নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Candle in the Wind

আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছো বসি আমার ব্লগখানি কৌতুহল ভরে

মেহরাব শাহরিয়ার

তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিবনা কোলাহল করি সারা দিনমান, কারো ধ্যান ভাঙ্গিবনা।

মেহরাব শাহরিয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

পত্রিকার স্মৃতি :: সাপ্তাহিক বিচিত্রা

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৩৮

আমার বর্ণশিক্ষার বয়স আর পত্রিকা পড়ার বয়স মোটামুটি কাছাকাছি।



সময়টা তাহলে ৮৮ কি ৮৯ ই হবে। বাংলা পত্রিকা নামক জিনিসটা দুর্লভই ছিল বৈকি।ইরানে বাংলাদেশের পত্রিকা যেত না, আর না যাওয়াটাই স্বাভাবিক।ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের ঐ অংশে সব মিলিয়ে বাংলাদেশী ১০/১২ জন ডাক্তার ছিলেন। বছরে গড়ে তিন/চারজন দেশ ঘুরে যেতেন, যাবার সময় লাগেজে ভরে কিছু পত্রিকা নিতেন। সেই পত্রিকা এরপর হাতে হাতে বদল হত হাজার হাজার বর্গ কিলোমিটার। কতবার করে পড়া হত তার ইয়ত্তা নেই। ছয় মাস কি এক বছরের পুরনোর পত্রিকারও আবেদন কমত না এতটুকু।



পত্রিকা বলতে তখন একটা পত্রিকাই চিনতাম- বিচিত্রা। সম্ভবত সে সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক। অন্তত ডাক্তার আংকেলরা বিচিত্রাই সাথে নিতেন। পত্রিকার সব পড়ার বয়স আমার তখন হয়নি, তবুও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যতটা পারি পড়তাম। কাভার পেজ উল্টালেই চোখে পড়ত রনবী'র টোকাই। টোকাইয়ের দু'টো ডায়ালগ পড়ার জন্য কখনও বা অপেক্ষা করতে হত মাসের পর মাস। সেসব ডায়ালগের মর্মার্থ বুঝতাম যে তা না , তার চেয়ে বরং কার্টুনটাই দেখতাম। টোকাই ছিল মূলত স্যাটায়ার বেইজড কার্টুন, সমাজের অসংগতিগুলো তীক্ষ্ণ ফলায় বিদ্ধ করত সে একটা বাক্যে। সেই টোকাইয়ের দেখা পাই না অনেকদিন , টোকাই কি বেঁচে আছে?



আরেকটা কার্টুন থাকত শেষ পাতার পুরোটা জুড়ে , ভীষণ মজার কার্টুন। এ কার্টুনের চরিত্রগুলো টোকাইয়ের মত ভারী ভারী কথা বলত না। মিষ্টি মিষ্টি কথায় ভরা থাকত। হ্যাঁ, আসলেই মিষ্টি , আলাউদ্দিন সুইটসের মিষ্টান্ন। এখন বুঝতে পারি , পাতা জুড়ে কার্টুন ছিল আসলে আলাউদ্দিন সুইটমিটসের বিজ্ঞাপন। দেশে যখন ফিরেছি আলাউদ্দিন সুইটমিটসের জৌলুস নিভতে শুরু করেছে , কিন্তু সেই কার্টুনগুলোর স্মৃতিতে ভর করে একটা সময়কার তাদের তোলা ঝড় অনুভর করি। বেঁচে আছে আলাউদ্দিন সুইটমিটস? শেষ কবে কে কে গিয়েছেন?



টোকাইয়ের সাথে একই পাতায় থাকত সম্পাদকীয়। সে পাতা উল্টালে শিরোনামে থাকত "প্রেসিডেন্ট"। সপ্তাহের প্রেসিডেন্টের প্রধান কর্মকান্ড সম্বলিত সংরক্ষিত রিপোর্ট বা ফিচার। রাজনীতির খটোমটো কথা বুঝার বয়স তখন আমার হয়নি, আমি শুধু প্রেসিডেন্ট এরশাদের ছবি দেখেই সে পাতা থেকে বিদায় নিতাম। যতটা মনে পড়ে, প্রেসিডেন্টের জনসভার ছবিই বেশির ভাগ সপ্তাহে থাকত সেখানে।



