুক আপু যখন আমি "দেশকে ভালবাসি" বলতে পারবো না। তারচেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।
ভাল থেকো।
২৪|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৫৫
আহাদিল বলেছেন: তোমাকে অনেক ধন্যবাদ তিথী! এরকম করে মনের কথাগুলো বলার জন্যে! অক্ষম রাগে-ক্রোধে ফেটে যাওয়া ছাড়াও বোধ হয় আমাদের করার আছে অনেক কিছু!
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আমিও বিশ্বাস করি করার আছে অনেক কিছুই। কিন্তু মাঝে মাঝে কোন পথ খুঁজে পাই না। তখন অক্ষম রাগে শুধু ছটফট করে যেতে হয়।
আমি চেষ্টা করছি, যতটুকু আমার সাধ্যে কুলোয়। একশ বাচ্চার মধ্যে অন্তত পাঁচজনকেও যদি আমি ফেরাতে পারি, সেটাই আমার জন্য বিশাল এক অর্জন।
ভাল থেকো মিশু।
২৫|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৫৫
সায়েম মুন বলেছেন: একটা পরিবর্তন দরকার। আপনার লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো। আশায় আছি সব কিছুর সুন্দর একটা পরিবর্তন হবে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৪
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: সুন্দর একটা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে আমাদের সবারই। অন্য কেউ করবে, আমি কেবল ফল ভোগ করবো সে আশায় বসে থাকলে হবে না।
শুভকামনা মুন।
২৬|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪০
দি ফ্লাইং ডাচম্যান বলেছেন: আমরা সবাই নিজের নিজের যায়গা থেকে চেষ্টা করে যাই! আমরা পারবো আশাকরি!
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: পারবো! আমাদের পারতেই হবে!
২৭|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪১
রাজসোহান বলেছেন: চোখ ছলছল করে উঠেছিলো লেখাটা পড়ে, খুশি খুশি ![]()
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: চোখের পানি শক্তি যোগাক!
২৮|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩৫
এস.কে.ফয়সাল আলম বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়ে অনেক ভাল লাগছে যে অন্তত কিছু টিচার আপনার মত এখনও ভাবে এবং সেই অনুপাতে কাজ করে। এই ভাবনটা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।
অনেক অনেক শ্রদ্ধা রইল আপনার এই কাজের প্রতি।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এই ভাবনাটা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।
ধন্যবাদ ফয়সাল।
২৯|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩৮
anisa বলেছেন: একটা পরিবর্তন দরকার।
সায়েম বলো এ আমিও ভাবি কিন্তূ শুরু হবে কথা থেকে
ইন্ডিয়ান একটা হিন্দী গান হিট হলেই তারপর দিন জোরে জোরে চায়ের দোকানে বা রাস্তা দিয়ে যেতে শুনতে পাই. । তেমনি শুনতে পাই কোনো পশ্চিমা সংগীত ।
আমরাই গর্ব করে বলি ইসহ কত সুন্দর গান টা !!
শুধরাতে হবে আগে আমাদের ।
ভালো লাগলো লেখাটা !
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫০
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: শুরু হবে কোথা থেকে আপু! নিজের বাড়ি থেকেই শুরু হোক না...আজই...এক্ষুণি...
ভাল থাকবেন আপু।
৩০|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:০৩
স্বর্ণমৃগ বলেছেন: অনেক ভাল লাগলো আপনার প্রচেষ্টা দেখে!
সবার মধ্যে যদি এভাবে দেশপ্রেম জাগানো যেত!
ভাল থাকুন আপু...
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: একদিন হয়তো আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই পারবে সবার মধ্যে দেশপ্রেমের আলো ছড়িয়ে দিতে।
ধন্যবাদ স্বর্ণমৃগ।
৩১|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:২৯
সালমাহ্যাপী বলেছেন: আপনার লেখা পড়ছিলাম আর ওইসব মা দের উপর খুব রাগ লাগছিল যারা কিনা হিন্দী সিরিয়াল ছাড়া কিছুই বুঝেনা।যত্তসব ফালতু
যাই হোক আপি আপনার লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগল।
ভালো থাকবেন
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: রাগ করে খুব কি কাজ হবে! বরং বোঝাতে হবে তাদের।
ধন্যবাদ সালমা।
শুভেচ্ছা।
৩২|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০৪
যোগিনী বলেছেন: দেশকে নিয়ে ভাবার মানুষেরই এখন অভাব পড়ে গেছে। আপনার লেখাটা পড়ে ভাল লাগল।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: দেশকে নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে যোগিনী। আমি, আপনি, আমরা সবাই মিলে যদি ভাবি...একটু একটু করে কাজ করি তাহলে কি বদলাতে পারবো না বলেন?
ধন্যবাদ।
৩৩|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:২২
চাটিকিয়াং রুমান বলেছেন: অনেক বাবা-মাকে আমি খুব গর্ব করে বলতে দেখেছি, আমার বাচ্চাতো বাংলা বলতে-লিখতেই পারে না, সবসময় ইংরেজীই বলে।
আমাদের বাংলা সংস্কৃতিকে বাচ্চাদের থেকে দূরে রাখার জন্য অভিভাবকরাই দায়ী বেশি। তারাই বাচ্চাদের সামনে কিংবা বাচ্চাদের নিয়ে হিন্দী সিনেমা, সিরিয়াল দেখছে যা দেখে কোমলমতি শিশুরা সে সবের প্রতি আসক্ত হচ্ছে এবং সেগুলোকেই তার জন্য ভালো মনে করছে।
যা করতে হবে তা হলো- আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নচেৎ ভবিষ্যতে আমাদের এর ফলাফল ভোগ করতে হবে। তখন আপসোস করা ছাড়া কোন উপাই থাকবেনা।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৪
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: সহমত রুমান।
আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
ভাল থাকবেন।
৩৪|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩১
জলমেঘ বলেছেন: এলমেলো কথাগুলোই অনেক হতাশ করে দিলো। গোছানো হলে কি হতো জানিনা। আমাদের দেশ অন্য সব দেশের চেয়ে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে। কিন্তু যে দেশটি এতো কষ্টের মাঝেও ঠেলেঠুলে এলেভেন্থ এমার্জিং ইকোনমির মধ্যে জায়গা করে নেয়, সেই দেশের মানুষেরই নিজের দেশের উপর আস্থা থাকেনা। এই দেশেরই কিছু কিছু মানুষের এইম ইন লাইফ হয়ে যায় কোন একটা উন্নত দেশের স্থায়ী নগরিক হওয়া। অদ্ভুত লাগে। হোকনা এই দেশটা কেবলই ছোট একটা গরীব দেশ। দেশটা তো আমারই। প্রতিবেশীর বাসাকে তো নিজের বাসা বলতে পারিনা। তাহলে প্রতিবেশী একটা দেশের সংস্কৃতি কেন আমার দেশের উপরে ঠাই পেয়ে যাবে?
