| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লাশ নাইনে পড়ি তখন । প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংকে পেলাম ২৬ । আমাদের সময় সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাশ হতো । শেষ পিরিয়ড ছিলো । অংক স্যার ঢুকলেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে ! উনি আসার পরই গলা শুকিয়ে গেল ! আমি ভাবলাম যে, আজকে আর মাইর মাফ নাই । সত্যিই মাফ করেননি ! অংকে ২৬ পাওয়ার জন্য বেধরক মাইর দিলেন । বাসায় এসে শার্ট খুলে ভাত খাওয়ার সময় আম্মু দেখলো মাইরের দাগ ! আব্বুকে বললেন আম্মু, রাতে আবার আব্বু মারলো । জ্বর উঠে গিয়েছিলো ! ওইদিন জেদ করেছিলাম, অংকে কি আছে দেখে ছাড়বো ! টানা তিন মাস প্রতিদিন ৬ ঘন্টা পড়লে ৪ ঘন্টা অংক করতাম, বাকি ২ ঘন্টা অন্য পড়া । ফলশ্রুতিতে এসএসসিতে অংকে এ+ পেয়েছিলাম ! ভালবেসে ফেলেছিলাম অংক কে ! এরপর থেকে অংকই আমার পছন্দের সাবজেক্ট হয়ে গিয়েছিলো । আমি এখনও গল্প করে অনেককে বলি এই কাহিনী । স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও স্যারের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ।
এবার ভিকারুন্নেসার সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে আমার একান্ত একটা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে নিই ।
টিফিনের টাকা জমিয়ে আবেগ কেনা প্রজন্ম সুইসাইড করবে না তো কে করবে? আমরা যারা '৯০ এর ঘরে জন্মেছি তারা?
ইটস কোয়াইট ইম্পসিবল !
আমাদের সময় স্যাররা আমাদের উত্তম-মাধ্যম দিতেন, বাসায় এসে ভয়ে বলতাম না । কারণ, বলার পর বাসায় আবার মাইর চলবে । আর এখনকার প্রজন্ম মাইর খেয়ে বাসায় এসে বলে, বাবা-মা যেয়ে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হুমকি দেয় !
এই প্রজন্ম "শিক্ষাগুরুর মর্যাদা" কবিতা পড়েনা । তারা জানেনা বাদশাহ আলমগীর তার ছেলের শিক্ষককে কি লিখেছিলেন । তারা যানে সানি লিওনি ড্রেসের নীচে কি আন্ডারওয়্যার পড়েছে ! বালামার !!!
বিলিভ মি; এখনকার প্রজন্ম যে বয়সে টিফিনের টাকা দিয়ে আবেগ কেনে, ওই বয়সে আমি বিছানায় হিসু করতাম ।
এখনও হিসু করি, চর-চর কইরা হিসু করি এই প্রজন্মের আবেগের উপ্রে ।
শুনলাম এই ঘটনায় স্কুলের ৩ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার ও তাদের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে । এটা কোন কথা? তখন স্যারের উচিৎ ছিলো অরিত্রি নামের ওই মেয়েকে খাতা নিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে বলা-"খুকি, যাও বাসায় যেয়ে সময় নিয়ে লিখো ! আর হ্যা, কাল এসে খাতা জমা দিয়ে যেও" । এরকম হলে ভাল হত?
কিছুদিন আগে আমার হাইস্কুলের এক শিক্ষক মারা যান । সেখানে গিয়ে দেখলাম, আমার শৈশবের কারিগরেরা আজ সকলেই প্রবীন হয়ে গেছেন । চুল দাঁড়ির শুভ্রতায় তাদের বার্ধক্য স্পষ্ট । এক প্রবীন শিক্ষক তো বলেই ফেললেন, “তোরা তো আর আসিস না । আসিস সময় করে পারলে । দেখিস আবার বেশি দেরি যেন না হয় । পরে এসে হয়ত আর জীবিত পাবি না ।”
এখনও অনেক স্যার ফোন দিয়ে খবর নেন । নিজেকে গর্বিত লাগে তখন ! বাড়িতে গেলে দেখা হলে কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন । কাধে হাত দিয়ে কথা বলেন, পাশে বসিয়ে চা খান একসাথে । অনেক আদর করেন এখনও । এই দোয়া ভালবাসা এখনও পাচ্ছি আর ঋণী হচ্ছি তাদের ভালবাসার কাছে !
শিক্ষকরা আমাদের জীবনকে সারাজীবনই বিভিন্নভাবে শেপ করেন তাদের কথা দিয়ে, কর্ম দিয়ে, শিক্ষা দিয়ে । বাবা মায়ের পরে আমরা আজ যে যেই অবস্থানেই আছি, তাতে করে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে শিক্ষকের অবদানকে অস্বীকার কোনোভাবেই সম্ভব নয় । কিন্তু জীবনের নাটকীয় চক্রে আমরা কতজনই সুযোগ পাই, উপলব্ধি করি যে, আমাদের জীবনের বাঁক বদলে অবদান রাখা এই শিক্ষকদেরও একটু ধন্যবাদ দেয়া উচিত? পৃথিবীর সকল শিক্ষকদের ধন্যবাদ, ভালবাসা ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা যারা আমাদের জীবনকে রঙিন করেছেন !
পূনশ্চঃ সামু তে আমি আগে নিয়মিত পাঠক ছিলাম । আজ থেকে পাঠক ও টুকটাক লেখক । সবার একান্ত সাহায্য ও পরামর্শ কামনা করছি । ভাল থাকবেন, ভাল রাখবেন ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৬
হাবিব বলেছেন: ব্লগে আপনার পথচলা সুন্দর হোক......
আশা করি খুব তাড়াতাড়ি সেফ হবেন......