বিচিত্রার একটু গভীরে ঢুকলে সাক্ষাৎকার চোখে পড়ত। সেসব বুঝার মত বয়সও হয়নি, তাই পড়তাম না কখনোই। রাজনীতি নামে সম্ভবত আলাদা একটা পাতাও ছিল, সংঘাত কিংবা হরতালের খবরের কথা আবছাভাবে মনে পড়ে।



পত্রিকা তো দূরের কথা, ইন্টারনেটবিহীন, টেলিফোনবিহীন সে সময়ে বাংলাদেশী পরিবারগুলোর একমাত্র ভরসা তখন বিবিসি বাংলা সার্ভিস। আমার আব্বাকে দেখতাম তুমুল সংগ্রাম করে হাজার চ্যানেলের কিচিরমিচির থেকে বিবিসি খুঁজতে। এমন অনেকদিন গেছে , চ্যানেল ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি , খবরও জানা হয়নি।



শেখ হাসিনার ছবি বিচিত্রার পাতা জুড়ে খুব বেশি করে দেখতাম। ৯১ এ নির্বাচন হবে , সবার কাছে শুনলাম শেখ হাসিনা জয়ী হতে চলেছে, ডঃ কামাল হোসেন হবেন প্রেসিডেন্ট। আমিও তাই জানি , হঠাৎ করে বিবিসি শুনে আমার আব্বা বললেন -- "খালেদা জিয়া জিতে গেছে"। কথাটা এখনও কানে বাজে।



খালেদা জিয়ার নামও ততদিনে কম শুনিনি।ইরানীদের কাছে প্রেসিডেন্ট জিয়া বেশ পরিচিত ছিলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে দু'টো কথাই মনে হতে তারা জানে , এক, বাংলাদেশ ডাক্তারে ভর্তি , দুই, জিয়া বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমার কাছে খালেদা জিয়া তখনও জিয়ার বউ, এর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। তবে সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হল, খালেদার কোন চেহারাই আমি মনে করতে পারলাম না। কখনও কোথাও , এমনকি বিচিত্রার পাতায় তার ছবি দেখেছি এমনটাও মনে পড়ল না।



সেই খালেদা জিয়াকে প্রথম দেখলাম ৯৩ এর জানুয়ারীতে , এক ডাক্তার আংকেলের নিয়ে যাওয়া বিচিত্রার কাভার পেজে। পত্রিকার শিরোনাম ছিল -- গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান। ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজ মাঠ, মাঝে সাদা শাড়ি পড়া খালেদা জিয়া। সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপন অভিযানকে নিয়েই কাভার স্টোরি ছিল।



বিচিত্রার খুব জনপ্রিয় একটি অংশ ছিল প্রবাসীদের পাঠানো চিঠি বা লেখা। বলতে গেলে ঐ অংশটুকুই ভীষণ মনযোগ দিয়ে পড়তাম। বেশিরভাগ চিঠি যেত মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র/যুক্তরাজ্য/জাপান থেকে। খুব মনযোগ দিয়ে খেয়াল করতাম কে কোথা থেকে লিখেছে। প্রবাসী মানুষগুলোর দুঃখ-কষ্ট-আনন্দের পরিস্কার একটা ছবি দেখতাম লেখার মাঝে। অনেকে প্রবাসীদের সংস্কৃতি , জীবন-যাপনের স্বাচ্ছন্দ্য, প্রযুক্তি নিয়েও লিখতেন।



খেলার খবরের জন্য বরাদ্দ থাকত সাধারণত দু'পৃষ্ঠা। অবধারিতভাবেই সেটা দখল করে রাখত ঢাকার ফুটবল মাঠ, আরও স্পষ্ট করে বললে- মোহামেডান আবাহনী। এর ব্যতিক্রম দেখেছিলাম বিশ্বকাপের সময়, আর্জেন্টিনা কিংবা ক্যামেরুনকে নিয়ে উন্মাদনা নিয়ে।