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: 2011 April National Geographic Magazine লিখেছে "other countries should take Bangladesh as a role model for climate change ,how they are tackling it in a sustainable way".
অনেক দেশ থেকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকলেও আমাদের দেশকে নিয়ে গর্ব করারও অনেক কিছু আছে। সবার মধ্যে এই বোধটি জাগ্রত হোক।
ভাল থেকো জলমেঘ।
৩৫|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৩
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
অনেক ভালো একটা পোস্ট।
নিজের অস্তিত্বকে স্মরণ করাবার পোস্ট।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৮
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: নিজের অস্তিত্বকে স্মরণে রাখতে হবে প্রতিটি মূহুর্তে।
ধন্যবাদ দূর্জয়।
৩৬|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৩
স্বপ্ন ও সমুদ্র বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন।এই ফ্যাক্ট নিয়ে আমরা ক্লাসের বন্ধুরা একটা শর্টফিল্ম বানিয়েছি...চাইলে দেখতে পারেন...আশা করি ভালো লাগবে...এখানে ক্লিক করুন
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আপনাদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। শর্টফিল্মটা দেখবো অবশ্যই, লিংকটা আসেনি কেন যেন। একটু ঠিক করে দেবেন প্লিজ।
৩৭|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৭
বড় বিলাই বলেছেন: মন খারাপ করবেন না আপু। আপনি শুরু করুন, আপনার মত অন্যরাও পারবে শিশুদের কোমল মনটাকে সঠিক পথে নিতে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: চেষ্টা করছি আপু। আমার সাধ্যের মধ্যে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ভাল থাকবেন।
৩৮|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৮
আহমেদ সাব্বির পল্লব বলেছেন: সত্য কথন........
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: সত্য কথন......
৩৯|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২১
স্বপ্ন ও সমুদ্র বলেছেন: আমি ক্লিক করলে তো লিংকটা কাজ করছে। আপনার জন্য আবার দিলাম। আশা করি এবার কাজ হবে...
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: অনেক ভাল লাগল স্বপ্ন ও সমুদ্র। খুব সুন্দর কাজ করেছেন।
পরিবার থেকেই সূচনা হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ও দেশপ্রেমের।
ভাল থাকবেন।
৪০|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪২
হোদল রাজা বলেছেন: চমৎকার লেখা। চমৎকার পোস্ট, আপুনী !!
আসল শিক্ষা তো আসে পরিবার থেকে। তারপর না স্কুল। আপনি/আপনারা যে ভাবে ভাবছেন, শুরু করছেন- থাম্বস আপ !!
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আপনি/আপনারা নয় ভাইয়া, বলুন শুরু করবো আমরা সবাই। ব্যক্তি থেকে, পরিবার থেকে।
শুভকামনা রইল, আপনার জন্য...আয়নার জন্য...
৪১|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩০
মেমনন বলেছেন: অসাধারণ লেখা, আপু। আমি ফেসবুকে শেয়ার দিই?
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৪৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: অবশ্যই দিবেন ভাইয়া। জিজ্ঞাসা করার কিছু নাই। কথাগুলো সবারই জানা দরকার, খুব জরুরী।
ধন্যবাদ অনেক।
৪২|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৩৮
আট বছর আগের এক দিন বলেছেন: সবাই টালাও ভাবে শিক্ষক, অভিভাবককে দোষ দিলেও আমার মনে হয় মুল সমস্যা রাস্ট্রশক্তি্তে । রাস্ট্রশক্তি চালায় রাজনৈতিক দলগুলো । তারা প্লানওয়াইস জনগনের মগজ ধোলাই করে কিংবা মগজের বিকাশে অন্তরায় সৃষ্টি করে নিজেদের সার্থে ।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২২
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ব্যক্তিগত সচেতনতা, বোধ, দেশপ্রেম তৈরি করে দেয়ার কাজ রাষ্ট্রশক্তির নয়। এটা প্রতিটি মানুষের ভিতর থেকেই উৎসারিত হতে হবে এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের জায়গায় থেকে সঠিক কাজ করে তাহলেই এই পরিবর্তনটি সম্ভব।
তবে রাষ্ট্রশক্তির এখানে কিছু দায়িত্ব অবশ্যই আছে। ভারতে কোন বাংলাদেশী চ্যানেল দেখানো হয় না, অথচ বাংলাদেশে বছরে বহু টাকা গুণে ভারতীয় চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ ছিল বহু আগেই। দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা হুমকির মুখে; প্রতিবেশি এই দেশটি খুব সূক্ষ্মভাবে গ্রাস করে নিচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্র- এ নিয়ে অসংখ্যবার অসংখ্য বিশেষজ্ঞ মতামত, পত্রিকায় লেখা আসার পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। রাষ্ট্রশক্তির উচিৎ ছিল বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে সঠিক পদক্ষেপটি গ্রহণ করা।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল দেশের কোন কাজই রাষ্ট্র বা জনগণের একার পক্ষে করা সম্ভব না। এরজন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত চেষ্টা। আসুন আমরা শুরু করি। রাষ্ট্রশক্তি কি তবে একটা সময় সেটা করতে বাধ্য হবে না!
শুভকামনা।
৪৩|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:০৬
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: খুব অল্প বয়স থেকেই প্রচুর বিদেশী/ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখেছি কিন্তু কেন যেন কখনও নিজের দেশের প্রতি, নিজের পতাকার প্রতি বা মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভক্তি কমেনি একটুও। প্রতিটা ২৬শে মার্চ এবং ১৬ই ডিসেম্বর শুরু হতো জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তাকে স্যালুট করার মাধ্যমে। তোমার লেখাটা পড়ে নিজের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানাতে ইচ্ছে করলো।
কেন আজকালকার মায়েরা এত বেশি হিন্দি সিরিয়াল জাতীয় বস্তু দেখেন ('দেখেন' না বলে 'গিলেন' বলা উচিত ছিলো) সেটা অনেক বিশদ আলোচনার দাবী রাখে। তবে কোনও আলোচনা ছাড়াও দিব্যি বলে দেয়া যায় যে মাথা থেকে ঘিলু নামক পদার্থটি খুলে আলাদা করে রেখে টিভি দেখতেই তারা ভালোবাসেন বলেই আজ এ অবস্থা। নিজেরা যেহেতু ঘিলু খুলে রাখেন কাজেই সন্তানরাও তৈরী হয় সেভাবেই। বাবারাও সেখানে বিশেষ কোনও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন বোধ করেন না। স্কুলগুলোতেও হয়তো আগের মত সেভাবে দেশাত্মবোধক গানগুলো শেখানো/গাওয়ানো হয় না। স্পাইনলেস একটা জাতি গড়ে উঠছে এভাবেই।
ব্লগার এবং বন্ধু রোহানের একটা ফেসবুক স্টেটাস পড়ে অদ্ভুত রকম আন্দোলিত হয়েছিলাম। কথাগুলো ছিলো অনেকটা এরকম- আজকালকার বাচ্চাদের মুখে কত হিরোর নাম শুনি! কারও হিরোর নাম ডোরেমন, কারও হিরোর নাম রবিনহুড, কারও হিরোর নাম সিন্দবাদ... আমি আমার ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- বাবা, তোমার হিরোর নাম কি? আমার ছেলে উত্তর দিয়েছে "মুক্তিযোদ্ধা"।
আমি চাই আমার সন্তান বলতে শিখুক মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনারাই তার হিরো। সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি গানটাই তার অন্তরের কথা হোক। খেলার মাঠে গেলে তার গালে এদেশের পতাকা আঁকা থাকুক। কায়মনোবাক্যে সে বলতে শিখুক, যুদ্ধাপরাধী এবং জামাত শিবির ইস্যুতে জিরো টলারেন্স!
বহুদিন হয়ে গেলো কোনও পোস্টে এত বড় কমেন্ট দিই না। এই লেখাটা পড়ে ঠিক কতটা ইমোশনাল হয়েছি তাহলে বোঝো। অনেকদিন আগে একবার প্রিয়তে না নেয়া অথচ তীব্রভাবে ভালো লেগে যাওয়া পোস্টগুলোর একটা কালেকশন করেছিলাম। আবারও ওরকম কিছু করলে এই লেখাটা সেখানে নিশ্চিতভাবেই থাকবে। তোমার প্রচেষ্টাকে স্যালুট!
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: কেন মায়েরা তাদের ঘিলু নামক জিনিসটি খুলে রেখে তারপরে সিরিয়াল দেখতে বসেন? এটার উত্তর আমি অনেক ভেবেও বের করতে পারিনি। অনেকেই আছেন চাকরিজীবী, সারাদিন বাইরে কাজ করে এসে ঘরের কাজ করে তারপর বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে সিরিয়ালগুলো গিলতে থাকে। কিন্তু মাথাকে বিশ্রাম দেয়ার জন্য, বিনোদনের জন্য আর কিছু কি নাই? মায়েদের কেন একবারও মনে হয় না বাচ্চাকে একটু সময় দেই! যেমনভাবে আমি আমার মামনির কাছে অনেক কিছু শিখেছিলাম, গুন গুন করে মামনি আমাকে নজরুল, রবীন্দ্রনাথের ছড়াগুলো শোনাতো; স্কুলে ভর্তির আগেই আমার শেখা হয়ে গিয়েছিল, 'আমি হবো সকালবেলার পাখি', 'তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে', 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি' এ সমস্তই। শুধু শেখা নয়, আমি আত্মস্থ করেছিলাম।
মুক্তিযুদ্ধের যেকোন সিনেমা দেখলে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতো। কিছুদিন আগে 'গেরিলা' দেখেও তাই হয়েছে। পৃথিবীর যে কোন জায়গায়, যেকোন ঘটনায় দেশের নামটা যখনই শুনেছি আমার একই অনুভূতি হয়েছে।
রোহানের ছেলেটা মুক্তিযোদ্ধাকে তার হিরো বানিয়েছে বাবা-মার কারণেই। সে বাবা-মার কাছেই শিখেছে। খুব আশা করি সব বাবা-মাই এভাবে তাদের বাচ্চাদের শেখাবে। একটা প্রজন্ম শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও অনেকেই জাগছে। তাদের নিয়েই না হয় শুরু হোক নতুন করে।
ভাল থেকো ভেবু।
৪৪|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:১৫
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: অসাধারন +++++
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ প্রজন্ম৮৬।
শুভকামনা।
৪৫|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:১১
রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন: আপু, অনেকদিন আগে ঠিক এই কথাগুলোই ব্লগে বলেছিলাম একটি মেয়ের স্ট্যাটাস নিয়ে। মেয়েটি আমাকে ব্লক করে গাল মন্দ করেছিলো। কেউ কেউ তার হয়ে দালালিও করে গেছিলো!