চলচ্চিত্র নিয়ে যে দু'টো পাতা থাকত , সে অংশ নিয়ে রয়েছে মজার স্মৃতি। আপ্রাণ চেষ্টা করতাম , সে পাতাগুলোর দিকে চোখ না দিতে। নায়ক-নায়িকা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আছে, এমন খারাপ কাজের কথা ভাবতেই পারতাম না। অবাক হচ্ছেন? আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইরানের কুর্দিস্তানে যে সমাজ-ব্যবস্থায় বড় হয়েছি সেখানে এমন কিছু আসলেই ছিল কল্পনাতীত। তবুও দু'একজন নায়ক নায়িকার নাম মনে করতে পারি যারা একটু বেশিই আমাকে বিব্রত করত - নতুন, রাণী, সুনেত্রা, অঞ্জু ঘোষ, রুবেল , মান্না।



বিচিত্রার পেছনের পাতায় একটা বিজ্ঞাপনের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। ভাঁজ করে রাখা হাঁটুতে মাথা ঠেকিয়ে পেছনে তাকিয়ে আছে ভারী অলংকার পড়া একটি মেয়ে। সম্ভবত আমিন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপন ছিল সেটি। যতটা মনে পড়ে আমার শৈশবের বিচিত্রা-পর্বের পুরোটা সময় জুড়েই সে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হত। এর বাইরে মনে পড়ে ব্যাক কাভারে ম্যানোলা ক্রিমের বিজ্ঞাপনের কথা ।



"পত্রিকা" শব্দটা আমি তখন জানতাম কিনা মনে পড়ে না, সম্ভবত পত্রিকাকে আমি "বিচিত্রা" নামেই প্রথম চিনেছি। বিচিত্রাও হারিয়ে গেছে , হারিয়ে গেছে ছোটবেলার বিচিত্র সেসব দিন। শুকনো পাতার মত কয়েকটা স্মৃতি কেবল রয়ে গেছে

মন্তব্য ৫৬ টি রেটিং +২০/-০

মন্তব্য (৫৬) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৪৫

বড় বিলাই বলেছেন: বিচিত্রা নিয়ে আমার স্মৃতিও মোটামুটি একই রকম। ম্যাগাজিন অর্থই ছিল তখন বিচিত্রা। আব্বা অফিস থেকে আসার পথে নিয়ে আসতেন, একরকম ঝাপিয়ে পড়তাম তিন বোন। কার আগে কে পুরোটা শেষ করবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলত।

নস্টালজিক করে দিল আপনার এই লেখা। +++++

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩২

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: বিচিত্রার পোকা তাহলে আমি একা ছিলাম না :)

দেশে ফেরার পর মেয়ে-মহলে আরেকটা পত্রিকার তুমুল জনপ্রিয়তা দেখতাম- আনন্দ-বিচিত্রা


অনেক ধন্যবাদ আপনাকে

২| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৪৬

রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ভাল লাগল পোস্ট।

আছেন কেমন ভাইয়া ?

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৩

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: এইতো তানিম , চলছে কোনরকম।

তোমার লেখালেখি কেমন চলে? বই নিয়ে সবার প্রতিক্রিয়া কি ?

৩| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫১

রাতুল_শাহ বলেছেন: পড়লাম।

ভাল লাগল।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৩

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল

৪| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫৪

~মাইনাচ~ বলেছেন: ৮৮ কি ৮৯ তখনতো আমি পিচকা ছিলাম :D


মাঝেমধ্যে দেখতাম আপু খালারা পড়তো। আমি শুধু মেয়েদের পটো দেখতাম ;)

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৬

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: হাহা , আপনি দেখি পিচ্চিকাল থেকেই রিসোর্সের সদ্ব্যবহার করসেন :)

৫| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫৯

আহমাদ জাদীদ বলেছেন: Valo laglo......+

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৬

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ

৬| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:০২

ফেলুদার চারমিনার বলেছেন: অনেক ভালো লাগা রইলো পোস্টে। একই সাথে মনটাও একটু খারাপ হয়ে গেলো।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৭

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: জীবনটা প্রতিনিয়ত এত কঠিন হয়ে যাচ্ছে , পেছনে তাকালে তাই মন খারাপের সুরটাই বেশি করে বাজে

কৃতজ্ঞতা পোস্ট পড়ার জন্য

৭| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:০৫

চারু৩২ বলেছেন:
নস্টালজিক।


+

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ধন্যবাদ

৮| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:০৮

মিতক্ষরা বলেছেন: চমৎকার।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৩৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ভাল লাগল :)