এই হাহাকার আমরা কার কাছে বলবো? কিভাবে বলি চুরি হয়ে যাচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি? ছিনতাই হয়ে যায় আমাদের মূল্যবোধ ভারতীয় মূল্যবোধের কাছে?
তোমারে স্যালুট, না না, স্যালুট না, অনেক ভালোবাসা! গোড়াটা তোমরা মজবুত করে দিলেই এই প্রজন্ম নিজেদের নিয়ে গর্ব করবে!
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এর প্রতিবাদ আমাদের সবাইকেই করতে হবে। কি হবে যদি প্রতিবাদ করে কিছু বন্ধু হারাই? রিমঝিম বর্ষা আপুর যেটা হয়েছে। এমন বন্ধু থাকার চেয়ে দেশপ্রেমী শত্রু থাকাতো ভাল। শাহরুখের কনসার্টটা হওয়ার পরে স্কুলের এক টিচার খুব আক্ষেপ করছিল সেই লোকটাকে নিয়ে, যে কি না বলেছিল সে হিন্দী পারে না। সে নাকি দেশের মান-সম্মান ধূলায় মিশিয়ে দিয়েছে! এদের কাছে বাচ্চারা কি শিখবে আশা করো?
আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে আমাদেরই। আর সেটা ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মধ্যে। সীমাবদ্ধতা থাকবেই, কিন্তু চেষ্টা করে যেতে হবে যার যার সাধ্যমত।
ভাল থেকো।
৪৬|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৮
রেজোওয়ানা বলেছেন: খুব সুকৌশলে একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে, ধীরে ধীরে স্লো পয়জনিং এর মতো....
একমাত্র সচেতন বাবা-মায়েরাই পারে এটা ঠেকাতে। এই ছেলে মেয়ে গুলো যখন বড় হয়ে বাবা মা হবে, তখন কি অবস্থা হবে ভাবলেও আতঙ্কিত হচ্ছি!
অট: আমি মোবাইলে বলে সেই পেইজটার লিংক দিতে পারছি না, যেটাতে তোমার লেখা কপি করা হয়েছে। আমি মন্তব্য করেছিলাম, আমার ওয়ালে দেখতে পার।
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আপু এই ছেলে-মেয়েগুলো এমন হয়েছে তাদের বাবা-মার জন্য আপু। ক্ষয়টা তাহলে কত আগেই শুরু হয়েছে ভেবে দেখো আপু। আর এসব ছেলে-মেয়ে বাবা-মা হলে কি হবে! সেটা আমার কল্পনা করতেও ভয় লাগে। তারপরও...এরমধ্যেও আশার কথা হল তোমার মত, সুরঞ্জনা আপুর মত অনেকেই আছেন অনেক অনকে সচেতন। তাঁরাই এগিয়ে আসবেন। তাঁদের বাচ্চাদের নিয়ে তৈরি হবে নতুন একটা প্রজন্ম।
শুভেচ্ছা আপু।
৪৭|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৪৩
ইলুসন বলেছেন: আপু, আপনি বাচ্চাদের কি বলবেন? আমাদের দেশের ভার্সিটির অনেক গাধা এখনো জানে না যে, বাংলাদেশ পাকিস্তানের খেলাতে কেন বাংলাদেশকেই সাপোর্ট করতে হবে! কিছু করার নাই, এদের সাথেই সারাদিন থাকতে হয়, বিপদে আপদে এরাই বন্ধু হিসেবে পাশে থাকে। বড় অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয় এদের নিয়ে, মাঝে মাঝে তর্ক করি, মাঝে মাঝে এড়িয়ে যাই। এটা নিয়ে অনেক মন খারাপ ছিল কয়েকদিন, একটা পোস্টও দিয়েছিলাম বিজয় দিবসের সময়।
স্বাধীনতা, আমার বন্ধুদের সাথে তর্ক, আর কিছু মন খারাপ করা কথা!
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: বাচ্চাদের বলতে হবে, শেখাতে হবে যেন তারা এমন পরগাছার মত বেড়ে না উঠে। তারা যেন এমন বাবা-মা হয়ে উঠে যাতে তাদের শিশুরা অন্তত জানে আমাদের দেশ, দেশের ইতিহাস, দেশপ্রেম, দেশাত্মবোধ, মাতৃভাষা সম্পর্কে। যাতে এরাই তৈরি করতে পারে নতুন একটা প্রজন্ম।
আমাদের একটা সমস্যা কি জানেন, আমরা মনে করি কি হবে সম্পর্ক নষ্ট করে, ওরা ওদের মত চলুক, আমি আমার মতই থাকি। কিন্তু এমন কোন একটা উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করি না যাতে বন্ধুত্ব নষ্ট না করেও এই ব্যাপারগুলো তাদের বোঝানো যায়, ফেরানো যায়। ভেবে দেখুনতো ইলুসন, কোন উপায় কি নেই? অন্তত একজনকেও যদি ফেরাতে পারেন তার চেষ্টা থাকবে আরেকজনকে ডাকার। এভাবেই তো হয়, তাই না?
ভাল থাকবেন।
৪৮|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৪
মাহী ফ্লোরা বলেছেন: লেখাটা আশার পথে নিয়ে যাচ্ছে। সত্যিই মনে হচ্ছে সচেতনতা প্রয়োজন।খুব প্রয়োজন এখন।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:১২
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: সচেতনতা খুব প্রয়োজন, এখনি...এই মূহুর্তে...
আমাদের শুরু করতে হবে নিজের ঘর থেকেই।
শুভেচ্ছা।
৪৯|
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৬
একটি শিশিরবিন্দু বলেছেন: যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি, ক্লাস টিচার একটা প্রজেক্ট দিয়েছিলেন বছরের শুরুতে। সারা বছর জুড়ে পেপার পত্রিকা থেকে ছবি, কাটিং জোগাড় করে বাংলাদেশের ১৯৫২-১৯৭১ ইতিহাস এর একটা স্ক্র্যাপবুক বানাতে হবে। জমা দিতে হবে ফাইনাল পরীক্ষার আগে। সমাজ বিজ্ঞানে ১০ নম্বর বোনাস পাওয়া যাবে তাহলে। মাত্র ১০ নম্বরের জন্য আমরা সারা বছর খাটা খাটুনি করেছিলাম। কিন্তু একটা অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছিল সব সময় নিজের ইতিহাসের সংবাদ খুজে বেড়ানোর।
আব্বা আম্মাও অনেক ভাবে সাহাজ্য করেছিলেন ছবি, তথ্য জোগাড় করতে।
আপনার স্কুলের বাচ্চাদের এমন একটা প্রজেক্ট দিন না । ওরাও শিখবে, বাপ মা গুলাও তাহলে শিখবে।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:১৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: কি অসাধারণ একটা কাজ করেছেন আপনার টিচার! তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধা। আর আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ এই সুন্দর ঘটনাটা শেয়ার করার জন্য। আমি নিশ্চয়ই এমন কিছু করার চেষ্টা করবো। আমার সাধ্যে যতটুকু আছে আমি তা করে যাবো।
ভাল থাকবেন শিশিরবিন্দু।
৫০|
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:১৭
নিঃশব্দের পৃথিবী বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো।আমার বাবা মা সারা জীবন স্বপ্নে দেখে বিদেশে যাবার.আমি একটু বড় হবার পর থেকে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করছি, আজও বুঝাতে পারিনি, আমাদের দেশটা গরিব হলেও এটা আমার দেশ.আমরা সবাই এই দেশ থেকে চলে গেলে এই দেশকে কে এগিয়ে নিবে.এই দেশ এত কষ্ট করে তার সন্তানদেরকে বড় করে, আর সেই সন্তানরা বড় হয়ে দেশকে ফেলে বিদেশের উন্নতি করতে যায়.নিজের বাবা মা , তাদেরকে কি বলব বলুন.কিভাবে বুঝব.সবাই যদি আপনার মত চিন্তা করত হয়ত দেশটা আরো আগেই বদলে যেত.
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আমার বাবা-মাও চান আমি অন্য কোথাও চলে যাই। বহুদিন আমাকে বলেছেন, একটা সময়ে আমি নিজেও চেষ্টা করেছিলাম জোরে সোরে। কিন্তু এখন আর ভাবি না। উনারা কিছু বলতে চাইলে আমি সরাসরি বলে দেই, আমি কোথাও যাবো না। আমি এখানেই ভাল আছি, সব খারাপ, সব অন্যায়, সব মন্দ নিয়ে। কারণ এটা আমার দেশ।
তাঁরা বলে বলে ক্লান্ত, তাই আর জোর করেন না। তবু বলেন মাঝে মাঝেই।
আপনার বাবা-মা বুঝেননি, কিন্তু আপনিতো বুঝেন। তাঁদের বোঝান, এমন কাজ করুন যাতে তাঁরা আপনাকে নিয়ে এবং আপনার কাজের জন্য দেশকে নিয়েও গর্ব করেন।
শুভকামনা রইল।
৫১|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০১
অর্ক হাসনাত কুয়েটিয়ান বলেছেন: শ্রদ্ধা রেখে গেলাম।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ অর্ক।
৫২|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০৫
Dee Dee বলেছেন: স্যালুট!
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: থ্যাংকস!
৫৩|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪২
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: ভালো লাগলো পোস্ট।
আমার মেয়ে একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ে। স্কুলে বাংলা সাবজেক্ট মাত্র একটি। আর কিছুতেই বাংলা পড়ানো হয় না। কাজেই স্বভাবতই সে বাংলাতে পিছিয়ে, একই ভাবে বাংলায় সংখ্যাও গুলিয়ে ফেলে। আর টিচার রা ও অনেক ভুল ভাল পড়ায়। যেমন বর্ণমালা শেখার সময় সে বলল উম, অথচ স্কুলে যাবার আগেই সে শিখেছিল ওটা উঅ, তারপর ফ এর উচ্চারনের ভুল, এরপর আমি বলে দিয়েছি, বাংলা মা যা শেখাবে তাই যেন ফলো করে।
আমি নিশ্টিত তাকে এই ব্যাকআপটা আমিই দিতে পারবো। এখনো ইংরেজী বাংলা দুটো সমান হয়ে পারেনি, তবে হবে নিশ্চিত, যা নির্ভর করছে আমার শ্রম দেবার উপর।
আর এই হিন্দির জ্বালাতনে রীতিমতন অতিষ্ট বলা চলে। যেখানে তাকাই শুধু ডোরেমন! আমরা সিরিয়াসলি ভাবছি, টিভিটাই বন্ধ করে দেব। যতদিন না দিচ্ছি এই নিক আর ডিজনি দেখলে তার কোন শখ পূরণ হবে না এই হুমকি দিলাম। বহুত ঝামেলা রে ভাই!