৯| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:১৯

শামীম অহাম্মদ মজুমদার বলেছেন: চমৎকার। ভালো লাগলো।
++++++++++++++++++++++++++

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৪০

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: জেনে খুশি হলাম , শুভেচ্ছা

১০| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:২০

সাইফ সাইমুম বলেছেন: স্মৃতিচারণামূলক পোস্টটি ভালোই লাগলো ।

শুভেচ্ছা আপনাকে :)

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৪৫

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: আপনার জন্যও শুভেচ্ছা রইল

১১| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:২৩

আকাশচুরি বলেছেন: সেটাই, আমরা পত্রিকা বলতে সে সময় বিচিত্রাই বুঝতাম:) সেকালে বিচিত্রার ঈদসংখ্যার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকত সবাই।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৪৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: বাংলাদেশে ফিরলাম ৯৪ এ । মনে আছে , সেমসয় বিচিত্রাকে দেখেছি ঈদের অত্যাবশকীয় অনুষঙ্গ হিসেবে। সম্ভবত তারাই কেবল ঈদ সংখ্যা বের করত। এরও বেশ কিছুদিন পর অন্যদিন , পূর্নিমা ঈদ সংখ্যা বের করতে শুরু করে

১২| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:৩৬

ভ্যাগবন্ড বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কৈশোরের মধুর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। বিশেষ করে রনবী'র টোকাই, আলাউদ্দিন মিষ্টির কার্টুন আর প্রবাস থেকে বিভাগটি বড়ই প্রিয় ছিল। সম্ভবত 'কুরুক্ষেত্র' নামে আরেকটি বিভাগ ছিল।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৪৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: কুরুক্ষেত্রে কি প্রকাশিত হত, মনে আছে?

১৩| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:৪২

maxcse বলেছেন: সাইফ সাইমুম বলেছেন: স্মৃতিচারণামূলক পোস্টটি ভালোই লাগলো ।

শুভেচ্ছা আপনাকে

৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৩৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা
পোস্ট পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ

১৪| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:৫০

সংবাদিকা বলেছেন: আন্টি - খালাদের পড়তে দেখতাম......... আমি লুকাই লুকিই ছবি টবি দেখতাম, যেন আম্মা টের না পান........ নাহলে খবর ছিল :P :P :P :P :P :P

১৫| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:০৯

ঈষাম বলেছেন: আমার জন্মই তো হলো ৯২ তে..:(

৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৩৯

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: তাহলে অনেক কিছু মিস করে ফেলসেন :)

১৬| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ২:৫৬

মোঃমোজাম হক বলেছেন: আমিও ছিলাম বিচিত্রার অন্ধ ভক্ত।বিচিত্রা ফোরাম ক্লাবের আইডি কার্ড পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেছিলাম।আর ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়ে পকেটমানিগুলি উজার করতাম। ;)
প্রবাসীদের পাঠানো চিঠি পড়ে অনেক কিছু জেনেছি কিন্তু আমি যখন প্রবাসী হলাম রাজপরিবার নিয়ে লেখার কারনে এদেশে বিচিত্রা নিষিদ্ধ!সবচে বড়কথা আমি বিচিত্রাতে প্রতিবেদন লিখে সন্মানী পেয়েছিলাম।

সবশেষে বলছি আপনার লেখাটা সিনেমার রিভিয়্যু লেখার মতো সুন্দর আর সাবলীল হয়েছে।এই না হলে কি বিচিত্রার পাঠক :)

৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৪২

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: একজন খাঁটি বিচিত্রা ভক্তকে পেয়ে ভাল লাগল । আমার বিচিত্রা পড়া তো পাতা উল্টিয়ে ছবি দেখার মাঝেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল।

পত্রিকায় লেখা ছাপা হয়েছিল আপনার ? দারুণ ব্যাপার। সে সময়টায় পত্রিকায় লেখার আবেগটা অনুভব করার চেষ্টা করছি। ছাপার হরফে এখন অনেকেরই লেখা ছাপা হয় , ছাপা হলেও সেই সময়ের আবেগ সম্ভবত কখনোই ছুঁতে পারে না।

আপনার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করবেন।

অনেক ধন্যবাদ

১৭| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ৩:৪৩

পড়শী বলেছেন: বাহ। এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মনে রেখেছেন কিভাবে? ++++

৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৪৪

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: আরও কত কত স্মৃতি আছে ভুলে গেছি ।