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ইংরেজী মাধ্যম স্কুলগুলোর যে অবস্থা! বাংলা ক্লাস ছাড়া তারা আর কোথাও এমনকি বাংলায় কথা বলতেও পারবে না। আর খুব কম স্কুলেই বাংলা শিক্ষকেরা নিজেরা সঠিকটা জানেন। একই অবস্থা ইংরেজী শেখার ক্ষেত্রেও। ফলে দেখা যায় না তারা পারছে ভাল করে বাংলা শিখতে, না পারছে ইংরেজী। দুটোর মাঝখানে পড়ে তাদের শেখা হচ্ছে একটা খিচুড়ি ভাষা। আজকাল এফ এম রেডিও'র আর.জে. দের মধ্যে যার প্রভাব প্রবল।
আর এইসব হিন্দী কার্টুন! ছোটবেলায় আমরা বিটিভিতে একটা অনুষ্ঠান দেখতাম 'মনের কথা'। ছোট ছোট বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখাতেন মুস্তফা মনোয়ার, তারঁ সঙ্গে থাকতো একটা পাপেট। আরেকটা ছিল জাপানী একটা অনুষ্ঠান 'Can You Do It?' ফেলে দেওয়া বিভিন্ন জিনিস, কাগজ, কাপড় দিয়ে কিভাবে সুন্দর সব জিনিস বানানো যায়। আর ছিল মীনা কার্টুন। এইরকম কত কত শিক্ষণীয় অথচ আনন্দের সব অনুষ্ঠান দেখে। কেন এইসব বিজাতীয় ভাষার প্রতি এইভাবে নেশাগ্রস্ত হতে হবে! কিছুতেই আমার মাথায় ঢোকে না। আর ওরা এত সময়ই বা পাবে কেন টিভির সামনে বসে থাকার? কত কাজ আমাদের ছিল ওই সময়টায়। ছবি আঁকা, খেলতে যাওয়া, গল্পের বই পড়া, খেলনা বানানো...........কত কি! এখনকার বাচ্চারা তা করবে না কেন!
হুমকি দিয়েতো কাজ হবে না আপু। তাকে বোঝাতে হবে, সময় দিতে হবে, ঠিক রাস্তাটা দেখিয়ে দিতে হবে।
ভাল থাকবেন। ছোট্ট পরীর জন্য শুভকামনা রইল।
৫৪|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৫
ত্রাতুল বলেছেন:
আগে একবার হাজিরা দিয়ে গিয়েছিলাম শুরুটা দেখেই। একটু পরেই বুঝতে পারছিলাম এটা মন দিয়ে পড়তে হবে। ছুঁয়ে গেল অনুভবগুলো। যে যার জায়গা থেকে যদি একটু সচেতন হয়। হোকনা সে তিন সদস্যের একটা পরিবার। শুরুতে হয়তো ঝামেলা হবে কষ্ট হবে। কিন্তু আমার বিশ্বাস দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে হলেও লেগে থাকলে এই ছোট ছোট যুদ্ধগুলো আমরা জিতে যাব। প্রত্যেকটা দিনই হোক সংগ্রামের। প্রত্যেকটা দিনই হোক বিজয় দিবস। আর কোন চৌদ্দ ডিসেম্বর দেখতে চাই না আমরা।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে হলেও লেগে থাকলে এই ছোট ছোট যুদ্ধগুলো আমরা জিতে যাব। প্রত্যেকটা দিনই হোক সংগ্রামের। প্রত্যেকটা দিনই হোক বিজয় দিবস। আর কোন চৌদ্দ ডিসেম্বর দেখতে চাই না আমরা।
এই বিশ্বাসটুকু সকলের হোক। সেই সাথে চেষ্টাটুকুও।
ধন্যবাদ ত্রাতুল।
ভাল থেকো।
৫৫|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০৪
শাহরিয়ার রিয়াদ বলেছেন:
অসাধারণ একটা পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আমরা যে শেকড় ছিঁড়ে কোথায় গিয়ে থামব উপরওয়ালায় জানেন।
জেগে উঠুক বোধ।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৬
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: জেগে উঠুক বোধ।
ধন্যবাদ রিয়াজ।
জেগে উঠুক.............................
৫৬|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২০
আমি সুফিয়ান বলেছেন: চমৎকার বলেছেন
আমাদের যে অবস্থা, পুরোপুরি আশংখাজনক।
আমার কজিনের বাচ্চা গুলোসেদিন দেখি আমার ভাগিনি কে দেখে বলছে ছোটা বেবি!!
হিন্দি কার্টুন, জী বাংলা'র প্রকোপ প্রচন্ড বেড়ে গেছে
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:০২
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এটাতো আজকাল খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার দুই কলিগকে হিন্দী সিনেমা নিয়ে কথা বলতে শুনলাম। তারা কোন প্রসঙ্গে বলছিল, 'আত্ মা'। এমন কোন শব্দ বাংলা ভাষায় আছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু এইসব শব্দই আজকাল অহরহ ব্যবহৃত হচ্ছে, অবলীলায়। কয়দিন পর হয়তো এগুলোই বাংলা অভিধানে জায়গা করে নিবে। কে জানে!
ধন্যবাদ সুফিয়ান।
৫৭|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৪৯
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: আগেই পড়েছিলাম । কমেন্ট করা হয়নি ।
আমরা আমাদের যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলেই
দেশটা একদিন যাবে
বদলে দেয়া
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪২
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ঠিক বলেছেন তানিম। অন্য কেউ করবে, আর আমি তার ফল ভোগ করবো-সে আশায় বসে না থেকে চেষ্টা করতে হবে আমাদের সবাইকেই। তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব।
ভাল থাকবেন।
৫৮|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৮
মহাবিশ্ব বলেছেন:
অনেকদিন আগে কলেজ যাবার সময় দিনের পর দিন মৌলালীর মোড়ে এক ভদ্রলোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতাম, হাতে একটা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে। তাতে লেখা থাকতো, প্রত্যেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলতে পারলে বিপ্লব আসবে। এত বড় সত্যি কথা বুকের গভীরে গেঁথে গেছিলো। এই শিক্ষা শুধু যে ডিগ্রি বাড়ানোর নয় এটা আমরা বুঝেও বুঝি না। মানসিকতা তৈরির প্রাথমিক কাজটা অভিভাবকদেরই করতে হয়।
বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতা খুবই দুঃখের এবং অসহায়তায়। সমুদ্রকন্যা, আপনার লেখা ছত্রে ছত্রে তার প্রতিফলন। আবার আশার বীজও রোপিত রয়েছে এখানেই, অর্ধেকের বেশী বাচ্চা কিন্তু স্বল্প সময়েই আগ্রহী হয়ে উঠতে পেরেছিল।
আসলে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গ্লোবালাইজেশান এর একটা অন্যতম কারণ। ভিন্ন মানসিকতা এবং সংস্কৃতির এমন কিছু দিক তুলে ধরা হয় যা মনকে সহজেই প্রভাবিত করে দেয়। আর আমাদের অভিভাবকদের উচ্চাশার শেষ নেই। সব কিছু পেতে গিয়ে আমাদের হয়তো সব কিছুর চেয়েও বেশি কিছু হারিয়ে ফেলতে হচ্ছে। মানসিকতা গঠনের থেকে ক্যারিয়ার গড়া এখন বেশী গুরুত্ত্বপূর্ণ। ব্যালান্সটা আর থাকছে না।
প্রতিটি পরিবারের বিন্দু থেকেই তৈরী হোক পরিবর্তনের সিন্ধু।
সুপ্রভাত সমুদ্রকন্যা। শীত সকালের রোদ্দুর মোড়ানো শুভকামনা।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:১০
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: মানসিকতা তৈরির প্রাথমিক কাজটা অভিভাবকদেরই করতে হয়
কিন্তু অভিভাবকদের অবস্থা আজকাল এতটাই করুণ যে ভীষণরকম হতাশ লাগে। গ্লোবালাইজেসন বা ভিন্ন সংস্কৃতি জানা-দুটোই প্রয়োজনীয় ব্যাপার। কিন্তু নিজের পরিচয় ভুলে গিয়ে নয় অবশ্যই।
মা-বাবা ঠিক কিসের উচ্চাশায় আত্ম-পরিচয় বিসর্জন দিতে উদগ্রীব আমার কাছে তা পরিস্কার নয়। আমি কখনো বুঝতে পারি না। এ কারণেই এদের মাঝখানে নিজেকে ভিনগ্রহের প্রাণী বলে মনে হয়।
প্রতিটি পরিবারের বিন্দু থেকেই তৈরী হোক পরিবর্তনের সিন্ধু।
এ কথাটা সবাই যদি বুঝতো!
ধন্যবাদ গৌতম দা'।
ভাল থাকবেন অনেক।
৫৯|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪৩
জাফরিন বলেছেন: অনেক বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আপু।
খুব কষ্ট হয় যখন পরিবারের গুরুজন যেমন খালা, মামী, ছোট ভাইবোন, প্রিয় বন্ধুবান্ধব, এমনকি রুমমেট অথবা আরো কাছের কোনও মানুষদের এ কথাগুলো বোঝাতে পারি না।
হিন্দী সিরিয়াল বা সিনেমা দেখিনা, জঘন্য গানগুলো শুনি না বলে আজ কোনও আড্ডা বা অনুষ্ঠানে গেলে আমাকে সবাই বেখাপ্পা ভাবে।
পাশের রুমের কোনও মেয়ে লেটেস্ট হিন্দী মুভি চাইতে এসে যখন শুনে হিন্দী দেখি না, তখন অবাক এবং বিরক্ত হয়।
বন্ধুত্ব যেন জমে না rag day তে "শিলা কি জাওয়ানি"র সাথে অশ্লীল নাচ না করলে।
হিন্দী বিশেষজ্ঞ না হলে আজ সব জায়গায় অনাহূত।
বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা এমন করলে আর কী বলার আছে! তবু চেষ্টা চালিয়ে যাই।
আপনার অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ।
জানি না এই অভিশাপ থেকে আমাদের দেশটা কবে মুক্ত হবে।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:১৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এই অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে আমাদেরই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব করে যেতে হবে। বাধা আসবেই, ভুল বুঝবে অন্যেরা, বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে। কিন্তু তারপরও হাল ছেড়ে দিলে হবে না। চেষ্টার ফল একদিন নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।
ভাল থাকবেন জাফরিন।
৬০|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:০৬
আবু সালেহ বলেছেন: দোষটা অভিভাকবকদের.....বিশেষ করে মায়েরা.....যারা কিনা তিন্দি সিরিয়ালে আসক্ত.......ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয় সিরিয়াল দেখে....
আবার দেখেন যে মেয়েটা মোটামুটি হাঁটতে শিখেছে...তাকে শিলা কি জাওয়ানি গান শুনিয়ে নাঁচতে দেওয়া হয়....সেও নাঁচে...সবচেয়ে দুঃখ জনক হলো..এক পর্যায়ে এসে সে ঐ গান না শুনলে নাঁচবে না...আমিও সেটা প্রত্যক্ষ করি...তাকে একটা বাংলা গান শুনাই...নাঁচে না..অন্য আরেকটা ...তাও সে নাঁচে না...আবার শিলা কি জাওয়ানি শোনানো হয়...এইবার সে নাঁচে.....
আমি আক্ষেপ করি....হায়রে দেশ ..হায়রে ভাষা...এদের কাছেই সকল আশা...!!!!
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:০১
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আমরা যারা বুঝতে পারি, আমাদের উচিত মায়েদের বোঝানো। বাচ্চাদের শেখানো কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক। প্রত্যেকের চেষ্টাই পারে আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে।
ভাল থাকবেন।
৬১|
২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:০৮
চতুষ্কোণ বলেছেন: কতদিন পর তোমার এমন কোন লেখা পড়লাম। জানি না কেন অনেকদিন পর তোমার কোন লেখা পড়ে ল্যাপ্পির স্ক্রিন ঝাপ্সা দেখছি। শেষটুকু পড়ে মন হালকা লাগছে অনেক। কৃতজ্ঞতা জেনো সমুদ্রের মেয়ে!