৫/৬/৭/৮ বছর বয়েসের অনেক জিনিস চিরতরে মনে গেঁথে যায় বলে শুনেছি , সেসবই হবে :)

১৮| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ ভোর ৬:০৮

রাইসুল জুহালা বলেছেন: দারুন লাগল বিচিত্রাকে নিয়ে আপনার স্মৃতিচারন। বিচিত্রা আপনি যখন পড়তে শুরু করেছেন, আমি তখন প্রায় ছেড়ে দিয়েছি কারন বিচিত্রার মান তখন কিছুটা পড়ে গিয়েছিল। বিচিত্রা তার স্বর্নযুগ কাটিয়েছে সত্তরের শেষ এবং আশির দশকের শুরুর দিকে। তখন বিচিত্রার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনগুলো ছিল একেকটা আগুনের গোলা।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৩২

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: হ্যাঁ , সেটাই জানলাম মাত্র সামুর অন্য ব্লগ থেকে।

আমার ধারণা ছিল বিচিত্রার তখন একাধিপত্য, আসলে সে সময়টায় বিচিত্রা পরে যেতে শুরু করেছে। আচ্ছা , বিচিত্রা আবার যাত্রা শুরু করেছিল শেখ রেহানার সম্পাদনায় , তারপর কি অবস্থা জানেন কি ?

ইন্টারনেটে খুঁজে ৭০ দশকের বিচিত্রার কাভার পেলাম:



১৯| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ ভোর ৬:২১

রাইসুল জুহালা বলেছেন: মোঃমোজাম হক বলেছেন: সবচে বড়কথা আমি বিচিত্রাতে প্রতিবেদন লিখে সন্মানী পেয়েছিলাম।

তাই নাকি মোজাম ভাই! দারুন ব্যাপার তো। একদিন শোনান সেই গল্প সবাইকে।

২০| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৮:১১

নাওেয়দ বলেছেন: আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা অনেকে মিলে যদি আলাউদ্দিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধরে রাখার জন্য একটা ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড করতে পারতাম!

০১ লা এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:২৯

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: কেন বাঁচতে পারল না ভাবি । এমন না যে ঢাকায় অনেক ভাল মিষ্টির দোকান এসে গেছে। বরং ,সব মিলিয়ে মিষ্টির মানও পড়ে গেছে মারাত্মক ভাবে । দু'একটা দোকান ভাল মিষ্টির নিশ্চয়তা দেয় , কিন্তু তাদের দাম বেশিরভাগ মানুষের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

২১| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৫৪

জুল ভার্ন বলেছেন: বিচিত্রা নিয়ে আপনার স্মৃতিচারণ খুব সুন্দর হয়েছে। আপনি বিচিত্রায় অনেক জনপ্রিয়(পাঠক প্রিয়) ইভেন্টের কথা বলেছেন-যা সঠিক। একই সংগে বিচিত্রায় সর্ব প্রথম "ব্যাক্তিগত বিজ্ঞাপন" দেয়া শুরু হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপণগুলোও খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ব্যাক্তিগত বিজ্ঞাপন দাতাদের মধ্যে খুব জন প্রিয় ছিল "পঞ্চপান্ডব", জসিম মল্লিক, লিয়াকত হোসেন খোকন, জিয়া খন্দকার, তসলিমা নাসরিন, সাইফ উদ্দীন সাইফ, নজরুল ইসলাম বাসন প্রমূখ।

বিচিত্রা ফোরাম ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হবারপর সারাদেশে ফোরাম ক্লাবের সংবাদ ও কার্য্যক্রমও অত্যন্ত পাঠক প্রিয় ছিল।

বিচিত্রায় আমার একটি প্রতিবেদন "সব জ্যোতিষই ভূয়া" খুবই পাঠক প্রিয়তা পেয়েছিল। এছারাও "বানরের হস্ত রেখা কি বলে", "ডাঃ জাহাংগীর বেঈমান", "সদর ঘাটে কূর রাজত্ব" ইত্যাদি প্রতিবেদনগুলো বেশ আলোচিত হয়েছিল।

০১ লা এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:৩৪

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: অনেক ভাল লাগল ইনফরমেশনগুলো পেয়ে , বিচিত্রার অনেক অনেক কিছু আমি মিস করেছি , বুঝা যাচ্ছে ।