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: লেখাটা তোমাকে ছুঁতে পেরেছে জেনে খুব ভাল লাগল চতুষ। তোমারই আশে পাশে হয়তো এমন অনেকেই আছে। তাদের পরিবর্তনে তোমার সামান্য চেষ্টাও যদি থাকে এ লেখা পড়ার পরে, তাহলে বুঝবো আমার লেখাটা সার্থক হয়েছে।
ভাল থেকো।
৬২|
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৪৮
সিদ্দিক আহমেদ বলেছেন: এটা যদি এলোমেলো লেখা হয় তবে এমন লেখা আমি বারবার হাজার বার লিখতে চাই । বহুদিন পর কোন লেখা পড়ে আমার রোম খাড়া হয়ে গেছে এবং চোখে পানি চলে আসেছে ।
বাচ্চাদের আমি কোন দোষ দেখি না । দোষ আমাদের বড়দের । আমারা আমাদের বাচ্চাদের জন্য TV তে কি দেখায় ? বাচ্চাদের কথা বাদ দিলাম কিশোরদের জন্য কি বানিয়েছি ? মিনা আর মন্টু মিয়া বাদে বাংলাতে কোন cartoon কি আছে? কোন বাচ্চাদের উপযোগী series বা serial কি আছে?
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৭
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এইসব ছোট ছোট শিশু, যাদের নরম কাঁদার মত হৃদয়ে যে বীজই আমরা বুনে দেবো সে ফসলই পাবো, তাদের কি করে দোষ দিই! দোষটা অবশ্যই আমাদের বড়দের। যাদের দায়িত্ব বাচ্চাদের শেখানোর, জানানোর, দেখানোর।
আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই হয়তো একটা সময়ে এ অবস্থার পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে।
ধন্যবাদ সিদ্দিক।
ভাল থাকবেন।
৬৩|
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:৫৭
স্বদেশ হাসনাইন বলেছেন: অসাধারণ লেখা,
সমুদ্রকন্যা গভীর অনুভব ক্ষমতা আমাকে ছুঁয়ে যায়।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৮
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: কৃতজ্ঞতা হাসনাইন ভাইয়া।
শুভেচ্ছা রইল।
৬৪|
০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১২
শায়মা বলেছেন: কন্যা কেমন আছো???
তোমার বেবিদের জন্য ভালোবাসা!!!
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৮
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ভাল আছি শায়মাপু'।
ভালবাসা পৌঁছে দিলাম। ![]()
৬৫|
০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:০৫
আহমেদ চঞ্চল বলেছেন: নি:স্বন্দেহে উচ্চমার্গীয় গদ্য।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: জ্বী!
৬৬|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৭
শত রুপা বলেছেন: তুমি বোঝো নাই আমার লেখা?
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৪৩
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: আপনার লেখা! কোন লেখা শত রুপা?? বুঝলাম না
৬৭|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:০৭
সানজিদা হোসেন বলেছেন: আমার ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া বোনকে আমার বন্ধু রাশেদ বইটা পড়তে দিয়েছিলাম। বইটা পড়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছিল ।তারপর থেকে সে বাংলাদেশ নিয়ে আজে বাজে কিছু বলে না। আসলে এটা আমাদের দ্বায়িত্ব আমাদের বাচ্চাদের বোনদের ভাইদের এই মেসেজগুলো জানানো।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৪৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: এই দায়িত্বটা আসলে আমাদেরই। বাচ্চাদের দোষ দেয়া কখনোই উচিৎ নয়, ওরাতো বাবা-মা'র কাছেই শিখবে। বাবা-মাকেই শুরু করতে হবে। শুরু করতে হবে ঘর থেকেই। তারপর স্কুল, শিক্ষকদের দায়িত্বটাও অনেক অনেক বেশি।
শুভেচ্ছা।
৬৮|
২৬ শে মে, ২০১২ রাত ৯:৩৯
ব্রতচারী মেয়ে বলেছেন: সহ মত।
Click This Link
০৬ ই জুন, ২০১২ রাত ৯:১০
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ ব্রতচারী মেয়ে।
৬৯|
২৪ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:৩১
সকাল রয় বলেছেন: যেখানে বাবা - মা -হিন্দি-ইংলিশ ফ্লিম না দেখলে মজা যায়না তাদের ছেলে মেয়েরা তো এমন হবেই
৩১ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:২৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: বাবা-মাসহ সবাইকেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
ধন্যবাদ সকাল।
৭০|
২০ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:০৯
আজনবী বলেছেন: সুন্দর হয়েছে লেখাটা।
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৫৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ আজনবী।
শুভেচ্ছা।
৭১|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ ভোর ৫:৫৩
শামীম আরা সনি বলেছেন: আপনার লেখা পড়লাম। আমার একটা রিলেটেড পোস্টে হামা ভাইয়ের দেয়া লিংকে আপনার এ পোস্টের খোঁজ পেলাম
সময় পেলে আমারটাও দেখে আসতে পারেন![]()
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:২৫
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ।
আপনার লেখাটাও পড়লাম। সিরিজটা চালিয়ে যান।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩১
নাফিজ মুনতাসির বলেছেন: দোষটা ইয়াং জেনারেশনের যতটা আমার মতে তার থেকে বেশী সবার গার্জেনদের। নিজের সন্তানদের সবার থেকে আলাদা করে তোলার জন্য উনারা এমন সব ডিশিসান নেন যা থেকেই এই অবস্হার সৃষ্টি হয়।
তারপরও আশা দেখি। একদিন হয়তো আমরা সবাই পারবো আবার দেশকে মাথা তুলে দাড়াতে সাহায্য করতে। হাজারহোক দেশটাতো আমাদের।