সব জ্যোতিষই ভূয়া -- আক্ষরিক অর্থ আর প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু কি একই ছিল ? যদি তাই হয় , প্রতিবেদনটি খুব আলোড়নি সৃষ্টিকারী হওয়ার কথা, বিচিত্রা যে সেটা ছাপিয়েছে সেটাও ইন্টারেস্টিং। সেসময় ম্যাগাজিনগুলোতে জ্যোতিষদের ভয়াবহ রকম প্রভাব ছিল বলেই ধারণা। ৯৭/৯৮ এর দিকে দেখেছি , শুধু জ্যোতিষিদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক সংখ্যা ।

২২| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৫৭

জুল ভার্ন বলেছেন: যখন বিচিত্রা প্রথম বের হয়(১০ জুলাই, ১৯৭৪ মূল্য ছিল মাত্র ৫০ পয়শা)। তখন অনেক শিক্ষিত লোকেও সাপ্তাহিক বিচিত্রাকে "বই" বলতেন!

২৩| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:২১

জুল ভার্ন বলেছেন:
যখন বিচিত্রা প্রথম বের হয়(১০ জুলাই, ১৯৭৩ মূল্য ছিল মাত্র ৫০ পয়শা)। তখন অনেক শিক্ষিত লোকেও সাপ্তাহিক বিচিত্রাকে "বই" বলতেন!

(উপরের মন্তব্যে ১৯৭৩ এর যায়গায় ভুল করে ১৯৭৪ লিখেছিলাম। কাজেই উপরের মন্তব্যটা ডিলিট করে দেয়ার অনূরোধ করছি)

২৪| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৪৪

~মাইনাচ~ বলেছেন: তখনকার বিচিত্রা কিংবা অন্য কোন মেগাজিনের ছবিগুলো কিন্তু আজকালকার মতো ছিলোনা। মার্জিত এবং সুন্দরও ছিলো। দেখে শ্রদ্ধা করার মতোই।



আর এখন দেখি ;) (১৮+ এর কারনে ) আমি কিন্তু ভালো ছেলে =p~

০১ লা এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:৩৫

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: =p~

২৫| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৪৬

পরিযায়ী বলেছেন: বিচিত্রার অন্তিম কালের সাথে পরিচিত ছিলাম।

০১ লা এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:৩৭

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: শেষ দিকে বিচিত্রার দশা বেশ বেহাল হয়ে গিয়েছিল বলে মনে পড়ে। বিচিত্রা বন্ধ হয়ে যাবার পর বিচিত্রার কলাকুশলীরা মিলে সাপ্তাহিক ২০০০ শুরু করে । সেটি মার্কেট লিডার ছিল , কিন্তু সেটাও বন্ধ হয়ে গেল কেন জানিনা

২৬| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৫৬

মোঃমোজাম হক বলেছেন: @রাইসুল জুহালা , স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে মনে হয়।আমার যে লেখাতে এই সন্মানী পাওয়ার ব্যাপারটা এসেছিল এখন গিয়ে দেখি সেখানে তোমার একটা মন্ত্যব! ;)

আবারো দেখে নেবার জন্য লিঙ্ক দিলাম Click This Link

আর হ্যাঁ বিচিত্রা শেষ হওয়ার আগে ২০০০ নামে আরেকটি ম্যাগাজিন বের করে সাহাদত হোসেন।সেখানে প্রায় সবাই যোগ দিয়েছিল।সেটাও এখন বন্ধ হয়ে আছে।

২৭| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১:১৫

মোঃমোজাম হক বলেছেন: @জুল ভার্ন ,আমি ভেবেছিলাম আমিই বুজি পুরানো পাঠক,আপনার লেখা পড়ে ভুল ভাংলো ;)

আমার ভুল না হলে সম্ভবতঃ পঞ্চপান্ডব কবিতা করে বিজ্ঞাপনগুলি দিতেন,আমিও কয়েকবার সেই ভাবেই উত্তর দিতাম।জসিম মল্লিক বেশ লিখতেন পরে সিনেমা বিষয়ক পত্রিকায় তার অনেক লেখা দেখেছি।

২৮| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:৩৩

জুল ভার্ন বলেছেন: @ মোঃমোজাম হক , আমি বিচিত্রার প্রথম সংখ্যা থেকেই বিচিত্রার পাঠক সংগ্রাহক। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত বিচিত্রার প্রথম সংখ্যা থেকে ১৯৮৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সংখ্যা বিচিত্রা আমার কালেকশনে ছিল। আরো একটা রেকর্ড আমার আছে-তাহলো- যায়যায়দিনের সবগুলো সংখ্যা আমার কালেকশনে আছে! আমার কালেকশন দেখে শফিক রেহমান স্যার অবাক হয়েছিলেন এবং এপ্রেশিয়েট করেছিলেন।

আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে "পঞ্চ পান্ডব" নামে প্রথমে মজার মজার ব্যাক্তিগত বিজ্ঞাপন লিখতাম। মাঝে মাঝে আমরা বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক প্রতিবেদন বিচিত্রায় লিখতে শুরু করি। আমাদের একসময় বিচিত্রা সম্পাদক বিচিত্রা অফিসে আমন্ত্রণ জানান। আমার ২১ নম্বর মন্তব্যে যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁরা সবাই মিলে বিচত্রা কর্তিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশ জুড়ে বিচিত্রা ফোরাম ক্লাব গঠন করি। বিচিত্রা ফোরাম ক্লাব গঠনে আমাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করেছিলেন সর্ব জনাব কবি শামশুর রাহমান, আহমেদ হুমায়ুন, চিন্ময় মুতসুদ্ধি, কাজী জাওয়াদ, কবি শামীম য়াযাদ প্রমূখ ব্যাক্তিত্ব। আমাদের পাঠকদের মধ্যে আমিই অনিয়মিত প্রতিবেদক হিসেবে বিচিত্রায় পেশাদারী লেখালেখি করতাম। পরবর্তীতে জসিম মল্লিক, তসলিমা নাসরিন নিয়মিত পেশাদারী লিখতেন।

২১ নম্বর মন্তব্যে যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁদের ছাড়াও একজন গুরুত্ব পূর্ণ পাঠক সংগঠকের নাম উল্লেখ করতে ভূলে গিয়েছিলাম তিনি হচ্ছেন জনাব খলকু কামাল। উল্লেখিতজনদের মধ্যে আমি এবং দুলাল ভাই(একজন পান্ডব)সবাই বিদেশে। দুলাল ভাই বরিশাল নাটক এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার এর সহসভাপতি।

২৯| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৪

রাইসুল জুহালা বলেছেন: @মোজাম ভাই, ওহ দুঃখিত ভাই। আমি একদমই ভুলে গিয়েছিলাম সেই ইতিহাস। :( আমার স্মরনশক্তি আগেও যে খুব ছিল সেটা না। তবে এখন যথেষ্ট খারাপ।

৩০| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৯

মোঃমোজাম হক বলেছেন: @জুল ভার্ন ,আপনার পরিচয় পেয়ে খুশি এবং ভক্ত হয়ে গেলাম। আপনার লেখা এতোদিন মনোযোগ দিয়ে পড়নি,এখন থেকে অবশ্যই দেখবো।একজন বিচিত্রার একনিষ্ট কর্মী থেকে সামু আরো উপকৃত হবে এই আশা রাখি।
আপনাকে ধন্যবাদ।

৩১| ৩১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ৮:১২

বড় বিলাই বলেছেন: আরও অনেক কিছু জানলাম জুল ভার্ন আর মোঃমোজাম হকের মন্তব্য থেকে। অবশ্য তারা যে সময়ের কথা বলছেন, তখনও আমার জন্মই হয়নি।

০১ লা এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:৩৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ব্লগার জুল ভার্ন , মোঃ মোজাম হক এবং রাইসুল জুহালা কে অনেক ধন্যবাদ পোস্টটি সমৃদ্ধ করার জন্য

৩২| ০১ লা এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:৪৮

অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন: চমৎকার লেখা। বিচিত্রার প্রভাব অনেক বড় তখনকার সময়ে।

ম্যানোলার বিঙাপনের কথা মনে পড়লো :)। এই কোম্পানী বোধহয় বন্ধ হয়ে গেছে!

০২ রা এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৮:০৮

মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ম্যানোলা অনেক আগেই খতম । কেমন আছেন ? দেখি না অনেকদিন

৩৩| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৪৪

বৃষ্টিধারা বলেছেন: ৮৯ এ এই পৃথিবীতে এলাম.... /:)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.